17/10/2025
'ফ্যাটি লিভার' এই সহজ শব্দযুগল বাংলাদেশে একটি বিশাল ইন্ডাস্ট্রি হয়ে দাঁড়িয়েছে। পেটে কোনো সমস্যার জন্য আল্ট্রাসনোগ্রাম করতে যেয়ে যদি কোনোভাবে ধরা পড়ে যায় ফ্যাটি লিভার, তাহলেই সর্বনাশ! আর আল্ট্রাসনোগ্রাফী বিশেষজ্ঞ স্যারেরা কিছু না পেলে ফাটি লিভার পেতে কখনো কার্পণ্য করেন না।
এরপর মানুষকে বুঝানোই মুশকিল হয়ে যায় - এটার কারণে ব্যাথাও করছেনা, সমস্যাও করছেনা। এটা জাস্ট একটা ইন্সিডেন্টাল ফাইন্ডিং।
আল্ট্রাতে এই জিনিস আসার পর - রোগী নিজেই ধরে নেন - তার শরীরে যত সমস্যা - মাথা ঘুরানো, শরীর ব্যাথা, পায়ে ব্যাথা, অনিদ্রা, মাথা গরম - সব কিছুর নাটের গুরু হচ্ছে এই 'লিভারে চর্বি'।
হয়তো উনার ডায়াবেটিস ১৭, প্রেশার ১৮০ - কিন্তু ওসব নিয়ে কোনো মাথা ব্যাথা নেই। ইহজগতে উনার সমস্যা তখন একটাই - লিভারে চর্বি।
আত্মিয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব সবাই জেনে যায় - উনার ফ্যাটি লিভার।
এসব ক্ষেত্রে আত্মিয় স্বজনরা সাধারণত হতাশ করেন না। তারা নানারকম সমাধান নিয়ে এগিয়ে আসেন। সমাধানের তালিকায় নিম্নোক্ত জিনিসগুলো উপরের দিকে থাকে।
১. মেথিমিক্স পাউডার
২. টক দই
৩. তেতুলের রস
৪. রোদে বসে চর্বি গলানো
৫. সকালে খালি পেটে গরম পানি।
রোগী বারবার চিকিৎসক বদলান - এলাকার ফার্মেসি থেকে শুরু করে গ্যাস্ট্রোলিভারের বড় অধ্যাপক। তারপর ওষুধ দেখেই রোগী জাজ করে ফেলেন কে বড় ডাক্তার। যে সবচেয়ে বেশি ডোজের 'চর্বির ওষুধ' দেন রোগীর কাছে উনিই সবচেয়ে জ্ঞানী।
যারা একটু সামর্থবান তারা স্কয়ার, এভারকেয়ার ঘুরে আসেন। যারা আরো ধনি ও সচেতন তারা চলে যান বিদেশ। এতে ফ্যাটি লিভারের উন্নতি না হলেও সামাজিক অবস্থান উন্নত হয়। পারিবারিক বিয়ের অনুষ্ঠানে মাংস থেকে চর্বি ফেলে দেয়ার সময় তিনি একটু জোর গলায় বলেন - আমার ফ্যাটি লিভার, চেন্নাই-এর ডাক্তার বলেছেন, চর্বি না খেতে।
পাশে বসে থাকা অতিথিরা একবার হলেও উনার দিকে ভাল করে তাকান এবং মনে মনে বলেন - বাহ! লোকটার স্ট্যাটাস তো অন্যরকম!
যাই হোক, বাঙালি এত কিছু করবে কিন্তু 'ফ্যাটি লিভার'এর সবচেয়ে সহজ যে সমাধান - ৫ থেকে ৭ কেজি ওজন কমানো - ঐটাই করবেনা। এটাই বাস্তব। হাহাহাহা।
(..সংগৃহীত )