04/09/2026
২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের আজকের দিন অব্দি বিভূতি-ভিন্টেজ সংস্করণের ২০টি বই ও ৪টি সুভ্যেনির মোট বিক্রি হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার কপি। ২০টি বই মিলে ৪০ হাজার কপির মতো এবং ৪টি সুভ্যেনির প্রতিটি প্রায় ২৫০০ কপি করে ১০ হাজার কপি।
এতগুলো কপি একা হাতে সতীর্থ বিক্রি করেছে এমন না। বিভিন্ন বুকশপ তো অবশ্যই সহযোগিতা করেছে। তবে বিশেষভাবে ওয়াফিলাইফ বুকশপ, রকমারি ও ফেসবুক কেন্দ্রিক বুকশপ বুকিফাই বুকশপের নাম না নিলে অন্যায় হবে। এই তিনটি বুকশপ মিলেই উপরের বিক্রয়কৃত পরিমাণের প্রায় পাঁচ ভাগের দুই ভাগ বিক্রি করেছেন।
চলেন সতীর্থের চিরায়ত বইয়ের ইতিহাস সম্পর্কে একটু জানি।
তবে শেষ অব্দি পড়বনে... ;) একটা টুইস্ট আছে!
২০১৮ সালের পহেলা সেপ্টেম্বর যাত্রা শুরু করা সতীর্থ প্রকাশনা থেকে ২০২৩ সালের জুলাই-আগস্ট অব্দি ৭০টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়।
এর মাঝে ৬০টি মৌলিক ও মাত্র ১০টি অনুবাদ গ্রন্থ।
সতীর্থ প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত প্রথম চিরায়ত গ্রন্থ বনের খবর। যা সতীর্থের ৭১তম গ্রন্থ হিসেবে ২০২৩ সালের আগস্টে প্রকাশিত হয়। যদিও প্রথম চিরায়ত গ্রন্থ হওয়ার কথা ছিল বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়-এর ইছামতী। ২০২০-২০২১ সালের দিকে এর প্রচ্ছদও করে ফেলা হয়েছিল; কিন্তু কোনো একটা কারণে আর করা হয়নি। এরপরে ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে সতীর্থের ৭২ তম গ্রন্থ হিসেবে প্রকাশিত হয় মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ইতিকথা ত্রয়ী - পুতুলনাচের ইতিকথা, শহরবাসের ইতিকথা, ইতিকথার পরের কথা।
২০২৪ সালের মে মাসে সতীর্থ থেকে প্রকাশিত হলো আরও দুইটি চিরায়ত গ্রন্থ - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নিশিপদ্ম ও দুই বাড়ি যথাক্রমে সতীর্থের ৯১ ও ৯২তম গ্রন্থ। যা সেই সময়ে আক্ষরিক অর্থেই বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চিরায়ত বইয়ের মার্কেট ঘুরিয়ে দেয়। এই কথাটা দাম্ভিকতার সাথে না, বরং গর্বের সাথে বলছি। কারণ বইয়ের মার্কেট বরাবরই বাংলাদেশে ঢাকা তথা বাংলাবাজার কেন্দ্রিক হয়ে থেকেছে আর পশ্চিমবঙ্গে কলেজ স্ট্রিট কেন্দ্রিক। সেখানে রাজশাহী থেকে পরিচালিত সতীর্থ প্রকাশনা থেকে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়-এর হারানো উপন্যাস 'নিশিপদ্ম' প্রকাশের পরে আক্ষরিকভাবে পুরো মার্কেট নড়েচড়ে বসে!
এর পাশাপাশি এই বইয়ের প্রোডাকশন কোয়ালিটি, বইয়ের সম্পাদনা ও মুদ্রণশৈলী বাজারে প্রচলিত সকল সংস্করণের চেয়ে ভিন্নতার কারণে পাঠকের মন জয় করে নেয় মুহূর্তেই।
সতীর্থের এই বিশেষ সংস্করণের নাম দেওয়া হয় বিভূতি-ভিন্টেজ সংস্করণ। এই সংস্করণে এখনও অব্দি প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ২০টি। যার সবগুলোই ১৯ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় কর্তৃক রচিত উপন্যাস। ১৯টি পূর্ণাঙ্গ উপন্যাসের ১৯টি বই ও ২টি অসম্পূর্ণ উপন্যাস ফ্লিপ আকারে ২টি বই। ১৯টি পূর্ণাঙ্গ উপন্যাসের একটি 'সুন্দরবনের সাত বৎসর' যার শুরুটা লিখেছিলেন লেখক ভুবনমোহন রায় এবং বিভূতিবাবু এটি শেষ করেছিলেন এবং খুব অদ্ভুতভাবে এই বিষয়টি দুই বাংলার কোনো প্রকাশনীর বইতে উল্লেখ নেই। এমনকি লেখকের নামে একটি ওয়েবসাইট রয়েছে, সেখানেও নেই। সতীর্থের এই সংস্করণে ভূবনমোহন রায়ের নাম উল্লেখ করে বইয়ের ভূমিকাতে পুরো বিষয়টি খোলাসা করা হয়েছে।
বিভূতি-ভিন্টেজ সংস্করণে ২০২৪ সাল জুড়ে প্রকাশিত হয় নিশিপদ্ম, দুই বাড়ি, মিসমিদের কবচ, মরণের ডঙ্কা ও অনুবর্তন। ২০২৫ সালের মাঝামাঝিতে প্রকাশিত হয় চাঁদের পাহাড়, হীরামানিক জ্বলে, কেদারা রাজা, আদর্শ হিন্দু হোটেল ও দেবযান। এরপরে ২০২৫ এর শেষে ডিসেম্বর মাসে প্রকাশিত হয় পথের পাঁচালী, অপরাজিত, দৃষ্টিপ্রদীপ, বিপিনের সংসার, ইছামতী, অথৈজল, দম্পতি, সুন্দরবনে সাত বৎসর ও ফ্লিপ বই আকারে অশনি সংকেত/অনশ্বর।
নিশিপদ্ম ও দুই বাড়ি প্রকাশের কারণে মার্কেট নড়েচড়ে বসলেও বই প্রকাশের পরে পাঠকদের মাঝে এই সংস্করণের চাহিদা এত বেশি কেন?
এর বড় কারণ প্রোডাকশন কোয়ালিটি। ভিন্টেজ পেপারের (বিদেশি খাকি কালারের পেপার) কাভারের এই সংস্করণ বাজারের অন্যান্য সকল সংস্করণ থেকে ভিন্ন। এর সাথে যুক্ত হয়েছে সতীর্থের সম্পাদনা ও রিসার্চ টিমের অনবদ্য সম্পাদনা; যা বাজারের যে কোনো বিভূতি সংস্করণের চেয়ে অনেক অনেক এগিয়ে! ঠিক এই কারণেই পাঠকদের মতে বাজারের সেরা বিভূতি সংস্করণ হচ্ছে সতীর্থের বিভূতি-ভিন্টেজ সংস্করণ।
এরই ধারাবাহিকতায় এই মাসের প্রকাশিত হতে চলেছে সতীর্থ-ভিন্টেজ সংস্করণ হিসেবে নতুন তিনটি বই। যার মাঝে...
প্রথমটি কালজয়ী লেখক পাঁচকড়ি দে রচিত রঘু ডাকাত,
দ্বিতীয়টি আরেকজন কালজয়ী লেখক শরৎচন্দ্র চট্টোপধ্যায় রচিত উপন্যাস পণ্ডিতমশাই ও তৃতীয়টি হেমেন্দ্রকুমার রায় রচিত হেমন্ত-রবীন সমগ্র।
আজ ১২টার পর হতেই এই তিনটি বই সহ লুৎফুল কায়সার অনুদিত নতুন অনুবাদগ্রন্থ দ্য ওয়েন্ডিগো ও দ্য উইলোসের নতুন মুদ্রণের প্রি-অর্ডার শুরু হবে সতীর্থের ওয়েবসাইটে।