My Baby Buzz

My Baby Buzz Innocence to experience

20/11/2025
04/11/2025

অনলাইন সেলস, ডিজিটাল মার্কেটিং—আর যাই বলুন না কেন, সবকিছুর মূলেই রয়েছে কনটেন্ট।
আর আপনি কি জানেন, এই কনটেন্টের মূল প্রকারভেদ কয়টি?

উত্তর: তিনটি।

আসলে এই বিশাল কনটেন্ট জগতে তিন ধরনের বা তিন মাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি হয়। সেগুলো হলো:

১। এডুকেশনাল (Educational)
২। এন্টারটেইনমেন্ট (Entertainment)
৩। ইনফোটেইনমেন্ট (Infotainment)

এই তিনটিকে সংক্ষেপে আমরা EEI বলেও চিহ্নিত করতে পারি।

এর আগেও বলেছি, মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় আসে মূলত বিনোদিত হতে অথবা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে—আপনার পণ্যের বিজ্ঞাপন দেখতে নয়।

তাই যতক্ষণ পর্যন্ত আপনার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম (যেমন: ফেসবুক পেজ, ইউটিউব চ্যানেল, ইনস্টাগ্রাম অথবা টিকটক) এই তিন ধরনের কনটেন্টের মাধ্যমে অডিয়েন্সের বিশ্বাস ও আগ্রহ অর্জন করতে না পারবে, ততক্ষণ আপনার পণ্য বা সার্ভিসের সেলস আশানুরূপ হবে না।

অতএব, আগে নিজের কনটেন্ট টাইপ/ধরন ঠিক করুন। প্রপার প্ল্যানিং নিন এবং কনসিসটেন্টলি কাজ করুন—দেখবেন, সফলতা নিজেই ডাকছে।

দুষ্টু বুড়ো এবং অদৃশ্য স্যুপ​একদা এক ছোট্ট গ্রামে, যেখানে সবাই সবাইকে চিনত, সেখানে বাস করত এক বুড়ো মানুষ, তার নাম ছিল গো...
01/09/2025

দুষ্টু বুড়ো এবং অদৃশ্য স্যুপ
​একদা এক ছোট্ট গ্রামে, যেখানে সবাই সবাইকে চিনত, সেখানে বাস করত এক বুড়ো মানুষ, তার নাম ছিল গোবিন্দ। গোবিন্দর ছিল অদ্ভুত এক শখ—তিনি মানুষকে বোকা বানাতে খুব ভালোবাসতেন। তবে তার বোকা বানানোর কায়দাটা ছিল বেশ মজার, কেউ রাগ করত না, বরং হাসত।
​একদিন গোবিন্দ তার পুরনো চালের বস্তা থেকে ছেঁড়া কিছু কাপড় বের করে আনলেন। তিনি সেগুলোকে সুন্দর করে সেলাই করে একটি ঝোলা তৈরি করলেন। এরপর সেই ঝোলার মধ্যে কয়েকটি নুড়ি পাথর এবং কিছু শুকনো পাতা ভরে দিলেন। তিনি ঘোষণা করলেন, “আমি এমন এক জাদু স্যুপ বানাবো, যা পৃথিবীর সেরা খাবার।”
​গ্রামের সবাই তার কথা শুনে হাসাহাসি শুরু করল। কিন্তু গোবিন্দ ছিলেন নাছোড়বান্দা। তিনি সবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে বললেন, “আমার এই জাদু স্যুপ শুধু তারাই দেখতে পাবে, যারা সৎ এবং বুদ্ধিমান। যারা অসৎ এবং বোকা, তারা এই স্যুপ দেখতে পাবে না।”
​এই কথা শুনে গ্রামের মানুষ বেশ চিন্তিত হয়ে পড়ল। কেউ যদি স্যুপ দেখতে না পায়, তাহলে তো সবাই তাকে বোকা বলবে! তাই, সবাই গোবিন্দর কথা মেনে নিলো।
​গোবিন্দ বড় একটি হাঁড়ি নিলেন। তাতে নুড়ি পাথর এবং শুকনো পাতাগুলো ঢেলে দিলেন। এরপর সবাইকে হাঁড়ির চারপাশে জড়ো হতে বললেন। তিনি একটা একটা করে উপাদান যোগ করতে লাগলেন, আর সবাইকে জিজ্ঞাসা করতে লাগলেন, “তোমরা কি দেখছো?”
​গ্রামের প্রথম ব্যক্তি, একজন ধনী বণিক, হাঁড়ির দিকে তাকিয়ে বলল, “আহ! গোবিন্দ দা, কী অপূর্ব রঙ! এর সুবাস তো মন কেড়ে নিচ্ছে।” আসলে তিনি কিছুই দেখতে পাচ্ছিলেন না, কিন্তু বোকা সাজার ভয়ে মিথ্যে বললেন।
​এরপর এক কৃষক বললেন, “এর মধ্যে তো সবজির টুকরো ভাসছে। কী সুন্দর দেখাচ্ছে!” আসলে তার চোখ তখন হাঁড়ির খালি গর্ত খুঁজছিল।
​এমন করে গ্রামের সবাই একে একে এসে স্যুপের গুণগান করতে লাগল। কেউ বলল, “বাহ! এতে তো মাশরুম আছে।” আরেকজন বলল, “আহ, এই স্যুপ খেলে তো শরীরের সব ব্যথা দূর হয়ে যাবে।” আসলে সবাই এক অদৃশ্য স্যুপের প্রশংসা করছিল, যার অস্তিত্ব শুধু গোবিন্দর মনেই ছিল।
​হঠাৎ ভিড়ের মধ্যে থেকে একটি ছোট ছেলে, তার নাম ছিল বাবলু, সে হাত তুলে বলল, “গোবিন্দ দা, আমি তো কিছু দেখতে পাচ্ছি না।”
​বাবলুর এই কথা শুনে সবাই অবাক হয়ে তার দিকে তাকাল। গোবিন্দ মুচকি হেসে বললেন, “বাবলু, তুমি কিছুই দেখতে পাচ্ছো না?”
​বাবলু বলল, “না, এখানে তো শুধু নুড়ি আর পাতা!”
​এই কথা শুনে সবাই লজ্জায় লাল হয়ে গেল। তারা বুঝতে পারল, গোবিন্দ তাদের সাথে মজা করছিল। সবাই হাসতে শুরু করল। গোবিন্দও হাসতে হাসতে বললেন, “আসলে জাদুটা স্যুপে ছিল না, জাদুটা ছিল তোমাদের মনে! তোমরা বোকা সাজার ভয়ে নিজেরাই নিজেদের বোকা বানাচ্ছিলে।”
​সেইদিন থেকে, গ্রামের মানুষ গোবিন্দকে আর কোনোদিন বোকা বানাতে পারেনি। কারণ তারা বুঝে গিয়েছিল, সততা এবং সরলতা হলো জীবনের সেরা জাদু, যা দিয়ে বোকা বানানো যায় না। গোবিন্দও তার এই দুষ্টুমি ছেড়ে আর কখনও এমন অদ্ভুত কান্ড ঘটাননি, তবে তার এই মজার গল্প গ্রামের প্রতিটি মানুষের মুখে মুখে ফেরে।

05/08/2025

শেয়াল ও মুরগির নতুন লড়াই

এক গাঁয়ের পাশে ছিল এক ঘন জঙ্গল। সেই জঙ্গলে থাকত এক শিয়াল, যার নাম ছিল টমি। টমি ছিল খুব চালাক। আর তার চোখ ছিল পাশের গ্রামের এক মুরগির খামারের দিকে। সেই খামারের মুরগিগুলো ছিল খুব মোটাসোটা আর সুন্দর। শেয়াল টমি রোজ ভাবত, “ইশ, যদি একটা মুরগি ধরতে পারতাম!”
খামারের মুরগিগুলোর মধ্যে ছিল এক মুরগি, যার নাম ছিল রানী। রানী ছিল অন্য সব মুরগির থেকে আলাদা। সে সব সময় সতর্ক থাকত। টমি শেয়াল নানাভাবে চেষ্টা করত রানীকে ফাঁদে ফেলতে। কিন্তু রানী তার চালাকি সব ধরে ফেলত।
একদিন টমি নতুন একটা ফন্দি আঁটল। সে খামারের সামনে এসে খুব ভালো মানুষের মতো গলা করে বলল, “ওহে মুরগির দল! আমি তোমাদের বন্ধু। এই নাও, তোমাদের জন্য কিছু খাবার এনেছি।”
টমির হাতে ছিল এক থলে ভুট্টা। রানী দূর থেকে দেখেই বুঝতে পারল, এটা টমির কোনো নতুন চালাকি। সে সঙ্গে সঙ্গে সব মুরগিকে বলল, “কেউ বাইরে যাবে না। শেয়ালটা নিশ্চয়ই কোনো খারাপ মতলবে এসেছে।”
কিন্তু একটা বোকা মুরগি, যার নাম ছিল পমি, লোভ সামলাতে পারল না। সে বলল, “রানীদিদি, শেয়াল তো ভালোই মনে হচ্ছে। কী সুন্দর ভুট্টা এনেছে!”
পমি যেই না বাইরে যেতে গেল, অমনি রানী তাকে ঠেকিয়ে বলল, “দাঁড়া! শিয়ালের ওপর বিশ্বাস নেই। ও আমাদের বন্ধু হতেই পারে না।”
টমি বাইরে থেকে সব শুনছিল। সে হতাশ হয়ে ভাবল, “এই রানী মুরগিটা তো মহা জ্বালাতন! একে কিছুতেই ভুলানো যাচ্ছে না।”
পরদিন টমি আরও বুদ্ধি খাটাল। সে একটা সাদা টুপি পরল আর গায়ে একটা সাদা চাদর চাপিয়ে বলল, “আমি একজন ধর্মগুরু। আমি তোমাদের শান্তির বাণী শোনাতে এসেছি। সবাই আমার কাছে এসো।”
এইবারও রানী তাকে চিনতে পারল। সে হাসতে হাসতে সব মুরগিকে বলল, “ওহ! শেয়ালের নতুন রূপ দেখেছো? গতকাল ছিল বন্ধু, আজ হয়েছে ধর্মগুরু!”
সবাই রানীর কথায় হেসে উঠল। টমি বুঝল তার এই চালও ব্যর্থ।
শেয়াল টমির রাগ এবার চরমে উঠল। সে ভাবল, “এবার আর কোনো চালাকি নয়। সোজা শক্তি দিয়ে রানীকে ধরতে হবে।”
একদিন টমি খুব ভোরে খামারে ঢুকে পড়ল। কিন্তু খামারের মালিক জেগে ছিলেন। তিনি টমিকে দেখে ফেললেন। হাতে একটা লাঠি নিয়ে তিনি শেয়ালের দিকে তেড়ে গেলেন। টমি ভয়ে দৌড়াতে শুরু করল। আর রানী ও বাকি মুরগিরা খামারের ভেতরে বসে শেয়ালের পলায়ন দেখে হাসতে লাগল।
শেয়াল টমি ভয়ে প্রাণপণে দৌড়াচ্ছিল আর ভাবছিল, “ধুর! এই মুরগি আর খামারের মালিকের সঙ্গে পেরে ওঠা যাবে না। এর চেয়ে জঙ্গলের খাবারই ভালো।”
সেই থেকে শেয়াল আর কোনোদিন মুরগির খামারের ধারেকাছে আসেনি। আর রানী মুরগি তার বুদ্ধির জোরে সব মুরগিকে বাঁচিয়েছিল। গ্রামের মানুষও রানীর বুদ্ধির প্রশংসা করত।

05/08/2025

চাষি আর শিয়ালের গল্প
এক চাষি তার বাগানে অনেক মুরগি পুষত। মুরগিগুলো প্রতিদিন বাগানে ঘুরে বেড়াত। তাদের মধ্যে একটা মুরগি ছিল খুব চালাক। সে সবসময় অন্যদের থেকে একটু দূরে থাকতো।
একদিন এক শিয়াল ওই বাগানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। শিয়ালটা অনেকদিন ধরে ওই বাগানের মুরগিগুলোকে ধরার চেষ্টা করছিল, কিন্তু পারছিল না। শেয়ালটি দেখল মুরগিগুলো দল বেঁধে আছে। শুধুমাত্র চালাক মুরগিটা একটু দূরে একা একা ঘুরছে।
শেয়ালটি তার মাথা থেকে বুদ্ধি বের করল। সে মুরগিটার কাছে গিয়ে বলল, "বাহ! তুমি তো খুব সুন্দর দেখতে! তুমি কি জানো, ওই গাছের ওপরে একটা খুব মিষ্টি ফল হয়, যা খেলে নাকি অনেক সুন্দর গান গাওয়া যায়?"
চালাক মুরগিটা শেয়ালের কথায় বিশ্বাস করে ফেলল। সে ফলটা দেখার জন্য শেয়ালের সাথে চলল। তারা যখন গাছের কাছে পৌঁছালো, শেয়ালটি মুরগিকে বলল, "তুমি তো উড়তে পারো, তুমি ওই ফলটা আমার জন্য পেড়ে আনো।"
মুরগিটা ফল পাড়তে গেল, আর শেয়ালটা তাকে ধরার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো। কিন্তু চালাক মুরগিটার মনে সন্দেহ হল। শেয়ালটা তাকে ধরতে চায়, এটা সে বুঝতে পারল। মুরগিটা ভাবল, সে যদি শেয়ালের কাছে ফলটা নিয়ে যায়, শেয়াল তাকে ধরে ফেলবে। তাই সে ফলটা নিজের মুখে না নিয়ে একটা কচি পাতা নিল।
মুরগিটা যখন নিচে নামল, শেয়াল তাকে দেখেই লাফ দিল। চালাক মুরগিটা সঙ্গে সঙ্গে উড়াল দিল। শেয়ালটা ভাবল যে মুরগিটা ফলটা মুখে নিয়েছে। তাই সে দৌড়ে তাকে ধরতে চাইল। কিন্তু মুরগিটা একটা গাছের ওপর বসে হাসতে লাগলো।
শেয়ালটি মুরগিকে বলল, "তুমি হাসছ কেন? আমি তোমাকে ধরে ফেলব।"
মুরগিটা শেয়ালকে বলল, "তোমার থেকে বেশি চালাক আমি। তুমি আমাকে ধরতে পারবে না।"
শেয়ালটি রাগে গরগর করে বলল, "আমি তোমাকে দেখতে চাই না। তুমি যদি আমার সামনে না এসো, আমি তোমাকে ধরে ফেলব।"
মুরগিটা শেয়ালের কথায় ভয় পেল না। সে শেয়ালকে বলল, "তুমি আমাকে ধরতে পারবে না, কারণ আমি উড়তে পারি।"
শেয়ালটি বুঝতে পারল যে সে মুরগিটাকে ধরতে পারবে না। সে রাগে মুখ ফুলিয়ে চলে গেল। এভাবে চালাক মুরগিটি শেয়ালের ফাঁদে না পড়ে নিজেকে বাঁচিয়ে নিল।

বাচ্চাদের প্রতিদিনের বায়না ঘুমানোর আগে গল্প শুনবে। তবে গল্পের টপিক কি হবে সেটাও তারাই ঠিক করে। আজকে মেয়ের দাবি ছিল সুর্য...
04/08/2025

বাচ্চাদের প্রতিদিনের বায়না ঘুমানোর আগে গল্প শুনবে। তবে গল্পের টপিক কি হবে সেটাও তারাই ঠিক করে। আজকে মেয়ের দাবি ছিল সুর্য, গাছ, পাখি ও তারার গল্প শুনবে। আমি আলসে মেয়ে ৪টা গল্প শোনাবো কিভাবে৷ তাই এ ব্যবস্থা। এ গল্পেই সব ক্যারেক্টর।।

সোনাঝুরি গাছের মগডালে বাসা বেঁধে ছিল ছোট্ট একটি সূর্য পাখি। তার পালকগুলো ছিল সূর্যের প্রথম কিরণের মতো সোনালি আর ঝলমলে। সে সারা দিন ঘুরে বেড়াতো, এ ফুল থেকে ও ফুলে মধু খেতো, আর মিষ্টি সুরে গান গাইতো।
এক সন্ধ্যায় সূর্য পাখি দেখল, গাছের নিচে বসে এক বৃদ্ধ গাছ ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। সূর্য পাখি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো, "ও গাছ, তোমার কী হয়েছে? তুমি কাঁদছো কেন?"
গাছ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো, "আহ, আর বলিস না! আমার জীবনের একমাত্র সাধ হলো তারা দেখা। কিন্তু আমি তো এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকি, কোথাও যেতে পারি না। তাই আকাশের তারাদের দেখতেও পারি না।"
সূর্য পাখি গাছকে বললো, "এই ছোট্ট কারণে তুমি মন খারাপ করেছো? ঠিক আছে, কাল সন্ধ্যায় আমি তোমার জন্য একটা সুন্দর তারা নিয়ে আসবো।"
পরদিন সন্ধ্যায় সূর্য পাখি অনেক খোঁজাখুঁজির পর আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল তারাটিকে পেল। কিন্তু সেটাকে নিয়ে আসা তো আর সম্ভব না! তাই সে একটা বুদ্ধি বের করলো। সে উড়ে গেল এক জোনাকির কাছে। জোনাকিদের বলল, "তোমরা যদি আমাকে সাহায্য করো, তাহলে আমি তোমাদের জন্য একটা মজার উপহার দেব।"
জোনাকিরা খুব খুশি হয়ে রাজি হয়ে গেল। সূর্য পাখি তখন তাদের নিয়ে গাছের কাছে গেল। গাছের চারপাশে জোনাকিরা এমনভাবে উড়তে লাগল, যেন মনে হলো গাছের চারদিকে হাজার হাজার তারা জ্বলছে।
গাছ তো দেখে অবাক! তার চোখ থেকে আনন্দের জল গড়িয়ে পড়ছে। সে বললো, "সূর্য পাখি, তুমি তো সত্যিই আমার জন্য তারা নিয়ে এসেছো! তোমার কাছে আমি চিরঋণী।"
সূর্য পাখি হাসিমুখে বললো, "বন্ধুকে খুশি করার জন্য এর চেয়ে বড় উপহার আর কী হতে পারে?"
সেই থেকে সূর্য পাখি, গাছ আর জোনাকিরা খুব ভালো বন্ধু হয়ে গেল। সূর্য পাখি সকালে গান শোনায়, গাছ তাদের মিষ্টি ফল আর পাতা দেয়, আর সন্ধ্যায় জোনাকিরা তারাদের মতো ঝলমল করে আলো দেয়।

বুদ্ধিমান হাঁস ও দুষ্টু ঘোড়াএক ছিল সবুজ শ্যামল এক খামার, যার নাম ছিল 'আনন্দ খামার'। এই খামারে অনেক প্রাণী বাস করত। সেখান...
30/07/2025

বুদ্ধিমান হাঁস ও দুষ্টু ঘোড়া

এক ছিল সবুজ শ্যামল এক খামার, যার নাম ছিল 'আনন্দ খামার'। এই খামারে অনেক প্রাণী বাস করত। সেখানে ছিল দুষ্টু এক ঘোড়া, তার নাম রকেট। রকেট ছিল খুব শক্তিশালী, কিন্তু একটু বেশিই চালাক আর অলস। সে সব সময় ভাবত, কিভাবে কাজ না করে আরাম করা যায়। আর ছিল এক বুদ্ধিমান হাঁস, তার নাম সুমি। সুমি ছিল খুব শান্ত আর বিচক্ষণ। সে সব কাজ গুছিয়ে করতে ভালোবাসত।
একদিন খামারের মালিক ঘোষণা করলেন, "যে প্রাণী সবচেয়ে বেশি ভুট্টা ক্ষেতে পানি দেবে, তাকে আমি সন্ধ্যার খাবারের জন্য একগাদা তাজা আপেল দেব!"
রকেট ঘোড়া তো আপেলের কথা শুনেই লাফিয়ে উঠলো। সে মনে মনে ভাবলো, "ইসস! একগাদা আপেল! আমিই জিতবো! দৌড়ে দৌড়ে কাজটা শেষ করে দেবো।"
সুমি হাঁসও আপেলের কথা শুনলো। সে শুধু মৃদু হাসলো।
রকেট ঘোড়া ভুট্টা ক্ষেতে গিয়েই দৌড়াতে শুরু করলো। তার মনে হল, যত দ্রুত সে ছুটবে, তত তাড়াতাড়ি কাজ শেষ হবে। সে বালতিতে পানি ভরে দৌড়ে গিয়ে ক্ষেতে ঢালল, কিন্তু তার দ্রুত দৌড়ানোর ফলে অর্ধেক পানি পথেই ছিটকে পড়ে গেল। সে ঘেমে নেয়ে একাকার, কিন্তু তার কাজ তেমন এগোলো না। রকেটের সারা শরীর ব্যাথা করতে শুরু করল। সে ভাবল, "ইসস! এত কষ্ট করে আপেল কি আর খাওয়া যাবে?"
এদিকে সুমি হাঁস নিজের মতো করে কাজ শুরু করলো। সে একটা ছোট মগ নিল। তারপর ধীরে ধীরে বালতি থেকে পানি নিয়ে মগ ভরে ভরে ভুট্টা গাছের গোড়ায় দিতে লাগলো। তার গতি ধীর ছিল, কিন্তু সে খুব মনোযোগ দিয়ে কাজ করছিল। এক ফোঁটা জলও নষ্ট হল না।
রকেট ঘোড়া সুমিকে দেখে হাসল, "হাহা! সুমি, তুমি এইভাবে কাজ করলে তো সন্ধ্যা হয়ে যাবে! আমি এখনি আপেল পেয়ে যাবো!"
সুমি হাঁস কিছু বললো না, শুধু হাসলো।
সময় গড়িয়ে চলল। রকেট ঘোড়া দৌড়ে দৌড়ে ক্লান্ত হয়ে একটা গাছের নিচে শুয়ে পড়ল। তার শরীর আর চলছিল না।
আর সুমি হাঁস ধীরে ধীরে, কিন্তু অবিরাম কাজ করে চলল। যখন সন্ধ্যা নামলো, দেখা গেল, সুমি হাঁস পুরো ভুট্টা ক্ষেতে সুন্দর করে জল দিয়ে দিয়েছে। প্রতিটি ভুট্টা গাছ তরতাজা হয়ে উঠেছে।
খামারের মালিক এসে দেখলেন, রকেটের ভাগে খুব অল্প কাজ হয়েছে, আর সুমির কাজ একদম নিখুঁত। মালিক সুমিকে দেখে খুব খুশি হলেন। তিনি সুমিকে একগাদা চকচকে লাল আপেল দিলেন।
রকেট ঘোড়া দূর থেকে তা দেখল। তার খুব আফসোস হলো। সে বুঝল, শুধু শক্তি থাকলেই হয় না, বুদ্ধি আর ধৈর্য দিয়ে কাজ করলে তবেই সফলতা পাওয়া যায়। তাড়াহুড়ো করে কাজ করলে ভুল হয় আর পরিশ্রমও বেশি হয়।
পরের দিন থেকে রকেট ঘোড়াও সুমির মতো ধৈর্য ধরে কাজ করতে শুরু করলো। আর সুমি সব প্রাণীর প্রিয় হয়ে উঠলো, কারণ সে শুধু নিজেই বুদ্ধি খাটিয়ে কাজ করত না, অন্যদেরও বুদ্ধি দিত।

এই গল্পের শিক্ষণীয় বিষয়গুলো হলো:
* ধৈর্য ও একাগ্রতা: তাড়াহুড়ো না করে ধীরে সুস্থে এবং মনোযোগ দিয়ে কাজ করলে তা ভালো হয়।
* বুদ্ধিমত্তা: শুধু শারীরিক শক্তি নয়, বুদ্ধি খাটিয়ে কাজ করলে অনেক কঠিন কাজও সহজে সম্পন্ন করা যায়।
* পরিশ্রমের ফল: ভালো কাজ করলে তার পুরস্কার অবশ্যই পাওয়া যায়।

মিষ্টি পরী আর জাদুর ফুলঅনেক অনেক দূরে, মেঘেদের দেশে, ছিল এক জাদুর বাগান। সে বাগানে সব ফুলেরা কথা বলতে পারত, আর প্রজাপতির...
25/07/2025

মিষ্টি পরী আর জাদুর ফুল

অনেক অনেক দূরে, মেঘেদের দেশে, ছিল এক জাদুর বাগান। সে বাগানে সব ফুলেরা কথা বলতে পারত, আর প্রজাপতিরা গান গাইত। এই বাগানেই থাকত ছোট্ট একটা পরী, তার নাম ছিল মিষ্টি। মিষ্টির ডানাগুলো ছিল রামধনুর মতো ঝলমলে, আর তার পোশাকটা যেন তারার গুঁড়ো দিয়ে তৈরি।
মিষ্টি রোজ সকালে ঘুম থেকে উঠেই বাগানে যেত। সে সব ফুলের সাথে গল্প করত, প্রজাপতিদের সাথে উড়ে বেড়াত আর নদীর সাথে লুকোচুরি খেলত। মিষ্টির সবচেয়ে প্রিয় ছিল জাদুর ফুল। এই ফুলটা দিনে সাতবার রঙ বদলাত আর তার পাপড়ি থেকে মিষ্টি সুবাস আসত।
একদিন মিষ্টি দেখল, জাদুর ফুলটা কেমন যেন মনমরা হয়ে আছে। তার রঙগুলো ফিকে হয়ে গেছে, আর সুবাসও নেই। মিষ্টি খুব চিন্তায় পড়ল। সে অন্য ফুলদের জিজ্ঞাসা করল, "জাদুর ফুলের কী হয়েছে?"
একটা জ্ঞানী গোলাপ বলল, "মিষ্টি, জাদুর ফুলটা তার হাসি হারিয়ে ফেলেছে। অনেকদিন ধরে কেউ তাকে নতুন গল্প শোনায়নি, তাই সে মন খারাপ করে আছে।"
মিষ্টি ভাবল, "ইসস! আমি তো রোজ নতুন নতুন গল্প বলি। আজ তবে জাদুর ফুলকে একটা দারুণ গল্প শোনাব!"
মিষ্টি উড়তে উড়তে চলে গেল দূর পাহাড়ের চুড়ায়। সেখানে একটা ছোট্ট পাখির বাসা ছিল। মিষ্টি পাখির ছানাদের মজার মজার গল্প শোনাল। ছানারা মিষ্টির গল্প শুনে খুব খুশি হলো আর কিচিরমিচির করে গান গাইতে লাগল।
পাখির ছানাদের গান শুনে মিষ্টির মনে একটা নতুন গল্প উঁকি দিল। সে তাড়াতাড়ি উড়ে এলো জাদুর ফুলের কাছে। জাদুর ফুল তখনো মনমরা হয়ে ছিল।
মিষ্টি জাদুর ফুলকে বলল, "জাদুর ফুল, শোনো! আমি তোমাকে একটা নতুন গল্প শোনাব। জানো, আজ আমি একটা পাখির বাসা দেখে এসেছি। সেখানে তিনটে ছোট্ট ছানা আছে। তারা সারাদিন আকাশে ওড়ার স্বপ্ন দেখে..."
মিষ্টি গল্প বলতে লাগল। সে পাখির ছানাদের স্বপ্ন, তাদের ছোট্ট ছোট্ট ডানা আর মায়ের ভালোবাসার কথা বলল। মিষ্টি যত গল্প বলছিল, জাদুর ফুল তত তার মন খারাপ ভুলে যাচ্ছিল। তার পাপড়িগুলো আবার উজ্জ্বল হতে শুরু করল, আর সুবাসে ভরে গেল চারিদিক।
গল্প শেষ হওয়ার পর জাদুর ফুল আবার রামধনুর মতো ঝলমল করতে লাগল। সে মিষ্টিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলল, "মিষ্টি, তুমি আমার হাসি ফিরিয়ে এনেছ! নতুন গল্প শুনতে আমার খুব ভালো লাগে।"
মিষ্টি খুব খুশি হলো। সে বুঝতে পারল, গল্পের একটা জাদু আছে, যা মন ভালো করে দিতে পারে। সেদিন থেকে মিষ্টি রোজ জাদুর ফুলকে নতুন নতুন গল্প শোনাত, আর জাদুর ফুলও রোজ তার নতুন রঙে হেসে উঠত।
গল্পটা তোমার কেমন লাগল? তুমি কি পরীদের নিয়ে আরও গল্প শুনতে চাও?

পুরোনো বাড়ির রহস্যঅনেক দূরে, একটা পুরোনো আমবাগান ছিল। সেই বাগানের ভেতরে ছিল একটা পুরোনো বাড়ি, যেটা অনেক বছর ধরে খালি পড়ে...
25/07/2025

পুরোনো বাড়ির রহস্য
অনেক দূরে, একটা পুরোনো আমবাগান ছিল। সেই বাগানের ভেতরে ছিল একটা পুরোনো বাড়ি, যেটা অনেক বছর ধরে খালি পড়ে ছিল। কেউ বলত, সে বাড়িতে ভূত আছে। কেউ বলত, রাতের বেলা নাকি অদ্ভুত আওয়াজ শোনা যায়।
একদিন, রাজু আর তার বন্ধুরা ঠিক করল, তারা সেই পুরোনো বাড়িতে যাবে। রাজু ছিল খুব সাহসী, কিন্তু তার বন্ধু রনি আর দিপু একটু ভয়ে ভয়ে ছিল। সন্ধে নামতেই তারা তিনজন রওনা দিল পুরোনো বাড়ির দিকে।
বাড়ির চারপাশে ছিল উঁচু উঁচু গাছ, আর সেগুলো থেকে ভ্যাপসা একটা গন্ধ আসছিল। গেটটা খোলার সময় ক্যাঁচ ক্যাঁচ শব্দ করল, যেন পুরোনো বাড়িটা তাদের আসার খবর দিচ্ছে। ভেতরে ঢোকার পর কেমন যেন একটা ঠান্ডা বাতাস তাদের ছুঁয়ে গেল।
তারা টর্চ জ্বেলে বাড়ির ভেতরে ঢুকল। চারপাশে ধুলা আর মাকড়সার জাল। ঘরের আসবাবপত্র সব ভাঙাচোরা, আর দেওয়ালগুলোতে কেমন যেন কালচে ছোপ। হঠাৎ, একটা ঘর থেকে অদ্ভুত একটা আওয়াজ এল – "ঘোঁত... ঘোঁত..."
রনি আর দিপু ভয়ে কেঁপে উঠল। "রাজু, এটা কিসের আওয়াজ?" দিপু ফিসফিস করে বলল।
রাজু সাহসী গলায় বলল, "হয়তো ইঁদুর বা বাদুড়ের আওয়াজ। চলো, দেখি তো!"
তারা ধীরে ধীরে সেই ঘরের দিকে এগোল। ঘরের দরজাটা অল্প খোলা ছিল। যেই তারা উঁকি দিল, দেখতে পেল, ঘরের এক কোণে একটা কালো ছায়া নড়াচড়া করছে! আর সেই ছায়া থেকেই "ঘোঁত... ঘোঁত..." আওয়াজটা আসছে।
রাজুর হাত থেকে টর্চ পড়ে গেল। রনি আর দিপু ভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলল। ছায়াটা ধীরে ধীরে তাদের দিকে এগিয়ে আসছিল। রাজুর মনে হলো, সে একটা বড়, ভয়ঙ্কর চোখের ঝলক দেখতে পেল।
হঠাৎ, ছায়াটা আরও কাছে এলো, আর আওয়াজটা আরও স্পষ্ট হলো। এবার তারা শুনতে পেল, "ঘোঁত ঘোঁত... আমাকে পেটে দাও... খিদে পেয়েছে... ঘোঁত ঘোঁত..."
ভয়ে তাদের হাত-পা ঠান্ডা হয়ে গেল। তারা চিৎকার করে দৌড়াতে শুরু করল! পুরোনো বাড়ি থেকে বেরিয়ে যত দ্রুত সম্ভব তারা গ্রামের দিকে ছুটল। পেছনে ফিরে তাকানোর সাহসও তাদের ছিল না।
পরদিন সকালে তারা যখন সাহস করে আবার পুরোনো বাড়ির কাছে গেল, তখন অবাক হয়ে দেখল – যেখান থেকে "ভূত" এর আওয়াজ আসছিল, সেখানে একটা বড় শুকর বসে আছে! তার পেটে ব্যথা হয়েছিল, আর তাই সে ঘোঁত ঘোঁত করছিল। অন্ধকারে তার ছায়াটাই তাদের কাছে ভূতের মতো লেগেছিল!
রাজু, রনি আর দিপু হাসতে শুরু করল। তারা বুঝতে পারল, তাদের ভয়টা ছিল আসলে মনের ভুল। সত্যিই কোনো ভূত ছিল না, ছিল শুধু একটা ক্ষুধার্ত শুকর! সেদিন থেকে তারা আর ভূতের গল্প শুনে ভয় পেত না, বরং হাসত।

তুমি কি কখনো কোনো কিছুকে ভুল করে ভূত ভেবেছো?

Address

Laxmipur
Rajshahi
GPO6000

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when My Baby Buzz posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share