M F Alam

M F Alam যে তার রবের উপর ভরসা করে, তার জন্য তিনিই যথেষ্ট! সূরা তালাক - ০৩

মিডলাইফ ক্রাইসিস কী?চল্লিশের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে: একাকীত্বের এক অজানা আর্তনাদ—---------------------------------------------...
02/06/2026

মিডলাইফ ক্রাইসিস কী?
চল্লিশের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে: একাকীত্বের এক অজানা আর্তনাদ
—----------------------------------------------------------------------------------------------
জীবনের এক অদ্ভুত সন্ধিক্ষণে এসে আমরা যখন দাঁড়াই, তখন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের অচেনা প্রতিচ্ছবি দেখে চমকে উঠতে হয়। সেই মানুষটি, যে একসময় স্বপ্নে বিভোর ছিল, আজ তার চোখের নিচে ক্লান্তির কালি আর চুলে রূপোলি রেখা । সমাজবিজ্ঞানী এলিয়ট জ্যাকস একেই বলেছিলেন 'মিডলাইফ ক্রাইসিস'—জীবনের সেই মধ্যগগন, যেখানে পৌঁছানোর পর সামনের দিকে তাকালে কেবল অস্তাচলের বিষণ্ণতা আর মৃত্যুর হাতছানি দেখা যায় ।
-
রেজিনাল্ড পেরিন নামের এক ব্যক্তির কথা ভাবুন, যার বয়স ছিচল্লিশ। একাকী এক বিকেলে সে তার শৈশব আর যৌবনের সমস্ত স্মৃতি পুড়িয়ে ফেলছে, যেন নিজের অস্তিত্বকেই মুছে ফেলতে চায় । সে সমুদ্রের কিনারে কাপড় ছেড়ে রেখে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়, যাতে পৃথিবী তাকে মৃত মনে করে । আমাদের মাঝবয়সের সংকটও ঠিক তেমনই এক নিঃশব্দ হাহাকার। আমরা যখন পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছাই, তখন হঠাত উপলব্ধি করি যে এখন থেকে শুধু নিচে নামার পালা । আমাদের পেশি শিথিল হয়, জীবনীশক্তি ফুরিয়ে আসে, আর আমরা বুঝতে পারি যে জীবনের অনেকটা সময় কেবল নিয়ম পালনের যন্ত্রণায় পার করে দিয়েছি ।
-
এই বয়সের মানুষগুলো এক অদ্ভুত 'স্যান্ডউইচ জেনারেশন'-এর মতো । একদিকে নিজের বড় হয়ে ওঠা সন্তানদের অবাধ্যতা আর অস্থিরতা, অন্যদিকে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের অসুস্থতা আর যত্ন নেওয়ার গুরুভার—এই দুইয়ের মাঝে পিষ্ট হতে হতে আমরা নিজেদের হারিয়ে ফেলি । সমাজ আমাদের জন্য বিয়ের বয়স, সন্তান নেওয়ার সময় আর অবসরের এক ধরাবাঁধা নিয়ম বা 'মাইলস্টোন' তৈরি করে দিয়েছে । যখনই আমরা দেখি সেই তালিকার কোনো একটি কাজ আমরা ঠিক সময়ে করতে পারিনি, তখনই বুক চিরে এক দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে—আমি কি তবে ব্যর্থ?
-
একসময় বলা হতো, 'লাইফ বিগিনস অ্যাট ফর্টি' বা ৪০ বছরেই জীবন শুরু । কিন্তু সেই স্বপ্ন কি সত্যি হয়েছে? আমরা হয়তো বস্তুগত সুখের পেছনে ছুটেছি, সুন্দর বাড়ি বা দামী গাড়ি কিনেছি, কিন্তু মনের গহীনে সেই শূন্যতা পূরণ হয়নি । একসময়কার সেই 'আমেরিকান ড্রিম' বা সুন্দর সমাজ গড়ার স্বপ্ন আজ কেবল স্বার্থপর সুখ খোঁজার নেশায় পরিণত হয়েছে [। আমরা এই বয়সে এসে হঠাত করে যৌবনকে ফিরে পেতে চাই, নিজেদের তরুণ প্রমাণ করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠি, যা কেবল আমাদের একাকীত্বকেই আরও প্রকট করে তোলে ।
-
আসলে, আমরা কেবল শরীরের কোষে কোষে বুড়িয়ে যাই না; আমরা বুড়িয়ে যাই আমাদের চারপাশের সমাজ, সংস্কৃতি আর ইতিহাসের চাপে । মিডলাইফ ক্রাইসিস কোনো রোগ নয়, বরং জীবনের এক অমীমাংসিত অধ্যায় । যখন মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যায় আর মনে হয় 'সব তো পেলাম, তবে শান্তি কোথায়?', তখন বুঝবেন এটি কেবল আপনার একার গল্প নয়—এটি প্রতিটি মানুষের হৃদয়ের এক গোপন দীর্ঘশ্বাস, যা ইতিহাসের পাতায় ।

অন্যের উপর নয়, নিজের উপর কীভাবে ফোকাস করবেন?আমাদের সকালের সেই নীল আলো—-------------------------------------------------দ...
02/06/2026

অন্যের উপর নয়, নিজের উপর কীভাবে ফোকাস করবেন?
আমাদের সকালের সেই নীল আলো
—-------------------------------------------------
দিন তো ২৪ ঘণ্টাতেই হয়। সেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মোট কত ঘণ্টা আপনি নিজের দিকে ফোকাস দিয়েছেন? নাকি অন্যের দিকে ফোকাস দিতে দিতে নিজের সবকিছু ভুলে গেছেন?
প্রতিদিনের মতো আজ সকালেও চোখ খোলার আগেই হাতটা অজান্তেই বালিশের পাশে রাখা ফোনটার দিকে চলে গেল। ফোনের স্ক্রিনের সেই তীব্র নীল আলোটা যেন অন্ধকার ঘরটাকে শুধু আলোকিতই করল না, বরং এক নিমিষেই আমার শান্ত মস্তিষ্ককে সহস্র তথ্যের ভিড়ে ঠেলে দিল। আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি, আমাদের দিনটি কীভাবে শুরু হয়?, ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত আমাদের জীবনটা যেন কতগুলো পর্দার (screens) এক অবিরাম মিছিল। ইনস্টাগ্রামে রান্নার ভিডিও দেখা থেকে শুরু করে ইমেলের উত্তর দেওয়া—সবই যেন এক যান্ত্রিক চক্রের অংশ । আমরা কি আসলেই বাঁচছি, নাকি কেবল স্ক্রিনের ওপর আঙুল ঘষে সময় পার করছি?
---------------------------------------
মনযোগের এক করুণ মৃত্যু
—-------------------------------------
আমরা যখন কম্পিউটারে কাজ করি বা গুরুত্বপূর্ণ কিছু করার চেষ্টা করি, আমাদের কব্জিতে থাকা স্মার্টওয়াচ বা পকেটের ফোনটা অবিরত 'বিপ' শব্দে আমাদের ডাকতে থাকে। গবেষণা বলছে, কম্পিউটারে কাজ করার সময় আমরা গড়ে মাত্র ৪০ সেকেন্ড কোনো একটি বিষয়ে স্থির থাকতে পারি । যদি পাশে স্ল্যাক (Slack) বা মেসেঞ্জারের মতো অ্যাপ খোলা থাকে, তবে সেই মনোযোগের আয়ু কমে দাঁড়ায় মাত্র ৩৫ সেকেন্ডে । এই যে ৪০ সেকেন্ডের জীবন—এটাই কি আমাদের নিয়তি? আমরা কি এতটাই অস্থির হয়ে পড়েছি যে নিজের সাথে একটু সময় কাটানোর ধৈর্যটুকুও হারিয়ে ফেলেছি?
------------------------------------------
মস্তিষ্কের সেই 'ডোপামিন' তৃষ্ণা
—----------------------------------------
কেন আমরা বারবার ফোনের দিকে হাত বাড়াই? সমস্যাটা আমাদের বিভ্রান্তি (distraction) নয়, বরং আমাদের মস্তিষ্কের অতি-উদ্দীপনা (overstimulation) । আমাদের মস্তিষ্ক নতুনের সন্ধানে থাকে, যাকে বলা হয় 'নোভেল্টি বায়াস' (novelty bias) । যখনই আমরা ফেসবুক চেক করি বা নতুন কোনো নোটিফিকেশন দেখি, আমাদের মস্তিষ্কে ডোপামিন নামক এক আনন্দের রাসায়নিক নিঃসৃত হয়—ঠিক যেমনটা আমরা পাই সুস্বাদু খাবার খেলে বা ভালোবাসার মানুষের সান্নিধ্যে থাকলে । আমরা আসলে বিভ্রান্তিকে ভালোবাসি না, আমরা আমাদের মস্তিষ্কের এই সাময়িক আনন্দের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকি । আর এই নেশাই আমাদের জীবনকে করে তুলছে লক্ষ্যহীন এবং বিক্ষিপ্ত ।
--------------------------------------------------------
একঘেয়েমির সাথে এক আশ্চর্য অভিসার
—------------------------------------------------------
একজন বিখ্যাত ব্যক্তি এ ব্যাপারে অনন্য পরীক্ষা করেছিলেন। তিনি প্রতিদিন মাত্র ৩০ মিনিট ফোন ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেন। শুরুতে এটি ছিল প্রচণ্ড যন্ত্রণাদায়ক। এই যে উচ্চ উদ্দীপনা থেকে হঠাত শান্ত জীবনে ফিরে আসা—একে আমরা বলি 'একঘেয়েমি' (boredom) । কিন্তু এই একঘেয়েমিই ছিল তার জীবনের মোড় ঘোরানো মোড়ক। এক সপ্তাহ পর তার মস্তিষ্ক যখন শান্ত হলো, তিনি দেখলেন তার মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা নাটকীয়ভাবে বেড়ে গেছে । তার নাম ক্রিস বেইলী।
তিনি আরও গভীরে যেতে চাইলেন। তিনি নিজেকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিরক্ত করার জন্য এক ঘণ্টা করে অদ্ভুত সব কাজ করতে শুরু করলেন—যেমন আইটিউনসের হাজার হাজার শব্দের শর্তাবলী পড়া, ঘড়ির কাঁটা দেখা, কিংবা ১০,০০০ সংখ্যার পাই (pi)-এর মান থেকে শূন্য গোনা । শুনতে হাস্যকর মনে হলেও, এই 'একঘেয়েমি' তাকে এক অদ্ভুত প্রশান্তি দিয়েছিল। তিনি বুঝতে পারলেন, আমাদের মন যখন শান্ত হয়, তখনই সে ডানা মেলতে শুরু করে ।
------------------------------------------------------
স্ক্যাটার ফোকাস: যখন মন ডানা মেলে
—----------------------------------------------------
আমরা যখন কোনো কাজ করি না, তখন আমাদের মন উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়ায়। 'স্ক্যাটার ফোকাস' (scatter focus) । আপনি কি খেয়াল করেছেন, আপনার জীবনের সেরা আইডিয়াগুলো কখন আসে? নিশ্চয়ই কোনো জটিল কাজ করার সময় নয়। হয়তো সকালে গোসল করার সময়, কিংবা শান্ত হয়ে বসে থাকার সময় আপনার মস্তিষ্ক বিচ্ছিন্ন সব চিন্তাগুলোকে এক সুতোয় গেঁথে ফেলে ।
গবেষণায় দেখা গেছে, যখন আমাদের মন উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়ায়, তখন সে মূলত তিনটি জায়গায় যায়:
অতীত (১২%): ফেলে আসা দিনগুলোর স্মৃতি রোমন্থন ।
বর্তমান (২৮%): সমসাময়িক সমস্যার সৃজনশীল সমাধান খোঁজা।
ভবিষ্যৎ (৪৮%): জীবনের পরিকল্পনা করা ।
সবচেয়ে বিস্ময়কর হলো, আমাদের মন প্রায় অর্ধেক সময় ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করে, যাকে বলা হয় 'প্রোস্পেক্টিভ বায়াস' । কিন্তু আমাদের এই অতি-ব্যস্ত জীবনে আমরা কি আমাদের মনকে একটুও সময় দেই ঘুরে বেড়ানোর? আমরা কি তাকে সেই সুযোগ দেই যাতে সে আমাদের আগামীর দিনগুলো সাজাতে পারে?
--------------------------------------------------------------
জীবনকে ফিরে পাওয়ার কিছু ছোট পদক্ষেপ
—------------------------------------------------------------
১. উদ্দীপনা কমিয়ে দিন: অন্তত দুই সপ্তাহের জন্য আপনার ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার কমিয়ে দেখুন আপনার মনের কী পরিবর্তন ঘটে ।
২. বিচ্ছিন্ন থাকার আচার (Disconnection Ritual): প্রতিদিন রাত ৮টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত ইন্টারনেট থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকুন । এই সময়টা আপনার নিজের, আপনার পরিবারের।
৩. টেকনোলজি সাবাথ: সপ্তাহে একটি দিন (যেমন ছুটির দিনে) ডিজিটাল জগত থেকে সম্পূর্ণ ছুটি নিন । মাটির পৃথিবীটাকে আবার নতুন করে স্পর্শ করুন।
৪. একঘেয়েমিকে আলিঙ্গন করুন: লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় বা কফি শপে বসে ফোন বের না করে শুধু অপেক্ষা করুন। মনকে একটু অলস হতে দিন ।
----------------------------
মনোযোগই জীবন
—--------------------------
আমাদের মনোযোগের ওপরই নির্ভর করে আমাদের জীবনের গুণমান । যদি আমাদের প্রতিটি মুহূর্ত বিভ্রান্তি আর অতি-উদ্দীপনায় কেটে যায়, তবে দিনশেষে আমাদের জীবনটাও এক বিশৃঙ্খল ও লক্ষ্যহীন অভিজ্ঞতায় পরিণত হবে। কিন্তু আমরা যদি একটু শান্ত হতে পারি, যদি আমাদের মস্তিষ্ককে একটু বিশ্রাম দেই, তবে আমরা কেবল বেশি কাজই করতে পারব না, বরং আমরা একটি সুন্দর ও সৃজনশীল জীবনের অধিকারী হব ।
আসুন, আজ থেকে একটু সময় অলস হয়ে কাটাই। ফোনটা দূরে রেখে জানলার বাইরে তাকাই। হয়তো সেই একঘেয়েমির মাঝেই আপনি খুঁজে পাবেন আপনার হারিয়ে যাওয়া নিজেকে। মনে রাখবেন, জীবনের শ্রেষ্ঠ ধারণাগুলো ফোনের স্ক্রিনে নয়, বরং আপনার শান্ত মনের গভীরেই জন্ম নেয় ।

লেখক - ফেরদৌস আলম

২০২৬ সালে এই ৯টি অভ্যাস আরও সচ্ছল ও সমৃদ্ধ জীবন যাপনের জন্য অপরিহার্য---------------------------------------------------...
31/05/2026

২০২৬ সালে এই ৯টি অভ্যাস আরও সচ্ছল ও সমৃদ্ধ জীবন যাপনের জন্য অপরিহার্য-
---------------------------------------------------------------------
১. স্পেস এডিট (The Space Edit): আপনার কাজের জায়গা বা ঘর অগোছালো থাকলে মনের ওপর চাপ বাড়ে এবং কর্টিসল (cortisol) হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পায় । অভ্যাসটি হলো—প্রতিদিন কাজ শেষ করার আগে মাত্র ২ মিনিট সময় নিয়ে আপনার ডেস্ক বা কাজের জায়গাটি গুছিয়ে রাখা, যাতে আপনার জীবন আরও নিয়ন্ত্রিত মনে হয়।
-
২. মাইক্রো লাক্সারি (The Micro Luxury): দামি জিনিস কেনার চেয়ে ছোট ছোট অভিজ্ঞতাগুলো গভীরভাবে উপভোগ করার দিকে নজর দিন । যেমন—একটি ভালো মগে ধীরে ধীরে কফি খাওয়া বা ফোন ছাড়া হাঁটতে যাওয়া। এটি আপনাকে মানসিকভাবে সচ্ছল বোধ করতে সাহায্য করে ।
-
৩. মর্নিং অ্যাঙ্কর (The Morning Anchor): ঘুম থেকে ওঠার পর প্রথম ১৫ মিনিট ফোন ব্যবহার করবেন না । গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুম থেকে উঠেই ফোন দেখলে মানসিক চাপ বাড়ে। এই সময়টি নিজের চিন্তার সাথে কাটান বা জানালার বাইরে তাকিয়ে থাকুন, যা আপনার পুরো দিনের মেজাজ ঠিক করে দেবে ।
-
৪. ফ্রিডম ব্লক (The Freedom Block): সপ্তাহে অন্তত ১ ঘণ্টা সময় রাখুন যখন আপনি কোনো প্রোডাক্টিভ কাজ করবেন না । একে ক্যালেন্ডারে একটি মিটিংয়ের মতো বুক করে রাখুন। এই সময়ে কোনো ব্যায়াম বা ঘরের কাজ নয়, বরং স্রেফ নিজের মতো করে বই পড়া বা ক্যাফেতে বসে সময় কাটান, যা আপনাকে ক্লান্তি থেকে মুক্তি দেবে ।
-
৫. পজ টেস্ট বা ২৪ ঘণ্টার নিয়ম (The Pause Test): হুটহাট কেনাকাটা (impulse purchase) এড়াতে যেকোনো শৌখিন জিনিস কেনার আগে ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন । এই সময়ের মধ্যে অনেক সময় আপনার সেই জিনিসের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যায়, যা আপনার হাজার হাজার টাকা সাশ্রয় করতে পারে ।
-
৬. হ্যাভ লিস্ট (The Have List): প্রতিদিন এমন ৩টি জিনিসের কথা লিখুন যা আপনি টাকা দিয়ে কিনেছেন এবং আজ তা ব্যবহার করে আনন্দ পেয়েছেন । এটি হতে পারে আপনার জিমের সদস্যপদ বা সাধারণ এক কাপ কফি। এর ফলে অর্থকে কেবল 'খরচ' হিসেবে না দেখে আপনার জীবনের মানোন্নয়নকারী শক্তি হিসেবে দেখতে শিখবেন ।
-
৭. এভিডেন্স লিস্ট (The Evidence List): আমরা প্রায়ই আমাদের সাফল্য ভুলে যাই এবং কী পাইনি তা নিয়ে ভাবি। তাই নিজের ছোট ছোট জয়ের একটি তালিকা বা ভিডিও রেকর্ড রাখুন । যখন আপনার মনে হবে যে আপনি পিছিয়ে আছেন, এই তালিকাটি আপনাকে মনে করিয়ে দেবে আপনি কতটা উন্নতি করেছেন ।
-
৮. রিচ স্ক্রিপ্ট (The Rich Script): নিজের কথা বলার ধরন পরিবর্তন করুন। "আমি এটা কিনতে পারব না" (I can't afford that) বলার বদলে বলুন "এটা এখন আমার অগ্রাধিকার নয়" (That's not a priority right now) । এটি আপনাকে আপনার অর্থের ওপর নিয়ন্ত্রণ আছে এমন অনুভূতি দেয় এবং আপনার আত্মপরিচয় বদলে দেয় ।
-
৯. ফিউচার বেট (The Future Bet): সপ্তাহে একবার এমন কিছু করুন যা আপনার ভবিষ্যতের সংস্করণের (future self) জন্য বিনিয়োগ হিসেবে কাজ করবে । এটি হতে পারে একটি নতুন বই পড়া, নতুন দক্ষতা শেখা বা স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া। এটি আপনাকে মানসিকভাবে সমৃদ্ধ এবং গতিশীল রাখতে সাহায্য করে ।
-
এই অভ্যাসগুলোর জন্য বাড়তি উপার্জনের প্রয়োজন নেই, বরং এগুলো জীবনের অভিজ্ঞতাকে পরিবর্তন করে আপনার মানসিক সচ্ছলতা বাড়াতে সাহায্য করে।

ব্যবসার ক্ষেত্রে USP এর গুরুত্ব কী? ---------------------------------------------**USP কী জিনিস?**USP বা  Unique Selling...
30/05/2026

ব্যবসার ক্ষেত্রে USP এর গুরুত্ব কী?
---------------------------------------------
**USP কী জিনিস?**
USP বা Unique Selling Proposition বলতে বোঝায় একটি ব্র্যান্ড বা পণ্যের সেই অনন্য বৈশিষ্ট্য বা বার্তা (Story) যা তাকে অন্য সব প্রতিযোগীর থেকে আলাদা করে । এটি কেবল পণ্যের কোনো ফিচার নয়, বরং সেই বিশেষ মিশন বা উদ্দেশ্য যা আপনার ব্র্যান্ডকে ইউনিক হিসেবে প্রচার করে এবং যা অন্য কেউ করছে না । উদাহরণস্বরূপ, বাজারে অনেক ফ্ল্যাশ কার্ড বিক্রেতা থাকতে পারে, কিন্তু কোনো একটি ব্র্যান্ড যদি শিশুদের নৈতিক মূল্যবোধ এবং সৃজনশীলতা নিয়ে কাজ করার গল্প বলে, তবে সেটিই হবে তাদের USP ।

**ব্যবসার ক্ষেত্রে এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?**
--------------------------------------------
ব্যবসার সফলতায় USP-এর গুরুত্ব অপরিসীম:
**লয়্যাল কাস্টমার তৈরি:**
যখন গ্রাহকরা আপনার ব্র্যান্ডের মিশনের সাথে একাত্মতা অনুভব করে, তখন তারা আপনার **লয়্যাল কাস্টমার এবং অ্যাম্বাসেডর** হয়ে যায় ।

* **প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা:**
আপনার পণ্যের ইউএসপি শক্তিশালী হলে প্রতিযোগীরা যদি আপনার চেয়ে ভালো ফিচার দেয় বা দাম কমও রাখে, তবুও গ্রাহক আপনার সাথেই থাকবে ।
* **ব্র্যান্ড প্রোটেকশন:**
একটি ব্যবসায় প্রসেস বা প্রোডাক্ট কপি করা সহজ, কিন্তু ব্র্যান্ডের মূল মেসেজ বা USP সহজে কপি করা যায় না । এটি আপনাকে দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে সাহায্য করে ।
* **সঠিক পজিশনিং:** এটি আপনাকে নির্দিষ্ট করে দেয় আপনি কার জন্য পণ্য বানাচ্ছেন। এতে মার্কেটিংয়ে 'নয়েজ' কমে এবং ফোকাসড কমিউনিকেশন করা যায় ।

**USP নির্ধারণ করার উপায় কী?**
------------------------------------
উৎসগুলোতে USP বা একটি ইউনিক ব্র্যান্ড আইডেন্টিটি তৈরির বেশ কিছু কার্যকরী উপায় উল্লেখ করা হয়েছে:
১. **মিশন ও ভিশন স্পষ্ট করা:**
প্রথমেই নির্ধারণ করতে হবে আপনি কেবল টাকা কামানোর জন্য ব্যবসা করছেন নাকি কোনো নির্দিষ্ট সমস্যার সমাধান করছেন । আপনার ব্র্যান্ড কিসের পক্ষে দাঁড়ায় (What they stand for) তা স্পষ্টভাবে বলতে পারা আপনার USP-এর প্রথম ধাপ ।

২. **টার্গেট অডিয়েন্স বা নিশ বাছাই (MVA):**
আপনি যদি সবার জন্য পণ্য বানান, তবে আপনি আসলে কারও জন্যই বানাচ্ছেন না । তাই আপনার **মিনিমাম ভায়েবল অডিয়েন্স (MVA) বা একটি নির্দিষ্ট ছোট গ্রুপকে টার্গেট করুন যারা আপনার ভ্যালুজকে বিশ্বাস করে ।
৩. **৩পি (3P) মডেল ব্যবহার:**
সমস্যা (Problem), মানুষ (People) এবং পে (Pay)—এই তিনটি বিষয় বিশ্লেষণ করে দেখুন আপনি এমন কোনো গ্যাপ সমাধান করছেন কিনা যা অন্য কেউ করছে না ।

৪. **ব্র্যান্ড আর্কিটাইপ ঠিক করা:**
আপনার ব্র্যান্ডের ব্যক্তিত্ব কেমন হবে (যেমন—হিরো, জ্ঞানী বা উদ্ভাবক) তা নির্ধারণ করুন [৮০]। এটি আপনার কমিউনিকেশনে ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে এবং অন্যদের থেকে আপনাকে আলাদা করবে ।

৫. **স্টোরিটেলিং:**
কেবল ফিচারের বদলে আপনার ব্র্যান্ডের পেছনের গল্পটি গ্রাহকদের কাছে বলুন । অ্যাপলের উদাহরণ দিয়ে বোঝানো হয়েছে কীভাবে তারা ইনোভেশন ও সৃজনশীলতার গল্প বলে নিজেদের প্রিমিয়াম পজিশনিং ও USP তৈরি করেছে ।

সংক্ষেপে, আপনার ব্যবসার USP হবে আপনার সেই ইউনিক স্টোরি এবং প্রমিস, যা আপনার কাস্টমারকে অনুভব করাবে যে আপনি তাদেরই একজন এবং তাদের বিশেষ কোনো প্রয়োজন মেটাতে কাজ করছেন ।

আমি একজন ডেলিভারি বয়।বেশিরভাগ সময়ই আমার ডিউটি থাকে সন্ধ্যার শিফটে।সেদিন রাত প্রায় ৯টার সময় আমি শেষ অর্ডারটা হাতে পাই...
22/05/2026

আমি একজন ডেলিভারি বয়।
বেশিরভাগ সময়ই আমার ডিউটি থাকে সন্ধ্যার শিফটে।
সেদিন রাত প্রায় ৯টার সময় আমি শেষ অর্ডারটা হাতে পাই।
রেস্টুরেন্ট থে কে প্যাকেটটা নেওয়ার সময় খেয়াল করলাম—অর্ডারটা খুবই ছোট।
সাধারণ খিচুড়ি, একটু দই, আর দুটো কলা।
ঠিকানাটা ছিল শহরের পুরনো অংশে।
একটা জরাজীর্ণ পুরনো বাড়ি।
তৃতীয় তলা পর্যন্ত সিঁড়ি ভেঙে উঠতে হলো।
আমি দরজার বেল টিপলাম।
একজন বৃদ্ধা দরজা খুললেন।
সাদা চুল, কাঁপা কাঁপা হাত, চোখে মোটা চশমা।
মুখে ক্লান্তির ছাপ ছিল, কিন্তু কণ্ঠে ছিল অদ্ভুত এক মমতা।
তিনি মৃদু হেসে বললেন—
“বাবা, খাবারটা ভেতরে টেবিলের ওপর রেখে দাও তো…
হাত দুটো খুব কাঁপে।”
আমি খাবারটা টেবিলে রেখে বেরিয়ে আসতে যাচ্ছিলাম,
ঠিক তখনই তিনি আবার বললেন—
“দু’মিনিট বসবে বাবা?
একা একা খেতে আর ভালো লাগে না…”
আমি ঘড়ির দিকে তাকালাম।
আমার শিফট শেষ হয়ে গিয়েছিল।
শরীরও বেশ ক্লান্ত ছিল।
তবু কেন জানি না, আমি বসে পড়লাম।
ঘরটা একদম নিস্তব্ধ ছিল।
দেওয়ালে ঝোলানো পুরনো ঘড়ির টিকটিক শব্দ ভেসে আসছিল।
এক কোণে ছোট্ট করে ঈশ্বরের ছবি।
আর সামনের দেয়ালজুড়ে অসংখ্য পুরনো ফ্রেমবন্দী ছবি।
বৃদ্ধা ধীরে ধীরে খাবারের প্লেট খুললেন।
খুব আস্তে আস্তে খিচুড়ি খেতে শুরু করলেন।
প্রতি দু’কামড় পরপর আমার দিকে তাকিয়ে একটু হাসছিলেন।
হঠাৎ তিনি বললেন—
“জানো বাবা, আমি রোজ বাইরে থেকে খাবার অর্ডার করি না।
আজ শুধু মনে হলো…
একটা মানুষের গলার শব্দ শুনতে ইচ্ছে করছে।”
আমি চুপ করে রইলাম।
তিনি দেয়ালের একটা ছবির দিকে আঙুল তুলে বললেন—
“এই যে, উনি আমার স্বামী।
রেলে চাকরি করতেন।
পাঁচ বছর আগে চলে গেছেন।”
তারপর আরেকটা ছবির দিকে তাকালেন।
“এটা আমার ছেলে।
কানাডায় থাকে।
খুব ভালো আছে…
প্রতি মাসে টাকা পাঠায়।”
এরপর কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন।
মুখে হাসি ছিল, কিন্তু চোখ ভিজে উঠেছিল।
তিনি ধীরে বললেন—
“শুধু…
কথা পাঠানোর সময়টা আর হয় না।”
হঠাৎ যেন ঘরের ঘড়ির টিকটিক শব্দটা আরও জোরে শোনা যেতে লাগল।
তিনি আবার একটু খিচুড়ি খেলেন।
“এটা আমার মেয়ে।
বেঙ্গালুরুতে থাকে।
নিজের সংসারে খুব সুখে আছে।
থাকুক…
সন্তানরা যদি উড়তেই না শেখে, তাহলে এত কষ্ট করে মানুষ করলাম কেন?”
কথাগুলো বলতে বলতে তাঁর গলা কেঁপে উঠছিল।
তবু মুখে কোনো অভিযোগ ছিল না।
ছিল শুধু এক গভীর শূন্যতা।
হঠাৎ তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন—
“তোমার মা আছেন বাবা?”
আমি বললাম—
“হ্যাঁ, আছেন।”
তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন—
“প্রতিদিন ফোন করো?”
আমি চুপ করে গেলাম।
সত্যি বলতে, আমিও অনেকদিন বাড়িতে ফোন করতাম না।
কাজের চাপ, ক্লান্তি, ব্যস্ততা—
প্রতিবার ভাবতাম, ‘কাল ফোন করব।’
বৃদ্ধা আমার নীরবতা বুঝে ফেলেছিলেন।
খুব শান্ত গলায় বললেন—
“মা-বাবারা টাকা গোনেন না বাবা…
ওরা অপেক্ষা করে সন্তানের কণ্ঠস্বরের জন্য।”
কথাটা শুনে বুকের ভেতরটা কেমন ভেঙে গেল।
খাওয়া শেষ হলো।
তিনি একটু জল খেলেন।
তারপর পার্স থেকে ৫০০ টাকার একটা নোট বের করে আমার দিকে বাড়িয়ে দিলেন।
বললেন—
“এটা টিপস নয় বাবা।
এই আধঘণ্টা তুমি আমাকে একা খেতে দাওনি—
এটা তার দাম।”
আমি তাড়াতাড়ি বললাম—
“না না, আম্মা, এটা আমি নিতে পারব না।”
তিনি মৃদু হেসে বললেন—
“নাও বাবা।
আজ তুমি শুধু খাবার পৌঁছে দাওনি…
তুমি সঙ্গ পৌঁছে দিয়েছ।”
শেষ পর্যন্ত আমি টাকাটা নিলাম।
কিন্তু পকেটে রাখতে পারলাম না।
হাতেই ধরে রইলাম।
আমি বেরিয়ে আসছিলাম, তখন তিনি আবার ডাকলেন—
“আর শোনো—
আজ বাড়ি গিয়ে মাকে অবশ্যই ফোন করবে।”
সেদিন রাতে বিল্ডিংয়ের নিচে নেমে আমি বাইক স্টার্ট দিইনি।
প্রথমেই মাকে ফোন করেছিলাম।
ওপাশ থেকে মায়ের কণ্ঠ ভেসে এলো—
“হঠাৎ আজ ফোন করলি?
সব ঠিক আছে তো বাবা?”
শুধু সেই গলাটা শুনেই আমার গলা ধরে এলো।
আমি ধীরে বললাম—
“হ্যাঁ মা…
শুধু তোমার গলাটা শুনতে ইচ্ছে করছিল।”
ওপাশে কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।
তারপর মা বললেন—
“খেয়েছিস তো?”
রাস্তার ধারে দাঁড়িয়েই আমি কান্নায় ভেঙে পড়লাম।
সেই রাতের পর থেকে আমি প্রতিদিন মাকে ফোন করতে শুরু করি।
আর শুধু মাকেই নয়—
প্রতিটা ডেলিভারিও আমার কাছে আর শুধুমাত্র একটা অর্ডার রইল না।
কোনো বাড়িতে ওষুধের দরকার হয়।
কোনো বাড়িতে একাকীত্বের একটু উপশম দরকার হয়।
কোনো বাড়িতে কারও ফেরার অপেক্ষা শেষ হওয়ার প্রয়োজন হয়।
আবার কোনো বাড়িতে শুধু দরকার হয়—
একটা মানুষের কণ্ঠস্বর।
এখন দরজা খুললেই আমি আর তাড়াহুড়ো করি না।
আমি মুখের দিকে তাকাই।
কথার ভেতরের ক্লান্তি শুনতে চেষ্টা করি।
মাঝে মাঝে জিজ্ঞেস করি—
“সব ঠিক আছে তো?”
বেশিরভাগ মানুষ শুধু বলে—“হ্যাঁ।”
কেউ একটু হাসে।
আবার কিছু মুখ বলে দেয়—
সারাদিন তারা কারও সঙ্গে কথা বলেনি।
দু’মাস পরে আবার সেই একই ঠিকানা থেকে একটা অর্ডার এলো।
আমি তাড়াতাড়ি সেখানে গেলাম।
কিন্তু দরজা খুললেন অন্য একজন।
পাশের ফ্ল্যাটের এক আন্টি।
তিনি ধীরে বললেন—
“আম্মা গত সপ্তাহে মারা গেছেন।”
আমি কয়েক মুহূর্ত দরজার সামনে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম।
হাত খালি ছিল,
তবু মনে হচ্ছিল ভেতরে যেন খুব ভারী কিছু ভেঙে পড়েছে।
আন্টি ভেতর থেকে একটা ছোট খাম এনে আমার হাতে দিলেন।
বললেন—
“এটা তোমার জন্য রেখে গিয়েছেন।”
কাঁপা হাতে খামটা খুললাম।
ভেতরে ছিল সেই ৫০০ টাকার নোট।
আর একটা ছোট্ট চিরকুট।
তাতে লেখা ছিল—
“বাবা,
যদি তুমি এই চিঠিটা পড়ো, তবে আমি আর নেই।
সেদিন আমার সঙ্গে বসে খাওয়ার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ।
তুমি আমাকে শুধু খাবার দাওনি—
সম্মান দিয়েছিলে।
আর হ্যাঁ…
মাকে নিয়মিত ফোন করবে।
— আম্মা”
আজও সেই ৫০০ টাকা আমার ব্যাগের ভেতরের পকেটে রাখা আছে।
আমি কখনও খরচ করিনি।
কারণ সেদিন আমি প্রথমবার বুঝেছিলাম—
প্রতিটা দরজার ওপাশে শুধু একজন কাস্টমার থাকে না।
কখনও সেখানে একজন মা অপেক্ষা করেন।
কখনও অপেক্ষা করে থাকে নিঃসঙ্গতা।
কখনও সেটা হয় জীবনের শেষ কথোপকথন।
আমরা সবাই কোনো না কোনো ক্ষুধা নিয়ে বেঁচে আছি।
কারও দরকার খাবার,
কারও দরকার ওষুধ,
আর কারও দরকার শুধু দু’মিনিটের সঙ্গ।
মানুষ সবসময় টাকার ডেলিভারি চায় না—
কখনও কখনও তারা শুধু চায়
একটু উপস্থিতি,
একটু মানবিকতা,
একটু সময়।
গল্পটা এখানেই শেষ।
কিন্তু সত্যি বলতে—
গল্প শেষ হয়ে গেলেও বুকের ভেতরের ভার অনেকদিন থেকে গিয়েছিল।
একাকীত্ব আর বার্ধক্য—
এই দুটো একসাথে যখন জীবনে আসে, তখন তা সত্যিই ভয়ংকর হয়ে ওঠে।
আর যদি তার সঙ্গে অভাব-অনটনও যোগ হয়,
তবে সেটাই হয়ে দাঁড়ায় জীবনের সবচেয়ে নির্মম ট্র্যাজেডি।

-Collected

22/05/2026

আপনার টাকা যারা হাতিয়ে নেয় | How To Fraud Money From You In Bangladesh

বাংলাদেশে কারো কাছ থেকেই সততা, ন্যায়পরায়নতা ও ইনসাফ আশা করবেন না। তবে পেলে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করবেন।----------------...
16/05/2026

বাংলাদেশে কারো কাছ থেকেই সততা, ন্যায়পরায়নতা ও ইনসাফ আশা করবেন না। তবে পেলে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করবেন।
------------------------------------------------------------------
— একটি ক্ষতবিক্ষত হৃদয়ের কথামালা
মানুষ যখন প্রথমবার ঠকে যায়, সে ভাবে — এটি একটি দুর্ঘটনা। যখন দ্বিতীয়বার ঠকে, ভাবে — এটি কাকতালীয়। কিন্তু যখন বারবার, প্রতিটি মোড়ে, প্রতিটি সম্পর্কে, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে সে একই আঘাত পায় — তখন সে বুঝতে পারে, এটি দুর্ঘটনা নয়। এটি ব্যবস্থা। এটি সংস্কৃতি। এটি এই মাটির গায়ে গেঁথে যাওয়া এক নীরব রোগ।
------------------------
আমি এই লেখাটি লিখছি কোনো ক্রোধ থেকে নয়, লিখছি এক গভীর বেদনা থেকে — যে বেদনা একটি জাতির সন্তান হিসেবে বুকের ভেতর পুষে রেখেছি বহু বছর ধরে। একটি মানুষ যখন এভাবে সকল জায়গাতেই হেরে যায়, তখন সেও সেই অন্যায়ের মিছিলে শামিল হয়ে যায়।
প্রথম কথা: প্রতিটি মানুষ এখানে একটু একটু করে মরে যায়
বাংলাদেশে জন্ম নিলে আপনি একটি অদ্ভুত পাঠশালায় ভর্তি হন। এই পাঠশালায় বইয়ে লেখা থাকে সততার কথা, নৈতিকতার কথা, ইনসাফের কথা। কিন্তু বাস্তব জীবনে — রাস্তায়, অফিসে, হাসপাতালে, আদালতে, এমনকি পরিবারে — আপনি শেখেন সম্পূর্ণ উল্টো পাঠ।
--------
একটি শিশু যখন প্রথম দেখে তার বাবা ঘুষ দিচ্ছে পুলিশকে, সে কী শেখে? একজন তরুণ যখন দেখে মেধার চেয়ে তদবির বড়, সে কী বোঝে? একজন নারী যখন আদালতে গিয়ে দেখে ন্যায়বিচার পাওয়া নির্ভর করছে তার পরিবারের টাকার উপর, সে কী অনুভব করে?
এই দেশে প্রতিটি সৎ মানুষ ধীরে ধীরে হয় ভেঙে পড়ে, নয়তো পালিয়ে যায়। যারা না পারে ভাঙতে, না পারে পালাতে — তারা বুকে পাথর চাপা দিয়ে বেঁচে থাকে। আর বেঁচে থাকাটাই হয়ে ওঠে তাদের সবচেয়ে বড় সংগ্রাম।
--------
দ্বিতীয় কথা: রাষ্ট্র — যে রাখাল নিজেই ভেড়া চরায়
রাষ্ট্রের কথা দিয়েই শুরু করি, কারণ রাষ্ট্র হলো সেই ছাদ যার নিচে আমরা সবাই বাস করি।
এই দেশে সরকারি চাকরির পরীক্ষায় মেধাবী সন্তান ফেল করে, আর টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র কিনে আসা মানুষ পাস করে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির স্বপ্ন দেখে যে মেধাবী ছেলেটি গ্রামের কাদামাটিতে বসে রাত জেগে পড়েছে, সে লিস্টে নেই — কারণ আসন বিক্রি হয়ে গেছে আগেই।
থানায় গেলে বোঝা যায় পুলিশ কার সেবক। হাসপাতালে গেলে বোঝা যায় ডাক্তার কার জন্য। আদালতে গেলে বোঝা যায় আইন কার হাতিয়ার। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান যেন একটি বাজার, যেখানে সবকিছু বিক্রি হয় — শুধু ন্যায়বিচার ছাড়া।
---------
সেদিন একজন বৃদ্ধা কাঁদছিলেন থানার সামনে। তার ছেলে মিথ্যা মামলায় আটক। জমি বিক্রি করে উকিল নিয়েছেন। কিন্তু মামলা চলছেই। বছরের পর বছর। আর যে প্রতিবেশী মামলা ঠুকেছে, সে প্রতি মাসে ওসিকে খামে ভরে কিছু দিয়ে যায়। এই দেশে এটাই বিচার। এটাই ইনসাফ।
রাষ্ট্র যখন নিজেই অন্যায়ের কারখানা হয়ে যায়, তখন সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? কার কাছে বিচার চাইবে? কাকে বিশ্বাস করবে?
---------------

তৃতীয় কথা: রাজনীতি — একটি মুখোশের মেলা
প্রতি পাঁচ বছর পরপর একটি উৎসব আসে এই দেশে। পতাকা ওড়ে, মিছিল হয়, মাইকে বক্তৃতা হয়। প্রতিটি দল বলে — আমরা এলে দেশ বদলে যাবে। দুর্নীতিমুক্ত হবে দেশ। ইনসাফ প্রতিষ্ঠা হবে।
আর তারপর?
---
তারপর ক্ষমতায় যে আসে, সে আগের দলের চেয়েও বেশি লোভী হয়ে ওঠে। আগের দলের চেয়েও বেশি দখলদার হয়। নদী দখল হয়, পাহাড় দখল হয়, সরকারি জমি দখল হয়। টেন্ডারে দলীয় ভাই পায়, মেধাবী ছেলেটি পায় না। এই চক্র চলতেই থাকে।
----
মানুষ ভোট দেয় স্বপ্ন নিয়ে। কিন্তু স্বপ্ন ভাঙে ভোরের আলো ফোটার আগেই। কারণ এখানে রাজনীতি মানে সেবা নয় — রাজনীতি মানে সুযোগ। ক্ষমতার গদিতে বসে যত পারো তুলে নাও, আর যাওয়ার আগে এমন কিছু করে যাও যেন অন্যরা তোমাকে ধরতে না পারে।
যে তরুণ একদিন বুকে আগুন নিয়ে রাজনীতিতে এসেছিল পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে, সে-ও দশ বছর পরে একই ছাঁচে ঢলে পড়ে। কারণ এই ব্যবস্থায় ভালো থেকে টিকে থাকা যায় না। হয় তুমি ব্যবস্থার সাথে মিলে যাও, নয়তো ব্যবস্থা তোমাকে পিষে দেয়।
-----
চতুর্থ কথা: সমাজ — যেখানে মানুষ মানুষকে ছলনা করে হাসিমুখে
রাষ্ট্রের কথা ছেড়ে দিন। সমাজের কথা বলি।
পড়শি। বন্ধু। আত্মীয়। সহকর্মী। এই মানুষগুলো যখন ঠকায়, যন্ত্রণাটা বহুগুণ বেশি হয়। কারণ এদের উপর বিশ্বাস ছিল।
আপনার বিপদে কেউ পাশে দাঁড়াবে — এই আশায় আপনি বছরের পর বছর সম্পর্ক লালন করেছেন। কিন্তু যেদিন সত্যিকারের বিপদ এলো, দেখলেন সবাই হিসেব করছে — এতে তার লাভ কী? সে কি আপনার বিপদে জড়িয়ে যাবে?
----
ব্যবসায়িক অংশীদার চুক্তি করে, তারপর পিঠে ছুরি মারে। বন্ধু গোপন কথা বলে, তারপর সেই কথাই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে। আত্মীয় সম্পত্তির ভাগের সময় মুখোশ খুলে ফেলে। সহকর্মী পদোন্নতির লোভে বসকে মিথ্যা রিপোর্ট দেয়।
এই দেশে মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্ক তৈরি হয় স্বার্থের উপর ভিত্তি করে। ভালোবাসা দেখানো হয় কারণ তাতে একদিন ফায়দা হবে। বিপদের বন্ধুত্ব এখানে রূপকথার মতো — বইয়ে আছে, বাস্তবে নেই।
সবচেয়ে কষ্টের কথা কী জানেন? মানুষ এটা জানে। সবাই জানে। তবু চলতেই থাকে। কারণ সবাই ভাবে — আমি যদি এই খেলায় না নামি, তাহলে আমাকেই খেয়ে ফেলবে।
--------
পঞ্চম কথা: পরিবার — শেষ আশ্রয়ও যখন ভাঙে
এতক্ষণ বাইরের কথা বললাম। এবার ঘরের কথা বলি।
পরিবার — এই শব্দটা উচ্চারণ করলে বুকে একটা উষ্ণতা আসার কথা। কিন্তু এই দেশের অনেক মানুষের কাছে পরিবার মানে আরেকটি যুদ্ধক্ষেত্র।
--------
বাবার সম্পত্তির ভাগ নিয়ে ভাইয়ে ভাইয়ে মামলা হয়। মায়ের শেষ বয়সে ছেলেরা তাকে বোঝা ভেবে আলাদা করে দেয়। মেয়েকে বিয়ে দেওয়া হয় পছন্দ না জিজ্ঞেস করে, কারণ পরিবারের সম্মান মেয়ের জীবনের চেয়ে বড়। স্বামী স্ত্রীকে ভালো কথা শোনায় না, স্ত্রী স্বামীকে সম্মান করে না — সম্পর্কগুলো চলে কর্তব্যের খাঁচায় বন্দি হয়ে।
--------
এই দেশে অনেক পরিবারে ভালোবাসা মানে নিয়ন্ত্রণ। যত্ন মানে দখল। আর অবহেলাকে বলা হয় 'তোমার ভালোর জন্যই করছি।'
একটি মেয়ে সারারাত কেঁদে সকালে উঠে হাসে — কারণ ঘরের কথা বাইরে বলতে নেই। একটি ছেলে ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়ছে, কিন্তু মুখ খুলতে পারছে না — কারণ পুরুষ মানুষ কাঁদে না। এই মানসিক নির্যাতনের কোনো নাম নেই এই সমাজে, কোনো প্রতিকার নেই।
যে পরিবার হওয়ার কথা ছিল নিরাপদ আশ্রয়, সেই পরিবারই হয়ে যায় সবচেয়ে গভীর ক্ষতের উৎস।
------
ষষ্ঠ কথা: ধর্ম — যার নামেও অনেক অন্যায় হয়
এই দেশটি ৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশ। ইসলাম বলে — অন্যায় দেখলে প্রতিরোধ করো। মিথ্যা বলা হারাম। ঘুষ নেওয়া হারাম। প্রতারণা করা হারাম।
অথচ দেখুন বাস্তবতা।
অথচ এমন অনেক মানুষ আছে যারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, আবার সে-ই কর্মক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় দুর্নীতিবাজ। যে লোকটি হজ করে এসেছে, সে-ই জমির দলিল জাল করেছে। যে ব্যক্তি মসজিদের কমিটিতে আছে, সে-ই এতিমের হক মেরেছে।
ধর্ম এখানে রূপান্তরিত হয়েছে একটি সামাজিক পোশাকে — যা পরলে সমাজে মর্যাদা পাওয়া যায়, কিন্তু ভেতরে ভেতরে যা খুশি করা যায়। আল্লাহর ভয় নেই, আছে লোক-ভয়। আর লোকচক্ষু এড়াতে পারলে সব মাফ।
----------
এই ধর্মীয় ভণ্ডামি সবচেয়ে বেশি আঘাত করে সেই মানুষগুলোকে, যারা সত্যিকারের ধার্মিক — যারা বিশ্বাস করেছিল ধর্মীয় মানুষেরা ন্যায়পরায়ণ হবে। তারা প্রতারিত হয়ে শুধু মানুষের উপর নয়, ধর্মের উপরই আস্থা হারিয়ে ফেলে।
------------
সপ্তম কথা: মিডিয়া ও বুদ্ধিজীবী — যারা সত্যের পাহারাদার ছিল
একসময় সংবাদপত্র ছিল সমাজের বিবেক। সাংবাদিক ছিল সত্যের সৈনিক। বুদ্ধিজীবীরা ছিলেন জাতির পথপ্রদর্শক।
আজ?
আজ মিডিয়া চলে বিজ্ঞাপনদাতার ইচ্ছায়। মালিকের রাজনৈতিক হিসাবে। সাংবাদিক সংবাদ লেখেন ঠিকই, কিন্তু কোন সংবাদ ছাপা হবে আর কোনটা হবে না — সেটা ঠিক করে শক্তিমানেরা। বুদ্ধিজীবীরা টকশোতে উত্তেজনাপূর্ণ বক্তৃতা দেন, কিন্তু আসল সংকটে চুপ থাকেন — কারণ তাদেরও পদ আছে, পুরস্কার আছে, সুবিধা আছে।
------------
যে সাংবাদিক সত্য লেখে, সে চাকরি হারায়। যে বুদ্ধিজীবী সত্য বলে, সে একঘরে হয়। যে শিল্পী সত্যি ছবি আঁকে, সে হুমকি পায়।
এই দেশে সত্যিকথা বলার মূল্য চুকাতে হয় অনেক বেশি। তাই সবাই চুপ থাকে। আর চুপ থেকে থেকে একদিন সবাই মিথ্যাচারের অংশ হয়ে যায়।
অষ্টম কথা: তবুও কেন আমরা থাকি?
-----------------------
এত কথার পর একটি প্রশ্ন আসে — তাহলে কি এই দেশে কোনো সৎ মানুষ নেই? কোনো ন্যায়পরায়ণ মানুষ নেই?
-----------------------
আছে। অবশ্যই আছে।
সেই ডাক্তার আছে যে রাত তিনটায় উঠে অপারেশন করে কোনো প্রতিদান ছাড়া। সেই শিক্ষক আছে যে নিজের বেতনের টাকায় গরিব ছাত্রের বই কেনে। সেই পুলিশ অফিসার আছে যে ঘুষ ফিরিয়ে দেয়। সেই কৃষক আছে যে ধারদেনা করেও অন্যের হক মারে না। সেই মা আছে যে নিজে না খেয়ে সন্তানকে খাওয়ায়।
এই মানুষগুলো আছে বলেই এই দেশটা এখনও টিকে আছে। এই মানুষগুলোই এই দেশের আসল সম্পদ।
কিন্তু এই ভালো মানুষগুলো সংখ্যালঘু। তারা প্রতিদিন লড়াই করছে একটি বিশাল ব্যবস্থার বিরুদ্ধে। আর প্রতিদিন একটু একটু করে ক্লান্ত হয়ে পড়ছে।
-----------------------
নবম কথা: শিরোনামের কথাটা কি তাহলে সত্যি?
"বাংলাদেশে কারো কাছ থেকেই সততা, ন্যায়পরায়নতা ও ইনসাফ আশা করবেন না।"
এই কথাটা কি সত্যি?
-----------------------
আংশিক সত্যি। এবং এই আংশিক সত্যিটাই সবচেয়ে বেশি যন্ত্রণার।
কারণ যদি সম্পূর্ণ মিথ্যা হতো, তাহলে আমরা আশা ছেড়ে দিতে পারতাম। আর যদি সম্পূর্ণ সত্যি হতো, তাহলে বেঁচে থাকার কোনো কারণ থাকত না। কিন্তু এই আংশিক সত্য — এই জায়গায় কিছু ভালো আছে, ওই জায়গায় কিছু নেই — এই টানাপোড়েনে মানুষ বেঁচে থাকে আশা নিয়ে, এবং আশাভঙ্গের চক্রে পড়ে বারবার ভেঙে পড়ে।
এই কথাটা বরং এভাবে বলা উচিত: বাংলাদেশে কারো সততার উপরেই নির্ভর করবেন না। কারো ন্যায়বিচারের উপর ভরসা রাখবেন না। কিন্তু মানুষের উপর — সাধারণ, সংগ্রামী, ক্লান্ত মানুষের উপর — সম্পূর্ণ আশা হারাবেন না।
-----------------------
দশম কথা: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা, তাহলে কী করবেন?
নিজেকে প্রশ্ন করুন — আপনি নিজে আসলে কতটা সৎ? আপনি নিজে কি কোন অন্যায়ই করেন না?
সহজ কথা নয় এটা। কারণ এই পরিবেশে সৎ থাকা মানে নিজেকে বারবার ক্ষতির মুখে ঠেলে দেওয়া। সৎ থাকা মানে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়া। সৎ থাকা মানে অনেক সময় নিজের পরিবারকেও সুবিধা দিতে না পারা।
------------------------
তবুও।
তবুও যদি এই দেশকে বদলাতে হয়, যদি আগামী প্রজন্মের জন্য একটু ভালো পৃথিবী রেখে যেতে হয়, তাহলে শুরু করতে হবে নিজের থেকে। একজন একজন করে। একটি একটি সিদ্ধান্ত করে।
আজ ঘুষ না দিয়ে দীর্ঘ পথ হাঁটুন। আজ সামান্য অর্থ, সম্মানের জন্য স্বজনপ্রীতি কিংবা দুর্নীতি করেন না। আজ মিথ্যা না বলে একটু কষ্ট করুন। আজ অন্যায়ের প্রতিবাদ করুন — ছোট হলেও। আজ আপনার সন্তানকে শেখান যে ন্যায়ের পথ কঠিন, কিন্তু সেটাই মানুষের পথ।
--------------------------
শেষ কথা: এই দেশের মাটি কাঁদছে।
এই দেশের মাটিতে এক অদ্ভুত বেদনা আছে। পদ্মা, মেঘনা, যমুনার জলে একটা কান্না আছে। এই কান্না সেই মানুষদের যারা স্বপ্ন দেখেছিল, যারা বিশ্বাস করেছিল, যারা লড়েছিল — এবং বারবার হেরেছে।
যেমন ১৯৭১ সালে একবার এই দেশের মানুষ রক্ত দিয়েছিল একটি স্বপ্নের জন্য। সেই স্বপ্ন ছিল ইনসাফের — যেখানে সবাই সমান হবে, কেউ কাউকে শোষণ করবে না, ন্যায়বিচার পাবে সবাই। এরপরেও আরো কতবার মানুষ রক্ত দিল সেই স্বপ্নের বাস্তবায়নে।
সেই স্বপ্ন কোথায় গেল?
---------------
স্বপ্নটা হারিয়ে গেছে এবং আমার পেয়েছি এক অসহনীয় বেদনা। সেই বেদনা বহন করতে করতে একটি জাতি ক্লান্ত হয়ে পড়েছে।
কিন্তু আমি তবুও বিশ্বাস করি — এই মাটিতে যে বীজ বোনা আছে, তা একদিন গাছ হবে। হয়তো আমার জীবনে নয়, হয়তো আমার সন্তানের জীবনেও নয়। কিন্তু কোনো একদিন।
কারণ মানুষ যদি সত্যিই বিশ্বাস হারিয়ে ফেলত, তাহলে এত মানুষ এত কষ্ট করেও সৎ থাকার চেষ্টা করত না। এত মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে একা লড়ত না। এত মানুষ বুকে পাথর চাপা দিয়েও স্বপ্ন দেখত না।
এই দেশে ইনসাফের আশা করবেন না — প্রতিষ্ঠান থেকে নয়, ব্যবস্থা থেকে নয়।
--------------------
কিন্তু মানুষ হওয়ার চেষ্টা করুন। ইনসাফী মানুষ হওয়ার চেষ্টা করুন। কারণ পরিবর্তন সেই একটি মানুষ থেকেই শুরু হয়, যে সিদ্ধান্ত নেয় — আমি অন্তত পরিবর্তিত হব।

"তোমরা যদি না জাগো তবে কে জাগাবে? তোমরা যদি না বদলাও তবে কী বদলাবে? এই দেশ তোমার — এর ভালো-মন্দ তোমার দায়।"

"ওরা বাচ্চা, ওরা কী বুঝবে?" আর অন্যদিকে "ওনারা তো বয়স্ক আর ব্যাকডেটেড" — এই দুটো বাক্য প্রতিদিন বলা হয়। কিন্তু সত্যিটা ...
14/05/2026

"ওরা বাচ্চা, ওরা কী বুঝবে?" আর অন্যদিকে "ওনারা তো বয়স্ক আর ব্যাকডেটেড" — এই দুটো বাক্য প্রতিদিন বলা হয়। কিন্তু সত্যিটা হলো, বয়স কখনো জ্ঞানের একমাত্র মাপকাঠি ছিল না, আজও নয়।
-
একটি সাধারণ বিকেলের গল্প
ঢাকার মিরপুরের একটি চায়ের দোকানে বিকেল নামতে না নামতেই জমে ওঠে আড্ডা। এক কোণে বসে আছেন ষাটোর্ধ্ব রহিম সাহেব — অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক। পাশের টেবিলে তাঁর ছেলের বয়সী কয়েকজন তরুণ ল্যাপটপ খুলে বসে আছে, আলোচনা করছে কোনো স্টার্টআপের বিজনেস মডেল নিয়ে।
রহিম সাহেব তাদের দিকে একটু তাচ্ছিল্যের চোখে তাকালেন। মনে মনে ভাবলেন, "এই ছোকরাগুলো ব্যবসা কী বোঝে? জীবনের অভিজ্ঞতাই নেই।" ওদিকে তরুণরা রহিম সাহেবকে দেখে একজন বলে উঠল, "এই বয়স্কদের নিয়ে কথা বলা বেকার, এরা ডিজিটাল দুনিয়া বোঝে না।"
-
দুই পক্ষ, দুটো অনুমান — দুটোই আংশিক সত্য, আর পুরোপুরি ভুল। এই দৃশ্যটি শুধু মিরপুরের চায়ের দোকানে নয়, বাংলাদেশের প্রতিটি পরিবারে, প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে, প্রতিটি গলিতে প্রতিদিন ঘটছে।
যখন "বাচ্চারা" পৃথিবী পাল্টে দিয়েছে
"ওরা তো বাচ্চা ছেলে-মেয়ে, ওরা কী বুঝবে?" — এই কথাটি যাঁরা বলেন, তাঁদের কাছে একটা প্রশ্ন: মার্ক জাকারবার্গ যখন ফেসবুক তৈরি করেছিলেন, তখন তাঁর বয়স কত ছিল?
মাত্র ১৯। হার্ভার্ডের ছাত্র থাকাকালীন তিনি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করলেন যা আজ তিন বিলিয়নেরও বেশি মানুষ ব্যবহার করে। তাঁর বন্ধুরাও কি বলেছিল, "আরে মার্ক, তুমি বাচ্চা মানুষ, এসব করে কী হবে?"
-
তরুণ পরিবর্তকদের গল্পঃ
মার্ক জাকারবার্গ
ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতা — ফেসবুক শুরু করেন মাত্র ১৯ বছরে।
হার্ভার্ডে পড়াকালীন ২০০৪ সালে ফেসবুক তৈরি করেন। আজ এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামাজিক মাধ্যম। বয়স দিয়ে বিচার করলে "ছাত্র ছেলে" — কিন্তু তিনি পৃথিবী পাল্টে দিয়েছিলেন। আজ আমার আপনার সব তথ্য তারই হাতে।
মালালা ইউসুফজাই
নোবেলজয়ী অ্যাক্টিভিস্ট — নোবেল পান মাত্র ১৭ বছরে
পাকিস্তানের এই কিশোরী তালেবানের বুলেট খেয়েও থামেননি। ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ নোবেলজয়ী হিসেবে মেয়েদের শিক্ষার অধিকারে আলো জ্বেলেছেন গোটা বিশ্বে।
গ্রেটা থানবার্গ
জলবায়ু আন্দোলনের মুখ — আন্দোলন শুরু করেন ১৫ বছরে।
সুইডেনের এই কিশোরী একা একটি প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন সুইডিশ পার্লামেন্টের সামনে। আজ বিশ্বের কোটি মানুষ তাঁর ডাকে রাস্তায় নেমেছে। বড়রা কি তখন বলেনি, "বাচ্চা মেয়ে, কী বুঝবে জলবায়ু সংকট?"
এলন মাস্ক (প্রথম উদ্যোগ)
Zip2 প্রতিষ্ঠা করেন মাত্র ২৪ বছরে।
দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে এসে প্রায় কপর্দকশূন্য এক তরুণ সিলিকন ভ্যালিতে নিজের জায়গা করে নিলেন। পরবর্তীতে স্পেসএক্স, টেসলা, এবং নিউরালিংক তাঁর দূরদর্শিতার ফল।
নাওমি ওসাকা
টেনিস চ্যাম্পিয়ন — প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতেন ২০ বছরে।
কেউ ভাবেনি জাপানি-হাইতিয়ান এই তরুণী সেরেনা উইলিয়ামসকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হবেন। তিনি শুধু ট্রফি জেতেননি, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে খেলার জগতে কথা বলার সাহস দেখিয়েছেন।
-
বিশ্বের সেরা উদ্ভাবকদের গড় বয়স ৩০ যখন তারা যুগান্তকারী আবিষ্কার করেন
বিশ্বের ৭০% স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতা যাদের বয়স ২০ থেকে ৩৫-এর মধ্যে
ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ নোবেলজয়ীর বয়স ১৭ (মালালা ইউসুফজাই)
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও এই সত্য কম উজ্জ্বল নয়। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে যে ছাত্র-জনতার আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাস পরিবর্তন করে দিল, সেই আন্দোলনের মুখেরা কিন্তু তরুণ। স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এই সাহসী প্রজন্ম প্রমাণ করেছে — তরুণরা "কিছু বোঝে না" — এই ধারণাটি কতটা অসার।
"যৌবন একটি দোষ যা দ্রুত সেরে যায়।" — কিন্তু যে কাজ তরুণেরা সেই বয়সে করে, তা অনেক সময় বৃদ্ধ বয়সে সম্ভব হয় না।
— উইলিয়াম পিট (দ্য ইয়ংগার), যিনি ২৪ বছরে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হন।
---
যখন "ব্যাকডেটেড" মানুষরা পথ দেখান।
-
এবার উল্টো দিকে আসি। তরুণরা অনেক সময় মনে করে প্রবীণরা "সব ব্যাকডেটেড।" কিন্তু আমরা কি একবারও ভেবে দেখেছি — আমরা যে মোবাইলে কথা বলছি, যে রাস্তায় হাঁটছি, যে ইন্টারনেটে ডুব দিচ্ছি — তার ভিত্তি কে তৈরি করেছে?
হারল্যান্ড স্যান্ডার্স — নামটি হয়তো চেনা না, কিন্তু কেএফসি মুরগির কথা সবাই জানে। এই মানুষটি ৬২ বছর বয়সে কেএফসি শুরু করেছিলেন, যখন তাঁর কাছে শুধু একটি রেসিপি আর অদম্য মনোবল ছিল। হাজারেরও বেশি বার প্রত্যাখ্যান পেয়েছিলেন, কিন্তু থামেননি। আজ বিশ্বের ১৫০টির বেশি দেশে কেএফসির ২৭,০০০ শাখা।
প্রবীণ পথিকৃতদের গল্প
কর্নেল হারল্যান্ড স্যান্ডার্স
KFC প্রতিষ্ঠাতা — ব্যবসা শুরু করেন ৬২ বছরে
১,০০৯ বার প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন। ৬৫ বছরে সামাজিক নিরাপত্তার প্রথম চেক পেয়ে হতাশ হননি বরং সেই টাকা ব্যবহার করেন স্বপ্ন পূরণে। প্রমাণ করেছেন — বয়স উদ্যোগের বাধা নয়।
গ্র্যান্ডমা মোজেস
চিত্রশিল্পী — ৭৮ বছরে আঁকা শুরু করেন
আথ্রাইটিসের কারণে সেলাই করতে পারতেন না, তখন তুলি তুললেন। ৭৮ বছর বয়সে শিল্পজীবন শুরু হলো। ১৬০ বছরের জন্মদিনে তাঁর ছবি নিলামে উঠল কোটি ডলারে। প্রশ্ন হলো — কে বলেছিল বয়স্করা নতুন কিছু করতে পারেন না?
নেলসন ম্যান্ডেলা
দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপতি — দায়িত্ব নেন ৭৫ বছরে
২৭ বছর কারাবন্দি ছিলেন। ছাড়া পেয়েছেন ৭১ বছরে। তারপরও বর্ণবাদমুক্ত দক্ষিণ আফ্রিকার স্বপ্ন দেখলেন, সেটা সফলও করলেন। তাঁর ক্লান্তি ছিল না — কারণ অভিজ্ঞতা ছিল, পথ চেনা ছিল।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
নোবেলজয়ী কবি — পরিপক্ব সাহিত্য রচনা ৫০-৬০ বছরে
নোবেল পুরস্কার পান ৫২ বছরে। গীতাঞ্জলি, চোখের বালি, ঘরে বাইরে — এই কালজয়ী সৃষ্টি পরিপক্বতার ফসল। শুধু যৌবন নয়, জীবনের প্রতিটি পর্যায় সৃষ্টিশীলতার সময়।
উইন্সটন চার্চিল
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী — দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নেতৃত্ব দেন ৬৫ বছরে
বয়স ৬৫-তে যখন ব্রিটেন সবচেয়ে অন্ধকারে, তখন চার্চিলই আলো দেখালেন। তাঁর বক্তৃতা, প্রজ্ঞা আর অভিজ্ঞতা না থাকলে ইতিহাস হয়তো অন্যভাবে লেখা হতো।
দুটো প্রজন্মের মাঝের দেয়াল
তাহলে সমস্যাটা ঠিক কোথায়? সমস্যা হলো আমরা "বয়স" দিয়ে "বুদ্ধি" মাপার চেষ্টা করি। এটা এমনই ভুল, যেন উচ্চতা দিয়ে গান গাওয়ার ক্ষমতা মাপা।
প্রবীণদের কাছে আছে জীবনের অভিজ্ঞতা — কোন পথে গেলে পড়বে, কোন সিদ্ধান্তের কী পরিণতি হতে পারে, মানুষ চেনার দক্ষতা, ব্যর্থতা সামলানোর শক্তি। আর তরুণদের কাছে আছে নতুন জানার তৃষ্ণা — পরিবর্তনকে ভয় না পাওয়া, প্রযুক্তির সাথে তাল মেলানো, নতুন ধারণা গ্রহণের উন্মুক্ততা।
-
"আমাকে একজন তরুণের শক্তি আর একজন প্রবীণের জ্ঞান — এই দুটো একসাথে দাও, আমি পৃথিবী জয় করব।"
— পরিবর্তিত একটি প্রবাদ, কিন্তু সারকথা এটাই।

আমেরিকার নাসায় একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সবচেয়ে সফল দলগুলো সেগুলো যেখানে বিভিন্ন বয়সের মানুষ একসাথে কাজ করেছে। তরুণ প্রকৌশলীরা নতুন প্রযুক্তি এনেছে, প্রবীণ বিজ্ঞানীরা দিয়েছেন অভিজ্ঞতার কাঠামো। এই দুটো মিলিয়েই মানুষ চাঁদে গেছে।
জাপানের "মেন্টর সংস্কৃতি" বা কোরিয়ার "সিনিয়র-জুনিয়র বন্ধন" — এসব কিন্তু শুধু সম্মানের বিষয় নয়, এটা কার্যকর জ্ঞান হস্তান্তরের কৌশল। সেখানে প্রবীণ সিনিয়র তরুণকে পথ দেখান, আর তরুণ নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এনে সিনিয়রের ধারণাকে সমৃদ্ধ করে।
বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে এই টানাপোড়েন।
-
আমাদের সমাজে প্রবীণদের প্রতি শ্রদ্ধা একটি মূল্যবান ঐতিহ্য। কিন্তু শ্রদ্ধা আর অন্ধ আনুগত্য এক নয়। একজন বয়স্ক বাবা তাঁর ৩০ বছরের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা থেকে বলছেন, "এই বাজারে এভাবে চলে না" — এই কথার মূল্য আছে। আবার একই সাথে তাঁর ছেলে যখন বলছে, "বাবা, এখন ডিজিটাল মার্কেটিং ছাড়া ব্যবসা টেকে না" — এই কথারও সমান মূল্য আছে।
সমস্যা হয় যখন কেউ বলে, "আমার কথাই চূড়ান্ত।" সেটা বাবা বললেও সমস্যা, ছেলে বললেও সমস্যা।
-
বাংলাদেশের একটি কৃষিপরিবারের কথা ভাবুন। বাবা চাষ করেন সনাতন পদ্ধতিতে, জানেন কোন মৌসুমে কোন ফসল ভালো হয়, কোন জমিতে কোন সার কাজ করে — এই জ্ঞান তাঁর কয়েক দশকের অভিজ্ঞতার। ছেলে পড়াশোনা করে ড্রিপ ইরিগেশন, হাইব্রিড বীজ আর মাটি পরীক্ষার নতুন পদ্ধতি শিখে এসেছে। এই দুটো জ্ঞান আলাদা আলাদাভাবে আংশিক। একসাথে হলে হয় পরিপূর্ণ।
-
চোখের জলের আড়ালে যা থাকে।
একবার ভাবুন — আপনার দাদা বা নানা যখন বলেন, "আমাদের সময়ে..." — তখন কি সত্যিই শুনেছেন? তাঁর গলার আওয়াজে কোনো একদিনের স্মৃতি থাকে, যেদিন তিনি হয়তো অনেক কষ্ট করে কিছু শিখেছিলেন।
আবার উল্টোদিকে — যে তরুণটি রাত জেগে কোড লিখছে, যে মেয়েটি একা ব্যবসা শুরু করেছে, যে কিশোর প্রতিযোগিতায় স্বপ্ন দেখছে — তাদের ভেতরের আগুনটা কি "অনভিজ্ঞতা"? না, এটা সম্ভাবনা। এই আগুন নিভিয়ে দেওয়া মানে আগামীকালের সূর্য নিভিয়ে দেওয়া।
আমরা কী করতে পারি?
-
প্রথমত, প্রবীণদের উচিত নবীনদের উপর নতুন পৃথিবীর নতুন নতুন দায়িত্ব অর্পন করা, তাদের উপর আস্থা রাখা। স্বীকার করা যে পরিবর্তন মানে বিপদ নয়। যিনি ৪০ বছর আগে নতুন কিছু শিখেছিলেন, তিনি আজও শিখতে পারেন। বয়স শেখার ক্ষমতা কমায় না, অনেক সময় বরং বাড়ায় — কারণ তখন জানেন কোনটা গুরুত্বপূর্ণ।
-
দ্বিতীয়ত, তরুণদের উচিত বুঝতে পারা যে "নতুন" মানেই "সেরা" নয়। ইন্টারনেট নতুন তথ্য দেয়, কিন্তু সেই তথ্যকে প্রজ্ঞায় পরিণত করতে লাগে অভিজ্ঞতা। একটা ফোন সব জানলেও ফোনের কাছ থেকে কেউ পরামর্শ নেয় না। মানুষের কাছে যায় — কারণ মানুষের অভিজ্ঞতা জীবন্ত।
-
তৃতীয়ত, পরিবারে, কর্মক্ষেত্রে, সমাজে — এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে যেখানে দুই প্রজন্ম কথা বলতে পারে। মুখোমুখি বসা, চায়ের কাপ হাতে নিয়ে গল্প করা — এই সাধারণ মুহূর্তগুলোই হলো সেতু।
-
শেষ কথা: দুটো হাত মিলিয়েই করতাল বাজে।
একটি বাংলা প্রবাদ আছে: "অভিজ্ঞতা হলো সেরা শিক্ষক।" আরেকটি আছে: "যৌবনে যে পথ চেনে, বৃদ্ধ বয়সে সে নিশ্চিন্তে চলে।" দুটো প্রবাদ একসাথে পড়লে বোঝা যায় — একটি জীবনের পথ চেনার কথা বলছে (তরুণ বয়স), আরেকটি সেই জ্ঞান প্রয়োগের কথা (পরিণত বয়স)।
ইতিহাসের সেরা সৃষ্টিগুলো হয়েছে যখন তারুণ্যের সাহস, প্রবীণের অভিজ্ঞতা আর দুজনের উদ্যম একসাথে কাজ করেছে। বিটলস ব্যান্ডে তরুণ জন লেননের সাথে ছিলেন সুরের শিক্ষক। স্টিভ জবসের পাশে ছিলেন স্টিভ ওজনিয়াক — দুজনের ভিন্ন শক্তি মিলিয়েই অ্যাপল।
বাংলাদেশও একটি তরুণ দেশ — জনসংখ্যার বিশাল অংশ তরুণ। এই তারুণ্যের শক্তিকে প্রবীণদের অভিজ্ঞতার সাথে মেলাতে পারলে, আমাদের গল্পটা সত্যিই অন্যরকম হবে।
দুটো প্রজন্ম, একটাই স্বপ্ন।
-
"ওরা বাচ্চা, কী বুঝবে?" এবং "ওরা ব্যাকডেটেড" — এই দুটো বাক্য বলার আগে একবার থামুন। কারণ প্রত্যেক প্রবীণ একসময় তরুণ ছিলেন, আর প্রত্যেক তরুণ একদিন প্রবীণ হবেন। আমরা একই যাত্রার দুটো পর্যায়। তর্ক নয়, সংলাপ দরকার। প্রতিযোগিতা নয়, সহযোগিতা দরকার। বয়স নয়, মূল্যায়ন হোক মানুষের ভেতরের আলো দিয়ে।

এম এফ আলম
লেখক

Address

Rajshahi
6100

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when M F Alam posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share