11/05/2026
*রেফারেন্স সহ দুয়া কবুলের ২৮ টি স্থান বা ক্ষেত্র বা পাত্র বিভিন্ন হাদিস দ্বারা জানা যায় সেইগুলি হলঃ
১) অনুপস্থিত ব্যক্তির জন্য দুয়া (কোন মুসলিমের পিছনে বা অগোচরে অন্য মুসলিমের দুয়া)।(মুসলিম ৬৮২২)
২) জালিমের বিরুদ্ধে মাজলুম ব্যক্তির দুয়া।
(জামে আত তিরমীযি ৩৪৪৮)
৩) বাবা তার সন্তানের জন্য দুয়া (নেক দুয়া বা বদ দুয়া)
((তিরমীযি ৩৪৪৮))
৪) নেককার সন্তানের দুয়া (তার বাবা মায়ের জন্য তাদের মৃত্যুর পর)( আবু দাউদ ২৮৮০)
৬) আরাফাতের ময়দানে দুয়া।(তিরমীযি ৩৫৮৫)
৬) বিপদগ্রস্ত অসহায় ব্যক্তির দুআ।
(সূরা নামাল ৬২,৫৭ ও সূরা ইসরার ৬৭ নাম্বারর আয়াত)
৭) সেজদায় দুয়া।(নাসায়ী ১০৪৫)
৮) হজ্জের স্থানসমূহে দুয়া (যেমন: আরাফা, মুজদালিফা, মিনা...)(ইবনে মাজাহ২৮৯২)
০৯) হাজ্জীর দুয়া (হজ্জ করা অবস্থায়)।
(ইবনে মাজাহ২৮৯৩)
১০) উমরাহকারীর দুয়া (উমরাহ করার সময়)।(নাসায়ী ২৬২৫
১১) আযানের পর দুয়া।
(তিরমীযি ২১০, আবু দাউদ ৫২৪)
১২)আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময় দুয়া।(আহমাদ ১৪৬৮৯)মুসলিম ৬৬৮
১৩) বৃষ্টি বর্ষণকালে দুয়া।(আবু দাউদ ২৫৪০)
১৪) শেষ রাতের দুয়া,তাহাজ্জুদ(বুখারী ১১৪৫)
১৫) জুম্মার দিনে দুয়া,,আছরের শেষ দিকে তালাশ করার জন্য নির্দেশ আছে।
(নাসায়ী১৩৮৯)
১৬) লাইলাতুল কদর এর দুয়া।
(বুখারী ও মুসলিম)
১৭) যুদ্ধ চলাকালীন সময় দুয়া।
(আবু দাউদ২৫৪০)
১৮)ফরয স্বলাতের শেষ অংশে দুয়া।(রিয়াদুস স্বালেহিন ১৫০৮,তিরমিযি ৩৪৯৯)
১৯) মুসাফির ব্যক্তির দুয়া (সফর অবস্থায়)।(তিরমীযি ৩৪৪৮)
২০) রোজাদার ব্যক্তির দুয়া (রোজা অবস্থায়)।(ইবনে মাজাহ ১৭৫২)
২১) ন্যায়পরায়ণ শাসকের দুয়া।(তিরমীযি ২৫২৬)
২২) ঘুম থেকে উঠে বিশেষ দুয়া পাঠ করার পর দুয়া করলে কবুল হয়।(বুখারী ১১৫৪)
২৩) দুয়া ইউনুস পাঠ করে দুয়া করলে কবুল হয়।(তিরমিযি৩৫০৫)
২৪) ইসমে আযম পড়ে দুয়া করলে কবুল হয়।(ইবনে মাজাহ ৩৮৫৬)
২৫) বিপদে পতিত হলে যে দুয়া পড়া হয়(ইন্না লিল্লহাই......রাজিউন)
এবং
(আল্লা-হুম্মা আজিরনি ফি মুসিবাতি ওয়া ওয়াখলিফলী খয়রাম মিনহা...) তখন দুয়া কবুল হয়।(মিশকাতুল মাসীবাহ ১৬১৮,মুসলিম ৯১৮)
২৬) জমজমের পানি পান করার পর দুয়া।
(ইবনে মাজাহ ৩০৬২,আহমদ ৩/৩৫৭)
২৭, নির্যাতিতের দুয়া (তিরমিযি৩৪৪৮)
২৮,দু হাত তুলে দোয়া করা,আল্লাহ হাত খালি হাতে ফিরিয়ে দিতে লজ্জাবোধ করেন।
(আবু দাউদ ১৪৮৮)
(বিস্তারিত জানতে উপরের রেফারেন্স এর হাদিস গুলো পাঠ করূন)
দোয়া করার আদব/বৈশিষ্ট্য:
----------------------------------------------
➡খালেছ অন্তরে দৃঢ় সংকল্প নিয়ে দু'য়া করা।[সূরা মুমিন ৪০/১৪; বুখারি,মিশকাত হা:১]
➡দু'য়া করার শুরুতে আল্লাহ্'র প্রশংসা ও নাবী(সা:) এর উপর দরুদ পাঠ করা।[তিরমিযি হা:৩৭২৪, সহীহাহ ৩২০৪]
➡পাপ স্বীকার করে দুয়া করা।[মিশকাত হা:২৩৩৩]
➡আল্লাহ্'র সুন্দর সুন্দর নামের অছিলায় দু'য়া করা।[সুরা আরাফ ১০৮[
➡ওযু করে দু'য়া করা[বুখারি ৬৩৮৩]
➡নেক আমল বা ভালো কাজ আল্লাহ'র কাছে পেশ করে দু'য়া করা।[বুখারি হা:৪৯৩৮]
➡কিবলামুখি হয়ে দোওয়া করা।[বুখারি হা:৬৩৪৩]
✓দুহাত তুলে দুয়া করা(আবু দাউদ ১৪৮৮)
✓দুই রাকাত সালাত আদায় করে দু'য়া করা।[আবু দাউদ হা:১৫২১]
➡নম্রতা ও বিনয়ের সাথে দু'য়া করা।[সুরা আরাফ ২০৫]
➡দোওয়া নিরবে করা।[সুরা আরাফ ৫৫,২০৫]
➡মনে আশা নিয়ে দৃঢ়তার সাথে দু'য়া করা।[মিশকাত হা:১৪৮৪]
➡দোওয়া কবুল হবে না এই মনোভাব না নিয়ে তাড়াহুড়ো করে দুয়া করা।[ইবনে মাজাহ্ হা:৩১২১]
উপরিক্ত নিয়ম অনুসারে দোওয়া করলে ইংশাআল্লাহ্ দোওয়া কবুল হবে।
@উল্লেখ্য
✓শিরক কারী দোয়া কবুল হয় না।
[ সূরা যুমার আয়াত 65]
✓বিদ'আতীর দোয়া কবুল হয় না ।
[বোখারী হাদিস নং 3172]
✓বেদাতিদের তওবা না করা পর্যন্ত দোয়া কবুল হয় না ( সহিহ তাগরীব হা/৫৪)।
✓হারাম ভক্ষণকারীর দোয়া কবুল হয় না।[মিশকাত হা:২৭৬০]✅
🔰উৎস: বই: আইনে রাসূল সাঃ দো'আ অধ্যায়।
🔰লেখকঃ শায়খ আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ ✅