29/04/2026
হাই স্কুলের দিনগুলো… জীবনের এমন একটা অধ্যায়, যেটা শেষ হয়ে গেলেও কখনো শেষ হয় না ❤️
আজ যখন পেছনে ফিরে তাকাই, মনে হয় সেই দিনগুলো যেন শুধু সময় ছিল না, ছিল এক টুকরো আলাদা পৃথিবী। যেখানে দায়িত্ব ছিল কম, স্বপ্ন ছিল বেশি, আর হাসি ছিল সবচেয়ে সহজ জিনিস।
সকালবেলা ঘুম ভাঙার পর স্কুলে যাওয়ার অলসতা থাকলেও, বন্ধুদের সাথে দেখা হওয়ার আনন্দটা সব ক্লান্তি দূর করে দিত। কেউ দেরি করলে সবাই মিলে বকাঝকা, আবার কেউ না এলে সবার মন খারাপ—এই ছোট ছোট অনুভূতিগুলোই ছিল আমাদের সম্পর্কের শক্তি।
ক্লাসে স্যার পড়াচ্ছেন, কিন্তু আমাদের মন তখন জানালার বাইরে। কারো খাতা ভরা আঁকিবুঁকি, কারো নীরব হাসি, আবার কারো ফিসফিস করে গল্প বলা—এইভাবেই কেটে যেত ঘণ্টার পর ঘণ্টা। তবুও আমরা কখনো বিরক্ত হতাম না, কারণ পাশে ছিল সেই মানুষগুলো, যারা প্রতিদিনকে বিশেষ করে তুলতো।
টিফিন পিরিয়ড ছিল সবচেয়ে প্রিয় সময়। সবার ব্যাগ খুলে খাবার বের করা, তারপর একে অপরের সাথে ভাগাভাগি করা—এটা শুধু খাওয়া ছিল না, এটা ছিল ভালোবাসা, বিশ্বাস আর বন্ধুত্বের প্রতীক। কারো বাড়ির রান্না বেশি সুস্বাদু লাগতো, কারো আবার ছোট্ট স্ন্যাক্সও রাজকীয় মনে হতো, কারণ আমরা একসাথে ছিলাম।
পরীক্ষার আগের রাতগুলো ছিল ভয়ের আর প্রস্তুতির মিশ্রণ। কেউ পড়া শেষ করছে, কেউ আবার প্রথমবার শুরু করছে। “কাল কী হবে?” এই প্রশ্নটা সবার চোখে মুখে লেখা থাকতো। কিন্তু পরীক্ষার হলে ঢোকার আগেই সবাই একে অপরকে সাহস দিতো—“চিন্তা করিস না, হয়ে যাবে।” এই ছোট সাহসটাই আমাদের এগিয়ে নিতো।
কখনো ঝগড়া হয়েছে, আবার একদিনেই সব ভুলে আবার বন্ধু হয়েছি। কখনো রাগ করে কথা বন্ধ করেছি, আবার পরের দিনই একই বেঞ্চে বসেছি। এই সহজ, সরল সম্পর্কগুলোই ছিল সবচেয়ে সত্যি।
স্কুলের মাঠে দাঁড়িয়ে আকাশ দেখা, ছুটির পর অকারণে অনেকটা পথ হেঁটে যাওয়া, কিংবা শেষ বেঞ্চে বসে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখা—এই সবকিছু এখন শুধু স্মৃতি। তখন বুঝিনি, কিন্তু এখন বুঝি—ওটাই ছিল জীবনের সবচেয়ে নির্ভেজাল সময়।
আজ আমরা সবাই বড় হয়েছি। কেউ চাকরি করছে, কেউ পড়াশোনা করছে, কেউ জীবনের কঠিন বাস্তবতার সাথে লড়ছে। ব্যস্ততা বেড়েছে, দূরত্ব বেড়েছে, কিন্তু মনের ভেতরের সেই হাই স্কুলের ক্লাসরুমটা এখনো ঠিক আগের মতোই আছে। যেখানে হাসি ছিল অকারণ, কান্না ছিল সামান্য, আর বন্ধুত্ব ছিল অটুট।
কখনো কখনো মনে হয়, ইশ… যদি একদিনের জন্যও ফিরে যাওয়া যেত! শুধু সেই পুরনো তুমিটার সঙ্গে