24/07/2026
ইসলামে পরিবার—দায়িত্ব শুধু নারীর নয়, পুরুষেরও,
আজকের সমাজে একটি ভুল ধারণা খুব বেশি ছড়িয়ে পড়েছে—স্বামীর কাজ শুধু অর্থ উপার্জন করা, আর স্ত্রী একাই ঘর-সংসার সামলাবে, সন্তান মানুষ করবে, সবকিছু দেখাশোনা করবে। অথচ ইসলাম এমন একপাক্ষিক দায়িত্বের শিক্ষা দেয় না।
ইসলাম পরিবারকে প্রতিযোগিতার নয়, পারস্পরিক সহযোগিতা, ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও রহমতের বন্ধন হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।
📖 আল্লাহ তাআলা স্বামীকে পরিবারের অভিভাবক করেছেন। তাই স্ত্রীর ভরণ-পোষণ, নিরাপত্তা, সম্মান ও উত্তম আচরণের দায়িত্ব তার ওপর অর্পণ করেছেন। একজন স্বামীর প্রকৃত মর্যাদা প্রকাশ পায় সে তার স্ত্রীর সঙ্গে কেমন আচরণ করে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম, যে তার স্ত্রীর কাছে সর্বোত্তম। আর আমি আমার স্ত্রীদের কাছে তোমাদের সবার চেয়ে উত্তম।" (তিরমিযী)
অন্যদিকে, সন্তান শুধু মায়ের নয়; সন্তান বাবা-মা উভয়েরই আমানত। তার ঈমান, চরিত্র, শিক্ষা, আদব-আখলাক ও ভবিষ্যৎ গঠনের দায়িত্ব উভয়ের কাঁধেই সমানভাবে ন্যস্ত।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল, এবং প্রত্যেককেই তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।" (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)
আর সবচেয়ে সুন্দর বিষয় হলো—বিশ্বনবী মুহাম্মাদ ﷺ নিজেই পরিবারের কাজে সাহায্য করতেন। তিনি নিজের কাপড় সেলাই করতেন, জুতা মেরামত করতেন এবং ঘরের কাজে সহযোগিতা করতেন। এতে প্রমাণিত হয়, পরিবারের কাজে সহযোগিতা করা পুরুষের মর্যাদা কমায় না; বরং এটি সুন্নত এবং উত্তম চরিত্রের পরিচয়।
মনে রাখবেন—
একজন ভালো স্বামী শুধু উপার্জনকারী নন, তিনি একজন স্নেহশীল সঙ্গী।
একজন ভালো স্ত্রী শুধু গৃহিণী নন, তিনি স্বামীর শান্তির ঠিকানা।
আর একজন আদর্শ বাবা-মা শুধু সন্তান জন্ম দেন না, বরং তাকে দ্বীনের পথে গড়ে তোলেন।
আসুন, অধিকার নিয়ে তর্ক না করে নিজের দায়িত্ব পালন করি। কারণ সুখী পরিবার গড়ে ওঠে পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা, সম্মান, ত্যাগ ও সহযোগিতার মাধ্যমে—এটাই ইসলামের সৌন্দর্য।
আল্লাহ তাআলা আমাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার তাওফীক দান করুন। আমীন।🤲