13/12/2025
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে রবার্ট লিস্টন এক অবিস্মরণীয় নাম, তবে সেটি কোনো যুগান্তকারী সাফল্যের জন্য নয়, বরং অভাবনীয় এক ট্র্যাজেডির কারণে। ১৮৪৭ সালের সেই ঘটনাটি আজও আমাদের অবাক করে দেয়। সেই যুগে অ্যানেসথেসিয়া বা চেতনা নাশক ওষুধের প্রচলন ছিল না, তাই সার্জনের প্রধান লক্ষ্য থাকত কত দ্রুত অস্ত্রোপচার শেষ করা যায়। দ্রুত গতির জন্য বিখ্যাত লিস্টন গর্ব করে বলতেন, তিনি চোখের পলকেই রোগীর অঙ্গচ্ছেদ করতে পারেন।
সেদিনও তিনি তেমনই এক অপারেশন শুরু করেছিলেন। চারিদিকে উৎসুক দর্শক আর সহকারীদের ভিড়ে ঠাসা অপারেশন থিয়েটার। লিস্টন ঘড়ি ধরে নিজের দ্রুত গতির স্বাক্ষর রাখতে চাইলেন। কিন্তু অতি দ্রুত কাজ করতে গিয়ে তিনি হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেললেন। ক্ষিপ্রগতিতে অস্ত্রোপচার করার সময় তিনি এতটাই বেসামাল হয়ে পড়েছিলেন যে, রোগীর পায়ের পাশাপাশি অসাবধানতাবশত তার পাশে থাকা সহকারীর হাতের আঙুলও কেটে ফেললেন। চারদিকে তখন রক্ত আর চিৎকারে এক বীভৎস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
লিস্টন তার অপারেশন শেষ করেছিলেন মাত্র দুই মিনিটের সামান্য বেশি সময়ে, কিন্তু এর পরিণতি ছিল ভয়াবহ। কয়েক দিনের মধ্যেই সেই অস্ত্রোপচারের ক্ষত থেকে সংক্রমণের সৃষ্টি হয়ে রোগী মারা যান। একই ভাগ্য বরণ করতে হয় তার সেই সহকারীকেও; আঙুল কাটার ফলে রক্তে বিষক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে তিনিও শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
তবে গল্পের সবচেয়ে অদ্ভুত অংশটি ছিল একজন দর্শককে নিয়ে। ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা এক ব্যক্তি অপারেশন থিয়েটারের সেই রক্তাক্ত বিশৃঙ্খলা দেখে এতটাই আতঙ্কিত হয়েছিলেন যে, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে সেখানেই তার মৃত্যু ঘটে। ফলে একটি মাত্র সাধারণ অস্ত্রোপচার শেষ পর্যন্ত তিন-তিনটি তাজা প্রাণ কেড়ে নেয়। ইতিহাসের পাতায় এটিই একমাত্র অপারেশন যেখানে মৃত্যুর হার ছিল গাণিতিকভাবে অসম্ভব ‘৩০০ শতাংশ’। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এই ঘটনাটি আজও এক করুণ এবং অদ্ভুত বিড়ম্বনার উদাহরণ হয়ে টিকে আছে।