17/04/2026
এমন একটা দেশে থাকলে মাঝে মাঝে সত্যি মাথা কাজ করে না ভাই। নিউজফিড স্ক্রল করে এত রাতে ঘুম আসছে না।
আইন আছে, কিন্তু সেটা ঠিকমতো কাজ করে না। ঘুষ, প্রভাব, অব্যবস্থাপনা আর প্রশাসনের দায়িত্বহীনতার আড়ালে সব হারিয়ে যাচ্ছে। তাই আসল অপরাধী ধরা পড়ে না, আর নিরপরাধ মানুষ মরে। একটা ঘটনা ইনভেস্টিগেট করতে যেখানে সময় লাগার কথা, সেখানে কিছু মানুষ হঠাৎ বিচারক বনে যায়। কোনো প্রমাণ নেই, যাচাই-বাছাই নেই — সরাসরি মারধর, তারপর মৃত্যু।
মানিকগঞ্জের ঘটনাটা শুনে সত্যি মাথা ঘুরে গেছে। গতকাল বনপারিল গ্রামে ৮-৯ বছরের শিশু আতিকা নিখোঁজ হয়, পরে বাড়ির পাশের ভুট্টা খেত থেকে তার হাত-পা বাঁধা মর//দেহ উদ্ধার হয়। এটা শুনলেই বুক কেঁপে উঠে। কিন্তু এরপর যা হলো, সেটা আরও ভয়ংকর।
মূল সন্দেহভাজন নাঈম পালিয়ে গেছে। আর এলাকার মানুষ ক্ষোভে কোনোরকম যাচাই না করেই তার বাবা পান্নু মিয়া (অটোরিকশাচালক), চাচা ফজলু মিয়া আর ভাই নাজমুল — তিনজনকে ধরে পিটিয়ে মা/রে। দুজন ঘটনাস্থলেই মা/রা যায়, নাজমুল গুরুতর আহত। সবচেয়ে ভয়ের ব্যাপার, নারী-পুরুষ সবাই এই কাজটাকে সমর্থন করছে।
একটু ভেবে দেখো। যার জন্য এত রাগ, সে এখনো বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আর যাদের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো প্রমাণই নেই, তাদের জীবন শেষ হয়ে গেল।
এটা বিচার না, এটা আরেকটা অপরাধ। এটা মূর্খতা আর অজ্ঞতা।
হ্যাঁ, মানুষ আইনের উপর ভরসা হারিয়েছে — এটা সত্যি। কিন্তু তাই বলে প্রমাণ ছাড়া কাউকে মেরে ফেলার অধিকার কেউ পায় না। ইতিহাস বলে, এই মব কালচারে অপরাধী না, নিরপরাধরাই বেশি মারা পড়ে।
শেষ পর্যন্ত কী হলো? শিশু আতিকা তার ন্যায়বিচার পেল না, আসল অপরাধীও ধরা পড়ল না। বরং দুজন নিরীহ মানুষ চলে গেলেন।। রেপি//স্টদের নৃশংসভাবে মা//রা দরকার কিন্তু সেটা সত্যতা যাচাই করে প্রমাণ করার পর।।
এভাবে চলতে থাকলে কাল কার সাথে কী হবে, কেউ বলতে পারে না।