30/11/2025
জেন জি প্রজন্মের প্রতি এই আহ্বান মূলত মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের প্রতি এক তীব্র ক্ষোভের প্রতিচ্ছবি, যেখানে একটি প্রজন্মকে নৈতিকতার পতনের ফল বহন করতে হচ্ছে।এই সামাজিক বিপর্যয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এক অদ্ভুত বিপর্যয় যা নৈতিকতা ও আদর্শের ভিত্তিকে নড়িয়ে দিয়েছে।এই বিপর্যয়ের মূল কেন্দ্রে রয়েছে মূল্যবোধের অস্বাভাবিক রূপান্তর...
ভণ্ডামি যেখানে গৌরবের প্রতীক হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে এবং সুবিধাবাদী ব্যক্তিরাই সমাজের রোল মডেলের আসনে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। অসৎরা আজ সততার পাঠ দিচ্ছে, সংকীর্ণমনা কূপমণ্ডূক সেজেছে মহা প্রজ্ঞার মুখোশে এবং চারিত্রিকভাবে হীন ব্যক্তিরা আগামী প্রজন্মের নেতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা সমাজের মূল ভিত্তিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এমনকি জনস্বার্থ ঠকানো প্রতারকেরাও দেশপ্রেমের মিথ্যা আড়ালে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
জেন জিদের মনোযোগের বিভ্রমের কারণে সমাজে মেধার গুরুত্ব নাই হয়ে গেছে এবং তা চটকদার, মেটিকুলাস ডিজাইনের কাছে পরাজিত হয়েছে।আদর্শ নির্বাসিত হয়েছে নিছক প্রাণ রক্ষার তাগিদে; ফলস্বরূপ ইতিহাসকে বাধ্য করা হয়েছে একদল চরিত্রহীন চাটুকারের নামে হাঁটু গেড়ে লিখতে।
তাদের এখানেই থামানো হয়নি;এই অবক্ষয়ের সুযোগ নিয়ে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে তাদের পবিত্র আবেগের সাথে নির্লজ্জ প্রতারণা মাধ্যমে তাদের হাতে রক্তের দাগ লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।
'ছাত্রলীগ' ট্যাগ দিয়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং 'স্বৈরাচারের দোসর' ট্যাগ দিয়ে তাদের দিয়েই মুক্তিযোদ্ধার গলায় জুতার মালা পরানোর মতো ন্যক্কারজনক কাজ করানো হয়েছে।
জেন-জিদের সেন্টিমেন্ট ব্যবহার করে আট বছরের নতুন গামছা দিয়ে ৫৩ বছরের সংবিধান এবং জাতীয় সংগীতের ঐতিহ্য মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে।
তথাকথিত উদযাপনের নামে তাদের দিয়ে জাতীয় সংসদ লুট করানো হয়েছে, যা স্বাধীনতার সমস্ত তথ্যপ্রমাণের ওপর এক বড় আঘাত।
এমনকি তাদের ধর্মীয় অনুভুতিকে কাজে লাগিয়ে হাজার হাজার মাজার ও উপাসনালয় ধ্বংস করে এবং মব-সন্ত্রাসের পতাকা উড়িয়ে বাঙ্গালী জাতির পিতার স্মৃতিবিজড়িত ধানমন্ডি ৩২-কেও গুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
সুনিপুণভাবে জেন-জিদের দ্বারা প্রেশার সৃষ্টির মাধ্যমে দন্ডপ্রাপ্ত আসামীদের নির্দোষ প্রমাণ করানো হয়েছে। তাদের সরলতা ও তারুণ্যের আবেগকে ব্যবহার করে দেশ, জাতি, এবং স্বপ্ন—সবই বিক্রি করে দিয়েছে মিষ্টভাষী আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়েরা, যেখানে নোবেল লরিয়েটদের ফাঁকা বুলিও তাদের সাথে নির্লজ্জ প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই ছিল না।
হে জেন জি প্রজন্ম, তোমাদের কানে কি সেই প্রতারণার চিৎকার পৌঁছায় না?কতকাল তোমরা এই মিথ্যার কবরে ঘুমিয়ে থাকবে?
তোমাদের নিষ্ক্রিয়তা এখন এক জাতীয় অপরাধ, এই কলঙ্কের বোঝা ঝেড়ে ফেলতে হবে এই মুহূর্তেই। তোমাদের পবিত্র আবেগ ও স্বপ্নকে ব্যবহার করে দেশ বিক্রির দলিল বানানো হয়েছে এবং তোমাদের ইচ্ছেগুলোকে পায়ের তলায় পিষে দেশ বিক্রি করা হয়েছে।
এই প্রতিশোধ প্রতিটি কড়ায়-গন্ডায় তোমাদেরই নিতে হবে এবং এই নির্মম সত্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে এখন সময় এসেছে বিস্ফোরক হয়ে গর্জে ওঠার; তোমাদের কণ্ঠের দ্রোহে এই মিথ্যার সিংহাসন ভেঙে চুরমার হোক, প্রতিশোধের আগুন জ্বালো। তোমাদের রক্তের স্ফুলিঙ্গ, তোমাদের অদম্য যৌবনই হোক মহাবিপ্লবের মশাল, যা সকল জঞ্জাল ধ্বংস করে দেশকে মুক্ত করবে। সকল বিদেশী শক্তিকে পরাজিত করে আমরা আবার শান্তিতে একসাথে বসবাস করবো।
© শিস মোহাম্মদ