07/10/2019
রুমে ডেকে নেওয়া, রড-লাঠি দিয়ে পিটানো, হাত-পা ভেঙ্গে গেলে বা আধমরা হওয়ার পর DSW/Provost এর উপস্থিতিতে পুলিশে দেওয়া, এভাবেই চলে আসছিল, যার উপর শিবির ট্যাগ লাগতো বা যাকে শিবির বলে সন্দেহ করা যেতো।
ভিকটিম যেহেতু শিবির বা শিবির ট্যাগ পাওয়া, তাই আড়িপাতা নামক নাৎসিবাদী গ্রুপে চলতো ভিকটিমের নামে কুৎসা রটানো আর যারা মেরেছে তাদের বাহবা দেওয়া। মিডিয়ায় কিছু আসতো না, সাধারণ ছাত্রদের কেউ এই ব্যাপারে নাক গলাতো না, কারন ভিকটিমতো শিবির। সবাই বুঝত, মার খাওয়া ছেলেটি হলের সবচেয়ে ভদ্র ছেলেদের অন্যতম, নামাজী, কারো সাথে কখনও ঝামেলায় জড়ায় নি, তারপরেও যেহেতু শিবির, ওসব ব্যাপারে আমাদের না ভাবলেও চলবে।
কিন্ত এবার ঝামেলাটা বাঁধল আবরারের কারনে। সন্ত্রাসীরা ভেবেছিল, সচরাচর যা হয় তাই হবে, কিছুক্ষণ মারব তারপর পুলিশে দেবো। কিন্ত আবরার খুন হলো। সাধারণ ছাত্রদের টনক নড়ল, আরেহ এভাবেতো আমাকেও যেকোনো সময় রুমে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে/হত্যা করে শিবির ট্যাগ লাগিয়ে দিতে পারে। এতদিন যারা মুখে কুলূপ এটে ছিল তারাও প্রতিবাদ শুরু করলো, অনলাইনে-অফলাইনে, মিছিল-মানব বন্ধন। অথচ এই সন্ত্রাসী কর্মকান্ড প্রকাশ্যে চলছে অর্ধযুগেরও বেশি সময় ধরে। কেউ কোনো প্রতিবাদ করে নি, লিটারেলি কেউ কিচ্ছু বলে নি।
যাক তারপরেও যেহেতু প্রতিবাদ শুরু হয়েছে, হোক। বিচারের দাবি উঠেছে, উঠেছে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি, দোষীদের উপযুক্ত সাজা দেওয়ার দাবি। এটা ভালো দিক। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী হয়।
আস্তে আস্তে আমরা ভুলে যাবো, ফেসবুকেও আর আবরারকে নিয়ে লেখা হবে না, মিডিয়ার ব্রেকিং নিউজে আসবে অন্য শিরোনাম। অপরাধীদের অনেকেই ক্যাম্পাসে বুক ফুলিয়ে চলবে। কিন্ত আমার রব তো ভুলে যান না। মহান আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ, ওদেরকে তো আখিরাতে লাঞ্চিত করবেনই, দুনিয়াতেও লাঞ্চিত করুন। ওদের প্রত্যেককে সাজা দিন। ওদেরকে যারা পেলে-পুষে এতবড় করেছে, আড়িপাতা টাইপের গ্রুপের মাধ্যমে সমর্থন দিয়েছে, এমনকি যারা মৌন সমর্থন দিয়েছে তাদেরকেও, ওদের কাউকেই ছাড় দিয়েন না। আল্লাহ শোক সন্তপ্ত পরিবারটিকে ধৈর্য ধারণ করার তৌফিক দান করুন। আবরারকে শহীদ হিসেবে কবুল করে নিন, জান্নাতের সবুজ পাখিদের মাঝে তাকেও শামিল করে নিন।
কার্টেসিঃ মোঃ আল-আমীন, সিএসই, বুয়েট