03/03/2026
📰ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইরান। এতে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত প্রায় ৬০ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
ইতিমধ্যে আরব আমিরাতে একজন ও বাহরাইনে একজন প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। কুয়েতে চারজন ও বাইরাইনে তিনজন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। অনেকেই জরুরি প্রয়োজনে দেশে ফিরতে পারছেন না। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা বন্ধ বা সীমিত থাকায় অনেকে ছুটি শেষে যথাসময়ে ফিরতে পারছেন না। কারো কারো ভিসার মেয়াদ প্রায় শেষ হয়ে যাওয়ায় নতুন জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর বাংলাদেশি দূতাবাস নিরাপত্তার স্বার্থে সবাইকে সামরিক স্থাপনার আশপাশ থেকে দূরে থাকতে এবং সবাইকে বাসায় অথবা নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে বলেছে। অতি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে দূতাবাসের পক্ষ থেকে। অন্যদিকে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও কল সেন্টার ও হট লাইন খোলা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গত তিন দিনে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মোট ৭৪টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এতে হাজার হাজার প্রবাসী ও আন্তর্জাতিক যাত্রী চরম অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তিতে পড়েছেন। তবে যাঁদের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে, তাঁদের মেয়াদ বাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছে এয়ারলাইনসগুলো। আর যেসব প্রবাসী যাত্রীদের বাড়ি অনেক দূরে, তাঁদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
বাংলাদেশের শ্রমবাজার অনেকটাই মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক। আমাদের মোট অভিবাসীর ৬৭ শতাংশই যায় সৌদি আরবে। শ্রমবাজারের দ্বিতীয় স্থানে কাতার, চতুর্থ কুয়েত, ষষ্ঠ আরব আমিরাত এবং সপ্তম স্থানে রয়েছ জর্দান। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় প্রতিটি দেশেই যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বড় ঝুঁকিতে পড়েছে আমাদের শ্রমবাজার।
আতঙ্কে আছেন প্রবাসীরা। অনেকেই ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না। আর এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে রেমিট্যান্সে।
জানা যায়, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ও তৈরি পোশাক শিল্পের রপ্তানি আয় বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান দুই চালিকাশক্তি।
বৈশ্বিক মন্দা বা অর্থনৈতিক অস্থিরতার সময়ও দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখতে রেমিট্যান্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ২০২৫ সালে দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩২.৮ বিলিয়ন ডলার, যা অন্য যেকোনো বছরের চেয়ে বেশি।
বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিএমইটি) সূত্র জানায়, ২০২৫ সালে ১১ লাখ ৩১ হাজার ১৪৪ জন কর্মী কাজের জন্য বিভিন্ন দেশে গেছেন। মোট অভিবাসীর ৬৭ শতাংশ, অর্থাৎ ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৩৬৯ জন গেছেন সৌদি আরবে। এরপর যথাক্রমে ১০ শতাংশ, এক লাখ সাত হাজার ৫৯৬ জন কাতারে, ৬ শতাংশ, ৭০ হাজার ১৭৭ জন সিঙ্গাপুরে, ৪ শতাংশ, ৪২ হাজার ২৪১ জন কুয়েতে এবং ৪ শতাংশের কাছাকাছি ৪০ হাজার ১৩৯ জন গেছেন মালদ্বীপে। এরপর ১৩ হাজার ৭৫২ জন গেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), ১২ হাজার ৩০১ জন গেছেন জর্দান, ১২ হাজার ২৫১ জন গেছেন কম্বোডিয়ায়, ৯ হাজার ৩৬৫ জন গেছেন ইতালি এবং ছয় হাজার ৬৫০ জন গেছেন কিরগিজস্তান।
চলতি বছরের গত দুই মাসের বিএমইটির পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, আগের মতো প্রথম স্থানে রয়েছে সৌদি আরব, গত দুই মাসে এই দেশে গেছেন এক লাখ আট হাজার ৯১৯ জন প্রবাসী। দ্বিতীয় স্থানে সিঙ্গাপুর, তৃতীয় স্থানে কাতার, চতুর্থ কুয়েত, ষষ্ঠ জর্দান, অষ্টম আরব আমিরাত ও নবম স্থানে রয়েছে ইরাক।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের শ্রমবাজার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। যাঁরা ওই সব দেশে অবস্থান করছেন, তাঁরা আতঙ্কে, উৎকণ্ঠায় রয়েছেন। এখন দেখার বিষয় যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয় কি না। সেটা হলে যাঁরা অবস্থান করছেন, তাঁরা চাকরিচ্যুত হবেন। নতুনদের সুযোগ কমে যাবে। স্বাভাবিকভাবেই রেমিট্যান্সেও বড় ধরনের ধাক্কা আসবে।
#প্রবাসবার্তা #ইরান #যুদ্ধ #সৌদিআরব