25/09/2025
রুমমেট টিউশনীতে। পুরো রুমে আমি একা। পাকিস্তান বাংলাদেশ খেলা দেখবো বলে খুব আমেজ নিয়ে ফোন নিয়ে বসছি। হঠাৎ দরজায় শব্দ,দরজা খুলে দেখি রুমমেট আসছে। তবে কেমন যেন বিধ্বস্ত লাগছে আজকে ওকে।
কিছু না বলে রোমান আমার সাথে খেলা দেখা শুরু করলো। আমার ফোনে হঠাৎ দেখি রুমমেটের আইডি থেকে মেসেজ-
"নুর আজকে আসতে একটু দেরী হবে। তুই খেয়ে শুয়ে পরিস।"
এটা দেখে আমি রীতিমতো অবাক। রোমান তো রুমে শুয়ে আছে, তাহলে এই মেসেজ কার! মেসেজ যদি রোমান করে থাকে তাহলে আমার পাশে কে!
নজরটা ফোন থেকে সরিয়ে পাশে যে আছে ওর সেই ভয়ংকর রুপ দেখে আমি প্রচন্ড ভয়ে জিজ্ঞাসা করি - তুমি কে??
আমি কণ্ঠ চেঁচিয়ে বলতে পারলাম না, শুধু ধীরে ধীরে হাঁটতে লাগলাম। আমার পাশে যে ছায়া চোখ মেলে দেখলাম রোমানের চুল, জামা সবই এক; কিন্তু মুখটা! মুখটা অচেনা, ঠোঁটের কোণে অদ্ভুত এক হালকা হাসি। সে ধীর সুরে বলল, “তোমার নামটা ঠিকই বলেছে ও - নুর। কিন্তু আমি রোমান না।”
হৃদয়টা পাগলের মতো দোল খেতে লাগল। আমি ফোন বের করে দেখি রুমমেটের আইডি থেকে পাঠানো সেই মেসেজের উপরে আরেকটা মেসেজ এসেছে: “ভাগ্যেশ—তারাই যা তোমার পাশেই থাকে।”
এরপরে সেই ছায়াটা বলতে লাগলো--
"আমিও তোমার মতো আগে বাংলাদেশের খেলা দেখতাম। কিন্তু এই মায়ের দোয়া ক্রিকেট টিম আমার জীবনটাই কেড়ে নিলো। একবার খেলা দেখতে গিয়ে ১০ বলে ১ রান লাগবে। সবাই ভাবছে বাংলাদেশ জিতে যাবে।
কিন্তু! কিন্তু এই ছাগল গুলো সেই এক রানেই হেরে গেলো। আমি ছিলাম হার্টের রোগী, এই হার মেনে নিতে পারিনি। সেই রাতেই হার্ট এ্যাটাক করে মারা গেলাম। আমিতো আত্মা, আমাদের ফোন থাকেনা। তাই তোমার রুমমেটের রুপ ধরে খেলা দেখতে আসছি। প্লিজ ভয় পেয়ো না।"
আমি আর কিছু না বলে,ওই ভূতের গলা জড়ায় ধরে কিছুক্ষণ কান্নাকাটি করলাম। তারপর দুজনে মিলে খেলা দেখতে আরম্ভ করলাম। ভূত বলে কি ওদের শখ আহ্লাদ থাকবে না?
© Noor