06/03/2026
প্রেস ব্রিফিং
জেলা গোয়েন্দা শাখা, পঞ্চগড় কর্তৃক পঞ্চগড় সদর থানার মামলা নং-২৮, তারিখ-২৭/০২/২০২৬ খ্রিঃ ধারা- ৩৯৪ পেনাল কোড এর ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, ০৬ জন আসামী গ্রেফতার, বিজ্ঞ আদালতে ০১ জন আসামীর ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারা মতে জবানবিন্দি প্রদান, লুন্ঠিত আলামত এবং ডাকাতি কাজে ব্যাবহৃত দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার
২৭/০২/২০২৬ ক্রিঃ তারিখে রাত্রী অনুমান ০২.১০ ঘটিকার সময় পঞ্চগড় জেলার সদর থানার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের যুগিভিটা মৌজার জনাব মোঃ নুরুল্লাহ (প্রিন্সিপাল মফিজার রহমার কলেজ) এর বাড়ীতে সশস্ত্র একটি ডাকাত দল ডাকাতি করে অস্ত্রের মুখে জি্ম্মি করে ঘরে থাকা ওয়্যারড্রোপ, সুকেস ও ড্রেসিংয়ের ভিতরে রক্ষিত বিভিন্ন স্বর্ণালঙ্কার মোট ওজন আনুমানিক ৮ ভরি, মূল্য আনুমান ২০,০০,০০০/= (বিশ লক্ষ) টাকা, নগদ টাকা ২,২০,০০০/- (দুইলক্ষ বিশ হাজার) টাকা, যাহার প্রতিটি ১০০০/= টাকার নোট, একটি SYMPHONE Z72 এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোন (সিম নং-০১৭৩৮২৮০২২২) লুন্ঠন করে। উক্ত সংবাদ প্রাপ্তির পর সদর থানায় নিয়মিত মামলা রুজু হলে পুলিশ সুপার, পঞ্চগড় মহোদয়ের নির্দেশনায় তাৎক্ষনিক এসআই/ মোঃ আবু হোসেন ও এসআই/মোঃ নাহিদ হাসান এর নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস টিম ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তকালে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় রহস্য উদঘাটন করে এবং গত ০৪/০৩/২০২৬ ইং তারিখ রাত ০২.০০ ঘটিকা হতে ০৩.০০ ঘটিকার মধ্যে পঞ্চগড়ের গাড়াতি ছিট মহল, পুকুরীডাঙ্গা সহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করিয়া ঘটনায় জড়িত আসামী ১। মোঃ মজিবর রহমান (৩৫), পিতা-মিনহাজ আলী, মাতা-মজিরন, সাং-মাধইপাড়া ২। মোঃ রমজান আলী (৩০), পিতা-মৃত বছির উদ্দিন, মাতা-মোছাঃকবিতা, বেগম, সাং-পশ্চিম মাধইপাড়া ৩। মোঃ সাদ্দাম হোসেন (৩০), পিতা-মোঃ আবু আলম, মাতা-মোছাঃ আমেনা বেগম, সাং-জুগিভিটা ৪। মোঃ আশিক (১৯), পিতা-মোঃ হাবিব মাতা-মোছাঃ বিজলী বেগম, সাং- রাজমহল পূর্ব বাগান, ৫। মোঃ জুবায়ের (১৯) পিতা-মোঃ আজিজ মিয়া, মাতা-মোছাঃ জাহানারা বেগম, সাং-রাজমহল পূর্ব বাগান, সর্ব ০২ নং হাফিজাবাদ ইউপি থানা ও জেলা-পঞ্চগড়দেরকে তাদের বাড়ী হতে গ্রেফতার করে এবং তাদের দেওয়া তথ্যমতে ও দেখানো মতে লুন্ঠিত একটি স্মাট মোবাইল ফোন, একটি সিম কাড, ডাকাতি কাজে ব্যাবহৃত একটি সাবল, একটি ছোট চাকু, দুইটি বড় ছোরা উদ্ধার করে এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় এবং গ্রেফতারকৃত আসামীদের দেওয়া তথ্যমতে গত ০৫/০৩/২০২৬ তারিখ রাত্রী ০১.৩৫ ঘটিকার সময় তার নিজ বাড়ি হতে উক্ত ডাকাতির মুল পরিকল্পনাকারী ক্ষতিগ্রস্ত নুরুল্লাহ পরিবারের প্রতিবেশী ধৃত আসামী মোঃ আলম (৩৭), পিতা মৃত আব্দুল জলিল, সাং-যুগিভিটা, থানা-সদর, জেলা-পঞ্চগড়কে পঞ্চগড় সদর থানার জিয়াবাড়ী এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ আলম বিজ্ঞ আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করেন। ধৃত আসামীদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ, ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি এবং তথ্য প্রুযুক্তির সহায়তায় জানা যায়যে, উক্ত ডাকাতির মুল পরিকল্পনাকারী আসামী মোঃ আলম প্রিন্সিপাল নুরুল্লাহ এর প্রতিবেশী। সে খুব দরিদ্র লোক হওয়ায় তার সংসারে অভাব অনটন লেগে থাকত। ধৃত আলম নুরুল্লাহ সাহেব এবং তার ভাই এর নিকট এক বিঘা জমি বর্গা/আদি চেয়েছিলো। কিন্তু তারা তাকে জমি বগা না দিয়ে বলে যে, অন্য লোকেরা আধি করছে এখন যা পরে দিবো। নূরুল্লাহ সাহেব ১৮/০২/২০২৬ তারিখে হজ্বে যাওয়ার সময় তার বাড়িতে ডাকাতি করার কথা প্রতিবেশী আলমের মাথায় আসে। সে কামরুলের সাথে বিষ্য় টা শেয়ার করলে কামরুল বলে যে, আমার লোক আছে। কোন ব্যাপার না। আমরা কিছু দিন আগে জগদলে কয়েকটা ডাকাতি করেছি। সব অপারেশনে আমরা সফল। তারপর কামরুল আলমকে সাদ্দাম, মনির, জুবায়ের ওরফে জিদান এর সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় এবং ঘটনার ০২ দিন আগে পরিকল্পনা করে। তারপর আলম, কামরুল, সাদ্দাম, মনির, জুবায়ের ওরফে জিদান একে একে সাদ্দামের বাড়ির পার্শ্বে রাতে এক গাছের নিচে একত্রিত হয় এবং পূ্র্ব পরিকল্পনা মতে ২৭/০২/২০২৬ তারিখ রাত অনুমান ০১:৩০ ঘটিকার সময় নুরুল্লাহ এর বাড়ির পশ্চিমে সুপারির রাগানের পার্শ্বে গ্রিল ছাড়া জানালা সাবল দিয়ে ভেঙ্গে এক এক করে তারা ঘরের ভিতর ঢুকে এবং ০৪ টি ঘরে কোন কিছু না পাওয়ায় ০৫ নম্বর ঘর যেখানে নূরুল্লাহ এর বৌ বাচ্চা শ্বাশুড়ি ঘুমিয়েছিলো সে ঘরে ঢুকে এবং নুরুল্লাহ এর বৌকে জাগ্রত করে । আলম মুখে মুখোশ পরে ছিলো। মনির নূরুল্লাহ এর বৌয়ের গলায় চাকু ধরে, সাদ্দাম নুরুল্লাহ এর শ্বাশুড়ীর গলায় ছুরি ধরে। বড় বাচ্চাটা ঘুম থেকে উঠে কান্না করলে জুবায়ের ওরফে জিদান তার গলায় চাকু ধরে নূরুল্লাহ সাহেবের বৌকে সবকিছু বের করে দিতে বলে না হলে বাচ্চাদেরকে মেরে ফেলবে। তখন তার বৌ ভয়ে তার ব্যাগে থাকা হাতের কানের গলার স্বর্ণা লঙ্কার দিয়ে দেয় এবং তারা আলমারি থেকে স্বর্ণালংকার বের করে নেয়। বড় বাচ্চাটার কান্না না থামলে আলম নুরু্ল্লাহ সাহেবের বৌ এর ব্যাগ থেকে কেক বের করে খাওয়ায় এরপর পানি খাওয়ায়। তারপর তারা ঘটনাস্থল থেকে বের হয়ে সাদ্দামের বাড়ির পার্শ্বে গাছের নিচে একত্রিত হয় এবং ওথান থেকে পাওয়া ৩০,০০০/-হাজার টাকা নগদ সমান ভাবে ভাগ করে নেয়। ০৭ টি ছোট ছোট স্বর্ণের জিনিস মনিরকে এবং ১২ টি বড় বড় স্বনের জিনিস কামরুলকে বিক্রি করার জন্য দেয়। ব্তমানে ধৃত আসামী সাদ্দাম, জুবায়ের ওরফে জিদান, রমজান, মজিবর এবং আশিক ০২ দিনের পুলিশী হেফাজতে রয়েছে এবং ধৃত আসামী আলম জেলহাজতে রয়েছে।