07/03/2026
এই যুদ্ধের জন্য ইরান যে দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তা এখন তাদের রণকৌশল দেখলেই বোঝা যাচ্ছে। আমেরিকা এবং ইসরায়েল ইরানের মূল সদর দপ্তর বা হেডকোয়ার্টার ধ্বংস করে দিলেও তাদের দমানো যাচ্ছে না। এর পেছনে থাকা আসল রহস্য এবং ইরানের বিশেষ যুদ্ধকৌশল।
ইরান: কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ছাড়াই যুদ্ধের এক মাস্টারপ্ল্যান!
আমরা সাধারণত জানি, কোনো দেশের সেনাবাহিনীর মূল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র বা হেডকোয়ার্টার ধ্বংস হয়ে গেলে পুরো বাহিনী ভেঙে পড়ে। কিন্তু ইরানের ক্ষেত্রে হিসাবটা সম্পূর্ণ আলাদা। তারা গত কয়েক দশক ধরে এমন এক যুদ্ধকৌশল সাজিয়েছে যেখানে কোনো কেন্দ্রীয় কমান্ড বা সদর দপ্তরের প্রয়োজনই নেই।
যখন আমেরিকা ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বের বড় একটি অংশ নিহত হলো, তখন ইরান তাদের সেই বহু বছরের পুরোনো পরিকল্পনা সচল করে দিয়েছে। একে বলা হয়—‘বিকেন্দ্রীভূত যুদ্ধ’ (Decentralized Warfare)।
এই কৌশলের মূল ভিত্তিগুলো হলো:
স্বয়ংসম্পূর্ণ মিসাইল ও ড্রোন ইউনিট: ইরানের শত শত ছোট ছোট মিসাইল এবং ড্রোন ইউনিটকে অনেক আগেই 'স্ট্যান্ডিং ইনস্ট্রাকশন' বা স্থায়ী নির্দেশ দিয়ে রাখা হয়েছে।
নেতৃত্বহীন লড়াই: যদি কেন্দ্রীয় কমান্ডের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বা বড় নেতারা নিহত হন, তবে এই ইউনিটগুলোকে কারো আদেশের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না।
স্বাধীন সিদ্ধান্ত: প্রতিটি ইউনিটকে আলাদাভাবে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করে দেওয়া আছে। তারা জানে ঠিক কখন এবং কোথায় আঘাত করতে হবে। তাদের কাজ শুধু পরিকল্পনা অনুযায়ী মিশন সম্পন্ন করা।
কেন এই যুদ্ধ থামানো কঠিন?
এই মডেলটি প্রচলিত যুদ্ধের ধারণা পুরোপুরি বদলে দেয়। প্রচলিত পদ্ধতিতে 'মাথা' কেটে দিলে শরীর অচল হয়ে যায়, কিন্তু ইরানি মডেলে কোনো একটি নির্দিষ্ট 'কেন্দ্র' নেই যা ধ্বংস করলে সব থেমে যাবে।
১. একটি ইউনিট থামলেও অন্যটি সক্রিয়: ৩০০ কিলোমিটার দূরের একটি ইউনিট হয়তো ধ্বংস হয়ে গেছে, কিন্তু অন্য একটি ইউনিট সেই খবর না জেনেই নিজের মতো লড়াই চালিয়ে যাবে। এমনকি একটি ইউনিট অন্যটির অস্তিত্ব সম্পর্কেও হয়তো জানে না।
২. শত্রুকে বিভ্রান্ত করা: এই কৌশলের ফলে আমেরিকা বা ইসরায়েলকে একটি বড় শক্তির বদলে শত শত ক্ষুদ্র ও স্বাধীন শক্তির মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
৩. অজ্ঞাত হামলা: অনেক সময় খোদ ইরানিরাও হয়তো জানে না যে ঠিক কোন ইউনিট থেকে কোন হামলাটি চালানো হয়েছে। কারণ সিস্টেমটি এমনভাবে বানানো হয়েছে যাতে নেতৃত্বের অবর্তমানেও যুদ্ধ চলতে থাকে।
প্রযুক্তির বিপরীতে টিকে থাকার লড়াই:
প্রযুক্তির দিক থেকে আমেরিকা ও ইসরায়েল হয়তো যোজন যোজন এগিয়ে, কিন্তু ইরানের কৌশল হলো টিকে থাকার লড়াই। তারা এমন এক সামরিক কাঠামো তৈরি করেছে যা ‘নেতৃত্বের মস্তকচ্ছেদ’ (Leadership Decapitation) হওয়ার পরও লড়ে যেতে সক্ষম।
সোজা কথায়, ইরান তাদের সেনাবাহিনীর ‘মাথা’ কেটে ফেলার পরও শরীর যাতে সচল থাকে, সেই অবিশ্বাস্য এবং ভয়ংকর প্রস্তুতি নিয়েই এই যুদ্ধে নেমেছে।
আপনার কি মনে হয়, এই গেরিলা ধাঁচের আধুনিক যুদ্ধকৌশল দিয়ে ইরান দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে পারবে? আপনার মতামত জানাতে পারেন।