02/04/2026
জ্বালানি তেলের দাম না বাড়ানো সরকারের বড় সাফল্য - স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ।
এই বিষয়ে বলতে গিয়ে তিনি সরকারের আগাম প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার কথা বলেছেন।তার মানে তারেক রহমানের সরকার আগে থেকেই জানতো, " শেখ হাসিনা সরকারের করা " ভারত বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইন " দিয়ে বাংলাদেশ থেকে গ্যাস পাচার হয় না , বরং ভারত থেকে ১৫ হাজার টন ডিজেল আসার রাস্তা পরিষ্কার হয়
বাংলাদেশের কৃষি খাত ধ্বংস করতে ক্ষমতার গদির লোভ সামলাতে না পেরে, যারা আমেরিকার সাথে দেশের বারোটা বাজিয়ে , ৩৫০ কোটি ডলারের তথা ৩.৫ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করলো , তারা জ্বালানি তেলের দাম না বাড়িয়ে কৃষি খাত রক্ষা করবে , এসব শুনলেই আমার কেমন যেন হাসি পায়।
বাংলাদেশ প্রায় ৮৬ মিলিয়ন ডলারের রিফাইন্ড অয়েল পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে। বাংলাদেশ সুপার ক্যামিকেল ন্যাফথা রপ্তানি করে। বাংলাদেশ মঙ্গোলিয়ায় ৫.৭৪ হাজার ডলার , আরব আমিরাতে ২৯.৮৫ হাজার ডলার ও ভারতে ১৯.৬২ মিলিয়ন ডলারের রিফাইন্ড অয়েল রপ্তানি করে। বাংলাদেশ নিজেই পেট্রোল ও অকটেনের তেলে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এর জন্য ইরানের হরমুজ প্রণালীর গল্প প্রচার করা একপ্রকার রাষ্ট্রীয় দূর্নীতির অংশ।এই দূর্নীতির অংশ হিসেবেই অকটেন ও পেট্রোল নিজ দেশে উৎপাদন করেও ১০০ টাকার তেল ৩০০- ৪০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে হতভাগা বাঙালিদের।
গ্যাস কন্ডেনসেট থেকে ক্রুড অয়েল পরিশোধনের মাধ্যমে বাংলাদেশেই পেট্রোল , অকটেন ও ডিজেল উৎপাদনের সক্ষমতা আছে। এর মধ্যে ডিজেলে সয়ংসম্পূর্ণ না হলেও পেট্রোল ও অকটেনে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ। বাংলাদেশ প্রতি বছর ০.৮ মিলিয়ন টন অকটেন ও পেট্রোল উৎপাদন করে।এর মধ্যে পেট্রোল ৪লাখ ৩০ হাজার ৮৩৬ ও অকটেন ৩ লাখ ৮৫ হাজার , ৪৩৫ মেট্রিক টন উৎপাদিত হওয়ার পরও হোন্ডা ও গাড়ি ঠেলে ঠেলে নিয়ে যাওয়ার কারণ আমার কাছে বোধগম্য নয়। বর্তমান সরকারের যে তেল নিয়ে কোন আগাম পরিকল্পনা ছিলো না তার প্রমাণ হচ্ছে " ভুর্তকির গল্প"।
বর্তমান সরকার জ্বালানি তেলে দৈনিক ১৬৭ কোটি টাকা করে ভুর্তকি দিচ্ছে। অর্থাৎ এই ১৬৭ কোটি টাকা করে ২৫ দিনে রাষ্ট্রের প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার কোন মা বাপ নাই। ঈদের আগে প্রতিদিন ২৪ হাজার থেকে ২৫ হাজার টন ডিজেল সাপ্লাই হলেও এখন ১২ হাজার টন ডিজেল সাপ্লাই দিতে পর্যন্ত সরকার হিমশিম খাচ্ছে। জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম বলেছেন , " আগামী দিনগুলোতে সরকার যাতে ৯০ দিনের জ্বালানি মজুত করতে পারে , সেটির কাজ শুরু করে দিয়েছে।"
👉 জ্বী , এইখানেও ধান্দা। আগে থেকেই সরকার ৯০ দিনের জন্য জ্বালানি তেল মজুত করার সুযোগ থাকলেও তা করেনি। এই নিয়ে লুসিড ড্রিমের গত কয়েকদিন আগের লেখা " যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মুচলেকা দিয়ে বাংলাদেশ সরকার" লেখাটি কষ্ট করে পড়ে নিবেন।ইরান - ইসরায়েল যুদ্ধ চীন সাগর থেকে যেদিন আমেরিকার আব্রাহাম লিংকন যুদ্ধজাহাজ ইরানের উদ্দেশ্য রওনা হয়েছে , পৃথিবীর মানুষ সেদিন বুঝতে পারলেও সরকার আজ এক মাস পর বুঝতে পারছে।এসব বেশী দামে তেল কিনে ভুর্তুকি ব্যবসা ও দূর্নীতি ছাড়া আর কিছুই নয়।
🛑 বাংলাদেশের ডিজেলের বার্ষিক চাহিদা হচ্ছে প্রতি বছরে প্রায় ৪০ লাখ টন করে মাসে মাত্র ৩.৫ থেকে ৪ লাখ টন । বাংলাদেশের মধ্যে বছরে ডিজেল উৎপাদিত হয় ৭ থেকে ১০ লাখ টন। বাংলাদেশের চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারির মাধ্যমে ডিজেল , অকটেন ও পেট্রোল উৎপাদিত হয়। দেশের মোট চাহিদার ৪০ শতাংশ তেল উৎপাদন হয় এই কারখানায়।ভারত থেকে ২০২৬ সালে শেখ হাসিনা সরকারের করা " ভারত বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইন" দিয়ে ১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানির যে অনুমতি সরকার এখন দিয়েছে , তা আর এক মাস আগে দিলে কি ক্ষতি হতো?
অর্থাৎ বেশী দামে তেল কিনে দূর্নীতি করা যাবে । এজন্য সরকারের এই নিয়ে আগাম কোন পরিকল্পনাই ছিলো না । যার কারণে বাংলাদেশের তেলের বাজারে ভয়াবহ সঙ্কট তৈরি করে আর্টিফিশিয়াল স্কারসিটি বিজনেস শুরু করে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলগুলো। এটাকে প্রাইস হাইক বা ডিজিটাল চুরি বলতে পারেন। এইভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ করার জন্য মার্কেট ম্যানিপুলেশন সিন্ডিকেট করে ক্ষমতাসীন সরকারের রাজনৈতিক দলের ব্যাবসায়ীরা। দেশের দূর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীদের এই সুযোগ করে দিয়েছে এই অযোগ্য ও অদক্ষ সরকার।
🛑 ইরানের হরমুজ প্রণালী ছাড়াও মালাক্কা প্রণালী , সুয়েজ খাল ও সুমেদ পাইপলাইন, বাইপাস পাইপলাইন, আরব আমিরাত পাইপলাইন , ইরাকের কিরকুক - সিহান পাইপলাইন ব্যবহার করে পৃথিবীর ৮০ শতাংশ তেল আমদানি করা যায়। তেল উৎপাদনকারী বড় দেশ রাশিয়া , যুক্তরাষ্ট্র ড় ব্রাজিল ও কানাডা তাদের নিজস্ব স্থানীয় বন্দর ব্যবহার করেই তেল রপ্তানি করে। এরজন্য হরমুজ প্রণালীর কোন প্রয়োজন পড়ে না।
ইতিমধ্যে রাশিয়া ক্রুড অয়েলের ব্যরেল প্রতি ১০-১৩ ডলার কমে বিক্রি করছে। কিন্তু সরকারের কর্তাব্যক্তিরা ইতিমধ্যে বলে দিয়েছেন, " এই তেল কিনতে হলে তাদের প্রভু আমেরিকার সমর্থন লাগবে"। অর্থাৎ আমেরিকার কাছে মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় আসা এই সরকার প্রভু আমেরিকার অনুমতি ছাড়া হাগতে ও মুততে পর্যন্ত যাবে না।এই জন্য নির্বাচনের মাত্র তিনদিন আগে একই মায়ের পেটের দুই ভাই বিএনপি ও জামায়াত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বাংলাদেশ বর্গা দিয়ে কেউ সরকারী দল আর কেউ বিরোধী দলে বসার নাটক করে দেশবাসীকে বোকা বানিয়েছে।
🛑 মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ হলে আমেরিকার লাভ হয়। তাই বর্তমান সরকার তেল নিয়ে বড় দুর্নীতির আশায় জোপ বুঝে কোপ দিতে বসে আছে। ইরান ও আমেরিকার যুদ্ধ যত দীর্ঘস্থায়ী হবে ততই বিএনপি ও জামায়াতের মুনাফা লোভীদের লাভ।এতে করে আমেরিকার মার্কিন শেয়ার , শেল গ্যাস , খনিজ তেল ও ডলারের দাম যত বাড়বে তত বেশি দূর্নীতির সুযোগ তৈরি হবে বিএনপি ও জামায়াতের জন্য। এজন্য প্রভুকে সন্তুষ্ট করতে বারবার প্যানিক প্যানিক শব্দের অবতারণা করা হচ্ছে।
🛑 ইরান ও ইসরায়েল যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বর্তমান বিএনপি ও জামায়াত সরকার ও বিরোধীদলের অদক্ষতা ও অযোগ্যতা দেশবাসীর সামনে মুখোশ উন্মোচন হয়ে গেছে। শেখ হাসিনা এখন বাংলাদেশের সরকার প্রধান থাকলে ইরান ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই ভারত অথবা রাশিয়া থেকে অন্তত ৪ লাখ টন ডিজেল আমদানির ব্যবস্থা করতেন। দেশের রিফাইনারি কারখানাগুলোর উৎপাদন বাড়িয়ে পর্যাপ্ত পেট্রোল ও অকটেন তেল উৎপাদনের ব্যবস্থা বাংলাদেশেই করতেন। দেশের জনগণকে তেলের জন্য এইভাবে হাহাকার করতে হতো না। মার্কিন প্রভুদের ইশারার অপেক্ষায় ও থাকতে হতো না। দেশে তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা বিএনপি ও জামায়াতের ডিজিটাল হাওয়া ভবন দূর্নীতির অংশ।
🛑আজ দেশের মানুষ একজন রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার অভাব হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে।২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যখন দৈনিক দশ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন করা রাশিয়া নিষেধাজ্ঞার মধ্য পড়েছিল, বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাসের ধাক্কা , ইউরোপের অর্থনৈতিক মন্দা, যখন ব্যারেল প্রতি তেলের দাম ৯০ ডলার ১২০-১৩০ ডলার হয়ে গিয়েছিল তখনও অগ্রিম ব্যবস্থা ও পরিকল্পনা করে রাখায় দুই হাতে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও রাষ্ট্র সফলভাবে সামলেছেন শেখ হাসিনা। বর্তমান বিশ্ব বাজারে ব্যারেল প্রতি তেলের দাম যখন ১০৩-১০৬ ডলারে উঠানামা করছে তখনও বাংলাদেশের সরকার সামলাতে সম্পূর্ণ ব্যার্থ বিএনপি ও জামায়াতের ভাই ভাই সরকার। শেখ হাসিনা মেট্রোরেল করে দিয়েছেন বলে দৈনিক ৪ লাখ যাত্রীর চাপ সামলাচ্ছে শেখ হাসিনার করে যাওয়া এই কৌশলগত সফল প্রজেক্ট।এই চার লাখ যাত্রী বাস ও সিএনজির ডিজেল ও গ্যাসের উপর ভর করলে ইতিমধ্যে ঢাকায় ডিজেলের তীব্র সংকট তৈরি হয়ে সেই মহামারি সমগ্র বাংলাদেশে ছড়িয়ে যেতো।
এজন্য বাংলাদেশে এখনও উচ্চারিত হয় - শেখ হাসিনা দ্য গ্রেট কমিউনিকেটর অফ বাংলাদেশ। আইরন লেডি, ডায়ানামিক ও ক্যারেশমাটিক লীডার এই উপাধিগুলো শেখ হাসিনার নামের সাথে সাথে এমনি এমনি উচ্চারিত হয় না। এজন্যই শেখ হাসিনাকে ম্যাডাম না বলে বলা হয় People's Leader বা জননেত্রী শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনাই ছিলেন বাংলাদেশের সত্যিকারের জনগণের জননেত্রী ও সফল রাষ্ট্রপ্রধান।
সত্য সবসময় সুন্দর।
লুসিড ড্রিম
২৯-০৩-২০২৬