21/05/2026
রাজধানীর এক বাবার বুকফাটা আর্তনাদ আজ নাড়া দিয়েছে পুরো দেশকে। ছোট্ট রামিসা—যে ছিল তার বাবার পৃথিবীর সবচেয়ে আদরের মানুষ, আজ সে নেই। আর সেই শূন্যতা মেনে নিতে না পেরে বারবার ভেঙে পড়ছেন অসহায় এই বাবা।
তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন,
“আমি এই কলিজার টুকরা ছাড়া থাকবো কেমনে? আমার বাচ্চাটা আমি ঘরে ঢোকার আগেই ফ্রিজে আমার জন্য শরবত বানিয়ে রাখতো। সারাদিন ফোন দিয়ে বলতো—‘বাবা তুমি কখন আসবা?’ দিনে ৫০-১০০ বার কল দিতো আমাকে। আটটা বছর আমি আমার বুকের মধ্যে নিয়ে ঘুম পাড়াইছি, আজ আমি কার সাথে ঘুমাবো?”
এই কথাগুলো শুধু একজন বাবার কান্না নয়, এটা যেন প্রতিটি সন্তানের প্রতি একজন বাবার সীমাহীন ভালোবাসার প্রতিচ্ছবি।
রামিসা ছিল পরিবারের স্বপ্ন, আনন্দ আর বেঁচে থাকার কারণ। পপুলার স্কুলের মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে সে ছিল সবার গর্ব। ছোট্ট মেয়েটার হাসি, সরলতা আর বাবাকে ঘিরে তার ভালোবাসা এখন শুধুই স্মৃতি।
রামিসার বাবা আরও বলেন, জীবনে তিনি কারও সঙ্গে অন্যায় করেননি, কারও সঙ্গে তর্ক পর্যন্ত করেননি। অথচ আজ তাকে মানুষের কাছে হাতজোড় করে বিচার চাইতে হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন—
“আমার অপরাধটা কী ছিল? যদি কোনো দোষ করে থাকি, আমাকে প্রকাশ্যে শাস্তি দিক। কিন্তু আমার নিষ্পাপ বাচ্চাটাকে এভাবে কেড়ে নিল কেন?”
ভিডিওতে তাঁর কান্না আর অসহায় আর্তনাদ শুনে অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। কারণ, একটি শিশুর প্রতি এমন নির্মমতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। একজন বাবা-মায়ের জন্য সন্তানের মৃ'ত্যু এমনিতেই অসহনীয়, সেখানে নিষ্ঠুর সহিংসতার মাধ্যমে সন্তানকে হারানো যেন জীবন্ত দুঃস্বপ্ন।
এখন রামিসার বাবার একটাই দাবি—এই মামলায় যেন কোনো ধরনের গাফিলতি না হয়। তদন্ত সঠিকভাবে শেষ করে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ফাঁকফোকর বা আইনি দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে যেন কেউ পার পেয়ে যেতে না পারে।
দেশের মানুষও আজ একই দাবি জানাচ্ছে—একটি নিষ্পাপ শিশুর প্রতি এমন নৃশং'সতার বিচার দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে হোক। যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো বাবা এভাবে বুক চাপড়ে বলতে না বাধ্য হন,
“আমি আমার কলিজার টুকরা ছাড়া বাঁচবো কেমনে…” 💔