14/05/2026
"ওরা বাচ্চা, ওরা কী বুঝবে?" আর অন্যদিকে "ওনারা তো বয়স্ক আর ব্যাকডেটেড" — এই দুটো বাক্য প্রতিদিন বলা হয়। কিন্তু সত্যিটা হলো, বয়স কখনো জ্ঞানের একমাত্র মাপকাঠি ছিল না, আজও নয়।
-
একটি সাধারণ বিকেলের গল্প
ঢাকার মিরপুরের একটি চায়ের দোকানে বিকেল নামতে না নামতেই জমে ওঠে আড্ডা। এক কোণে বসে আছেন ষাটোর্ধ্ব রহিম সাহেব — অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক। পাশের টেবিলে তাঁর ছেলের বয়সী কয়েকজন তরুণ ল্যাপটপ খুলে বসে আছে, আলোচনা করছে কোনো স্টার্টআপের বিজনেস মডেল নিয়ে।
রহিম সাহেব তাদের দিকে একটু তাচ্ছিল্যের চোখে তাকালেন। মনে মনে ভাবলেন, "এই ছোকরাগুলো ব্যবসা কী বোঝে? জীবনের অভিজ্ঞতাই নেই।" ওদিকে তরুণরা রহিম সাহেবকে দেখে একজন বলে উঠল, "এই বয়স্কদের নিয়ে কথা বলা বেকার, এরা ডিজিটাল দুনিয়া বোঝে না।"
-
দুই পক্ষ, দুটো অনুমান — দুটোই আংশিক সত্য, আর পুরোপুরি ভুল। এই দৃশ্যটি শুধু মিরপুরের চায়ের দোকানে নয়, বাংলাদেশের প্রতিটি পরিবারে, প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে, প্রতিটি গলিতে প্রতিদিন ঘটছে।
যখন "বাচ্চারা" পৃথিবী পাল্টে দিয়েছে
"ওরা তো বাচ্চা ছেলে-মেয়ে, ওরা কী বুঝবে?" — এই কথাটি যাঁরা বলেন, তাঁদের কাছে একটা প্রশ্ন: মার্ক জাকারবার্গ যখন ফেসবুক তৈরি করেছিলেন, তখন তাঁর বয়স কত ছিল?
মাত্র ১৯। হার্ভার্ডের ছাত্র থাকাকালীন তিনি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করলেন যা আজ তিন বিলিয়নেরও বেশি মানুষ ব্যবহার করে। তাঁর বন্ধুরাও কি বলেছিল, "আরে মার্ক, তুমি বাচ্চা মানুষ, এসব করে কী হবে?"
-
তরুণ পরিবর্তকদের গল্পঃ
মার্ক জাকারবার্গ
ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতা — ফেসবুক শুরু করেন মাত্র ১৯ বছরে।
হার্ভার্ডে পড়াকালীন ২০০৪ সালে ফেসবুক তৈরি করেন। আজ এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামাজিক মাধ্যম। বয়স দিয়ে বিচার করলে "ছাত্র ছেলে" — কিন্তু তিনি পৃথিবী পাল্টে দিয়েছিলেন। আজ আমার আপনার সব তথ্য তারই হাতে।
মালালা ইউসুফজাই
নোবেলজয়ী অ্যাক্টিভিস্ট — নোবেল পান মাত্র ১৭ বছরে
পাকিস্তানের এই কিশোরী তালেবানের বুলেট খেয়েও থামেননি। ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ নোবেলজয়ী হিসেবে মেয়েদের শিক্ষার অধিকারে আলো জ্বেলেছেন গোটা বিশ্বে।
গ্রেটা থানবার্গ
জলবায়ু আন্দোলনের মুখ — আন্দোলন শুরু করেন ১৫ বছরে।
সুইডেনের এই কিশোরী একা একটি প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন সুইডিশ পার্লামেন্টের সামনে। আজ বিশ্বের কোটি মানুষ তাঁর ডাকে রাস্তায় নেমেছে। বড়রা কি তখন বলেনি, "বাচ্চা মেয়ে, কী বুঝবে জলবায়ু সংকট?"
এলন মাস্ক (প্রথম উদ্যোগ)
Zip2 প্রতিষ্ঠা করেন মাত্র ২৪ বছরে।
দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে এসে প্রায় কপর্দকশূন্য এক তরুণ সিলিকন ভ্যালিতে নিজের জায়গা করে নিলেন। পরবর্তীতে স্পেসএক্স, টেসলা, এবং নিউরালিংক তাঁর দূরদর্শিতার ফল।
নাওমি ওসাকা
টেনিস চ্যাম্পিয়ন — প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতেন ২০ বছরে।
কেউ ভাবেনি জাপানি-হাইতিয়ান এই তরুণী সেরেনা উইলিয়ামসকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হবেন। তিনি শুধু ট্রফি জেতেননি, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে খেলার জগতে কথা বলার সাহস দেখিয়েছেন।
-
বিশ্বের সেরা উদ্ভাবকদের গড় বয়স ৩০ যখন তারা যুগান্তকারী আবিষ্কার করেন
বিশ্বের ৭০% স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতা যাদের বয়স ২০ থেকে ৩৫-এর মধ্যে
ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ নোবেলজয়ীর বয়স ১৭ (মালালা ইউসুফজাই)
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও এই সত্য কম উজ্জ্বল নয়। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে যে ছাত্র-জনতার আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাস পরিবর্তন করে দিল, সেই আন্দোলনের মুখেরা কিন্তু তরুণ। স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এই সাহসী প্রজন্ম প্রমাণ করেছে — তরুণরা "কিছু বোঝে না" — এই ধারণাটি কতটা অসার।
"যৌবন একটি দোষ যা দ্রুত সেরে যায়।" — কিন্তু যে কাজ তরুণেরা সেই বয়সে করে, তা অনেক সময় বৃদ্ধ বয়সে সম্ভব হয় না।
— উইলিয়াম পিট (দ্য ইয়ংগার), যিনি ২৪ বছরে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হন।
---
যখন "ব্যাকডেটেড" মানুষরা পথ দেখান।
-
এবার উল্টো দিকে আসি। তরুণরা অনেক সময় মনে করে প্রবীণরা "সব ব্যাকডেটেড।" কিন্তু আমরা কি একবারও ভেবে দেখেছি — আমরা যে মোবাইলে কথা বলছি, যে রাস্তায় হাঁটছি, যে ইন্টারনেটে ডুব দিচ্ছি — তার ভিত্তি কে তৈরি করেছে?
হারল্যান্ড স্যান্ডার্স — নামটি হয়তো চেনা না, কিন্তু কেএফসি মুরগির কথা সবাই জানে। এই মানুষটি ৬২ বছর বয়সে কেএফসি শুরু করেছিলেন, যখন তাঁর কাছে শুধু একটি রেসিপি আর অদম্য মনোবল ছিল। হাজারেরও বেশি বার প্রত্যাখ্যান পেয়েছিলেন, কিন্তু থামেননি। আজ বিশ্বের ১৫০টির বেশি দেশে কেএফসির ২৭,০০০ শাখা।
প্রবীণ পথিকৃতদের গল্প
কর্নেল হারল্যান্ড স্যান্ডার্স
KFC প্রতিষ্ঠাতা — ব্যবসা শুরু করেন ৬২ বছরে
১,০০৯ বার প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন। ৬৫ বছরে সামাজিক নিরাপত্তার প্রথম চেক পেয়ে হতাশ হননি বরং সেই টাকা ব্যবহার করেন স্বপ্ন পূরণে। প্রমাণ করেছেন — বয়স উদ্যোগের বাধা নয়।
গ্র্যান্ডমা মোজেস
চিত্রশিল্পী — ৭৮ বছরে আঁকা শুরু করেন
আথ্রাইটিসের কারণে সেলাই করতে পারতেন না, তখন তুলি তুললেন। ৭৮ বছর বয়সে শিল্পজীবন শুরু হলো। ১৬০ বছরের জন্মদিনে তাঁর ছবি নিলামে উঠল কোটি ডলারে। প্রশ্ন হলো — কে বলেছিল বয়স্করা নতুন কিছু করতে পারেন না?
নেলসন ম্যান্ডেলা
দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপতি — দায়িত্ব নেন ৭৫ বছরে
২৭ বছর কারাবন্দি ছিলেন। ছাড়া পেয়েছেন ৭১ বছরে। তারপরও বর্ণবাদমুক্ত দক্ষিণ আফ্রিকার স্বপ্ন দেখলেন, সেটা সফলও করলেন। তাঁর ক্লান্তি ছিল না — কারণ অভিজ্ঞতা ছিল, পথ চেনা ছিল।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
নোবেলজয়ী কবি — পরিপক্ব সাহিত্য রচনা ৫০-৬০ বছরে
নোবেল পুরস্কার পান ৫২ বছরে। গীতাঞ্জলি, চোখের বালি, ঘরে বাইরে — এই কালজয়ী সৃষ্টি পরিপক্বতার ফসল। শুধু যৌবন নয়, জীবনের প্রতিটি পর্যায় সৃষ্টিশীলতার সময়।
উইন্সটন চার্চিল
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী — দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নেতৃত্ব দেন ৬৫ বছরে
বয়স ৬৫-তে যখন ব্রিটেন সবচেয়ে অন্ধকারে, তখন চার্চিলই আলো দেখালেন। তাঁর বক্তৃতা, প্রজ্ঞা আর অভিজ্ঞতা না থাকলে ইতিহাস হয়তো অন্যভাবে লেখা হতো।
দুটো প্রজন্মের মাঝের দেয়াল
তাহলে সমস্যাটা ঠিক কোথায়? সমস্যা হলো আমরা "বয়স" দিয়ে "বুদ্ধি" মাপার চেষ্টা করি। এটা এমনই ভুল, যেন উচ্চতা দিয়ে গান গাওয়ার ক্ষমতা মাপা।
প্রবীণদের কাছে আছে জীবনের অভিজ্ঞতা — কোন পথে গেলে পড়বে, কোন সিদ্ধান্তের কী পরিণতি হতে পারে, মানুষ চেনার দক্ষতা, ব্যর্থতা সামলানোর শক্তি। আর তরুণদের কাছে আছে নতুন জানার তৃষ্ণা — পরিবর্তনকে ভয় না পাওয়া, প্রযুক্তির সাথে তাল মেলানো, নতুন ধারণা গ্রহণের উন্মুক্ততা।
-
"আমাকে একজন তরুণের শক্তি আর একজন প্রবীণের জ্ঞান — এই দুটো একসাথে দাও, আমি পৃথিবী জয় করব।"
— পরিবর্তিত একটি প্রবাদ, কিন্তু সারকথা এটাই।
আমেরিকার নাসায় একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সবচেয়ে সফল দলগুলো সেগুলো যেখানে বিভিন্ন বয়সের মানুষ একসাথে কাজ করেছে। তরুণ প্রকৌশলীরা নতুন প্রযুক্তি এনেছে, প্রবীণ বিজ্ঞানীরা দিয়েছেন অভিজ্ঞতার কাঠামো। এই দুটো মিলিয়েই মানুষ চাঁদে গেছে।
জাপানের "মেন্টর সংস্কৃতি" বা কোরিয়ার "সিনিয়র-জুনিয়র বন্ধন" — এসব কিন্তু শুধু সম্মানের বিষয় নয়, এটা কার্যকর জ্ঞান হস্তান্তরের কৌশল। সেখানে প্রবীণ সিনিয়র তরুণকে পথ দেখান, আর তরুণ নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এনে সিনিয়রের ধারণাকে সমৃদ্ধ করে।
বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে এই টানাপোড়েন।
-
আমাদের সমাজে প্রবীণদের প্রতি শ্রদ্ধা একটি মূল্যবান ঐতিহ্য। কিন্তু শ্রদ্ধা আর অন্ধ আনুগত্য এক নয়। একজন বয়স্ক বাবা তাঁর ৩০ বছরের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা থেকে বলছেন, "এই বাজারে এভাবে চলে না" — এই কথার মূল্য আছে। আবার একই সাথে তাঁর ছেলে যখন বলছে, "বাবা, এখন ডিজিটাল মার্কেটিং ছাড়া ব্যবসা টেকে না" — এই কথারও সমান মূল্য আছে।
সমস্যা হয় যখন কেউ বলে, "আমার কথাই চূড়ান্ত।" সেটা বাবা বললেও সমস্যা, ছেলে বললেও সমস্যা।
-
বাংলাদেশের একটি কৃষিপরিবারের কথা ভাবুন। বাবা চাষ করেন সনাতন পদ্ধতিতে, জানেন কোন মৌসুমে কোন ফসল ভালো হয়, কোন জমিতে কোন সার কাজ করে — এই জ্ঞান তাঁর কয়েক দশকের অভিজ্ঞতার। ছেলে পড়াশোনা করে ড্রিপ ইরিগেশন, হাইব্রিড বীজ আর মাটি পরীক্ষার নতুন পদ্ধতি শিখে এসেছে। এই দুটো জ্ঞান আলাদা আলাদাভাবে আংশিক। একসাথে হলে হয় পরিপূর্ণ।
-
চোখের জলের আড়ালে যা থাকে।
একবার ভাবুন — আপনার দাদা বা নানা যখন বলেন, "আমাদের সময়ে..." — তখন কি সত্যিই শুনেছেন? তাঁর গলার আওয়াজে কোনো একদিনের স্মৃতি থাকে, যেদিন তিনি হয়তো অনেক কষ্ট করে কিছু শিখেছিলেন।
আবার উল্টোদিকে — যে তরুণটি রাত জেগে কোড লিখছে, যে মেয়েটি একা ব্যবসা শুরু করেছে, যে কিশোর প্রতিযোগিতায় স্বপ্ন দেখছে — তাদের ভেতরের আগুনটা কি "অনভিজ্ঞতা"? না, এটা সম্ভাবনা। এই আগুন নিভিয়ে দেওয়া মানে আগামীকালের সূর্য নিভিয়ে দেওয়া।
আমরা কী করতে পারি?
-
প্রথমত, প্রবীণদের উচিত নবীনদের উপর নতুন পৃথিবীর নতুন নতুন দায়িত্ব অর্পন করা, তাদের উপর আস্থা রাখা। স্বীকার করা যে পরিবর্তন মানে বিপদ নয়। যিনি ৪০ বছর আগে নতুন কিছু শিখেছিলেন, তিনি আজও শিখতে পারেন। বয়স শেখার ক্ষমতা কমায় না, অনেক সময় বরং বাড়ায় — কারণ তখন জানেন কোনটা গুরুত্বপূর্ণ।
-
দ্বিতীয়ত, তরুণদের উচিত বুঝতে পারা যে "নতুন" মানেই "সেরা" নয়। ইন্টারনেট নতুন তথ্য দেয়, কিন্তু সেই তথ্যকে প্রজ্ঞায় পরিণত করতে লাগে অভিজ্ঞতা। একটা ফোন সব জানলেও ফোনের কাছ থেকে কেউ পরামর্শ নেয় না। মানুষের কাছে যায় — কারণ মানুষের অভিজ্ঞতা জীবন্ত।
-
তৃতীয়ত, পরিবারে, কর্মক্ষেত্রে, সমাজে — এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে যেখানে দুই প্রজন্ম কথা বলতে পারে। মুখোমুখি বসা, চায়ের কাপ হাতে নিয়ে গল্প করা — এই সাধারণ মুহূর্তগুলোই হলো সেতু।
-
শেষ কথা: দুটো হাত মিলিয়েই করতাল বাজে।
একটি বাংলা প্রবাদ আছে: "অভিজ্ঞতা হলো সেরা শিক্ষক।" আরেকটি আছে: "যৌবনে যে পথ চেনে, বৃদ্ধ বয়সে সে নিশ্চিন্তে চলে।" দুটো প্রবাদ একসাথে পড়লে বোঝা যায় — একটি জীবনের পথ চেনার কথা বলছে (তরুণ বয়স), আরেকটি সেই জ্ঞান প্রয়োগের কথা (পরিণত বয়স)।
ইতিহাসের সেরা সৃষ্টিগুলো হয়েছে যখন তারুণ্যের সাহস, প্রবীণের অভিজ্ঞতা আর দুজনের উদ্যম একসাথে কাজ করেছে। বিটলস ব্যান্ডে তরুণ জন লেননের সাথে ছিলেন সুরের শিক্ষক। স্টিভ জবসের পাশে ছিলেন স্টিভ ওজনিয়াক — দুজনের ভিন্ন শক্তি মিলিয়েই অ্যাপল।
বাংলাদেশও একটি তরুণ দেশ — জনসংখ্যার বিশাল অংশ তরুণ। এই তারুণ্যের শক্তিকে প্রবীণদের অভিজ্ঞতার সাথে মেলাতে পারলে, আমাদের গল্পটা সত্যিই অন্যরকম হবে।
দুটো প্রজন্ম, একটাই স্বপ্ন।
-
"ওরা বাচ্চা, কী বুঝবে?" এবং "ওরা ব্যাকডেটেড" — এই দুটো বাক্য বলার আগে একবার থামুন। কারণ প্রত্যেক প্রবীণ একসময় তরুণ ছিলেন, আর প্রত্যেক তরুণ একদিন প্রবীণ হবেন। আমরা একই যাত্রার দুটো পর্যায়। তর্ক নয়, সংলাপ দরকার। প্রতিযোগিতা নয়, সহযোগিতা দরকার। বয়স নয়, মূল্যায়ন হোক মানুষের ভেতরের আলো দিয়ে।
এম এফ আলম
লেখক