31/05/2026
তেতুলগাছী বাজার কমিটি নিয়ে বিরোধ, হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ, পুলিশের উদ্যোগে আপোষ।
বগুড়া প্রতিনিধি:
বগুড়ার গাবতলী উপজেলার নাড়ুয়ামালা ইউনিয়নের তেতুলগাছী বাজারে দোকান মালিক সমিতির কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের জেরে সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। তবে ঘটনার পর পুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষ আপোষে সম্মত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২ এপ্রিল তেতুলগাছী বাজারে একটি দোকান মালিক সমিতি গঠন করা হয়। পরে ১৮ মে ব্যবসায়ীদের একাংশের উদ্যোগে আরেকটি কমিটি গঠন করা হলে বিরোধের সূত্রপাত ঘটে। এরপর থেকেই বাজারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।
গাবতলী মডেল থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে মধ্যকাতুলী গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় বিএনপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাহী সদস্য মো. বায়েজিদ হোসেন চাঁন দাবি করেন, বাজারটি তাদের পৈত্রিক সম্পত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। তার অভিযোগ, পূর্বের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিরোধ সৃষ্টি হয় এবং বাজারের ব্যবসায়ীদের ওপর বিভিন্ন ধরনের চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছিল।
অভিযোগে বলা হয়, গত ২৭ মে রাতে বাজারসংলগ্ন এলাকায় টাঙানো একটি ঈদ শুভেচ্ছা ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়। এ ঘটনায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে অবহিত করা হয়।
এর ধারাবাহিকতায় ২৯ মে রাত প্রায় ৯টার দিকে তেতুলগাছী বাজারে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় দোকানদার মো. রনি আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গাবতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার পর কয়েকজন ব্যক্তি স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাইদালীর বাড়ির সামনে গিয়ে তাকে মারধরের চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
অন্যদিকে, একই রাতে মধ্যকাতুলী গ্রামে বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতা কর্মীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিএনপির ৯ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করেন, উপজেলা তাঁতীদলের যুগ্ম সম্পাদক নুরুল ইসলাম মানিকের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি তার বাড়িসহ কয়েকজন নেতা-কর্মীর বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় একটি শ্যালো মেশিনসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।
যুবদল নেতা সাগর হোসেন অভিযোগ করেন, হামলা প্রতিরোধের চেষ্টা করলে তিনি ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা তাঁতীদলের যুগ্ম সম্পাদক নুরুল ইসলাম মানিক। তিনি বলেন, বাজারে তার পৈত্রিক দোকান দখলের চেষ্টা করা হলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তার সঙ্গে তিনি জড়িত নন।
গাবতলী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাকিব হাসান বলেন, বাজার কমিটি নিয়ে বিরোধের জেরেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ২৯ মে রাতের ঘটনার পর গাবতলী থানা পুলিশের উদ্যোগে এবং শাহজাহানপুর-গাবতলী আসনের সংসদ সদস্যের সহায়তায় উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় চেয়ারম্যান ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে তেতুলগাছী বাজারের ব্যবসায়ীদের নিয়ে নতুন কোনো কমিটি গঠন করা হবে না এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা হবে এই শর্তে উভয় পক্ষ আপোষে সম্মত হয়। ভবিষ্যতে কোনো ধরনের সংঘাত বা উত্তেজনা সৃষ্টি না করার বিষয়েও তারা অঙ্গীকার করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ আশা করছেন, সমঝোতার ফলে তেতুলগাছী বাজার ও আশপাশের এলাকায় বিরাজমান উত্তেজনা প্রশমিত হবে এবং স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় থাকবে।