09/10/2024
#মিষ্টি #ভালোবাসা
#পর্ট২
প্রায় ১৫-২০ মিনিট পর...
ফাজিলটা সত্যি সত্যি ভয় পেল নাকি। নাহ, এটাকে আজ আন্ত ভর্তা বানাব। এই ভেবে হন্তদন্ত হয়ে ড্রয়িংরুমে এসে দেখে আদিব লিখছে তো লিখছেই।
কাছে এসে প্যাডটা ছোঁ মেরে নিয়ে নিল। অনেকটা চিলের ছোঁ মারার মতোন। আদিব ভড়কে গেল। যদিও ওর লেখা শেষ। তবুও ফর্মালিটির খাতিরে বলল, 'আরে আরে এ কী! আর একটুখানি বাকি দাঁড়াও।'
উহু... কে শোনে কার কথা। প্যাডের লেখা পেইজটি একটানে ছিড়ে ফেলল। আদিবের ড্যাবডেবে চাহুনি দেখে ৯০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে একটা ভেংচি কেটে ছেড়া পেইজটি পড়তে শুরু করল স্নেহা। শুরুতেই বড় করে শিরোনাম লেখা- 'বউ'।
শিরোনাম দেখেই মুখ তুলে কেন যেন আদিবকে একপলক দেখে নিল। এরপর এক আকাশ রাগ নিয়ে পড়তে শুরু করল।
শুরুতেই আছে ভূমিকা। সেখানে ছিল...
ভূমিকা: বউ একটি দুষ্টু মিষ্টি পাগলির নাম। পাগলের মতো এদের জটলা চুল না থাকলেও পাগল করে দেওয়ার মতো সুরভিত রেশমি চুল ঠিকই থাকে।
এটুকু পড়েই এত রাগের মাঝেও কেন যেন পেট নেচে উঠল স্নেহার। সাথে ঠোঁটও। আরেকবার দেখে নিল ফাজিলটাকে। এরপর আবার পড়তে শুরু করল...
উপকারিতা: এদের দ্বারা সাধারণত উপকার ছাড়া অপকার হয় না। কেননা এদের বক্র চাহনিতেও হৃদয় প্রশান্ত হয়। যেটা হার্টের জন্য অনেক উপকারী।
এটুকু পড়ে চোখ বাঁকা করে তাকাল আদিবের দিকে। আদিব চোখ নামিয়ে নিল। এই সুযোগে স্নেহা একটু নিঃশ্বব্দে হেসে নিল। আদিবের ভাষায় যেটা- খুন করা হাসি। ব্যাটা মিস করল হাসিটা। এরপর আবার পড়তে লাগল।
ক্রেডিট: এদের মাঝে মোহনীয় কথা বলার যাদুকরি শক্তি বিদ্যমান। দিনশেষে ক্লান্ত বদনে ঘরে ফিরলে এদের দুষ্টু হাসি ও মিষ্টি কথার মোহে পড়ে মুহূর্তেই মনের গভীরে ভালোবাসার প্রাণোচ্ছল ঢেউ খেলে যায়।
স্নেহা এবার একটু লজ্জা পেল কি না। কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবার পড়ে যাচ্ছে...
শখ: এদের কাছে চটপটি-ফুচকা, আইস্ক্রিম-আমসত্তা আর চকলেট সোনার চেয়ে দামি হলেও দিনশেষে প্রাণপ্রিয় স্বামীর একটু সান্নিধ্য হলো হীরার চেয়েও দামি।
এটুকু পড়ে কেন যেন একটু আনমনা হয়ে পড়ল স্নেহা। ক্ষানিক পর আবার পড়তে শুরু করল।
চাহিদা: প্রতিদিন না হোক, অন্তত প্রতি শুক্রবার রাতে বাসায় ফেরার সময় একটি অর্ধফুটন্ত গোলাপ এনে খোঁপায় গুজে দিতে হবে। আর মাঝে মাঝেই চাঁদনি রাতে পরস্পর হেলান দিয়ে তারা গুনতে হবে।
এটুকু পড়তেই স্নেহার ঠোঁটে আবারও সেই খুন করে দেওয়া হাসি...। আদিবের প্রতি এখন কোনো খেয়াল নেই স্নেহার। সে এখন পড়ছে। গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়ছে। এরপর...
কার্যকারিতা: সারাদিন প্রাণপ্রিয় স্বামীর ঘরে ফেরার অপেক্ষায় মনটা আঁকুপাঁকু করতে থাকবে আর ঠিকসময়ে ঘরে ফিরে এলেও অভিমানী কণ্ঠে 'আজ এত দেরি করেছেন কেন?' এই বলে একা একাই কিছুক্ষণ ঝগড়া করে গাল-নাক ফুলিয়ে কান্না জুড়ে দেবে।
এবার হাসির সাথে ফিক করে একটু শব্দ বেরিয়ে এলো। মুহূর্তেই নিজেকে সামলে নিয়ে পরেরটুকু পড়তে লাগল...
অধিকার: স্বামী সত্যি সত্যিই একটু দেরি করে ফিরলে সেদিন রাত্রিকালীন রোজা ফরজ করে ছাড়বে। নাকের পানি ও কাজল ধোয়া চোখের পানির স্রোতে এলিয়েন সাজবে। আর এসময় যদি কোনক্রমে মোবাইল হাতে দেখে তাহলে বেচারা স্বামী যখন ওয়াশরুমে ঢুকবে তখন ফিরে এসে মোবাইলের সিম আবিষ্কার করবে ফ্রিজে রাখা তাজা 'শিম' এর এর মধ্যে। ব্যাটারি আবিষ্কার করবে বারান্দায় ইঁদুর মারার কলের মধ্যে। আর অবশিষ্ট কংকাল আবিষ্কার করবে বালিশের কাভারের মধ্যে। তবে এই আবিষ্কারটা হবে দুর্ঘটনার মিনিমান সপ্তাহ খানেক পর।
স্নেহা এবার মাথা তুলে আদিবের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দিল! নাহ। মোবাইল- টোবাইল হাতে নেই। বেঁচে গেছে এবারের মতো। নেক্সট...
স্বভাব: প্রতিদিন অফিসে যাওয়ার সময় কপালে ভালোবাসার মিষ্টি ছোঁয়া এঁটে দিয়ে বলবে, মহিলা কলিগদের সাথে কথা বলবেন না। জরুরি প্রয়োজন হলে কাগজে লিখে দিবেন। তবুও কথা বলবেন না। আর তাকানোর তো প্রশ্নই আসে না।
এটুকু পড়ে মুচকি হাসির সাথে মাথা দুলিয়ে পাগলটাকে কী বলে যে একটা বকা দেবে ঠিক খুজে পাচ্ছে না। ফাজিলটা এত্ত ভালো কেন হুম! এত্ত ভালো কেন। এই সাত-পাঁচ ভাবতে ভাবতেই সর্বশেষ প্যারায় চোখ বুলাল...
সাপোর্ট পাইলে পার্ট ৩ দিবো