09/06/2026
দল ক্ষমতায়, অথচ খোঁজ নেই ক্যান্সারে আক্রান্ত লড়াকু কর্মী আইয়ুবের!
দলের দুঃসময়ের কাণ্ডারি, রাজপথের লড়াকু সৈনিক খান মোহাম্মদ আইয়ুব আলী এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। রুহিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের এই সাধারণ সম্পাদক মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে বিছানায় ছটফট করছেন। সম্প্রতি তাকে নিয়ে ফেসবুকে তার এক সাবেক জেল পার্টনার ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধার দেওয়া একটি আবেগঘন পোস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। পোস্টটি কেন্দ্র করে দলটির জেলা নেতৃবৃন্দ ও বর্তমান সরকারের উচ্চপর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চলছে।
ভাইরাল হওয়া ওই পোস্টে খান মোহাম্মদ আইয়ুব আলীকে একজন 'টগবগে ও সুঠাম দেহের অধিকারী কট্টর জাতীয়তাবাদী সৈনিক' হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
পোস্টে তার ত্যাগের খতিয়ান তুলে ধরে বলা হয়, বিগত রাজনৈতিক আন্দোলনের সময়ে মাত্র ২৯ দিন বয়সী দুগ্ধপোষ্য সন্তান ও অসুস্থ স্ত্রীকে ঘরে রেখে গ্রেফতার হয়েছিলেন এই যুবনেতা। দীর্ঘ ৫৯ দিন কারাবরণ করতে হয়েছিল তাকে। রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে রুহিয়ায় এক রাজনৈতিক মারামারির সময় তার শরীরে ইট-পাথরের আঘাত লাগে। গুরুতর সেই ক্ষত থেকেই আজ শরীরে মরণব্যাধি ক্যান্সার বাসা বেঁধেছে বলে জানা গেছে।
দল আজ সরকারে। জানামতে তার তেমন কেউ খোঁজখবর রাখেনি। আমরা অনুরোধ করব নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে তার সমস্ত দায়িত্ব সরকার নেবেন এবং নেওয়া উচিত। দেশ ও দলের প্রয়োজনে আইয়ুব আলিদের মতো যুবকদের সুস্থ থাকা উচিত। তাদের বেঁচে থাকা বড় প্রয়োজন।"
পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে আবেগ ও ক্ষোভের মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, দলের ক্রান্তিকালে যারা জীবন বাজি রেখে রাজপথে লড়েছেন, দল ক্ষমতায় আসার পর তাদের এভাবে ভুলে যাওয়া উচিত নয়।
তৃণমূলের কর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই পোস্টটি শেয়ার করে বর্তমান সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দলের মহাসচিব এবং জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারের ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালাতে গিয়ে পরিবারটি আজ নিঃস্বপ্রায়। বর্তমানে তার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিপুল অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন, যা সাধারণ একটি পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা অসম্ভব।
বিগত দিনের ত্যাগী এই কর্মীর জীবন বাঁচাতে সরকার ও দলের শীর্ষ নেতৃত্ব অবিলম্বে তার চিকিৎসার সমস্ত দায়িত্ব নেবে—এমনটাই এখন রুহিয়ার সাধারণ মানুষ ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা