13/12/2018
রাবিতে পরীক্ষার সময়ে মাইকিং-র্যাগ ডে, বিব্রত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা
ওয়াসিফ রিয়াদ, রাবি প্রতিনিধি:
চলছে বছরের শেষ মাস ডিসেম্বর। বছরের এই সময়ে এসে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) অধিকাংশ বিভাগে চলছে চূড়ান্ত পরীক্ষা। সকাল থেকে দুপুর এবং দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দুই শিফটে ভাগ করে চলছে বিভিন্ন বর্ষের এই পরীক্ষা। এদিকে পরীক্ষা চলাকালীন এই সময়ে প্রায় প্রতিদিনই চলছে মাইকিং ও র্যাগ ডে’র মতো অনুষ্ঠানগুলো। এসবের উচ্চ শব্দে পরীক্ষা দিতে মনোযোগ বিচ্যুত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। সিন্ডিকেট থেকে অ্যাকাডেমিক সময়ে মাইকিং ও র্যাগ ডে অনুষ্ঠানের কোন অনুমতি না থাকলেও পরীক্ষা চলাকালীন এসব অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
ক্যাম্পাসে দুই সপ্তাহের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, লোকপ্রশাসন, ইংরেজি, ফোকলোর, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, মনোবিজ্ঞান, ইতিহাস, প্রাণিবিদ্যা, পরিসংখ্যান, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ আরও অনেক বিভাগের চূড়ান্ত পরীক্ষা চলছে। বিভাগগুলো একই সময়ে এসে দুই শিফটে ভাগ করে প্রতিদিন পরীক্ষা নিচ্ছে। এছাড়া কিছু বিভাগে চলছে নিয়মিত ক্লাস।
এসবের মধ্যে গত ২ ডিসেম্বর ক্যাম্পাসে একটি র্যাগ ডে পালিত হয়। পরদিন ৩ ডিসেম্বর নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে অনুষ্ঠানের জন্য ক্যাম্পাসে সারাদিন মাইকিং হয়েছে, সঙ্গে মার্কেটিং বিভাগের একটি বর্ষের ক্লাসপার্টি জন্য বিকেলে বিভাগে উচ্চশব্দে গান বেজেছে। ৪ তারিখে এসে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের মাস্টার্সের র্যাগ ডে অনুষ্ঠিত হয়। ৬ ডিসেম্বর বাংলা বিভাগের র্যাগ ডে এবং ১০ ডিসেম্বর চলে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অনার্সের র্যাগ ডে অনুষ্ঠান। সবশেষ গতকাল বুধবার চলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মাদার বখশ হল সমাপণী অনুষ্ঠান।
এসব অনুষ্ঠানে পুরো ক্যাম্পাস ঘুরে ঘুরে উচ্চশব্দে গান বাজানো হয়। বিভিন্ন বিভাগের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় উচ্চশব্দে মাইকিং ও গান-বাজনার জন্য ওই সময়টুকুতে পরীক্ষার্থীদের লেখা বাদ দিয়ে বসে থাকতে হচ্ছে। ক্লাস থামিয়ে দিয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে শব্দ কমার। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী শ্রাবন্তী আনোয়ার বললেন, গত ৬ তারিখে রবীন্দ্র ভবনে আমাদের পরীক্ষা চলছিল। এসময় ভবন সংলগ্ন রাস্তায় র্যাগ ডে’র শব্দের কারণে টানা ৬ মিনিট পরীক্ষা কক্ষে মনোযোগ হারিয়ে ফেলেছিলাম। আমাদেও ভবনের পাশে টুকিটাকি চত্বরে কিছুক্ষণ অবস্থান করে উচ্চশব্দে গান বাজাতে থাকে। এতে করে আমরা যারা পরীক্ষার্থী ছিলাম বারবার বিব্রতবোধ করি।
শ্রাবন্তী আনোয়ার আরও বলেন, ‘উচ্চশব্দের অনুষ্ঠানগুলো অ্যাকাডেমিক ভবনগুলোর আশেপাশে নিষিদ্ধ করে দিলেই এ সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যায়। অ্যাকাডেমিক ভবনগুলোর এদিক বাদ দিয়েও ক্যাম্পাসে অনেক জায়গা রয়েছে এসব অনুষ্ঠানের। এক্ষেত্রে প্রশাসনের কড়া ভূমিকা প্রয়োজন।’
সমাজকর্ম বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘উচ্চশব্দে আমাদের সমস্যা হচ্ছে জেনেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নেয় না। সন্ধ্যার পর প্রক্টর স্যার ক্যাম্পাসে টহল দিয়ে বেড়ান। অথচ দিনের বেলায় উচ্চশব্দের অনুষ্ঠানগুলোর বিষয়ে তাঁর কোন ভূমিকা দেখি না। এটা কি স্যারের কাজের মধ্যে পড়ে না?
বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে সৈয়দ ইসমাঈল হোসেন সিরাজী ভবন। এই অ্যাকাডেমিক ভবনে ১০টি বিভাগের কার্যক্রম চলে। এই ভবনে ক্লাস হয় ফোকলোর বিভাগের। ওই বিভাগের জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘মাইকিংয়ের উচ্চশব্দ ও র্যাগ ডে‘র গানের শব্দে ক্লাসের পরিবেশ স্বাভাবিক থাকে না। শব্দের কারণে ক্লাসে শিক্ষকরা পাঠদান থেকে অনেকসময় বিরত থাকে। এমনকি পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে এই সমস্যা অনেক বেশি।’
ফোকলোর বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘এসব শব্দে ক্লাস-পরীক্ষা চলাকালীন শিক্ষার্থীরা মনোযোগ হারিয়ে ফেলে। অনেকসময় ক্লাসের পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এছাড়া মাঝে-মধ্যে শিক্ষকরা ক্লাস থেকে বের হয়ে তাদেরকে নিষেধও করেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি একটি শিক্ষাবর্ষের সকল বিভাগের একসঙ্গে একদিনে র্যাগ ডে আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপন করে তাহলে হয়ত এ বিড়ম্বনা পোহাতে হবে না।’
এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করা হয় জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ‘সি-িকেট থেকে অ্যাকাডেমিক সময়ে এ ধরনের মাইকিং বা র্যাগ ডে’র কোন অনুমতি নেই। এগুলো নিষিদ্ধ! তারপরও শিক্ষার্থীরা এসে অনুরোধ করে যে স্যার একটু করবো, কিন্তু তারা অতিরিক্ত করে ফেলে।’