12/04/2026
চাকমা সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় এবং প্রধান উৎসব হলো বিজু (Bizu)। এটি মূলত তাদের নববর্ষ বরণের উৎসব, যা বাংলা বছরের শেষ দুই দিন এবং নতুন বছরের প্রথম দিন—এই মোট তিন দিন ধরে অত্যন্ত আনন্দের সাথে পালন করা হয়।
পাহাড়ে এই উৎসবটি বৈসাবি (বৈসু-সাংগ্রাই-বিজু)-র অংশ হিসেবেও পরিচিত।
বিজু উৎসবের তিন দিনের আলাদা আলাদা নাম এবং তাৎপর্য রয়েছে:
১. ফুল বিজু (Phul Bizu)
এটি উৎসবের প্রথম দিন, যা চৈত্র মাসের ২৯ তারিখে (সাধারণত ১২ এপ্রিল) পালিত হয়।
• তাৎপর্য: দিনটি শুরু হয় ভোরবেলায় ফুল সংগ্রহের মধ্য দিয়ে।
• কাজ: সংগ্রহ করা ফুল দিয়ে ঘরবাড়ি সাজানো হয়। একভাগ ফুল বৌদ্ধ বিহারে বুদ্ধের উদ্দেশ্যে এবং অন্যভাগ ফুল নদী বা ছড়ার জলে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। জল ও প্রকৃতির দেবতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং পুরনো বছরের সব গ্লানি ধুয়ে ফেলার কামনায় এই ফুল ভাসানো হয়। সবাই ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে এই দিনে আনন্দ করে।
২. মূল বিজু (Mul Bizu)
এটি উৎসবের দ্বিতীয় এবং প্রধান দিন, যা চৈত্র মাসের শেষ দিনে (৩০ চৈত্র, সাধারণত ১৩ এপ্রিল) পালিত হয়।
• তাৎপর্য: এটি মূলত আপ্যায়ন এবং সামাজিক মিলনের দিন।
• কাজ: প্রতিটি চাকমা ঘরে সেদিন 'পাজন' (Pazon) নামক একটি বিশেষ ঐতিহ্যবাহী খাবার রান্না করা হয়, যা অন্তত ২০ থেকে ৩২ বা ৩৬ রকমের বিভিন্ন শাকসবজি দিয়ে তৈরি। বিশ্বাস করা হয়, এই পাজন খেলে সারা বছর সুস্থ থাকা যায়। এই দিনে পাড়া-প্রতিবেশী এবং আত্মীয়-স্বজনেরা একে অপরের বাড়িতে বেড়াতে যান, পাজন ও পিঠা-পুলি দিয়ে আপ্যায়ন করেন এবং কুশল বিনিময় করেন। বিকেলে ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা যেমন—'ঘিলা খেলা' ইত্যাদির আয়োজন করা হয়।
৩. গোজ্যাপোজ্যা দিন (Gojjepojje Din)
এটি উৎসবের তৃতীয় এবং শেষ দিন, যা বৈশাখ মাসের প্রথম দিনে (পহেলা বৈশাখ, সাধারণত ১৪ এপ্রিল) পালিত হয়। এটি চাকমাদের কাছে 'নতুন বছর' বা 'নু-অ বজর'।
• তাৎপর্য: এটি ধর্মীয় এবং বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের দিন।
• কাজ: এই দিনে চাকমারা সকালে স্নান করে শুদ্ধ হয়ে বৌদ্ধ বিহারে যান। সেখানে বুদ্ধমূর্তি স্নান করানো হয়, বিশেষ প্রার্থনা করা হয় এবং ভিক্ষুদের খাদ্যদান করা হয়। তরুণ-তরুণীরা গ্রামের বয়স্ক মানুষদের স্নান করিয়ে দেন এবং পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ নেন। নতুন বছরের শুভ কামনায় ঘরে ঘরে মোমবাতি জ্বালানো হয়।
ARJAW GYANI @বিজু চাকমা সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় এবং প্রধান উৎসব হলো বিজু (Bizu)। এটি মূলত তাদের নববর্ষ বরণের উৎসব, যা বাংলা বছরের শেষ দুই দিন এবং নতুন বছরের প্রথম দিন—এই মোট তিন দিন ধরে অত্যন্ত আনন্দের সাথে পালন করা হয়।
পাহাড়ে এই উৎসবটি বৈসাবি (বৈসু-সাংগ্রাই-বিজু)-র অংশ হিসেবেও পরিচিত।
বিজু উৎসবের তিন দিনের আলাদা আলাদা নাম এবং তাৎপর্য রয়েছে:
১. ফুল বিজু (Phul Bizu)
এটি উৎসবের প্রথম দিন, যা চৈত্র মাসের ২৯ তারিখে (সাধারণত ১২ এপ্রিল) পালিত হয়।
• তাৎপর্য: দিনটি শুরু হয় ভোরবেলায় ফুল সংগ্রহের মধ্য দিয়ে।
• কাজ: সংগ্রহ করা ফুল দিয়ে ঘরবাড়ি সাজানো হয়। একভাগ ফুল বৌদ্ধ বিহারে বুদ্ধের উদ্দেশ্যে এবং অন্যভাগ ফুল নদী বা ছড়ার জলে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। জল ও প্রকৃতির দেবতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং পুরনো বছরের সব গ্লানি ধুয়ে ফেলার কামনায় এই ফুল ভাসানো হয়। সবাই ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে এই দিনে আনন্দ করে।
২. মূল বিজু (Mul Bizu)
এটি উৎসবের দ্বিতীয় এবং প্রধান দিন, যা চৈত্র মাসের শেষ দিনে (৩০ চৈত্র, সাধারণত ১৩ এপ্রিল) পালিত হয়।
• তাৎপর্য: এটি মূলত আপ্যায়ন এবং সামাজিক মিলনের দিন।
• কাজ: প্রতিটি চাকমা ঘরে সেদিন 'পাজন' (Pazon) নামক একটি বিশেষ ঐতিহ্যবাহী খাবার রান্না করা হয়, যা অন্তত ২০ থেকে ৩২ বা ৩৬ রকমের বিভিন্ন শাকসবজি দিয়ে তৈরি। বিশ্বাস করা হয়, এই পাজন খেলে সারা বছর সুস্থ থাকা যায়। এই দিনে পাড়া-প্রতিবেশী এবং আত্মীয়-স্বজনেরা একে অপরের বাড়িতে বেড়াতে যান, পাজন ও পিঠা-পুলি দিয়ে আপ্যায়ন করেন এবং কুশল বিনিময় করেন। বিকেলে ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা যেমন—'ঘিলা খেলা' ইত্যাদির আয়োজন করা হয়।
৩. গোজ্যাপোজ্যা দিন (Gojjepojje Din)
এটি উৎসবের তৃতীয় এবং শেষ দিন, যা বৈশাখ মাসের প্রথম দিনে (পহেলা বৈশাখ, সাধারণত ১৪ এপ্রিল) পালিত হয়। এটি চাকমাদের কাছে 'নতুন বছর' বা 'নু-অ বজর'।
• তাৎপর্য: এটি ধর্মীয় এবং বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের দিন।
• কাজ: এই দিনে চাকমারা সকালে স্নান করে শুদ্ধ হয়ে বৌদ্ধ বিহারে যান। সেখানে বুদ্ধমূর্তি স্নান করানো হয়, বিশেষ প্রার্থনা করা হয় এবং ভিক্ষুদের খাদ্যদান করা হয়। তরুণ-তরুণীরা গ্রামের বয়স্ক মানুষদের স্নান করিয়ে দেন এবং পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ নেন। নতুন বছরের শুভ কামনায় ঘরে ঘরে মোমবাতি জ্বালানো হয়।
#বিজু #বিজু২০২৬
@বিজু @বিজু২০২৬