07/03/2026
ইরানের অস্ত্রের ভান্ডার কতটুকু শক্তিশালী?
২০১১ সালে আমি তিন মাসের ট্রেনিং এ গিয়ে ছিলাম তখন আমার দেখা দুটি ড্রোন উৎপাদন ব্যাজ দেখি যা গড়ে প্রতিদিন ৩০০ ড্রোন উৎপাদন করতে সক্ষম ছিল।
২০১৩ সালে আমরা যৌথভাবে নাইজেরিয়াতে কাজ করি তখন আমেরিকা ও অন্যান্য দেশ ছিল, নাইজেরিয়াতে আমরা ইরানের ড্রোনের ঝলকানি দেখেছি। এরপর আমরা ইতুপিয়া, দক্ষিণ সোমালিয়া, ঘানা ও আরো অন্যান্য দেশগুলোতে যৌথভাবে কাজ করেছি।
২০১৭ সালে আবার ইরানে যাওয়া হয়েছিল টিমের সেকেন্ড কমান্ড হিসেবে তখন আমরা দেখেছি মাটির কয়েক শত গভীরে ড্রোন ও অন্যান্য অস্ত্র উৎপাদন ব্যাজ। তখন যে কয়টি ড্রোন ব্যাজ দেখেছি, এক একটি উৎপাদন ব্যাজ গড়ে প্রতিদিন ৮০০ প্লাস ড্রোন উৎপাদন করতে সক্ষম ছিল।
আমাদের হিসাব অনুযায়ী কমপক্ষে ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে সব মিলিয়ে ২০টির বেশি ড্রোন উৎপাদন ব্যাজ রয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ব্যাজের কথা বাদই দিলাম এইগুলো আরো বেশি এবং মাটির অনেক গভীরে। সে হিসাব করলে সম্পন্ন ইরানের ভূমির নিচে আর একটা ইরান।
বর্তমানে ইরান একাই ১১ টি দেশের সাথে লড়াই করে যাচ্ছে, কেউ যদি ইরানকে হালকাভাবে নেয় সেতো অনেক বড় ভুল করবে। ইরানের সাথে যুদ্ধ লাগবে এসব বিষয়ে আমরা আরো ছয়মাস আগে থেকেই অবগত ছিলাম কিন্তু এইখানে কিছুটা ধারণা ভুল ছিল আমাদের, আমরা জানি শুধু মাত্র আমেরিকা ও ইস/রাই/লের সাথে লড়াই করবে কিন্তু ইরান আঙ্গুল দিয়েছে সবার ফুটকিতে এবং ন্যাংটো জোটের উপর পর্যন্ত দিয়েছে, কিছুদিনের মধ্যে ভারতের ফুটকিতে দিবে, এর মানে ধীরে ধীরে সবগুলো কে মাঠে নামাবে।
ইরানকে নিষেধাজ্ঞা জারি করে এমন পরিস্থিতি করে রেখেছে ইরানের টিকে থাকতে হলে লড়াই করা ছাড়া বিকল্প অন্য কিছু নেই, ইরান ঠিক ঐ কাজটি করে যাচ্ছে আর বিশ্বের সেরাদের ঘুম হারাম করে দিয়েছে।
ইরানের সাথে কখনো স্থল যুদ্ধ করে পারবে না এটার কারণ হচ্ছে ভৌগলিক অবস্থানের কারণে এবং ইরানের ভেতরে যুদ্ধবিমান গিয়ে যুদ্ধ করবে এমন সাহস এখন পর্যন্ত হয়নি, ইরানের ভেতরে যতো হামলা হচ্ছে তা ২ থেকে ৩ শত কিলোমিটার দূর থেকে বর্ডারের বাহির থেকে মারতাছে। আমেরিকার আধুনিক প্রযুক্তির যতগুলো ড্রোন ইরানের মধ্যে প্রবেশ করেছে এখন পর্যন্ত একটাও ফিরে আসেনি এবং আমেরিকার তৈরি F-35 পর্যন্ত ভূপাতিত করেছে।
ইরান এখন যেভাবে একা সবার সাথে লড়ে যাচ্ছে এইভাবে ইরান দুই বছর আরামে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে অস্ত্রের ভান্ডার খালি হবে না। সবার মাথা ব্যথার কারণ এইখানে। ইতিমধ্যে অনেক দেশের বিলিয়ন বিলিয়ন মার্কিন ডলার লোকসান গুনতে হচ্ছে। এইভাবে চলতে থাকলে খাদ্য জ্বালানি সংকট দেখা দিবে বিশ্বজুড়ে।
তবে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হবার সম্ভাবনা রয়েছে অনেক বেশি, আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন আমীন।
(সেনাবাহিনীর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পোস্ট থেকে নেওয়া।)