03/11/2025
“অন্ধকার পর্দার পেছনের ফাঁদ”
রাত ১টা বাজে।
সবাই ঘুমিয়ে গেছে।
একটা ঘরে একা বসে আছে নাফিস(ছদ্মনাম)— শান্ত, নিরীহ, মেধাবী এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র।
কিন্তু ওর চোখের সামনে খোলা আছে একটা পর্দা — মোবাইল স্ক্রিন।
ইউটিউব থেকে শুরু, তারপর ধীরে ধীরে অন্য সাইটে চলে যায়।
ও ভাবে, “এই একবারই তো দেখছি… তারপর আর না।”
কিন্তু এটাই ছিল ফাঁদ।
---
🔥 প্রথম অধ্যায়: “ব্রেইনের প্রতারণা”
প্রথমে নাফিস বুঝতেই পারেনি কী হচ্ছে।
প্রতিবার পর্ন দেখার পর, ওর মস্তিষ্কে এক রাসায়নিক ঢেউ ওঠে —
নাম ডোপামিন।
এই ডোপামিন ওকে মুহূর্তের জন্য এক অদ্ভুত আনন্দ দেয়, যেন সব স্ট্রেস উড়ে গেল।
কিন্তু পরের দিন যখন নামাজে দাঁড়ায়, বুকের ভেতর একটা ভারী অপরাধবোধ জমে।
ও ভাবে,
> “আমি কেন এটা থামাতে পারছি না?”
কিন্তু ও জানে না,
এটা কোনো “ইচ্ছার দুর্বলতা” না —
এটা এক বায়োলজিক্যাল ফাদ।
---
🧠 দ্বিতীয় অধ্যায়: “ডোপামিনের শিকল”
আমাদের ব্রেইন এমনভাবে বানানো —
যে যখনই কোনো উত্তেজনামূলক জিনিস দেখি বা করি,
ডোপামিন বের হয়।
এই হরমোন আমাদের বলে,
> “দারুণ লেগেছে, আবার করো!”
নাফিসের ব্রেইনও তাই ভাবতে শুরু করল।
প্রতিদিন একটু একটু করে সে অভ্যস্ত হয়ে গেল।
আগে যেটা ৫ মিনিট দেখত, এখন লাগে ৩০ মিনিট।
আগের মতো আনন্দ আসে না, তাই আরও নতুন, আরও অশ্লীল কন্টেন্ট খোঁজে।
এভাবেই মস্তিষ্কের ডোপামিন রিসেপ্টর নিস্তেজ হতে শুরু করে —
অর্থাৎ, আনন্দ পেতে আরও বেশি উদ্দীপনা লাগে।
এই অবস্থাকে বিজ্ঞানীরা বলেন ডোপামিন টলারেন্স।
এটাই আসল ফাঁদ।
---
💔 তৃতীয় অধ্যায়: “মনস্তাত্ত্বিক ক্ষয়”
নাফিস এখন আগের মতো মনোযোগ দিতে পারে না,
পড়াশোনায় মন বসে না,
চোখে ক্লান্তি, মনে লজ্জা, আত্মবিশ্বাস তলানিতে।
ও ভাবে, “আমি একা নষ্ট হয়ে যাচ্ছি।”
কিন্তু সত্য হলো — ও একা না।
বিশ্বজুড়ে লক্ষ কোটি তরুণ এই ফাঁদে আটকেছে।
কারণ তারা জানে না, এটা কেবল নৈতিক না, নিউরোলজিক্যাল আসক্তিও বটে।
ম
---
🌙 চতুর্থ অধ্যায়: “আলোয় ফেরা”
একদিন ওর শিক্ষক ক্লাসে বলছিলেন,
> “যে নিজের চোখ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, সে নিজের জীবন নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।”
ওর বুক কেঁপে উঠল।
সেদিন রাতে ও মোবাইলটা দূরে রেখে নামাজে দাঁড়াল।
আল্লাহর কাছে কেঁদে বলল,
> “আমাকে এই ফাঁদ থেকে বাঁচাও।”
প্রথমে কষ্ট হচ্ছিল —
ব্রেইন পুরনো ডোপামিন চাইছিল, অস্থির হচ্ছিল।
কিন্তু ও ধীরে ধীরে শিখল,
যখন শরীর অস্থির হয়, তখন আত্মাকে শান্ত করো।
ও এখন সকালে হাঁটে, ব্যায়াম করে, কুরআন পড়ে, পরিবারকে সময় দেয়।
ধীরে ধীরে তার ব্রেইন রিওয়ার্ড সিস্টেম ঠিক হতে শুরু করে।
ডোপামিন এখন বই পড়ার আনন্দে, নামাজের শান্তিতে, মানুষের হাসিতে বের হয়
***ডোপামিন একেবারে খারাপ কিছু নয় —
এটা আপনার ব্রেইনের পুরস্কার ব্যবস্থা।
কিন্তু যদি আপনি এটাকে হারাম উত্তেজনায় খাওয়ান,
এটা আপনার মনকে মেরে ফেলবে।
আর যদি এটাকে হালাল আনন্দে — নামাজ, জ্ঞান, কাজ, ভালোবাসা, দায়িত্বে — খাওয়ান,
এটা আপনাকে আল্লাহর কাছে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।
> “যে নিজের চোখকে হারাম থেকে ফিরিয়ে রাখতে পারে,
আল্লাহ তাকে এমন আলো দেন যা তার সম্মান,রিজিক এবং বরকত বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়"