29/07/2021
" ইন্সটল করিয়ে ২৪০ টাকা ভোগের করুন পরিণতি"
খুব সিম্পল একটা কাজ তাই না? পরিচিতদের ইনবক্সে রেফারেল লিংক শেয়ার করে দিলেন। তাদের মধ্যে কেউ একজন ইন্সটল করে নিলেই ২৪০ টাকা পেয়ে গেলেন। ব্যস, পেটপুরে এক প্লেট কাচ্চি গলাধঃকরণ করা হয়ে যাবে৷
গুনাহ? ধুরু! এটা করাতে ছোটোখাটো একটা পাপ না-হয় করেই ফেললাম! কত পাপইতো করি প্রতিদিন!
থামুন! এর পরিণতি কতটা ভয়াবহ, তা একটু কল্পনা করুন-
আপনার শেয়ার করা লিংক থেকে আপনার পরিচিত/অপরিচিত একজন মেয়ে উৎসাহ নিয়ে TikTok এপসটি ইন্সটল করে নিল। ইন্সটল করার পরই সে চলে গেল ভিন্ন এক দুনিয়ায়।
যেখানে কতশত মেয়েরা মাত্র ১৫ সেকেন্ডের ভিডিওতে হ-য-ব-র-ল টাইপ ভিডিও বানিয়েই মিলিয়ন মিলিয়ন ভিউ পাচ্ছে, হাজার হাজার ছেলেদের বাহবা পাচ্ছে, কত জনের কত রকম আবেদনময়ী মন্তব্য, আহা! যে-কোনো দূর্বল ঈমানদার ছেলে/মেয়ের ক্ষেত্রে এই ফেতনায় জড়িয়ে পড়ার জন্য একটুকুই যথেষ্ট।
আর যারা নিজেদের দেহ দেখিয়ে, অশ্লিল অঙ্গভঙ্গি করে ভিডিও ছাড়ছে, তারা তো আরো শত ধাপ এগিয়ে, রাতারাতি সেলিব্রিটি। আর সেলিব্রিটি হবার নেশা আমাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে আছে। তা যে-কোনোভাবেই হোক।
ফিরে যাই টিকটক ইন্সটল করা সেই মেয়েটির কাছে-
এত এত বাহবা, আবেদনময়ী মন্তব্য, সেলিব্রিটি হবার নেশা এসবকিছু একজন দূর্বল ঈমানের মেয়েকে ঘায়েল করতে খুব বেশি সময় নিবে না। ফলাফল, সে নিজেও ডুব দিল সেই অন্ধকার জগতে। যেখান থেকে ফিরে আসা খুব খুউব কঠিন।
প্রতিদিন সে একেক পর এক ভিডিও আপলোড দিচ্ছে। প্রথমদিকে সাধারণ ভিডিও দিয়ে সাড়া না পেয়ে সে ইতোমধ্যে বুঝে গিয়েছে, সাড়া পেতে হলে তাকে কী করতে হবে। যেই ভাবা, সেই কাজ। অর্ধনগ্ন দেহে, অশ্লিল অঙ্গভঙ্গি, অশ্লিল শব্দচয়ন আর নাচানাচিতে ভিডিও আপলোড করা শুরু হলো।
অশ্লিলতায় ভরপুর ভিডিওগুলো টিকটক ছাড়াও ফেসবুক, ইউটিউব, ইন্সটাগ্রাম সহ পুরো নেট দুনিয়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রতিটি ভিডিওতে মিলিয়ন মিলিয়ন ভিউ। অতএব সেলিব্রিটিজমের নেশা আরো চেপে বসতে লাগলো মেয়েটির মস্তিষ্কে। আরো উৎসাহী হয়ে তার বেহায়াপনার মাত্রা বেড়েই চললো।
আবারো মনে করিয়ে দিচ্ছি, মেয়েটি কিন্তু আপনার শেয়ার করা লিংক থেকে টিকটক ইন্সটল করেছিল। ভাবছেন, তাতে আপনার কী তাই না?
তাহলে শুনুন-
ওই মেয়েটির প্রত্যেকটি ভিডিওতে প্রত্যেকটি ভিউ, কমেন্ট, কমেন্টকারীদের অশ্লিল মন্তব্য এবং তার এসব ভিডিও দেখে কতশত ছেলেরা জিনায় লিপ্ত হচ্ছে; এসব কিছুর জন্য মেয়েটির ঠিক যে পরিমাণ গুনাহ হচ্ছে ঠিক একই পরিমাণ গুনাহ কপি হয়ে আপনার আমলনামায় পাস্ট হয়ে যাচ্ছে।
শুধুই কি তাই? এখানেই শেষ? না।
সেই মেয়েটি মারা গিয়েছে। সে আর নতুন করে কোনো ভিডিও আপলোড করতে পারছে না। কিন্তু তার ওই সব অশ্লিল ভিডিওগুলো আজও টিকটক, ফেসবুক, ইউটিউবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আর অটোমেটিকালি আপনার আমলনামা গুনাহ দ্বারা পূণ হচ্ছে। একটা সময় আপনিও মারা গেলেন। কিন্ত ভিডিএগুলো থেমে নেই। চলছেই অনবরত। চলবে কেয়ামতের আগ পর্যন্ত। আর আপনার মৃত্যুর পরও কেয়ামতের আগ পর্যন্তই আপনার আমলনামায় গুনাহ কপি-পাস্ট হতে থাকবে।
এককথায় আপনার মাত্র ২৪০ টাকা ভোগের ফলাফল গুনাহে জারিয়াহ হয়ে কেয়ামত পর্যন্ত চলতে থাকবে। যা আপনাকে জাহান্নামের অতল গহ্বরে পতিত করার জন্য যথেষ্ট। 🙂