22/04/2026
একটু জানার দরকার আছে এই মহিলার সম্পর্কে! কাকে জামায়াতে ইসলামী নারী আসন থেকে এমপি বানাচ্ছে?
আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে সেই লক্ষ্মীপুরের সুনামধন্য ডাক্তার ফয়েজ আহমেদের কথা ২০১৩ সালের। তিনি লক্ষ্মীপুর জেলার জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ছিলেন এবং খুবই জনপ্রিয় একজন ব্যক্তি ছিলেন এলাকায়।
২০১৩ সালের ২২ ডিসেম্বরের সকালের ঘটনা। পরিবারের সবাইকে নিয়ে নাস্তা করছিলেন ডাক্তার সাহেব। হঠাৎ করেই নাস্তার টেবিলে কান্না শুরু করেন। উনার সহধর্মিণী, মানে উনার স্ত্রী, মনে করছিলেন হয়তো হার্টের সমস্যা শুরু হয়েছে। তাড়াতাড়ি করে বুকে-পিঠে তেল মালিশ শুরু করেন এবং জিজ্ঞেস করেন, “আপনার বুকে কি ব্যথা হচ্ছে?” উনি উত্তরে হাত দিয়ে ইঙ্গিত করে বলেন “না”—এতোটাই কান্না করছিলেন যে কিছু বলতে পারছিলেন না। বেশ কিছু সময় কান্না করে স্থির হওয়ার পর বলেন, আমাদের মেইন মেইন আলেম লিডারদের এক এক করে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হচ্ছে, এর প্রতিবাদ করতে গিয়ে রাস্তা-ঘাটে আবালবৃদ্ধবনিতা শিশু সহ অনেককে হত্যা করা হচ্ছে। “রাব্বুল আলামীন কি আমাকে শহীদ হিসেবে কবুল করবেন না?”
উনার স্ত্রী তখন বলেন, “এরকম আকাঙ্ক্ষা তো আমাদের সবারই, আল্লাহ তায়ালা যাকে পছন্দ করবেন তাকেই কবুল করবেন।”
সেই রাতেই আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে র্যাবের কমান্ডার তারেক সাঈদ ডাক্তার ফয়েজ আহমেদের ঘরে তার দলবল নিয়ে ঢোকেন। দেখতে পান তিনি ঘুমাচ্ছিলেন। ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে উঠিয়ে নিয়ে ছাদের উপরে নেওয়া হয়। সেখানে নিয়ে গিয়ে বন্দুকের নল দিয়ে মারধর শুরু করা হয়। মারতে মারতে তিনি একদম নিস্তেজ হয়ে যান। নিস্তেজ হয়ে যাওয়ার পর ছাদ থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয়।
প্রথমে ছাদ থেকে কান্নার আওয়াজ শুনতে পায় পরিবারের লোকজন। পরে ছাদ থেকে ফেলে দেওয়ার সময় বিকট শব্দ শুনে বাইরে এসে দেখে—ডাক্তার ফয়েজ আহমেদের মাথা ফেটে গেছে, আশেপাশে রক্ত ছড়িয়ে আছে। সেই সময়ই তিনি শহীদ হন।
তৎকালীন সেক্রেটারি জেনারেল, বর্তমান জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত আমির শফিকুর রহমান এই ঘটনা জানতে পেরে রাত ৩টার দিকে ডাক্তার ফয়েজ আহমেদের স্ত্রীকে ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করেন, “আপনি কেমন আছেন?” তিনি উত্তরে বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ।” তখন তিনি দোয়া করেন, “আল্লাহ আপনার সবর আরও বাড়িয়ে দিন।” এরপর শহীদ ডাক্তার ফয়েজ আহমেদের স্ত্রী নিজে থেকেই বলেন, “আমি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করবো না? শহীদরা তো বিনা হিসেবে জান্নাত পাবেন। আমার স্বামী আজ সকালে যে ইচ্ছা পোষণ করেছেন, ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই আল্লাহ তা পূরণ করেছেন।”
বর্তমানে সংসদে জামায়াতে ইসলামীর নারী সংরক্ষিত আসন থেকে সেই ডাক্তার ফয়েজ আহমেদ রহমাতুল্লাহির সম্মানিতা স্ত্রী মারজিয়া বেগম হচ্ছেন মনোনীত প্রার্থী। তিনি সাংগঠনিকভাবে যথেষ্ট সক্রিয়, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি।
এমন একজন সম্মানিতা ও সাহসী নারীকে সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য জামায়াতে ইসলামীকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
#কপিপোষ্ট