12/05/2025
🔴🔴🔴🔴জালেমকে সহযোগিতার পরিণতি🔴🔴🔴🔴
জুলুম কঠিন গুনাহের কাজ। মানবতার বিচারে জুলুম এতই অপছন্দনীয় যে, স্বয়ং আল্লাহ তাআলা নিজের জন্যও এটি হারাম করেছেন। হাদিসে কুদসিতে এসেছে, ‘হে আমার বান্দা, আমি নিজের ওপর জুলুম হারাম করেছি এবং তোমাদের জন্যও তা হারাম করেছি। অতএব তোমরা একজন অন্যজনের ওপর জুলুম করো না।’ (মুসলিম: ৬৭৩৭)
সমাজে কিছু ভালো মানুষ এখনও আছে যারা জুলুম, অন্যায় ও অত্যাচারের প্রতিরোধ করে। জুলুমের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার থাকে। আবার এমন কিছু লোক আছে তারা জুলুমকে রোধ করে না, বরং জালিম ও অত্যাচারীকে সহযোগিতা করে। হাদিস অনুযায়ী, এ ধরনের লোকও জালিমের অন্তর্ভুক্ত।
এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো জালিমের শক্তি বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে তার সঙ্গে চলে অথচ সে জানে যে ওই ব্যক্তি জালিম, তখন সে ইসলাম থেকে বের হয়ে গেল।’ (মেশকাত: ৪৯০৮)
নবীজি (স.) আরও বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে সেই বান্দাই মর্যাদায় নিকৃষ্ট সাব্যস্ত হবে, যে অন্যের পার্থিব কল্যাণে নিজের আখেরাত ধ্বংস করেছে। অর্থাৎ কোনো জালিমের কাজে সাহায্য করেছে।’ (ইবনে মাজাহ: ৪১০১)
ইসলামে ‘মজলুম’ খুবই স্পর্শকাতর বিষয়। জালেম ধ্বংস হয় মজলুমের বদদোয়ায়। মহানবী (স.) যাদেরকেই বিভিন্ন অঞ্চলের শাসনকার্যের দায়িত্ব দিতেন, সবাইকে মজলুমের বদদোয়া থেকে সতর্ক করেছেন। অর্থাৎ সামান্য অসাবধানতার কারণে যেন কারো ওপর জুলুম না হয়ে যায়। মজলুমের আর্তনাদ আল্লাহর কাছে পৌঁছতে কোনো পর্দা ভেদ করতে হয় না।
ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী কারিম (স.) যখন মুআজ (রা.)-কে ইয়েমেনে পাঠান, তাকে বলেন, ‘মজলুমের ফরিয়াদকে ভয় করবে। কেননা তার ফরিয়াদ এবং আল্লাহর মধ্যে পর্দা থাকে না।’(বুখারি: ২৪৪৮)
জালেমকে যারা সহযোগিতা করে, তাদের সঙ্গে প্রিয়নবী (স.) সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছেন। তাদের হাউসে কাওসার থেকেও বঞ্চিত করা হবে। কাআব ইবনে উজারা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (স.) আমাকে বলেছেন, ‘হে কাআব ইবনে উজরা, আমার পরে যেসব নেতার উদয় হবে আমি তাদের (অনিষ্ট) থেকে তোমার জন্য আল্লাহ তাআলার সহায়তা প্রার্থনা করি। যে ব্যক্তি তাদের দ্বারস্থ হলো (সান্নিধ্য লাভ করল), তাদের মিথ্যাকে সত্য বলল এবং তাদের স্বৈরাচার ও জুলুম-নির্যাতনে সহায়তা করল, আমার সঙ্গে ওই ব্যক্তির কোনো সম্পর্ক নেই এবং এ ব্যক্তির সঙ্গে আমারও কোনো সংস্রব নেই। ওই ব্যক্তি ‘কাওসার’ নামক হাউসের ধারে আমার কাছে আসতে পারবে না।
অন্যদিকে যে ব্যক্তি তাদের দ্বারস্থ হলো (তাদের কোনো পদ গ্রহণ করল) কিন্তু তাদের মিথ্যাকে সত্য বলে মানল না এবং তাদের স্বৈরাচার ও জুলুম-নির্যাতনে সহায়তা করল না, আমার সঙ্গে এ ব্যক্তির সম্পর্ক রয়েছে এবং এ ব্যক্তির সঙ্গে আমারও সম্পর্ক রয়েছে। শিগগিরই সে ‘কাওসার’ নামক হাউসের কাছে আমার সঙ্গে দেখা করবে। হে কাআব ইবনে উজরা, নামাজ হলো (মুক্তির) সনদ, রোজা হলো মজবুত ঢাল (জাহান্নামের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধক) এবং সদকা (জাকাত বা দান-খায়রাত) গুনাহসমূহ মিটিয়ে দেয়, যেভাবে পানি আগুনকে নিভিয়ে দেয়।’ (তিরমিজি: ৬১৪)
নাউজুবিল্লাহ, যার সুপারিশ ছাড়া কেয়ামতের মাঠে গোটা মানব জাতি অসহায় হয়ে পড়বে, সেই নবী (স.) যদি কারো সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন, তাহলে তার চেয়ে পোড়া কপাল আর কে হতে পারে? তাই আসুন, আমরা নিজেরা অত্যাচার থেকে বেঁচে থাকি এবং অত্যাচারীকে যেকোনো ধরনের সহযোগিতা থেকে বিরত থাকি। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। আমিন।