29/05/2019
গতকালের ঘটনা
ইফতারের পর বের হয়েছি টুকটাক কেনাকাটা করতে। একটা দোকানে দাঁড়িয়ে কাপড় দেখছি। আমার পাশেই এক ভদ্রমহিলা তার চার/পাচ বছর বয়সী মেয়ের জন্য কাপড় দেখছেন। হঠাৎ উনার একটা ড্রেস পছন্দ হলো তাই মাপে হবে কিনা দেখার জন্য তিনি সেটি মেয়েকে পরিয়ে দেখতে চাইলেন। সেলসম্যান রাজি হওয়ায় তিনি সেখানেই মেয়ের গায়ের জামা খুলে ফেললেন! আমি জাস্ট নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না যখন দেখলাম তিনি সেলসম্যানকেই বলছেন ড্রেসটা পড়িয়ে দিতে!! কিছু বলবো না বলবো না ভেবেও শেষমেষ পারলাম না! কাছে গিয়ে বললাম, "আপু, কিছু মনে করবেন না... একটা কথা বলি?"
তিনি চোখভর্তি সন্দেহ নিয়ে আমার দিকে তাকালেন, 'বলেন'
"আপনার মেয়ে এটা?
'জ্বী
"যতই ছোট হোক এভাবে ওপেন জায়গায় এতো মানুষের সামনে ড্রেস চেইঞ্জ করাটা ঠিক না। আপনার উচিত ছিলো ট্রায়াল রুমে গিয়ে ওকে ড্রেসটা নিজে পরানো।
ভদ্রমহিলা প্রথমে খানিকটা অপ্রস্তুত হয়ে গেলেও সাথে সাথে সেটা কাটিয়ে কনফিডেন্সের সাথে উত্তর দিলেন, 'জানি'!!
মেজাজটা এমন খারাপ হয়েছিলো যে আমার বর আমার চেহারা দেখে আমি কিছু বলার আগেই, " চল! চল! দেরী হয়ে যাচ্ছে" বলে ঠেলে বের করে নিয়ে আসলো।
কেউ আমার সাথে একমত হন বা না হন, চাইল্ড অ্যাবিউজের বেশিরভাগ ঘটনাই ঘটে বাবা মায়ের অসচেতনতার কারনে। স্কুলে, বা রাস্তায় ধরে নিয়ে গিয়ে রেপ করা বা মেরে ফেলার ঘটনা ভিন্ন। কিন্তু যে বাচ্চাগুলো ঘরের মধ্যে দূরসম্পর্রকের মামা, চাচা, খালু, ফুপা কিংবা ভাইদের কাছে অ্যাবিউজড হচ্ছে তার দায় বাবা মা কোনভাবেই এড়াতে পারবেন না। যাকে আপনি খুব ভালোভাবে চিনেন, তার চরিত্র সম্পর্কে আচ করা তো কঠিন না। আর যাকে খুব ভালো করে চেনেন না তার কাছে বাচ্চা দিবেন কেন?!! ধরে নিলাম, আপনার খুব চেনা কেউও ছদ্মবেশে সুযোগ নিচ্ছে। তাহলে আপনি আপনার বাচ্চাকে কেন শেখাননি যে কারো সামনে জামা খুলতে হয় না বা যে কেউ চাইলেই তার কোলে কিংবা খুব কাছে যেতে হয় না। আপনি তো দুনিয়ার বাইরের কেউ না। দুধের বাচ্চাও যে রেপড হয় সেই খবর তো আপনার অজানা না।
আমি এমন অনেক বাবা মাকে দেখেছি বাচ্চাকে জোর করতে, 'যাও! আংকেল কোলে নিতে চাচ্ছেন! যাচ্ছ না কেন?! আংকেল কি মনে করবেন!'
আই মিন সিরিয়াসলি! আপনার বাচ্চার কম্ফোর্টনেসের চেয়েও কেউ কি মনে করলো সেটা জরুরী?!!!
আমি একজন গর্বিত অসামাজিক বাচ্চার মা! আমার চার বছরের ছেলেকে তার কম্ফোর্ট জোনের বাইরে কারো পক্ষে কোলে দূরে থাক কাছে টেনে নেওয়াও সম্ভব না। এমনি ওর দেড় বছর বয়সী ছোট ভাইকে পর্যন্ত সারাক্ষন পাহারা দিয়ে রাখে। কেউ ধরতে গেলেই ক্ষেপে যায়, "খবরদার ওকে ধরবা না! ও আমাদের বাবু! অন্য কেউ ওকে ধরতে পারবে না।"
কে কি ভাবলো তার ধার আমি ধারি না! সামাজিকতা রক্ষা করতে গিয়ে নিজের বাচ্চার শৈশব বিপন্ন হতে আমি কোনভাবেই দিবো না!
--- শরিফা শবনম