13/09/2026
বই রিভিউ: দাবানল
অসুস্থতার কারণে বইটা পড়তে আমার স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সময় লেগেছে। প্রায় তিন দিন ধরে একটু একটু করে পড়েছি। শরীর যখন সায় দিচ্ছিল না, তখনও বইটা পাশে পড়ে থাকলে বারবার মনে হয়েছে আরেকটু পড়ি, সামনে কী অপেক্ষা করছে দেখি।
‘দাবানল’ নামটার মতোই গল্পটার ভেতরেও একটা তীব্রতা আছে। তবে সেই তীব্রতার পাশাপাশি আছে মায়া, বিশ্বাস, ভালোবাসা, বিচ্ছেদ আর ত্যাগের অনুভূতি।
নাওয়ারার চরিত্রটা আমার মনে সবচেয়ে বেশি জায়গা করে নিয়েছে। একজন ভিন্ন ধর্মের মানুষ কীভাবে ধীরে ধীরে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়, জানার আগ্রহ থেকে বিশ্বাসের জায়গায় পৌঁছায় তার এই পরিবর্তনটা পড়তে গিয়ে বারবার থেমে ভাবতে হয়েছে। বিশেষ করে সত্যকে জানার পর সেটাকে হৃদয় দিয়ে গ্রহণ করার যে দৃঢ়তা, সেটাই নাওয়ারাকে আমার কাছে আলাদা করে তুলেছে।
অন্যদিকে দাবানল চরিত্রটির মধ্যে যে আদর্শের প্রতি অটল থাকা, দায়িত্ববোধ এবং ত্যাগের মানসিকতা সেটা গল্পটাকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। কিছু চরিত্রকে ভালো লেগেছে, কিছু ঘটনায় বুক ভার হয়েছে, আবার কিছু মুহূর্তে মনে হয়েছে এই গল্পের মানুষগুলোর সঙ্গে আরও কিছুটা পথ হাঁটতে পারলে ভালো হতো।
বইয়ের শেষের দিকে এসে অনুভূতিগুলো আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। কিছু মুহূর্তে মন মেনে নিতে চায়নি যা ঘটছে। আবার কিছু মুহূর্তে মনে হয়েছে, এত অল্প কয়েকটি পৃষ্ঠার মধ্যে লেখিকা কীভাবে এতগুলো অনুভূতি একসঙ্গে ধরে রাখলেন!
একটা জায়গায় এসে শুধু মনে হয়েছে গল্পটা যদি আরেকটু দীর্ঘ হতো! চরিত্রগুলোর অতীত, তাদের অনুভূতি আর সম্পর্কগুলোকে যদি আরও একটু বিস্তৃত করে দেখানো হতো, তাহলে হয়তো গল্পটার সঙ্গে আমার মায়াটাও আরও গভীর হতো।
সব মিলিয়ে, ‘দাবানল’ আমার কাছে এমন একটি উপন্যাস, যেটা শেষ করার পর বইটা বন্ধ করা যায়, কিন্তু গল্পটাকে মন থেকে বন্ধ করা যায় না।
রিভিউ: ইলমার আম্মু
ছবি কৃতজ্ঞতা: মুক্তা ইসলাম