03/01/2025
ভূতের গল্প:
জঙ্গলপাড়ার কালো ছায়া
গাঁয়ের শেষ প্রান্তে ছিল এক গভীর জঙ্গল। লোকেরা বলত, জঙ্গলের ভেতরে সূর্যাস্তের পর কেউ গেলে আর ফিরে আসে না। কারণ সেখানে নাকি বাস করে কালো ছায়া—এক ভূত যার মুখ নাকি দেখা যায় না, শুধু অন্ধকারের মতো এক ছায়া।
একদিন গ্রামের তিন বন্ধু, রাহুল, অমিত আর শিবু, ঠিক করল এই গুজবের সত্যতা খুঁজে বের করবে। সন্ধ্যা হতেই তারা লণ্ঠন আর লাঠি নিয়ে জঙ্গলে ঢুকল।
জঙ্গলের বাতাস ভারী, পাখির ডাক নেই। কিছু দূর যেতে-না-যেতেই অমিত হঠাৎ চিৎকার করে বলল, “কে যেন আমার কাঁধে হাত রাখল!” রাহুল আর শিবু আশেপাশে দেখল, কিন্তু কেউ নেই।
তারা এগিয়ে চলল। হঠাৎ একটি বড় বটগাছের নিচে তারা একটি ছায়ার মতো কিছু দেখল। ছায়াটি ধীরে ধীরে তাদের দিকে এগিয়ে আসছে। লণ্ঠনের আলোতে ছায়াটি বড় হতে থাকল। হঠাৎ শিবু চিৎকার করে বলল, “পালাও!”
তিনজন দৌড়ে গ্রামের দিকে পালাল। ফিরে এসে তারা দেখল, রাহুলের হাতে গভীর ক্ষত। সে বলল, “ছায়াটা আমার হাত ধরেছিল। তার স্পর্শ বরফের মতো ঠান্ডা আর খুব ভারী।”
পরের দিন থেকে গ্রামের লোকেরা আর কেউ সন্ধ্যার পর জঙ্গলের দিকে যায়নি। তারা বলত, কালো ছায়া কারো সঙ্গে দেখা হলে তার জীবনে অমঙ্গল ঘটে। রাহুলের হাতে ক্ষত সারতে মাসখানেক সময় লেগেছিল, আর তার পরে সে আর কোনো দিন ওই জঙ্গলের নামও মুখে আনেনি।
লোকেরা এখনও বিশ্বাস করে, সেই জঙ্গলে কালো ছায়া আছে, আর সে তার শিকার খুঁজে বেড়ায়।