08/05/2026
পটুয়াখালীতে যাবজ্জীবনের রায়েও যে অকৃতজ্ঞতা: শহিদুল ইসলামের মুক্তির নেপথ্যে এক বিশ্বাসঘাতকতার গল্প
নিজস্ব প্রতিবেদক, পটুয়াখালী।
২০১১ সালের ৪ঠা এপ্রিল পটুয়াখালীর বদরপুর ইউনিয়নের শিয়ালী গ্রামে সংঘটিত সেই ভয়াবহ হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার রায় সম্প্রতি ঘোষিত হয়েছে। এজাহার অনুযায়ী (মামলা নং-০৩, তারিখ-০৫/০৪/১১), যেখানে মামলার অনেক আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে, সেখানে এক নাটকীয় মোড় নেয় ১৩ নং আসামী শহিদুল ইসলাম মৃধার ক্ষেত্রে।
মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এই মামলায় শহিদুল ইসলামের আপন শ্বশুর এবং শ্যালকও আসামী ছিলেন। আদালতের রায়ে তারা দুজনেই যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। এমন এক কঠিন পরিস্থিতিতে যেখানে আপনজনেরাও রক্ষা পাননি, সেখানে শহিদুল ইসলামকে 'বেকসুর খালাস' এনে দিতে পর্দার আড়ালে থেকে এক ব্যক্তি চালিয়েছেন দীর্ঘ প্রাণান্তকর লড়াই। আইনজীবীদের সাথে সমন্বয় থেকে শুরু করে নিজের পকেটের অর্থ ব্যয় করে নথিপত্র গুছিয়ে দেওয়ার মতো কঠিন কাজটি তিনি একা সামলেছেন।
কারাগারে থাকাকালীন শহিদুল ইসলাম বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, এই বিপদ থেকে উদ্ধার পেলে তিনি তার ত্রাণকর্তাকে যাবতীয় খরচ এবং পারিশ্রমিক সসম্মানে বুঝিয়ে দেবেন। কিন্তু বিধি বাম! "নদী পার হলে মাঝিকে ভুলে যাওয়া"—শহিদুল ইসলামের ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনটিই ঘটেছে।
আদালতের রায়ে তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নিচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু যে মানুষের ত্যাগ আর পরিশ্রমে তিনি আজ মুক্ত, তাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা তিনি সম্পূর্ণ ভুলে গেছেন। পাওনা টাকা পরিশোধ না করায় বর্তমানে সেই মধ্যস্থতাকারী ব্যক্তি উভয়সংকটে পড়েছেন। একদিকে তিনি পাওনা টাকা পাচ্ছেন না, অন্যদিকে আইনজীবীরা ধারণা করছেন শহিদুল হয়তো ঠিকই পুরো পেমেন্ট দিয়ে দিয়েছেন কিন্তু মধ্যস্থতাকারী তা আটকে রেখেছেন। ফলে আইনজীবীদের কাছেও তাকে এখন 'প্রতারক' ও 'বাটপার' হিসেবে পরিচিত হওয়ার গ্লানি সইতে হচ্ছে।
আপন শ্বশুর-শ্যালক যেখানে কারাগারে, সেখানে অভাবনীয়ভাবে মুক্ত হয়েও শহিদুল ইসলাম যে অকৃতজ্ঞতার পরিচয় দিলেন, তা আইনি লড়াইয়ের জয়কেও ম্লান করে দিয়েছে। সমাজে এই ধরনের মানুষের মুখোশ উন্মোচন হওয়া আজ সময়ের দাবি। আইনি লড়াইয়ে জয় হলেও এখানে নৈতিকতা ও বিশ্বাসের চরম পরাজয় ঘটেছে।