30/08/2026
Ruhi Cenett-এর ইয়াহুদিদের জীবন নিয়ে বানানো একটি ডকুমেন্টারি ভিডিও দেখে বুঝলাম—তোমরা যে ইসলাম ধর্মকে সেকেলে কিংবা আনস্মার্ট ভাবো, মূলত সেই ইসলামই হতে পারে সঠিক জীবনব্যবস্থা ও আদর্শ।
ভাবতেই অবাক লাগে—যেই ইয়াহুদিরা আধুনিক এই পৃথিবী গঠনে এত ভূমিকা রাখছে, তারাই আজও স্মার্টফোন পর্যন্ত ব্যবহার করে না ,আধুনিক বিশ্বে কোথায় কি হয়েছে তার কোন খবরই তাদের জানা নেই অথচ হুজুররা ওয়াজ-মাহফিলে এসব নিয়ে কথা বললে আপনারা বলেন, “আনস্মার্ট ক্ষেত মোল্লা।”
যেই ইয়াহুদিরা আজকের পৃথিবীতে নারী জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য এত কিছু করে যাচ্ছে, তাদেরই কিছু ধর্মীয় সম্প্রদায়ে নারীদের জীবনকে মূলত পরিবার ও সন্তান জন্মদানের কেন্দ্রিক করে রাখা হয়। অথচ হুজুররা নারীদের অবাধ বিচরণ নিয়ে কথা বললে, তথাকথিত সুশীল সমাজের কেউ কেউ ট্যাগ দিয়ে বসে—হুজুররা নাকি নারীবিদ্বেষী।
যেই ইয়াহুদিরা আজকের পৃথিবীতে নারীদের খোলামেলা পোশাকের সংস্কৃতিতে বিভিন্নভাবে প্রভাব রেখেছে, তাদেরই সম্প্রদায়ে নারীদের লম্বা পোশাক পরার ব্যাপারে কঠোরতা রয়েছে; এমনকি নারীদের চুল না ঢেকে তাদের স্বামীর সম্মুখে যাওয়ার মতো বিধানও দেখা যায়। অথচ ইসলাম নারীদের পর্দার কথা বললে তথাকথিত আধুনিক ও সুশীলদের কেউ কেউ বলে বেড়ায়—ইসলাম নাকি নারীদের ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছে।
যেই ইয়াহুদিরা পৃথিবীতে এত প্রযুক্তি, প্রতিষ্ঠান, অফলাইন-অনলাইন কর্মক্ষেত্র ও আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ভূমিকা রেখেছে, তাদেরই কিছু ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ এসব ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে ধর্মীয় জীবনযাপনকে অগ্রাধিকার দেয় এবং বিশ্বাস করে—তাদের ঈশ্বরই তাদের দেখবেন, তাই তাদের চিন্তার কারণ নেই। অথচ ইসলাম যখন বলে, আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে এবং আল্লাহই বান্দার জন্য যথেষ্ট, তখন তথাকথিত স্মার্ট মানুষজন বলে বসে, “তোমাদের আল্লাহ কি ঘরে এসে খানা দিয়ে যাবে নাকি?”
যেখানে ইয়াহুদি সম্প্রদায়ের অনেক মানুষ তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পোশাক পরিধান করে, সেখানে কোনো মুসলমান যদি তার ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী টুপি-পাঞ্জাবি পরিধান করে, তখন তাকে অনেকে ‘জঙ্গি’ বলে ট্যাগ দিয়ে দেয়।
তারা নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাসকে যেভাবে লালন করে, ঠিক সেভাবে কোনো মুসলমান যদি কোরআন ও হাদিসকে আঁকড়ে ধরে জীবনযাপন করতে চায়, তখন আবার কেউ কেউ বলে বসে—এসব নাকি কলিযুগের চিন্তাভাবনা!
সত্যি বলতে, কোরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী ইসলাম যে বিধিবিধান মানুষের ওপর আরোপ করেছে, একজন মুসলমানের বিশ্বাস অনুযায়ী সেটিই সর্বাধুনিক ও সর্বোত্তম জীবনব্যবস্থা। পৃথিবীর অন্য কোনো আধুনিকতা, চিন্তা, ধারণা, নিয়ম, পন্থা কিংবা সিস্টেম তার কাছে এর চেয়ে বেশি আধুনিক বা শ্রেষ্ঠ হতে পারে না।
আর সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো—আমরা মুসলমানরা যেই কোরআন ও সুন্নাহভিত্তিক জীবনব্যবস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তথাকথিত আধুনিকতাকেই সর্বাধুনিক মনে করে গ্রহণ করছি সেই তথাকথিত সর্বাআধুনিক বিশ্বের নির্মাতা বা প্রভাবশালী ইহুদী সপ্রদায় আজ আমাদের জীবনব্যবস্থাকেই ধারণ করে রেখেছে অথচ আমাদের রেখে দিয়েছে এক গোলকধাঁধায়।
আল্লাহ বলেন:-
"আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাতের দ্বিনকে সুরা আল-ইমরানের ১৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে আজ আমি তোমাদের দ্বিনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জীবনব্যবস্থা হিসেবে মনোনীত করলাম।" (সুরা আল-মায়েদা, আয়াত: ৩)
সুরা আল-ইমরানের ১৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, "নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট একমাত্র জীবনব্যবস্থা হলো ইসলাম।"
লিখা:- মোতাছিম বিল্লাহ নাছিম (News VAIYA)
(ভিডিওর লিংক কমেন্টে)