08/01/2026
ভালো কিছু অর্জন করতে হলে আপনাকে বেশ কিছু বিষয় পরিত্যাগ করতে হবে -
আপনি হয়ত জানেন, ভালো জিনিসের মূল্য একটু বেশি। বাজারে গেলে দেখবেন, অন্যান্য মাছের চেয়ে ইলিশের মূল্য বেশি। এক কেজি তেলাপিয়া/পাঙ্গাশ মাছ কিনতে আপনার ২০০/৩০০ টাকা লাগলেও, এক কেজি ইলিশ মাছ কিনতে হলে আপনাকে ১০০০/১২০০/১৫০০ টাকা লাগে।
একইভাবে, আপনি ভালো কোনো জায়গায় যেতে চান, ভালো কোনো কিছু পেতে চান, ভালো কোনো কিছু অর্জন করতে চান, সেজন্য আপনাকে একটু বেশি মূল্য দিতে হবে।
কেমন?
মনে করেন, আপনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চান।
অথবা, মনে করেন, আপনি বিসিএস ক্যাডার হতে চান, সরকারি যেকোনো চাকরি পেতে চান, তাহলে আপনাকে একটু বেশি মূল্য দিতে হবে।
সহজে এগুলো পাবেন না। কারণ, এগুলো দামি, মূল্যবান
এগুলো পাওয়ার জন্য লাখ লাখ মানুষ চেষ্টা করে। সহজে পাওয়া যায় না।
আচ্ছা বুঝলাম। কিন্তু, এগুলোর জন্য আবার বেশি মূল্য দিতে হয় কিভাবে?
এটা বুঝলেন না?
না।
আচ্ছা -
আপনি বিসিএস ক্যাডার হতে চান। আপনার সাথে আরও চার লাখ ক্যাডার হতে চায়। কিন্তু, হতে পারবেন মাত্র ২০০০ মানুষ।
মানে, চার লাখের মধ্যে যারা সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতে পারবে, তারাই ক্যাডার হতে পারবে। বাকিরা পারবে না।
এখন, আপনাকে ক্যাডার হতে হলে অবশ্যই বেশি মূল্য দেওয়া ২০০০ এর মধ্যে থাকতে হবে। রাইট?
ইয়েস!
বুঝতে পেরেছেন?
জ্বি। কিন্তু...?
হ্যাঁ, বুঝেছি। বলছি। ওয়েট...
মূল্য দেওয়ার মানে বুঝলেন না, তাই তো?
জ্বি।
মূল্য দেওয়ার মানে হলো- আপনার পড়াশোনা, এফোর্ট দেওয়া, কতটা চেষ্টা করছেন ওটার জন্য- এগুলোই আপনার দেওয়া মূল্য।
বুঝছেন এবার?
জ্বি।
সর্বোচ্চ মূল্য দিতে হলে, আপনাকে অবশ্যই অনেক কিছু পরিত্যাগ করতে হবে। যেমন?
আপনি সবচেয়ে মূল্যবান জিনিসটা অর্জন করতে চান, যেখানে চার লাখ পরিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবে। মানে, আপনার পুরো মূল্যটা ওখানেই দিতে হবে।
বুঝছেন?
মানে, আপনি শুধু বিসিএসের পিছনেই আপনার সময়টা কাজে লাগাবেন। অন্য কোথাও যদি একটুও সময় নষ্ট করেন, তাহলে মূল্য কমে যাবে, অন্য কেউ আপনার বিসিএসটা বেশি মূল্য দিয়ে কিনে নিবে।
তাহলে?
★ যেখানে জরুরি প্রয়োজন নেই,সেখানে যাওয়া যাবে না।
★ প্রয়োজন ছাড়া একটুও সময় নষ্ট করা যাবে না।
★ ফেইসবুক, টিকটক, ইনস্টাগ্রাম, লিংকডইন, টেলিগ্রামসহ যত সোশ্যাল মিডিয়া আছে, জরুরি প্রয়োজন না হলে সব ডিলিট/আনইনস্টল করে ফেলতে হবে। তাহলে এখানে সময় নষ্ট হওয়ার সুযোগ থাকবে না। এটাই সবচেয়ে বড় শত্রু আপনার। এখানে সবচেয়ে বেশি সময় নষ্ট হয়। এটা আমি জানি। শিওর।
★ সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠার চেষ্টা করবেন।
★ ঘুম থেকে উঠে আগে ছয় ঘন্টা পড়বেন। তারপরে ফোনের ডেটা অন করবেন, স্বল্প সময়ের জন্য। যদি জরুরি না থাকে, তাহলে অন করার দরকার নেই।
★ পড়ার সময় সব কিছুর বাইরে থাকুন। শুধু পড়বেনই।
★ মোবাইল পাশে রেখে পড়বেন না, যদি জরুরি প্রয়োজন না হয়।
★ যতটুকু পড়ছেন, মনোযোগ দিয়ে পড়বেন।
★ ঘুম আসলে দাড়িয়ে দাড়িয়ে পড়বেন।
★ যেহেতু, প্রতিযোগিতায় নেমেছেন, অযথা সময় নষ্ট না করে, জরুরি প্রয়োজন ব্যতিরেকে সবসময়ই পড়ার চেষ্টা করবেন।
★ পড়াশোনার মধ্যেও এক প্রকার আনন্দ আছে।সেটা উপভোগ করার চেষ্টা করুন।
★ পড়তে ভালো না লাগলেও পড়ার টেবিলে থাকুন।
★ মনোযোগ না আসলে, শুধু ২ মিনিট মনোযোগ দিয়ে পড়ার নিয়ত করেন। দুই মিনিট মনোযোগ দিয়ে পড়ার পরে হয়ত মনোযোগ ফিরে পেতে পারেন।
সর্বোপরি, আপনার ভালো-মন্দ আপনাকেই বুঝতে হবে। আপনি না বুঝলে কেউ আপনাকে বুঝাতে পারবে না।
ঠিক আছে। বুঝেছি। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
আপনি একাই জানবেন এগুলো? অন্যদের জানতে হেল্প করবেন না? শেয়ার দিলে তো অন্যরাও জানতে পারবে এগুলো, তাই না?
হ্যাঁ, হ্যাঁ। ঠিক আছে।
ঠিক আছে, শুভকামনা।
শুভকামনায়-
✍️ Tuhin Hossain
Student,
University of Rajshahi