08/06/2026
নার্সদের কি আসলেই কোনো অভিভাবক নেই? বিপিএসসি দেয় ১০ম গ্রেড, আর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় দেয় ১৪-১৬তম গ্রেড এই চরম বৈষম্য আর কতদিন?"
আজ অত্যন্ত ক্ষোভ এবং হতাশার সাথে লক্ষ্য করছি যে, বাংলাদেশে নার্সিং পেশাকে ধাপে ধাপে ধ্বংস করার এক অদৃশ্য পাঁয়তারা চলছে। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও নার্সদের সাথে যে প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য করা হচ্ছে, তা এখন আর গোপন কোনো বিষয় নয়।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, নার্সিং কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্ব এবং যোগ্যতার স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (BPSC) সরাসরি ১০ম গ্রেড (২য় শ্রেণী) কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, সমাজসেবা অধিদপ্তর বা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর মতো বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর যখন তাদের নিজস্ব কাঠামোর অধীনে নার্স নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে, তখন তারা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাচারীভাবে নার্সদের ১৪তম কিংবা ১৬তম গ্রেডে নামিয়ে আনে!
এখানেই মূল প্রশ্নটি জাগে একই দেশ, একই শিক্ষাগত যোগ্যতা (ডিপ্লোমা/বিএসসি ইন নার্সিং), অথচ গ্রেডের ক্ষেত্রে কেন এই আকাশ-পাতাল দ্বিমুখী নীতি? একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে একই পেশার মানুষের সাথে এমন বৈষম্য কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ১০ম গ্রেডের একজন নার্সিং কর্মকর্তাকে যখন অন্য দপ্তরে ১৪ বা ১৬তম গ্রেডের পদের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তা শুধু ওই চাকরিপ্রার্থীর অপমান নয়, বরং গোটা বাংলাদেশের নার্সিং সমাজ এবং এই মহান পেশাকে চরমভাবে অবমূল্যায়ন করা।
তাহলে আমাদের নার্সিং লিডাররা এখন কোথায়?
সবচেয়ে বড় লজ্জার বিষয় হলো, সাধারণ নার্সরা যখন মাঠপর্যায়ে দিন-রাত রোগীদের সেবা দিয়ে রক্ত জল করছে, তখন আমাদের তথাকথিত নার্সিং লিডাররা এসি রুমে বসে ঘুমোচ্ছেন।
Bangladesh Nurses Association-BNA (বাংলাদেশ নার্সিং অ্যাসোসিয়েশন)-এর আসলে কাজটা কী? * সাধারণ নার্সদের অধিকার যখন বুটের তলায় পিষ্ট হয়, তখন এই সংগঠনগুলোর কাজ কি শুধু নির্বাচন করা, পদ ভাগাভাগি করা?
বিভিন্ন দপ্তরে যখন এমন বৈষম্যমূলক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ পায়, তখন BNA বা অন্যান্য নার্সিং সংগঠনের পক্ষ থেকে কেন সাথে সাথে আইনি নোটিশ পাঠানো হয় না? কেন মন্ত্রণালয়গুলোতে গিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয় না?
নেতৃত্বের এই মেরুদণ্ডহীন নীরবতার কারণেই আজ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় নার্সদের অবহেলা করার সাহস পাচ্ছে। অভিভাবকহীন এক দশা তৈরি হয়েছে আমাদের এই সেক্টরে।
আমাদের স্পষ্ট দাবি:
১. অবিলম্বে সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং নৌবাহিনীসহ সমস্ত মন্ত্রণালয়ের এই বৈষম্যমূলক ও অমর্যাদাকর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সংশোধন করতে হবে। যেখানেই নার্স নিয়োগ হবে, সেখানে ১০ম গ্রেড নিশ্চিত করতে হবে।
২. BNA এবং নার্সিং অধিদপ্তরকে (DGNM) অবিলম্বে এই ব্যাপারে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে এবং এই সার্কুলারগুলো বাতিলের জন্য আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।
নার্সিং সমাজকে বলছি অন্যায় সহ্য করা কোনো ধৈর্য নয়, ওটা দাসত্ব। অধিকার কেউ থালায় সাজিয়ে দেয় না, অধিকার আদায় করে নিতে হয়। যদি আমাদের লিডাররা আমাদের পক্ষে কথা বলতে না পারে, তবে সাধারণ নার্সদেরই নিজেদের অধিকার রক্ষায়, নিজেদের মেরুদণ্ড সোজা করে রাজপথে নেমে এই অন্যায়ের জোরালো প্রতিবাদ জানাতে হবে।
ধিক্কার জানাই এই বৈষম্যমূলক মানসিকতাকে! ধিক্কার জানাই আমাদের ঘুমন্ত নেতৃত্বকে!
#নার্সিং_পেশার_অবমূল্যায়ন_বন্ধ_হোক
্রেড_আমাদের_অধিকার
#বৈষম্যমূলক_নিয়োগ_বিজ্ঞপ্তি_বর্জন_করুন
াব_চাই