09/06/2025
সিঙ্গাপুর — পরিচ্ছন্নতা, শৃঙ্খলা আর উন্নয়নের অনন্য এক উদাহরণ। বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী পাসপোর্টের অধিকারী এই দেশের প্রতি রয়েছে হাজারো বাংলাদেশীর স্বপ্নজয়ী দৃষ্টিভঙ্গি। কর্মসংস্থানের আশায়, এক উন্নত ভবিষ্যতের খোঁজে সিঙ্গাপুরের পথে যাত্রা অনেকের জীবনের অন্যতম লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
🔸বাংলাদেশ থেকে সিঙ্গাপুরে কাজের ভিসায় (Employment Pass, S Pass, অথবা Work Permit) যাওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। আসুন ধাপে ধাপে এই প্রক্রিয়া, খরচ, সময় এবং পেশাগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেয়
🔹 ১. সিঙ্গাপুরের কাজের ভিসার ধরনসমূহ
Employment Pass (EP) উচ্চ শিক্ষিত পেশাজীবী (ইঞ্জিনিয়ার, ম্যানেজার, আইটি, একাউন্টেন্ট ইত্যাদি) বেতন SGD 5,000+
S Pass মধ্যম পর্যায়ের দক্ষ কর্মী (টেকনিশিয়ান, সুপারভাইজার ইত্যাদি) বেতন SGD 3,150+
Work Permit (WP) অদক্ষ/আংশিক দক্ষ শ্রমিক (কন্সট্রাকশন, ক্লিনার, হোটেল কর্মচারী, কারখানা শ্রমিক ইত্যাদি) কোন নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা দরকার নেই
🔹 ২. কোন কোন কাজের জন্য যাওয়া যায়
(Work Permit বা সাধারণ শ্রমিকদের জন্য)
নির্মাণ শ্রমিক (Construction Worker)
মেইড বা গৃহকর্মী (Domestic Helper)
ম্যানুফ্যাকচারিং / ফ্যাক্টরি শ্রমিক
রেস্টুরেন্ট / হোটেল স্টাফ
ক্লিনার / কেয়ারটেকার
শিপইয়ার্ড / ওয়েল্ডার / ইলেকট্রিশিয়ান
কৃষি ও খামারের কাজ
> Note: বাংলাদেশ থেকে মূলত Work Permit-এর মাধ্যমে অধিকাংশ শ্রমিক সিঙ্গাপুরে যায়।
🔹 যাওয়ার প্রক্রিয়া (ধাপে ধাপে)
✅ ধাপ ১: নিয়োগদাতা বা এজেন্সির মাধ্যমে চাকরি পাওয়া
আপনি সরাসরি সিঙ্গাপুরের কোম্পানি বা একজন অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে চাকরি পেতে পারেন।
বাংলাদেশে BMET (Bureau of Manpower, Employment and Training) অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমেই যেতে হবে।
✅ ধাপ ২: কোম্পানির পক্ষ থেকে ওয়ার্ক পারমিট আবেদন
সিঙ্গাপুরের নিয়োগদাতা আপনার জন্য Work Permit-এর জন্য আবেদন করবে সিঙ্গাপুরের ম্যানপাওয়ার মন্ত্রণালয়ে (MOM)।
অনুমোদন পেলে In-Principle Approval (IPA) ডকুমেন্ট ইস্যু হয়।
✅ ধাপ ৩: মেডিকেল ও অন্যান্য কাগজপত্র প্রস্তুত
মেডিকেল চেকআপ
পাসপোর্ট
পুলিশ ক্লিয়ারেন্স
ফিঙ্গারপ্রিন্ট (BIOMETRIC)
প্রশিক্ষণ (BTTC বা TTC depending on job)
✅ ধাপ ৪: ভিসা ও টিকিট
ওয়ার্ক পারমিট পেলে ভিসা প্রসেস হয়
এরপর এজেন্সির মাধ্যমে ফ্লাইট বুক করে আপনি সিঙ্গাপুর যান।
🔹 খরচ কত লাগে? (আনুমানিক Breakdown)
খরচের ধরণ পরিমাণ (আনুমানিক)
রিক্রুটিং এজেন্সি চার্জ ৳ ১,৫০,০০০ – ৩,০০,০০০ (দক্ষতার ওপর নির্ভর করে)
মেডিকেল ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ৳ ৫,০০০ – ১০,০০০
প্রশিক্ষণ ও ডকুমেন্ট প্রসেসিং ৳ ১০,০০০ – ১৫,০০০
ফ্লাইট টিকিট ৳ ৫০,০০০ – ৬৫,০০০
মোট ৳ ২,৫০,০০০ – ৪,০০,০০০ (প্রথমবারের জন্য)
⚠️ সতর্ক থাকুন: অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা বা ভুয়া এজেন্সি থেকে প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। শুধুমাত্র BMET-অনুমোদিত এজেন্সি ব্যবহার করুন।
🔹কত সময় লাগে?
চাকরি নিশ্চিত হতে ১–২ মাস
IPA পেতে ২–৪ সপ্তাহ
মেডিকেল + প্রশিক্ষণ + প্রসেসিং ২–৩ সপ্তাহ
সব মিলিয়ে প্রায় ২–৩ মাস
অনুমোদিত এজেন্সির তালিকা: BMET সাইটে “Recruiting Agency” তালিকা খুঁজুন।
🔹 পরামর্শ ও সতর্কতা
✅ Always:
সঠিক এজেন্সি ব্যবহার করুন
চাকরির কনট্রাক্ট ভালোভাবে পড়ুন
ভিসা পাওয়ার আগে কোনো টাকা না দিন (যতটা সম্ভব)
স্বজন/পরিচিতদের রেফারেন্স নিন।