25/07/2026
হয়রানি নয়, দ্রুত সেবা: মিঠাপুকুর ভূমি অফিসে বাড়ছে জনগণের আস্থা
___________________________✍
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলা ভূমি অফিসে সেবার মানোন্নয়ন, আমূল সংস্কার এবং নাগরিকবান্ধব নানামুখী পদক্ষেপের ফলে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের জমে থাকা অসন্তোষ দূর হয়ে আস্থা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিবিড় প্রশাসনিক তদারকি, ডিজিটাল ব্যবস্থার কার্যকর প্রয়োগ এবং দালালচক্রের প্রভাবমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলায় বর্তমানে অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যে সেবা পাচ্ছেন সাধারণ জনগণ।
তবে এই ইতিবাচক পরিবর্তন ও সেবা সহজীকরণের মাঝেই সম্প্রতি মিঠাপুকুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশিক জামান ও উপজেলা ভূমি প্রশাসনকে নিয়ে একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ভিত্তিহীন ও একপাক্ষিক তথ্য প্রকাশের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে স্থানীয় সচেতন মহল।
জানা গেছে, সমাজের একটি স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের অন্যায্য ও অবৈধ উদ্দেশ্য হাসিল করতে ব্যর্থ হয়ে সত্য আড়াল করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে প্রশাসনের সৎ কর্মকর্তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।সম্প্রতি একটি যাতায়াতের রাস্তা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংবাদমাধ্যমে আংশিক ও বস্তুনিষ্ঠতাহীন তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা হলো:-যে জায়গাটির ওপর দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তার দাবি তোলা হচ্ছিল, সেটি সম্পূর্ণভাবে এক ব্যক্তির নিজস্ব শতভাগ ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জমি। তদুপরি, ওই এলাকায় চলাচলের জন্য ইতিমধ্যেই একটি সহজ, উপযুক্ত ও ব্যবহারযোগ্য বিকল্প রাস্তা বিদ্যমান রয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যেখানে চলাচলের জন্য একটি বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে, সেখানে একক কোনো ব্যক্তির অযৌক্তিক সুবিধা দেয়ার জন্য আইন লঙ্ঘন করে অন্য কারো নিজস্ব ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে জোরপূর্বক রাস্তা তৈরির কোনো সুযোগ প্রশাসনের নেই। সমাজের সাধারণ জনগণও সত্য ও বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত থাকায় এই অন্যায্য দাবির পক্ষে সাড়া দেয়নি।কিন্তু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীটি প্রকৃত সত্য ও বিকল্প রাস্তার বাস্তবতা সম্পূর্ণ চেপে গিয়ে একক ব্যক্তির উদ্দেশ্যকে হাইলাইট করে একপাক্ষিক সংবাদ পরিবেশন করিয়েছে, যা সাধারণ জনগণকে বিভ্রান্ত করার পাশাপাশি প্রশাসনিক নিরপেক্ষতাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলার চেষ্টা মাত্র।
মিঠাপুকুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশিক জামান বর্তমানে তাঁর মূল দায়িত্বের পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে রংপুর মহানগরেও অত্যন্ত দক্ষতার সাথে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছেন। রংপুর মহানগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকার প্রশাসনিক ব্যস্ততা সত্ত্বেও তিনি প্রতি সপ্তাহে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী মিঠাপুকুরে সরেজমিনে উপস্থিত থেকে ভূমি-সংক্রান্ত সেবা কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করছেন।বর্তমানে সপ্তাহে মাত্র দুই দিন মিঠাপুকুরে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালন করলেও কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে কাজের সুনির্দিষ্ট বণ্টন এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির সুষ্ঠু ব্যবহারের কারণে সেবাগ্রহীতাদের কোনো ধরনের অযথা বিলম্ব বা হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে না।
ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে কাজের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিটি আবেদন নিষ্পত্তিতে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি)-র সরাসরি নজরদারির কারণে সেবা প্রদান প্রক্রিয়ায় এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন।
দীর্ঘদিন ধরে চলা ভোগান্তি ও ফাইল আটকে রাখার সংস্কৃতি বন্ধ হওয়ায় এবং দালালদের দৌরাত্ম্য নির্মূল হওয়ায় সাধারণ সেবাগ্রহীতারা আগের চেয়ে অনেক দ্রুত ও স্বস্তিতে সেবা পাচ্ছেন। সীমিত সময় নিয়ে দায়িত্ব পালন করলেও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশিক জামানের সততা, আন্তরিকতা, প্রশাসনিক দক্ষতা ও জনবান্ধব মনোভাবের কারণে আজ মিঠাপুকুর ভূমি অফিসের রূপ বদলে গেছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, স্বার্থান্বেষী মহলের কোনো ধরনের অপপ্রচারে কান না দিয়ে প্রশাসনের এই সততা, স্বচ্ছতা ও গণমুখী সেবা প্রদানের ধারা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে, যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ভূমি-সংক্রান্ত সেবা গ্রহণ আরও সহজ ও গতিশীল হবে।