29/03/2022
শিক্ষাপ্রযুক্তির উন্নয়নে ৪৫ কোটি টাকা বৈশ্বিক বিনিয়োগ পেল বাংলাদেশের Shikho
বাংলাদেশের জাতীয় পাঠ্যক্রম শিক্ষাকে অনলাইনে সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করে তুলতে কাজ করছে বাংলাদেশভিত্তিক শিক্ষাপ্রযুক্তি (এডটেক) স্টার্টআপ ‘শিখো’।
শিক্ষাপ্রযুক্তির উন্নয়নে সম্প্রতি আরও ৪০ লাখ মার্কিন ডলার ফাইন্যান্সিংয়ের মাধ্যমে দ্বিতীয় সিড রাউন্ড শেষ হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। গত বছরের আগস্ট মাসে প্রথম সিড রাউন্ডে স্টার্টআপটি ১ দশমিক ৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ পায় এবং দুটি রাউন্ড মিলিয়ে শিখো সর্বমোট ৫ দশমিক ৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (৪৫ কোটি টাকা) বৈশ্বিক বিনিয়োগ পেয়েছে, যা এখন পর্যন্ত বাংলাদেশি একটি স্টার্টআপের সর্ববৃহৎ সিড রাউন্ড।
এ রাউন্ডে বিনিয়োগ করেছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান ওয়েভমেকার পার্টনার্স এবং অংশগ্রহণ করেছে আরও ৭টি বৈশ্বিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান। বিগত বছরের বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পুনর্বিনিয়োগ করেছে লার্ন ক্যাপিটাল, অ্যাঙ্করলেস বাংলাদেশ ও ভাইব ক্যাপিটাল। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটিতে নতুন বিনিয়োগকারী হিসেবে যুক্ত হয়েছে ডিএসজি কনজ্যুমার পার্টনার্স, ব্ল্যাক কাইট ক্যাপিটাল, রেশিও ভেঞ্চারস ও ডিমান্ড কার্ভের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান শাপিরো।
২০২০ সালের নভেম্বর মাসে শিখোর যাত্রা শুরু হয় তাদের মোবাইল লার্নিং অ্যাপ দিয়ে। বর্তমানে বাংলাদেশের ৬৪টি জেলায় ৩ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী অ্যাপটিতে প্রতিদিন গড়ে ৬৮ মিনিট করে ব্যয় করে থাকে।
শিখোতে রয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত এসএসসি, এইচএসসি ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা সিলেবাসের সব একাডেমিক কোর্স। শিক্ষার্থীদের জাতীয় বোর্ড পরীক্ষায় ভালো ফলে সহায়তা করে—এমন সাশ্রয়ী ডিজিটাল রিসোর্স, টুলসহ একাডেমিক কোর্স প্রদান করার পাশাপাশি পেশাগত ও ভাষাশিক্ষা সহজতর করতে প্রতিষ্ঠানটি নিয়োজিত। নতুন এ বিনিয়োগ দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি এখন ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম শ্রেণিসহ ভকেশনাল ও ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আরও বিস্তৃত ও মানসম্মত কোর্স নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে। এ ছাড়া, শিখো ইতিমধ্যে অধিগ্রহণ করা জনপ্রিয় বাংলাদেশি প্রফেশনাল কোর্সের প্ল্যাটফর্ম বহুব্রীহিকে আরও উন্নত ফিচারসহ নতুন রূপে নিয়ে আসবে।
শিখোর সহপ্রতিষ্ঠাতা শাহীর চৌধুরী (সিইও) এবং জিশান জাকারিয়া (সিওও) তাঁদের এক দশকের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে জাতীয় পাঠ্যক্রমকে একবিংশ শতকের উপযোগী করে তুলতে কাজ করছেন। শাহীর চৌধুরী বলেন, ‘শিখো এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যার উদ্দেশ্য হলো সবচেয়ে ভালো মানের লার্নিং কনটেন্ট সবার জন্য সহজলভ্য করা আর আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে সমগ্র বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের শেখার প্রক্রিয়াকে বদলে দেওয়া। ভিজ্যুয়াল লার্নিংয়ের জন্য অ্যানিমেটেড ভিডিও কনটেন্টের পথিকৃৎ হিসেবে এবং বাংলাদেশের প্রথম ও একমাত্র পার্সোনালাইজড আর ডেটানির্ভর লার্নিং অ্যাপ চালু করতে পেরে আমরা গর্বিত।’
নতুন বিনিয়োগের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে শাহীর চৌধুরী বলেন, ‘২০২১ সালের আগস্টের পর থেকে আমাদের ৬০ জনের দল চারটি আলাদা জায়গায় ছড়িয়ে এখন ৩০০ জনেরও বেশি সদস্যের টিমে পরিণত হয়েছে এবং কয়েকটা ডিপার্টমেন্টকে আরও শক্তিশালী করার জন্য কাজ করছি। আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যতে বিশ্বাস রাখা বিশ্বের প্রতিষ্ঠিত ও অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীদের সমর্থন পাওয়াটা আসলেই আনন্দের। ২০২২ সালের জন্য আমাদের আরও বড় মাপের কিছু পরিকল্পনা রয়েছে এবং আমাদের সব স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারকে সঙ্গে নিয়ে সে লক্ষ্য অর্জনে আমরা আশাবাদী।’
একটি ‘টিচার্স একাডেমি’ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে শিখোর প্রতিষ্ঠাতাদের, যার মাধ্যমে অভিজ্ঞ শিক্ষক নিয়োগ এবং তাঁদের আরও প্রশিক্ষিত করে তোলা হবে, যাতে তাঁরা শিখো প্ল্যাটফর্মে শিক্ষার্থীদের দিকনির্দেশনা ও ফিডব্যাক দিতে পারেন। একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষাযাত্রায় পরিপূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে শিখো প্রতিনিয়ত গড়ে তুলছে কার্যকর লার্নিং ম্যাটেরিয়াল, যা সৃজনশীল, প্রায়োগিক ও যুগোপযোগী।
বিনিয়োগ সম্পর্কে ওয়েভমেকার পার্টনারসের ম্যানেজিং পার্টনার পল সান্তস বলেন, বাংলাদেশের প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছে এখনো রিমোট লার্নিং টুল এবং মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যম সহজলভ্য নয়। অনেকেই মনে করে থাকে যে ভালো ফল করতে শুধু ব্যয়বহুল প্রাইভেট বা কোচিং করা আবশ্যক। কিন্তু শিখো অ্যাপের মাধ্যমে প্রত্যেক শিক্ষার্থীই দেশের স্বনামধন্য শিক্ষকদের কাছ থেকে নিতে পারে মানসম্মত শিক্ষা—কম খরচে, ঘরে বসে, মুঠোফোনে বা কম্পিউটারেই। বাংলাদেশের সব শিক্ষার্থীর জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার শিখোর এই নিরলস প্রয়াসে তাঁরা অনুপ্রাণিত। শিখোর অগ্রগতির মাধ্যমে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার একটি ইতিবাচক ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী তাঁরা।
এই রাউন্ডের বিনিয়োগ পাওয়ার আগে শিখো লার্নস্টার্ট ও অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টরদের কাছ থেকে প্রি-সিড ফান্ড হিসেবে ২ লাখ ৭৫ হাজার মার্কিন ডলার বিনিয়োগ পায়। অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টরদের মধ্যে ছিলেন ফুডপান্ডা বাংলাদেশের ম্যানেজিং ডিরেক্টর জুবায়ের সিদ্দিকী ও আম্বারিন রেজা এবং সামিট পাওয়ার ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের পরিচালক আদিবা খান।
source: Prothom Alo