16/01/2026
ধোঁকার রঙ**
রাত তখন অনেক। শহরের সব আলো নিভে গেছে, শুধু মোবাইলের স্ক্রিনটা জ্বলছে। আরিফ বারবার একই চ্যাটটা স্ক্রল করছে। শেষ মেসেজটা তারই লেখা—
**“ভালো আছো তো?”**
কিন্তু তার নিচে আর কোনো রিপ্লাই নেই। তিন দিন। তিনটা লম্বা দিন। অথচ একসময় এই মানুষটাই এক ঘণ্টা রিপ্লাই না দিলে রেগে যেত।
আরিফ জানালার পাশে বসে আছে। বাইরে হালকা বৃষ্টি। তার মাথার ভেতরও ঠিক তেমনই ঝরছে স্মৃতি।
নিশা ছিল তার প্রেমিকা। শুধু প্রেমিকা না—তার বিশ্বাস, তার অভ্যাস, তার প্রতিদিনের গল্প। সকাল শুরু হতো নিশার “ঘুম ভাঙলো?” মেসেজে, আর রাত শেষ হতো “স্বপ্নে এসো” বলে। আরিফ ভেবেছিল, কিছু মানুষ থাকে যাদের ছেড়ে যাওয়া অসম্ভব।
কিন্তু সে ভুল ভেবেছিল।
সবকিছু বদলে গেল হঠাৎ করেই। নিশা আগের মতো কথা বলে না। কল করলে ব্যস্ত, মেসেজে শুকনো রিপ্লাই। আরিফ নিজেকে বোঝাতে চেয়েছিল—হয়তো চাপ আছে, হয়তো সমস্যা চলছে। সে প্রশ্ন করেনি, কারণ সে বিশ্বাস করত।
একদিন বিকেলে, বন্ধুর কাছ থেকে একটা ছবি এলো। খুব সাধারণ ছবি—ক্যাফের টেবিল, দু’কাপ কফি, আর পাশে নিশা। কিন্তু তার সামনে আরিফ না। অন্য একজন। খুব কাছাকাছি বসে আছে তারা। এমনভাবে, যেভাবে একসময় আরিফ আর নিশা বসতো।
হাতটা কেঁপে উঠেছিল আরিফের। বুকের ভেতরটা হঠাৎ ফাঁকা হয়ে গেল।
সে নিশাকে কল দিলো। অনেক রিংয়ের পর কল ধরলো।
—“ব্যস্ত আছি, পরে কথা বলবো।”
কণ্ঠটা ছিল ঠান্ডা। অপরিচিত।
আরিফ আর চুপ থাকলো না। সে সব জানতে চাইল। প্রশ্ন করলো, অনুরোধ করলো, এমনকি নিজের দোষ খুঁজে নিলো। কিন্তু নিশা শুধু একটা কথাই বললো—
**“আমি আর আগের মতো অনুভব করি না।”**
এই এক লাইনের ভেতরেই ভেঙে পড়লো একটা মানুষ।
নিশা স্বীকার করলো, সে অন্য কারো সাথে কথা বলছিল। অনেকদিন ধরেই। আরিফ জানতই না। যে মানুষটা তাকে ভালোবাসার কথা বলতো, সেই মানুষটাই প্রতিদিন তাকে ধোঁকা দিচ্ছিল।
আরিফ কাঁদেনি তখন। আশ্চর্যভাবে চোখে পানি আসেনি। শুধু মনে হচ্ছিল, কেউ যেন ভেতর থেকে কিছু একটা ছিঁড়ে নিয়ে গেছে। বিশ্বাস নামের জিনিসটা।
রাতের পর রাত সে জেগে থেকেছে। নিজেকে প্রশ্ন করেছে—
আমি কি কম ছিলাম?
আমি কি যথেষ্ট ভালোবাসিনি?
কিন্তু ধীরে ধীরে সে বুঝেছে—ধোঁকার কারণ কখনোই একজনের ঘাটতি না। ধোঁকা দেয় তারা, যারা নিজের ভেতরের শূন্যতা লুকাতে পারে না।
অনেকদিন পর একদিন, আরিফ আবার সেই জানালার পাশে দাঁড়ালো। বৃষ্টি নেই। আকাশ পরিষ্কার। সে নিশার চ্যাট ডিলিট করলো। ছবি, মেসেজ, সব।
ব্যথা তখনও আছে। কিন্তু সে ব্যথার সাথে একধরনের শক্তিও এসেছে।
কারণ আরিফ শিখে গেছে—
যে মানুষ বিশ্বাস ভাঙে, সে আর কখনো ভালোবাসার যোগ্য থাকে না।
আর যে ধোঁকা খেয়েও উঠে দাঁড়ায়, সে আসলে হেরে যায় না—সে বড় হয়।
#ভালোবাসা #গল্প
Hi