22/03/2022
মানুষ গােষ্ঠীবদ্ধ হয়েছে। গােষ্ঠীর শক্তিমান ও বুদ্ধিমানকে বরণ করেছে নেতার পদে।
শক্তিমান হয়েছে শাসক, বুদ্ধিমান হয়েছে ধর্মীয় নেতা। ধর্মীয় নেতারা বুদ্ধিরজোরে শাসকদের ওপরও প্রভুত্ব করতে চেয়েছে।
নিজেদের ঘােষণা করেছে ঈশ্বরের প্রেরিত দূত হিসেবে, ঈশ্বরের সম্তান হিসেবে, নবরূপে ঈশ্বর হিসেবে।
বিভিন্ন কৌশল সৃষ্টি করে সেইসব কৌশলকে সাধারণের সামনে হাজির করেছে অলৌকিক ক্ষমতা হিসেবে।
নিজেদের এইসব অলৌকিক কীর্তিকথা প্রচারের জন্য
কখনও সাহায্য নিয়েছে কিছু সুবিধাভােগী সম্প্রদায়ের, কখনও বা কিছু অন্ধ বিশ্বাসীদের।
পরবর্তীকালে সেইসব অলৌকিক কীর্তিকথার কিছু কিছু পল্পবিত হয়ে কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছে।
এই সব ধর্মগুরুরা নিজস্ব ধারণাগুলােকে ঈশ্বরের মত বলে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে সফলও হয়েছে, যদিও পরবর্তীকালে বিজ্ঞানের
অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এইসব অভ্রান্ত ঈশ্বরের মতগুলাে একে একে ভ্রান্ত বলে প্রমাণিত হয়েছে।
ধর্মীয় শাসকেরা যে-সব ধর্মগ্রন্থ রচনা করে গেছে, সেগুলাে বিভিন্ন ধর্মে বিশ্বাসী মানুষেরা অভ্রান্ত সত্য হিসেবেই গ্রহণ করেছে। যুক্তি দিয়ে বিচার না করেই
সংখ্যাগুরু মানুষ যুগ যুগ ধরে মেনে চলেছে ধর্মীয় ধারণাগুলােকে।
শাসক সম্প্রদায় ও পুরােহিত সম্প্রদায় পরস্পরের সহযােগী ও পরিপুরক হয়ে শােষণ করেছে,
অন্ধ-বিশ্বাসী সাধারণ মানুষদের।
বিশ্বের বহু দেশেই বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় শিশুমনেই রােপিত হচ্ছে অবাস্তব অলৌকিক ধ্যান-ধারণার বীজ। দেব-দেবী ও সাধক-সাধিকাদের মনগড়া অলৌকিক
কাহিনি পড়ে ও শুনে যে বিশ্বাস শিশু মনে অন্কুরিত হচ্ছে, তাই পরিণত বয়সে বিস্তার লাভ করছে বৃক্ষরূপে।
যুক্তিবাদী, মুক্তচিন্তার সেইসব মানুষ খ্রিস্টজ্মের ৫০০ বছর আগে পিথাগােরাস, এনাকু, সিমেণ্ডের মতাে গ্রীক
অনুসন্ধিৎসু পণ্ডিতেরা জানিয়েছিলেন, পৃথিবী সুর্যের একটি গ্রহ, সুর্যকে ঘিরে পৃথিবী ও অন্য প্রহগুলাে ঘুরছে।
বিনিময়ে ধর্ম-বিরােধী, ঈশ্বর-বিরােধী, নাস্তিক
মতবাদ প্রকাশের অপরাধে এঁদের বরণ করতে হয়েছিল অচিন্তনীয় নির্যাতন।
সত্যের ওপর অসত্যের নির্যাতন।
এই মতকে ২০০০ বছর পরে পুস্তকাকারে তুলে ধরলেন পােল্যাণ্ডের নিকোলাস কোপারনিকাস। তারই উক্তরসুরি হিসেবে এলেন ইতালীর জিয়াের্দানাে
ব্রুনাে, গ্যালিলিও গ্যালিলেই। প্রতিষ্ঠা করতে চাইলেন বৈজ্ঞানিক সত্যক সূর্যকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে পৃথিবীসহ গ্রহগুলাে।
অলৌকিক নয়, লৌকিক (প্রথম খণ্ড)