21/11/2025
সন্ধ্যা হলে রংপুর খামার মোড়ে পরীরা নামে!!
রংপুরে সন্ধ্যা নামে একটু ধীর তালে। সঙ্গে থাকে একঝাঁক "পরী"। আর ঠিক সেই মুহূর্তে খামার মোড় যেন শহরের বুকের ওপরে নরম আলোয় সাজানো এক স্বপ্নমঞ্চ হয়ে ওঠে।
স্পেশাল কন্ট্রিবিউটর rangpur360
সন্ধ্যা নামলেই রংপুর শহরের কিছু জায়গা নিজেকে অন্যরকম করে তোলে। খামার মোড় ঠিক সেরকম—যেখানে দিনের ব্যস্ততা গলে যায়, আর মানুষগুলো একটু কবিতা হয়ে ওঠে। আলো-আঁধারের ফাঁকে এই মোড়ে যেন বাস্তব আর কল্পনা হাত মেলায়, আর বাতাসে মিশে থাকে এক অদৃশ্য মায়া।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, কারমাইকেল কলেজসহ বিভিন্ন কলেজের স্বপ্নভেজা তরুণ-তরুণীরা দিনের হাজার গল্প রেখে সন্ধ্যায় ভিড় জমায় এখানেই। কারো হাতে চায়ের কাপ, কারো মুখে অর্ধেক বলা কোন কবিতা। কেউ টিউশনি শেষ করে ক্লান্ত চোখে আসে; আবার কেউ শুধু বন্ধুদের সঙ্গে একটু হাসতে। কেউ চুপচাপ আসে, প্রেমে ডুবে থাকা চোখে তাকিয়ে থাকে মোড়টার দিকে—যেন এই জায়গাটাই তার নিজের ছোট্ট মহাবিশ্ব।
এ সময় খামার মোড় আর সাধারণ কোন মোড় থাকে না—এটা হয়ে ওঠে এক যাদুকরী থিয়েটার।
মোবাইলের ফ্ল্যাশে মুখে আলো পড়ে, আর সেই আলোয় গল্পগুলো আরও সুন্দর হয়ে ওঠে। চায়ের দোকানে বাজে মিষ্টি রোমান্টিক গান। ধোঁয়ার সঙ্গে ভেসে যায় অযথা দুঃখ, আর বাতাস হালকা গলায় যেন ফিসফিস করে বলে—
“এই সন্ধ্যাগুলো তোমাদের জন্যই।”
এখানে প্রেম জন্মায় নিঃশব্দে, আবার ভেঙেও যায় সমান নরম করে। কবিতা লেখা হয় দোকানের বেঞ্চে বসে; স্বপ্ন আঁকা হয় চোখের কোণে লুকিয়ে। কেউ দূরে বসে গল্প শোনে, কেউ তারার সাথে গোপন কথা বলে, কেউ আবার সাহস জোগাড় করে প্রথমবার ভালোবাসার কথা বলতে—এই মোড়েরই আশ্রয়ে।
তাই তো মনে হয়—
সন্ধ্যা হলে খামারবাড়ির মোড়ে সত্যিই পরীরা নামে।
কিন্তু এরা কোনো অন্য জগতের পরী নয়—
এরা আমাদেরই মানুষ, বাস্তবেরই তরুণ-তরুণী।
চোখে স্বপ্ন, মুখে উজ্জ্বল হাসি, আর মনের ভেতর আশ্চর্য সব গল্প নিয়ে তারা হাঁটে এই মোড়ে।
রংপুর শহরের ব্যস্ততার ঠিক মাঝখানে খামার মোড় যেন এক গোপন কাব্যিক বিরতি—
যেখানে কেউ কাউকে খুঁজে পায়, কেউ কাউকে হারায়,
আর কেউ নিজের ভেতরের হারিয়ে যাওয়া মানুষটাকেই নতুন করে ফিরে পায়।