29/09/2025
একটা ছোট্ট শিশু, ধুলোবালিতে খেলাধুলা করতে করতে মুখে ফোসকা উঠে গেল, হাত-পায়ে লাল দাগ। মা ভয়ভীতিতে দৌড়ে ফার্মেসিতে গেলেন। ফার্মেসির দোকানদার স্টেরয়েড মলম দিলেন। মা সরল বিশ্বাসে এনে ভাবলেন “ঠিক হয়ে যাবে,”
কিন্তু দিন কয়েকের মধ্যে—ঘা ছড়িয়ে গেল মুখ, পিঠ, হাত-পা। শিশুটি ঘুমাতে পারছে না, খেতে পারছে না। প্রতিটা চুলকানি যেন তার ছোট্ট শরীরকে ভেঙে দিচ্ছে। মা শুধু শিশুকে কোলে জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন, মনে করছে, “আমার সন্তান এত কষ্টে, আমি কিছুই করতে পারছি না।”
পরদিন সকালে মা তার শিশুকে পল্লী চিকিৎসকের নিকট নিলেন, তিনি বললেন—“স্ক্যাবিস হয়েছে, স্ক্যাবিসের ওষুধ নাও।”
কিন্তু প্রকৃত সত্য ডায়াগনসিস— শিশুর শরীরে ইমপেটিগো হয়েছে, এটা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ।
অথচ ভুল চিকিৎসার কারণে শিশুর যন্ত্রণার মাত্রা আরো বেড়ে গেল। সঠিক চিকিৎসা না নিলে, এমন সংক্রমণ মারাত্মক হয়ে যেতে পারে, শিশু জীবন ঝুঁকিতে পড়ে।
এমন পরিস্থিতিতে যা করতে হবে:
১. শিশুর যেকোনো স্বাস্থ্য সমস্যায় শিশুকে শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের দেখান
২. ভুল মলম বা স্টেরয়েড ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন
৩. শিশুর চর্ম সংক্রমিত জায়গা পরিষ্কার রাখুন
৪. শিশুর জন্য আলাদা তোয়ালে ও জামা ব্যবহার করুন
৫. শিশুর জন্য শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ দিন
সঠিক চিকিৎসা পেলে শিশু আবার হাসবে, খেলবে, ঘুমাবে। ভুল চিকিৎসা ও অবহেলা শিশুর কষ্ট দীর্ঘায়িত করে, জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলে।
আমাদের দায়িত্ব – একটি শিশুর কান্না যেন আর ভুল চিকিৎসার কারণে দীর্ঘায়িত না হয়। শিশুর হাসি রক্ষা করাই আমাদের মানবিক কর্তব্য।
একটা ছোট্ট প্রাণ যেন আর কষ্টে না থাকে, চলুন সবাই সচেতন হই।
দয়াকরে আপনারা সবাই সচেতন হবেন।
মনে রাখবেন, আপনার সচেতনতা, আপনার সন্তানের জন্য আশীর্বাদ।
অসংখ্য বাবা-মায়ের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য এই পোষ্টটি পড়া অত্যন্ত জরুরী।
ধন্যবাদ
ডা. মানিক মজুমদার
এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমডি (শিশু)
নবজাতক, শিশু, কিশোর ও কিশোরী স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ