24/06/2026
রান্না করতে আমি বরাবরই খুব ভালোবাসি। বিরিয়ানি, রোস্ট, কুনাফা সহ আরো নানান পদের বাহারি রান্না আমার হাতে জনপ্রিয়, শ্বশুরবাড়ি-বাপের বাড়ি উভয় জায়গায়ই!
কিন্তু কখনো ভাবিনি বাপের বাড়ি বসে খাওয়া সিম্পল করলা ভাজি, পুঁই শাক ভাজি কিংবা বেগুন দিয়ে মাছের ঝোল রান্না করা এতো কঠিন হয়ে দাঁড়াবে! আম্মুকে যখন রাঁধতে দেখতাম, ভাবতাম এ আর এমন কি,সহজই তো! কখনো এসব রান্না করতাম না তাই বাসায়। কিন্তু যখন রাজশাহীতে এসে সংসার শুরু করলাম,তখন আর আগের মতো মাংস,বিরিয়ানি ভালো লাগতো না। শাক সবজি খেতে ইচ্ছা করে শুধু। বাজার করে রান্নাও করলাম। প্রথমবার লাল শাক ভাজি করে মনে হলো স্বাদ ছাড়া কোনো মাটি খাচ্ছি। এরপর বেগুন আলু দিয়ে মাছের ঝোল করতে গিয়েও সেই একই হাল! মেস বাড়ির খালার রান্নার চেয়েও বাজে কিছু মনে হলো। আমার রান্না খারাপও হতে পারে তা বুঝলাম যখন পাশে তদারকির জন্য আম্মু নেই। অবশ্য হাভাতে জামাই আমার এতো কিছু বুঝে না। তাকে যা-ই রেঁধে খাওয়াই তাই তার কাছে অমৃত। প্রতিবেলা হাতে তুলে খাইয়ে দেই তাই বোধহয় টের পায় না আর কি খাচ্ছে!
এরপর থেকে আমার মিশন হয়ে গেলো যা-ই রান্না করি,আম্মুর মতো টেস্ট খুঁজে বেড়াই। জানি না কতটুকু পারি। কিন্তু চেষ্টা করছি। এই যেমন সেদিন গরুর লাল ঝোল ভুনা করলাম এক্কেবারে পারফেক্ট আম্মুর মতো। ঢাকায় বহুবার গরু রান্না করেছি বেশ ভালোই। কিন্তু এখানে কেন যেন প্রতিবার রান্নার সময় মাংস গলে একেবারে ঝুরা মাংস হয়ে যেতো। মাংস আর আস্ত রাখতে পারতাম না। স্বাদ যতই ভালো বলুক সবাই। কিন্তু এবার কি সুন্দর যে হয়েছে! রাত হয়ে গিয়েছিলো তাই আম্মুকে কল করে দেখাতে পারিনি। কিন্তু শ্বশুরবাড়ির সবাইকে বেশ বশে এনে ফেললাম বোধহয় এই গরু ভুনা দিয়েই! 😂