08/07/2026
আর্জেন্টিনা বনাম মিশরের ম্যাচটা নিয়ে অনেকেই রেফারির ডিসিশন নিয়ে বিতর্ক করছেন এমনকি অনেকে আনফেয়ার ম্যাচ বলেও অভিযোগ করছেন। কিন্তু আমরা যদি একটু আবেগের বাইরে গিয়ে ফিফার বেসিক রুলস আর লজিক দিয়ে চিন্তা করি, তাহলে দেখবো ডিসিশনগুলো একদম ১০০% সলিড ছিল।
প্রথমেই আসি আর্জেন্টিনার পেনাল্টির কথায়। ওইটা নিয়ে আসলে বিতর্কের কিছু নেই একদম ক্লিয়ার কাট ফাউল ছিল। বক্সে ওইভাবে ফাউল করে ফেলে দেওয়ার আসলে কোনো দরকারই ছিল না এটা যে কেউ দেখলেই বুঝবে।
এরপর সবচেয়ে বেশি কথা হচ্ছে মিশরের সেকেন্ড গোলটা বাতিল হওয়া আর আর্জেন্টিনার থার্ড গোলের আগে সালাহর ফাউল ক্লেইম নিয়ে। এই দুইটা ঘটনার মধ্যে মূল তফাৎটা হলো লাস্ট টাচ বা বলের কন্ট্রোল কার কাছে ছিল।
IFAB-এর লজ অফ দ্যা গেম অনুযায়ী একটা গোল হওয়ার আগে বিল্ডআপ প্লে তে অ্যাটাকিং টিম ফাউল করলে গোল বাতিল হয়। মিশরের গোল বাতিলের সময় ভিডিওতে পরিষ্কার দেখা গেছে বলটা লিসান্দ্রো মার্টিনেজের পায়েই ছিল। তাকে থামানোর জন্য মিশরের ডিফেন্ডার তার টিশার্ট টেনে ধরে এবং পায়ে বুট দিয়ে পাড়া দেয়।
যেহেতু বলের লাস্ট টাচ মার্টিনেজের কাছেই ছিল সেহেতু চার্জ ভিক্টিমও লিসান্দ্রো মার্টিনেজই ছিলো। তাই ফিফার নিয়মে এটা মার্টিনেজের বিপক্ষে পরিষ্কার ফাউল। যেহেতু আর্জেন্টাইন কোনো প্লেয়ার এরপর বল ক্লিয়ার করতে পারেনি এবং ওই পজিশন থেকেই সরাসরি বিল্ডআপে গোলটা হয়েছে তাই ভিএআর চেক করে রেফারি গোল বাতিলের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেটা সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই হয়েছে।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনার থার্ড গোলের আগে মোহাম্মদ সালাহর যে ফাউলটা ক্লেইম করা হচ্ছিল সেখানে বল সালাহর পা থেকে ছুটে আলভারেজের (ডিফেন্সের) পায়ে আগে টাচ করেছে। সেখান থেকে বল রিকভার করার চেষ্টায় সালাহ পড়ে গেছেন। এই ধরনের ক্লেইমে সর্বশেষ যার টাচে বল থাকে তাকেই চার্জ ভিক্টিম ধরা হয়।
যেহেতু আলভারেজ ফার্স্ট টাচে বল উইন করে ফেলেছিলো তাই ফিফার ফাউলের নিয়ম অনুযায়ী ওইটা ফাউলের মধ্যেই পড়ে না। এরপর দৌড়ানোর গতির কারণে বা মোমেন্টামের জন্য তাদের দুজনের মধ্যে একটা ন্যাচারাল কলিশন বা ধাক্কা লাগে।
ভিএআর রুমের রেফারিরা মূলত মাঠের প্রতিটি ঘটনা একাধিক ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল থেকে নিখুঁতভাবে চেক করতে থাকেন। রেফারি বা ভিএআর প্যানেল পরিষ্কার দেখেছে যে বল আগে আলভারেজের কন্ট্রোলেই ছিল।
তাই মুখস্থ কথা বলে বিতর্ক করার আগে ফুটবলের এই ধরনের নিয়মগুলো জানা দরকার।
আর এক্সট্রা টাইমের ব্যাপারে বলতে গেলে ৭ মিনিটের জায়গায় ১১ মিনিট খেলা হলেও আর্জেন্টিনা তো ৩য় গোলটা আগেই দিয়ে দিয়েছিল তাই এক্সট্রা টাইম বাড়িয়ে সুবিধা দেওয়ার যে কথা বলা হচ্ছে সেটা লজিক্যাল না।
ভিএআর আসার পর ফুটবলে এখন এক চুল পরিমাণ অফসাইডও ধরা পড়ে যায় তাই আগের যুগের মতো ইচ্ছা করে কাউকে জিতিয়ে দেওয়া সম্ভব না। অন্য সব বড় দলই পেনাল্টি পায় সেটাই ফুটবলের অংশ। তাই আবেগে না ভেসে আমরা যদি ফুটবলের নিয়মগুলো একটু জেনে ম্যাচটা বিশ্লেষণ করি তাহলেই আর কোনো কনফিউশন থাকবে না।
পুরো ম্যাচেই আর্জেন্টিনা ফেয়ারলি জিতেছে এবং রেফারির কলগুলো নিয়মের ভেতরেই ছিল।