02/05/2025
মাসুদ আর ভালো হইল না -
সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসুদের বাবা আব্দুল মালেক ছিলেন হাতিয়ার এক ইবতেদায়ী মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক। বেতন ছিলো সাকুল্যে আট/দশ হাজার টাকা। ইতোমধ্যেই অবসর গ্রহন করেছেন। খোদ মাসুদের দেয়া সাক্ষাৎকার অনুযায়ী, পেনশন তুলতে যে কয়টাকা ঘুষ দেয়া লাগে সেটা দেয়ার সামর্থ্য নাই বলে তার বাবা পেনশনের টাকা পায় নাই। তাদের একটা ভাঙ্গাচুরা ঘর, যে ঘরে বর্ষাকালে পানি পড়তো।
মাসুদ আরো দাবি করেছিলো, তার বাবা তাদের কোন ভাই বোনকেই ভরণপোষনের খরচ দিতে পারতো না, যে কারণে টিউশনি করে তাদের পড়াশোনার খরচ চালাইতে হইসে। এই গল্পে কোন লজ্জা নাই। গ্রাম থেকে উঠে আসা দেশের হাজারো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর জীবনের গল্পই এরকম।
তবে ছোট্ট একটা কিন্তু আছে এখানে!
টাকার অভাবে ভাঙ্গা ঘরে থাকা, ছেলে মেয়েদের ভরনপোষণের খরচ দিতে না পারা সেই মালেক সাহেবই গত মাসে হাতিয়ার দারুল উলুম কামিল মাদ্রাসার গভর্ণিং বডির "বিদ্যোৎসাহী" সদস্য মনোনীত হয়েছেন। সদস্য মনোনয়ের আবেদনে মালেক সাহেবের বিষয়ে বলা হয়েছে, "তিনি মাদরাসা উন্নয়ন, গৃহ সংস্কার, গরীব মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের সহযোগিতা, শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও লেখাপড়ার মানোন্নয়নে অব্যাহতভাবে অবদান রেখে আসছেন।"
মালেক সাহেবের দয়ার শরীর। নিজের ঘর ঠিক না করে তিনি মাদ্রাসার ঘর ঠিক করেছেন। নিজের ছেলেমেয়ের ভরণপোষন না চালিয়ে মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের ভরণ পোষণ করেছেন!
"বিদ্যোৎসাহী" সদস্যের ব্যাপারে যারা জানেন না তাদের বলি, যারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বড় অংকের আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন কিংবা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নে ভূমিকা রাখেন তাদেরকেই সাধারণত বিদ্যোৎসাহী সদস্য বানানো নয়।
এই সাড়ে আটমাসে সমন্বয়কদের কারও বাপ হইলো জমিদারের পোলা, কেউ হইলো ঠিকাদার ব্যবসায়ী আর কেউ হইলো দাতা হাতেম তাই। কি চমৎকার বন্দোবস্ত! চালায়া যাও তোমরা। তোমাদেরই তো খুঁজতেসিলো বাংলাদেশ।