31/12/2022
[এই পোস্ট পড়ার পরে হাদিয়া নিতে বিকাশ নাম্বার দিন ইনবক্সে]
ধরেন আজকে আপনি মরে গেলেন। সবাই খুব ব্যাস্ত হয়ে যাবে আপনাকে নতুন বাড়িতে রেখে আসার জন্য। কেউ জিজ্ঞাসা করবে না পছন্দ হয়েছে নাকি হয় নাই। কিন্তু আপনাকে রেখে চলে আসবে সবাই। এর পর একটু শোখ পালন করবে । তারপর সবাই অনেক মজা করে খাবার খাওয়া শুরু করবে। অনেকে খাবার এর টেস্ট ভালো হয় নাই তা নিয়েও কথা বলবে।
একটু চিন্তা করে দেখেন তো গুনে গুনে গত ১ বছরের মধ্য ৩৬৫ টা ভালো কাজের লিস্ট করতে পারবেন? নামাজ পড়া, পর্দা করা, সুন্নাত মেনে চলা, ব্যাসিক জিনিশ গুলোই তো আমাদের ঠিক নাই।
আর ভালো কাজের লিস্ট করবো কোথা থেকে !
নিজের ফেসবুকের ওয়ালে তাকালে, ইনেস্টায় নিজের ওয়েস্টার্ন লুক, ফোনের ব্রাউজার হিস্ট্রি, টিকটক, নেটফ্লিক্স , এইসবের হিস্ট্রি দেখেলেই তো দুনিয়াতে বসেই হিসাব নিকাশ করে ফেলা যাবে - কি হতে যাচ্ছে ।
একটা ডান্স মুভ শেখার জন্য যে পরিমান কস্ট করছেন সেটার এক অংশ ও কি দ্বীনের কিছু শেখার পিছনে দিচ্ছেন ?
স্লামালাইকুম (আসসালামু আলাইকুম), ইনশাআল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, মাশাল্লাহ বললেই মুসলিম হয়ে যায় না।
পরিবার, সমাজ থেকে আমরা যে সব কিছু নরমালাইজ করে ফেলেছি সেগুলা যে কত বড় অপরাধ এর কাজ , আর কি পরিমান ঘুনাহ হচ্ছে একবার যদি বুঝতে পারি তাহলে অনুতাপ করতে করতেই দিন শেষ হয়ে যাবে।
নামাজ পড়ার ব্যাপারে তো আমাদের কোনো প্রকার গুরুত্বই নেই। দেখা যায় ফ্যামিলির মুরুব্বিগণ, বাবা, মা - ঠিকই নামাজ পড়তেছে কিন্তু ছেলে মেয়েদের নামাজের কোন খেয়াল নেই।
পরিবারের মা ঠিকই পর্দা করছে কিন্তু মেয়ের কোন খবর নেই। বেসিক ওড়না পর্যন্ত ব্যবহার করা এখন উঠে গেছে, আর ওয়েস্টার্ন ড্রেস তো এখন নর্মালাইজ, স্বাভাবিক খাবার খাওয়ার মতো ব্যাপার।
এখন মনে হতে পারে - আমি তো নামাজ পড়ি না, রোজা রাখি না , কুরআন পড়তে পারি না, ঠিক মত পর্দা করি না , আল্লাহ্ কি আমাকে ক্ষমা করে দিবেন ?
জী, আল্লাহ্ শিরক ছাড়া অন্যান্য গোনাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করবেন ( সুরা নিসা) । তাই তাওবা করে ফিরে আসেন ।
যখন আপনি আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করা শুরু করবেন। দেখবেন দুনিয়াটাও শান্তির লাগবে। মনের বিষন্নতা কেটে যাবে। রাতে শান্তির ঘুম হবে। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা থাকবে না।
অনেক তো জ্ঞানি কথা বললাম, প্রশ্ন করতে পারেন আমি কি সব কিছু মেনে চলি ? ( তোমরা যা কর না, তা বলা আল্লাহর কাছে খুবই অসন্তোষজনক ) কিন্তু চেস্টা করতেছি মেনে চলার। আর নিজে সঠিক পথে চলার পাশাপাশি আরেকজন কে সতর্ক করাও একটা বড় কর্তব্য । না হলে তার হিসাব ও দিতে হবে।
ফেসবুকের একটা পোস্ট দিয়ে কিছুই হবে না , আর আমার মাস অডিয়েন্স এর কাছে পৌছানোর ও কোণ প্রয়োজন নাই , গেলেও আমার সেই পরিমান জ্ঞান নাই যে কাউকে উপদেশ দিতে পারবো। কিন্তু যতটুকু জানি ততটুকুই মানুশকে শেখানোর / জানানোর চেস্টা করি। ১ জনের ও যদি মনের মোধ্য নতুন করে অনুশোচনা তৈরি হয় সেটাই প্রাপ্তি।
নতুন বছরের নতুন করে শুরু করা হোক ইসলাম প্রাকটিসের মাধ্যমে। ধরেই নিচ্ছি সবকিছু চেঞ্জ করে ফেলা সম্ভব না। একটু একটু করে পরিবর্তন আনতে হবে।
খুবই ব্যাসিক কিছু বিষয় যেমন -
1. নিয়মিত নামাজ পড়া
2. নামাজের তরিকা আদব-কায়দা সম্পর্কে জানা
3. সহি শুদ্ধ করে কোরআন তেলাওয়াত শেখার চেষ্টা করা
3. ছোট ছোট সুন্নতগুলো পালনের চেষ্টা করা
4. সুন্দর এবং মার্জিত পোশাক পরিধান করা
5. পর্দা সম্পর্কে শেখা এবং পর্দা করার চেষ্টা করা
6. তাকওয়াবান এবং সৎ হওয়ার চেস্টা করা
7. নিজের চরিত্রের প্রতি খেয়াল রাখা
ব্যাবসায়ের ক্ষেত্রে
1. দুইটাকা লাভের আশায় হালাল কে হারাম এর সাথে মিক্স করে ফেলবেন না ( বিশেষ করে অনালাইনে পাবলিশার ভাই গন এই বিষয়টা খেয়াল রাখবেন)
2. অন্যর হক কোন ভাবেই নস্ট করবেন না , যার যার প্রাপ্য তাকে দিয়ে দিন
3. দুই চার টাকা যা আয় করেন এখন থেকেই দান করার অভ্যাস করতে থাকেন
4. আর কিছুদিন পর এই বাজে অভ্যাস ছেড়ে দিবেন , এমন চিন্তা যদি থেকে থাকে ফিরে আসুন আজকেই ছেড়ে দিন।
5. পরিপূর্ন হালাল উপার্জন এর চেস্টা করেন , দেখবেন বরকত হচ্ছে।
এমন ভাবে জীবনটাকে চালানোর চেষ্টা করেন যাতে আপনি যদি আজকে মরে যান কালকে যাতে আপনার মনের মধ্যে কোন প্রকার অতৃপ্তি না থেকে যায় , যে দুনিয়াতে বেঁচে থাকলে আমি একজনের টাকা পরিশোধ করতাম বা আরো পাঁচটা ভালো কাজ করতাম কিংবা সুন্নতি দাড়িটা রেখে দিতাম।
ছোট ছোট করে শুরু করো আল্লাহ আমাদের সবাইকে বোঝার তৌফিক দান করুক আমিন।
এখন পর্যন্ত কেউ পড়ে থাকলে অনেক ধন্যবাদ, আপনি আমাকে নক দিতে পারেন, নতুন বছর উপলক্ষে আপনাকে একটা হাদিয়া পাঠিয়ে দিবো , এই শর্তে যে আপনি নিউ ইয়ার এর কিছুই উৎযাপন করবেন না , বা এই ধরনের কাজ থেকে দূরে থাকবেন। সৎ উদেশ্য নিয়ে পোস্ট টা শেয়ার দিলেও আপনার জন্য বিশেষ হাদিয়ার ব্যাবস্থা করা হবে।