04/09/2026
আমার ছেলেডারে আপনেরা খুইজ্যা বাইর করেন, কতোদিন ছেলেডারে দেহিনা, আদর করবার পারিনা’- বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন হাজেরা বেগম। আড়াই মাস আগে হারিয়ে যাওয়া ছেলের জন্য বিভিন্ন স্থানে গেলেও খোঁজ মেলেনি ১৩ বছর বয়সী কিশোর ইমরান খানের। ইমরানকে হারিয়ে মা হাজেরা বেগম ও বাবা চুন্নু খানের কান্না যেন কিছুতেই থাকছে না। ইমরানের বাবা’র আর্তি- ‘লাশ না হলেও হাড়গোড় গুলা আইন্যা দেন, তবুও মনডা শান্তি পাইতো।’
ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের ইউসুফদিয়া ভদ্রপাড়া গ্রামের হতদরিদ্র চুন্নু খান ও হাজেরা বেগম দম্পত্তির বড় ছেলে ইমরান খান। পরিবারের অভাবের কারণে মাঝে মধ্যেই বাবার ব্যাটারিচালিত ভ্যানটি নিয়ে বের হতো রোজগারের আশায়। গত ১৪ জুন প্রতিবেশী শামীম মোল্লা ধান ভাঙানোর কথা বলে চুন্নু খানের কাছ থেকে তার ভ্যানটি চেয়ে নেয়। ভ্যান নিয়ে ইমরান বের হয়। এরপর থেকে আর কোন খোঁজ মেলেনি ইমরানের।
ইমরান নিখোঁজ থাকায় প্রতিবেশী শামীমের কাছে জানতে চাইলে বিভিন্ন সময় অসঙ্গতিপূর্ন ও অস্পষ্ট তথ্য দেয় বলে অভিযোগ পরিবারের। ইমরান নিখোঁজের পর ১৭ জুন বিকেলে পুলিশ সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের কুমারপট্রি গ্রামে শামীমের আত্মীয় এলিনা বেগমের বাড়ি থেকে ভ্যানটি উদ্ধার করে।
পরবর্তীতে একটি পাটখেত থেকে ইমরানের ব্যবহৃত জুতা ও একটি কোদাল উদ্ধার করা হয়। কিন্তু কিশোর ইমরানের কোন হদিশ পায়নি পুলিশ কিংবা পরিবার।
এ ঘটনায় ইমরানের বাবা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে সালথা থানায় মামলা করেন। পুলিশ এ ঘটনায় বিভিন্ন স্থান থেকে সাতজনকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত শামীমের বাবা টুকু মোল্যা, স্ত্রী সাথী বেগম, আত্মীয় এলিনা বেগম, রাসেল মাতুব্বর রয়েছেন। এদের মধ্যে দুইজন কারাগারে থাকলেও বাকিরা জামিনে রয়েছেন। তবে মামলার প্রধান অভিযুক্ত শামীম মোল্যা পলাতক থাকায় তাকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
ইমরানের বাবা চুন্নু খান ক্ষোভ ও আকুতি জানিয়ে, ‘আমার ছেলে বাইচ্যা আছে না মইর্যা গেছে, কিছুই জানি না। আড়াই মাস ধইর্যা খুঁজতে খুঁজতে দিশেহারা হয়ে পড়ছি। পুলিশ অহনোও কোন কুল কিনারা করবার পারলোনা।’
মা হাজেরা বেগম বলেন, ‘ভ্যান পাইলেও আবার বাবারে পাইলাম না। ওরা আমার বাবাডারে কি মাইরা ফেলাইছে, ওগো আমি ফাঁসি চাই।’
মামলার বিষয়ে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান জানান, ‘মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে দুজন কারাগারে আছেন। তবে মূল অভিযুক্ত শামীম পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। শামীমকে ধরা গেলেই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটিত হবে বলে আশা করছি।’