13/11/2025
এমিল দাদা তাড়াতাড়ি সুস্থ হোক ...
তীব্র শীতে নেবুলাইজেশনের দিনগুলি আমার ও মনে পরে গেলো..
রবিবার সারারাত কাশি আর শ্বাসকষ্ট।
রাত জেগে নিঃশ্বাস কাউন্ট করলাম আর ভোররাতে ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিলাম।
মুস্তাফিজকে টেক্সট করে রাখলাম, অফিস যেও না, ডাক্তারের কাছে নিতে হবে। (ও ঘুমাচ্ছিল)
সকালে আটটার সময় এমিল ঘুমাচ্ছে কোনো শব্দ ছাড়াই। রাতে শব্দ হচ্ছিলো।
দুজন মিলে সিদ্ধান্ত নিলাম ঘুমিয়ে নিক। তারপরে অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নিবো।
এমিল উঠলো নয়টায়। উঠেই তার খেলাধুলা শুরু। কিছুক্ষণ লেখে, কিছুক্ষণ আঁকে। কথা বলে। দৌড়ায়।
দেখে বোঝা যায় না রাতটা কেমন ছিলো।
আবহাওয়া পূর্বাভাস দেখলাম পরদিন বেশ ঠাণ্ডা আর তুষারপাত। ভাবলাম পরদিনের আশা না করে আজকেই আমি কষ্ট করে নিয়ে যাই। অক্সিজেন লেভেল ঠিক আছে কিনা জানতে চাচ্ছিলাম। এটা তো আর ঘরে বসে বোঝা যাবে না।
এমিলকে সঙ্গে নিয়ে ট্রেনে চড়ে ১৫ মিনিট হেঁটে ডাক্তারের অফিস গেলাম। সে সেখানেও খেলাধুলা, গল্প জুড়ে দিলো। ডাক্তার মেপে দেখলো কিছুই নেই— না জ্বর, না কোনো শ্বাসের সমস্যা। এমনকি একবার কাশেওনি।
আমি যখন বললাম রাতে ব্রিদিং ছিলো ৪০/মিনিট, সে অবিশ্বাসের চোখে তাকালো। আমি শ্বাসের সাথে বাঁশি বাজার শব্দটাও বললাম।
ও হেসে বলল, মায়েদের এরকম বেশি বেশি মনে হয়।
সোমবার রাতে ঘুমাতে পারল না সে। এবার আর ভুল করলাম না। মোবাইলে ভিডিও করে রাখলাম।
ভোরের সূর্যোদয়ের সাথে ঝর ঝর করে তুষার পড়তে শুরু করল।
এমিল ঘুমাতে পারলো না আর সারাদিন। শ্বাসকষ্ট, কাশি আর ঘড়ঘড় শব্দ। এবার ডাক্তারকে ভিডিও পাঠালাম। কল দিলো দুপুরে। বলল এক্ষুণি হাসপাতালে নিয়ে যাও।
গেলাম জরুরি বিভাগে। মিনিটে ৪০ বার শ্বাস নিচ্ছে তাই সে সিরিয়াস রোগী হিসেবে ভর্তি হলো। স্টেরয়েড দিলো। নেবুলাইজ করলো। টেস্ট করে কিছু পেলো না।
রাত দশটায় বাসায় নিয়ে গেলাম। সম্পূর্ণ সুস্থ।
সকাল আটটায় কাশতে কাশতে ঘুম ভাঙল। একটু খেলল, একটু গান শুনলো। দুপুর থেকে শুরু হলে কান্না। ঘুমানোর চেষ্টা করছে আর বলছে— আমি পারছি না।
তখনই হাসপাতাল থেকে ফোন। গতরাতের ফলো আপ করার জন্য। আমি বললাম, আজকে আরো খারাপ। ৪৮ শ্বাস/মিনিট। নার্স বলল, নিয়ে আসো এক্ষুণি।
এমিলের ঘুম ভাঙলে পরে রওনা হলাম জরুরি বিভাগে। বুকের এক্সরে করল। নিউমোনিয়া বা এরকম কোনো ইনফেকশন নেই। জীবনে প্রথম হাতে ক্যানুলা করলো। দিলো স্যালাইনের সাথে ওষুধ। তারপরে আবার শুরু হল নেবুলাইজেশন।
এর মধ্যে রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট এসে গেল। সেখানেও কোনো সমস্যা নেই। রাত তখন ১২ টা। নেবুলাইজ করে চার ঘণ্টা অপেক্ষা করবে। আবার নেবুলাইজ করবে। আবার পরীক্ষা করবে।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ১
#পারমিতার_প্রতিদিন