Fake Love Story

Fake Love Story Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Fake Love Story, Digital creator, Lal Monir Hat, Rangpur.

07/11/2025

#গল্পঃএকটু_ভালোবাসা_দেও_না
#পর্বঃ১০
#লেখনীতেঃজাহিদা_আক্তার_রুবি
#পেইজঃJahida Aktar Rubi-জাহিদা আক্তার রুবি

"""দরজার সামনে বসে কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগলো""কেনো আমার হলে না আরিয়ান।কেনো?কেনো?কেনো?"" আমি কি এতটাই খারাপ দেখতে যে আমাকে একটু ভালোবাসা যায় না। তোমাকে ভালো বাসার অপরাধে আর কত কষ্ট পেতে হবে আমাকে। আমি যে আর সহ্য করতে পারছি না। আমি সহ্য করার ক্ষমতা হারিয়ে গেছে একতরফা ভলোবাসা বুঝি এমনি হয়। আল্লাহ তুমি কেনো তাকে আমার করে নিতে দিচ্ছো না। তাকে যদি তুমি আমার ভাগ্যে না রাখো তাহলে কেনো এমন বাজে ভাবে তার মায়ায় ফেললে।

""আহির আর্তনাদ কেউ দেখছে না। আহি
একনাগাড়ে কান্না করেই যাচ্ছে""

""মাহি দরজায় এসে বলে আহি বোন আমার প্লিজ দরজাটা খুলে দে। প্লিজ জান খুলনা দরজাটা।
আহি বসা থেকে উঠে দরজাটা খুলে দিলো। মাহি সাথে সাথে ভিতরে ঢুকে গেলো।""

মাহি:জান প্লিজ কান্না করিস না।

আহি: ""মাহিরে"" আমি যে শেষ হ'য়ে যাচ্ছি তোর ভাইকে হারাতে পারবো না রে। আমি মরে যাবো রে।

আহিকে কাছে টেনে জড়িয়ে ধরে চোখের পানি মুছে দিতে দিতে বলে..!

মাহি : আহি বোন আমার একতরফা কোনো জিনিস কি পাওয়া যায় বল।সে যদি সেচ্ছায় তোর কাছে না আসে।

আহি;-""আমি কি করবো মাহি আমি তো তোর ভাইকে ইচ্ছে করেই ভালোবাসি নি। সেটা তো হয়ে গেছে তার মায়ায় এমন বাজে ভাবে আটকে গেছি যে সেখান থেকে বেড়িয়ে আসতে পারবো না।''''

মাহি;-আহি ভাইয়া তো তোকে ভালোবাসে না। ভাইয়া রুহান আপুকে ভালোবেসেছে। তুই যেমন ভাইয়াকে ভালোবাসিস ভাইয়াকে পেতে চাস। সেইরকম তো ভাইয়াও চাইবে তাই না বল?

আহি মনোযোগ দিয়ে কথা গুলো শুনছে কিছু ক্ষণ চুপ থেকে বলে...!

আহি;-সেটা তো চাইবে কিন্তু আমি তো ওকে ভুলতে পাবরো না,,, না অন্যকারো হতে দেখতে পারবো.!

আহিকে চুপ করিয়ে দিয়ে মাহি রেগে বলে..!

মাহি;-তুই ভাইয়াকে ভালোবাসিস কিন্তু একতরফা। আর ভাইয়ারা তো দুজন দুজনকে ভালোবাসে।

""এটা শুনে আহির বুকের বা-পাশটা যেন গভীর ভাবে চিনচিন করে ব্যাথা করছে""

আহি:-মাহি তুই কি বলছিস..!

মাহি:- ""তুই কেনো কোনো গোলোক ধাঁধায় পড়ে থাকবি। জোর করে কি কখনো কোনো কিছু পাওয়া যায়। তোর ভালোবাসা একতরফা কেনো বুঝতে চাইছিস না।ভাইয়া তো তোকে ভালোবাসে না। এতদিন তো একটা আশা ছিলাম আমরা যে কোনো না কোনোদিন ভাইয়া তোকে ভালোবাসবে কিন্তু আজকে ভাইয়া তো নিজের মুখেই রুহান আপুকে বিয়ে করতে রাজি হলো। তাহলে কি আর আশা করা যায়। তোর ভালোবাসা একা তোর মাঝেই থেকে গেলো।""

আহি;প্লিজ জান আমাকে একটু একা থাকতে দে।

মাহি:-তুই কেনো পাগলামি করছিস ভুলে যা না ভাইয়াকে আর কিছুদিন পর তো ভাইয়া তার ভালোবাসার মানুষকে বিয়ে করবে।

আহি;-দাদু ভাই সেদিন বললো না এ বাড়িতে ভালোবাসা নিষেধ তাহলে...!

মাহি;-""তুই শুনলি না কি বললোএকটু আগে ছোট ফুপিকে যখন বড় ফুপির দেবরের সাথে ঠিক হয়েছিলো ছোট ফুপি বিয়ে না করে পালিয়েছিলো। দাদুভাইয়ের সন্মান তখন মাটিতে মিশে গিয়েছিলো তখনে ঠিক হয় রুহান আপু আর ভাইয়া বিয়ে।
তাহলে তাদের ভালোবাসাটা স্বাভাবিক নিষেধের কোনো কারণ নেই। আর তুই তো পাঁচ বছর আগে বুঝতে পেরেছিস ভাইয়াকে তুই ভালোবাসিস।""

""আহি অসহায় কন্ঠে বললো মাহি আমার তো বুঝতে দেরি হয়েছে।""

মাহি;-""দেখ বোন একতরফা ভালোবাসা কখনো পূর্ণতা পায় না। আর এ বাড়িতে ভালোবাসা মানেই তো শাস্তি।ফুপির মতো আমরা তোকে হারাতে পারবো না রে জান প্লিজ তুই একটু বুঝার চেষ্টা কর
ভাগ্যের উপর ছেড়ে দে তোর ভালোবাসা যদি সত্যি হয় তাহলে ভাইয়া তোরেই হবে। আর ওই রুহান আপুকে আমি কখনোই ভাবি মানতে পারবো না।""

আহি;-""কেনো মিথ্যা আশ্বাস দিচ্ছিস একটু আগেই তো বললি একতরফা কোনকিছুই পূর্ণতা পায় না। সে তো আমাকে ৫ বছর আগেই বলে দিয়েছিলো সে অন্য কারো আমিই বোকার মতো তার কথা গুলো মানতে পারি। তাকে ভালোবেসেই গেছি কারণ ভালোবাসতে তো আর অনুমতি লাগে না।
দীর্ঘ শ্বাস নিয়ে আবার বলে জানি না আমার ভাগ্যে কি আছে। তবে তোর ভাইকে পাওয়ার আশা আমি ছাড়বো না সেটা ইহকালে হোক বা পরকালে আমার তাকেই চাই। তুই তোর রুমে যা আমাকে একা থাকতে দে।"""

মাহি;- দেখ তুই কিছু করবি না।ভাগ্যে যা আছে তাই হবে

আহি;- ভাগ্যের উপর ছেড়ে দিয়ে তো এখন সে অন্য কারো হচ্ছে সেটা আমাকে দেখতে হবে.!
দরকার পরলে আরিয়ানকে কিডন্যাপ করে বিয়ে করবো।

""মাহি দরজার দিকে তাকাতেই দেখে আহির মা দাঁড়িয়ে মাহি আহিকে চোখ দিয়ে ইশারা করলো দরজার দিকে দেখতে। আহি তাড়াতাড়ি চোখের পানি মুছে বলে।""

আহি;-মা তুমি কখন এলে।

মেহরিন চৌধুরী;-এসেছি অনেকক্ষণ হলো।

""মেহেরিন চৌধুরী ভিতরে ঢুকলো বলে আহি এসব কি শুনলাম আমি। তুমি এরকম খারাপ হয়ে গেছো
যে বাড়ির মান সম্মানের কথা এক বারও ভাবলে না। বড় ভাইয়া কি ভাববে বলতে পারো।""

আহি ;-মা তুমি আমাকে তুমি করে বলছো কেনো।

মেহেরিন চৌধুরী:- সেটা তোমার ভালোই জানা আছে।

আহি:- প্লিজ মা আমার উপর রেগে থেকো না।

""মেহেরিন চৌধুরী ছোট একটা সোফায় বসে আহিকে কাছে ডাকে আহি তার মায়ের সামনে মেজেতে বসে মায়ে হাটুতে মাথা রাখে।""

মেহেরিন চৌধুরী তুই আমাকে ভালোবাসিস আহি।
আহি ;-কি বলো মা এসব।

মেহেরিন চৌধুরী ;-বল আগে

আহি;-বাসি তো মা অনেক ভালোবাসি।

মেহেরিন চৌধুরী ;-সত্যি বলছিস।

আহি ;-ল্হম মা তিন সত্যি।

মেহেরিন চৌধুরী:-""তাহলে এই মায়ের জন্য কি করবে পারবি।""

আহি তুমি বললে:-"" মরতেও পারি।""

মেহেরিন চৌধুরী;- তোকে মরতে হবে না শুধু একটা ছোট্ট কাজ করতে পারবি না।

আহি:- বলো না মা কি কাজ চেষ্টা করবো।

মেহেরিন চৌধুরী:-""আমার মাথায় হাত রেখে কথা দে।""আমি যেই কাজ দিবো তুই রাখবি। ""

""আহি মায়ের দিকে তাকিয়ে মাহির দিকে তাকালো মাহি কিছু বলছে না ওদের কথায় শুনছে।""

আহি মা এমন কিছু বলো না যেটা করতে পারবো না।
মেহেরিন চৌধুরী:- তুই আরিয়ানকে ভালোবাসিস।

আহি চমকে উঠে বলে:- মাথা নিচু করে বলে ল্হম
মেহেরিন চৌধুরী ও তোর কি হয় ভাই না তাহলে এই ভুলটা করলি কিভাবে
আহি মা সরি কিভাবে হয়েছে আমি জানি না তবে এটা জানি আমি ওকে ছাড়া বাঁচতে পারবো না ""মা""

""মেহেরিন চৌধুরী একটু আগেই তো বললি আমার জন্য মরতে পারিস।""

""আহি মাথা নিচু করলো চোখের পানি চিকচিক করছে। কি করবে কিছুই বুঝতে পারছে না।
অসহায় কন্ঠে বললো"""মা'""

মেহেরিন চৌধুরী:-আরিয়ানকে তুই ভুলে যা মা।

আহি:- ""মা ভালোবাসা কি অপরাধ""

মেহেরিন চৌধুরী:- না এই বাড়িতে ভালোবাসা অপরাধ,,,,তারপরও তুই ভালোবেসেছিস একজন ভুল মানুষকে যে অন্য কারো জন্য বরাদ্দ।
তুই আরিয়ানকে ভুলে যা।

""আহি কিছু বললো না নিশ্চিুপ হয়ে রইলো।""

""মাহি বলে মামনি তুমিও বলছো আমিও বলছি ও বুঝতে চাইতেছে না।""

""মেহেরিন চৌধুরী:- ও আমার মাথায় হাত রেখে কথা দিয়েছে। সে যদি চায় আমি মরে যাই তাহলে তার যা ইচ্ছে তাই করুক।বলেই রেগে অন্য দিকে তাকালো""

""আহি মায়ের দিকে তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষণ
আহি বলে ওমা,,,মা,,,মাগো আমি যে ওকে ভুলতে পারবো না। আমাকে ক্ষমা করে দিও তবে চিন্তা করো না আমি ভালোবাসার দাবি করবো না কারো কাছে। আমি নিয়তির কাছে হেরে গেলাম। আমি নিজে হেরে যেতে পারি কিন্তু তোমাকে হারাতে পারবো না মা"""

""মেহেরিন চৌধুরী আমিও যে তোকে হারাতে পারবো না মা। তোর ফুপির মতো তুই আমাদের কাছ থেকে চলে যাস সেটা চাইতে পারবো না মা। তোর ছোট ফুপিকে আমরা খুবই ভালোবাসতাম""

আহি:- মা দাদুভাই তো ফুপিকে আসার অনুমতি দিছে তাহলে।

"""মেহেরিন চৌধুরী দিছে তবে আরিয়ানের বিয়ে পর্যন্ত।আরিয়ানের জেদের কারণে আনতে বলেছে তারপর তার সাথে আর যোগাযোগ রাখবে না। তুই দেখে নিস। শুধু বিয়ে টা হওয়ার অপেক্ষা ""

আহি;-মা,,মাহি তোমরা একটু আমাকে একা থাকতে দেও।

""দুজনেই চলে গেলো আহি দরজা বন্ধ করে কান্না করতে শুরু করলো।বলতে লাগলো আমি যে হেরে গেলাম। আমি কিভাবে তাদের একসাথে দেখবো তবুও একই বাড়িতে আাাামি চলে যাবো,,,,চলে যাবো আমি।""

""অন্যদিকে আরিয়ান রুমে বসে কান্না করছে মাহির রিহান আরিফ তাকে বুঝাচ্ছে সে বুঝতে নারাজ""

মাহির;-আরিয়ান তুই যা করছিস বনুর তো ভালোর জন্য করছিস।

আরিয়ান;- ""নারে আমি আমার ছোট্ট পরীটাতে আবার অাঘাত করলাম ও মনে হয় অনেক কান্না করছে,,,আমি এটা নিষ্ঠুর কিভাবে হলাম বল না তোরা। যাকে পাওয়ার জন্য লড়াই করতে চেয়েছিলাম তাকেই হারাতে বসেছি আমি একটা হেরে যাওয়া মানুষ আমার দ্বারায় কিচ্ছু সম্ভব নয়।আমি একটা হেরো আমি একটা হেরো।পাখিরে তোর আরিয়ান খুব খারাপ মানুষ খুব খারাপ""

""বলেই ছোট্ট কাঁচের টেবিলটাতে ঘুষি মারলো সাথে সাথে হাত কেটে গেলো।কাউকে ধরতে দিলো না গলগল করে বের হতে লাগলো।""

মাহির;-আরিয়ান প্লিজ থাম।

আরিয়ান;-মাহিররে তোর বোন পারবে না আমাকে তার করতে বল না ওতো আমাকে নিজের থেকেও বেশি ভালোবাসে ওকে বল না আমি একটা খাঁচায় বন্দি আমাকে বের করতে। আমি তো পারবো না ওকে আমাকে করতে কিন্তু ওতো পারবে বল না ভাই।

রিহান;-কি পাগলামি করছিস এখন আগেই তো বিয়েতে রাজি হলি। না জানি আহিটা কি করছে।
তোর জন্য একদিন ওর কিছু না কিছু হয়ে যায়।

আরিয়ান চিৎকার দিয়ে বলে ""রিহাাান""
মাহির ;-চুপ কর তো তোরা এখন ভাব কি করা যায়
আরিফ;-কি আর করবি নিয়তি যা করবে তাই হবে।

আরিয়ান:-আমি আমার ছোট্ট পরীটাকে এত ভালোবাসি কিন্তু বলতে পারলাম না একটা আফসোস আমাকে তিলে তিলে মারবে।

রিহান;-তুই কি বিয়েটা করবি।

আরিয়ান;-জানি না,,, অন্য কাউকে বিয়ে করার আগেই যেন আমার মৃত্যু হয়। তোরা আমাকে একা থাকতে দে।

মাহির;--আমরা তোর সাথে থাকি।

আরিয়ান :- আমি ছোট না যে নিজেকে সামলাতে পারবো না,,,তোরা যা।

""মাহির রিহান আরিফ,, মাহিরের রুমে গেলো""

"আরিয়ান ও আহি দুজনেই নির্ঘুম রাত কাটালো।""

"""পরের দিন সকালে আরিয়ান সবার আগেই বেরিয়ে গেছে। মাহির রিহান আরিফ খুঁজেও পেলো না।
সবাই ব্রেকফাস্ট করে নিচে আড্ডা দিচ্ছে গল্প করছে বিয়ে নিয়ে।
তিন জা মিলে রান্না ঘরে রান্না করছে আর সবার গল্পের মাঝে রান্না ঘর থেকে গল্প করছে।আরশি চৌধুরী মেহেরিন চৌধুরীর মন খারাপ দেখে বলে""""

আরশি চৌধুরী;- ""কি হয়েছে মেহেরিন তোর মন খারাপ কেনো।""

""মেহেরিন চৌধুরী একটু হাসার চেষ্টা করে বলে কই মন খারাপ কেনো করবো। (মনে মনে বলে জানি না আমার মেয়েটা কেমন আছে সকালে তো দেখলাম ঘুমাচ্ছে রাতে মনে হয় অনেক কান্না করছে)""

"""রাইসা চৌধুরী বলে ছোট আপা আরিয়ান আর রুহানের বিয়েতে কিন্তু আমরা অনেক মজা করবো।
তিন জনে মিলে প্লান করেছিলাম না আমরা বাসর ঘর ধরবো এই ইচ্ছেটা যেন আমাদের পূরণ হয় আর আমার কিন্তু তিনে মিলে নাচবো।""

আরশি চৌধুরী;-""আরেহ আরেহ সব হবে এই বাড়ির বড় ছেলের বিয়ে মজা না করলে চলে।""

""মেহেরজান রান্না ঘরে গিয়ে বলে কি গো তোমরা বউমা লজ্জা শরম কি ধুয়ে খেয়েছো নাকি নিজের ছেলের বিয়েতে নাকি ছিহ ছিহ,,, আল্লাহ এই কথা গুলো শুনার আমাকে জন্য বাঁচিয়ে রেখেছো। মাহির রিহান আরিফ বেড়িয়ে যেতে নিলে আকরম চৌধুরী বলে তোমরা কোথায় যাচ্ছো আর আরিয়ান কোথায়।""
মাহির;-""জানি না দাদু ভাই সকালে কই যেন বেড়িয়ে গেছে।""

মিনহাজ চৌধুরী ;-""কি বলো তোমরা বাড়িতে আর ও একা কোথায় গেছে।অফিস তো এত সকালে নেই।""

মাহির;-""জানি না বড় আব্বু..!""

আকরম চৌধুরী;-""ঠিক আছে তোমাদের কোথাও যেতে হবে না...!ও নিজেই চলে আসবে হয়তো ফজরের নামাজ পড়ে কোথাও হাঁটতে গেছে।""

#চলবে

04/11/2025

#গল্পঃএকটু_ভালোবাসা_দেও_না
#পর্বঃ৯
#লেখনীতেঃজাহিদা_আক্তার_রুবি
#পেইজঃJahida Aktar Rubi-জাহিদা আক্তার রুবি

সন্ধ্যা বেলায় সবাইকে নিচে ডাকা হলো। আরিয়ান আর মাহির বাদে।
আহি বললো দাদুভাই এবার কিন্তু প্ল্যানটা অনেক সুন্দর করতে হবে। বুঝার বয়স থেকে দেখিনি আরিয়ান ভাইকে জন্মদিন পালন করতে।

মাহি বলে ভাইয়া যদি রেগে যায়।

আহি বলে আরে রাগবে না সবাই আছে না।

১০টা বাজতেই আরিয়ান আর মাহির বাড়িতে ঢুকলো। তারা দেখলো সব লাইট অফ।

মাহির বলে কিরে আরিয়ান সবাই কি ঘুমিয়ে গেলো নাকি।

আরিয়ান : হবে হয়তো।

দুজনে এগোতেই কেউ পিছন থেকে আরিয়ানের চোখে বেঁধে দেয়। আরিয়ান কে কে বলে চিৎকার করে মাহিরকে ডাকে সাড়া দেয় না।আরিয়ান কে ধরে ধরে ছাদের উপরে নিয়ে যাওয়া হলো। তাকে ছেড়ে দিলো সে তাড়াতাড়ি চোখের বাঁধন খুলে ফেললো সাথে সাথেই আকাশের লেখা উঠলো (হ্যাপি বার্থডে আরিয়ান) আরিয়ান সে দিকে তাকিয়ে আছে। সবাই বেড়িয়ে এসে একসাথে বললো ""হ্যাপি বার্থডে আরিয়ান"" আর সব লাইট ও জ্বলে উঠলো আরিয়ান অবাক হলো কারণ তার ছোট ফুপি চলে যাওয়ার পর থেকে আরিয়ানের জন্মদিন কেউ করতে পারে নি কারণ তার ফুপি তার জন্মদিনের দিন সব কিছুই করে অনেক মজা করে সেজন্য তখন থেকে শুধু পায়েস আর উইশ পর্যন্তই ছিলো।আরিয়ান কখনো করতে দেয় নি।

আরিয়ান রেগে বলে__ কতবার বলেছি এসব আমার ভালো লাগে না। আমার জন্মদিন কোন সাহসে পালন করো তোমরা,,কে বলেছে এসব করতে।

আরশি চৌধুরী : বাবা তুই রাগ করিস না।

আরিয়ান: আমি জানি এটা আহির প্ল্যান। বলেই আহির দিকে রেগে তাকায়।

তখনে আরিয়ানের নানুভাই আর নানিমা দরজার দিক থেকে এসে বলে,, কি নানুভাই এখনো এত রাগ আর জেদ আছে। আরিয়ান সাথে সাথে পিছনে তাকায় দেখে পিছনে আরো অনেকে (আরিয়ানের মামাতো ভাই রাতুল আহির নানুভাই নানুমনি) সাথে আরিফ রিহান ও আছে।

আরিয়ান:নানুভাই কেমন আছো তোমরা?চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় কখন এলে?

নানুভাই :সন্ধ্যায় এসেছি।

নানিমা :দেখি আমার নানুভাই তো সুন্দর বিদেশিদের মতো হয়েছে।

আরকম চৌধুরী :হয়েছে এবার কেকটা কাটো কত কষ্ট করে আমার গিন্নিরা এনেছে।

আরিয়ান রেগে বলে আমি কেক কাটবো না।
একে একে সবাই আরিয়ানকে বুঝায় কেক কাটার জন্য কিন্তু আরিয়ান না ছাড়া হ্যাঁ বলে না। তখন আহি আরিয়ানের সামনে যায়। মায়া ভরা মুখ আর চোখ নিয়ে আরিয়ানের দিকে তাকিয়ে বলে অনেক আশা নিয়ে এসব করেছি আরিয়ান ভাই প্লিজ এমন করো না একটা দিনের তো ব্যাপার। এবারের কেকটা কাটো আর কখনো তোমার জন্মদিনের কেক কাটতে হবে না প্লিজ আরিয়ান এতগুলো মানুষের আশার মধ্যে জল ঢেলে দিও না। প্লিজ প্লিজ অসহায় হয়ে রিকুয়েষ্ট করলো।
আরিয়ান আহির এমন রিকুয়েষ্ট আর ফেরাতে পারলো না রাজি হয়ে গেলো। সবাই মিলে কেক কাটা কাটি শেষ করে গিফট নিয়ে সবাই নিচে গেলো।

আহি আর আরিয়ান ছিলো ছাদে আরিয়ান নিচে যাবে এমন সময় আহি ডাকে ""আরিয়ান""মায়া ভরা কন্ঠে ডাক আরিয়ানের যেন হার্টবিট বেড়ে যায়।(মনে মনে বলে এভাবে কি তুই আমাকে মেরে ফেলার প্ল্যান করছিস) আরিয়ান পিছনে ঘুরে তাকায় আহির হাতে একটা গিফট বক্স সেটা আরিয়ানকে দিয়ে বলে হ্যাপি বার্থডে ""আরিয়ান"""এই ছোট্ট উপহারটি তোমার জন্য।
আরিয়ান গিফটটা হাতে নিয়ে আহিকে বললো অনেক ধন্যবাদ।
আহি আরিয়ানকে আরো কিছু বলতে চায় কিন্তু পারে না। দুজনেই নিচে চলে গেলো।

আরিয়ানের নানুভাই নানিমা আহির নানুভাই নানুমনি আকরম চৌধুরী মেহেরজান মিলে গল্প করছে।
আরশি চৌধুরী মেহেরিন চৌধুরী রাইসা চৌধুরী আর কাজের মেয়ে মিলে খাবার গোছাচ্ছে।
সবাইকে খেতে ডাকলো আজকে অনেক মানুষ দেখে আগে বড়রা বসলো। খাবার টেবিলে ১০ জন করে বসা যায়। একে একে সবার খাওয়ার পর্ব শেষ হয় সবাই সোফায় বসে গল্প করছে।

আকরম চৌধুরী বলে তোমাদের একটা কথা জানানোর আছে। ড্রয়িং রুমটা অনেক বড় তাই সবাই বসে আছেই।আরকম চৌধুরীর দিকে সবাই মনোযোগ নিয়ে তাকালো কি বলবেন তিনি।

আরকম চৌধুরী বলে আরিয়ানকে নিয়ে বলবো।

আরিয়ান বলে আমাকে নিয়ে কি বলবে তুমি।

আকরম চৌধুরী:শুনো সবাই আমি রুহান আর আরিয়ানের বিয়ে ঠিক করেছি। এই কথাটা শুনা মাএই আরিয়ানে বুকে মোচড় দিয়ে উঠলো সাথে আহিরও একই অবস্থা আহির মাথায় যেন বাজ পরলো।

আরকম চৌধুরী বলে আমার সিদ্ধান্তে কারো কি কোনো সমস্যা আছে।
আমি কথা দিয়েছি রুহানের দাদুকে যে আমি রুহানকে এই বাড়ির বউ করি।
নিজের মেয়েকে তো তার বাড়ির বউ হিসাবে পাঠাতে পারিনি তাই রুহানকে আমার বাড়ির বউ করে আনার জন্য কথা দিয়েছি।আর তোমরা তো জানোই আমি কথার খেলাফ করি না। যে কেনো মূল্যে সেটা পালন করবো।

আরিয়ান বাকরুদ্ধ হয়ে গেছে কি বলবে কিছুই বুঝতেছে না কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললো দাদুভাই আমার সমস্যা আছে আমি এখন বিয়ে করতে পারবো না।

আহি অসহায় চোখে আরিয়ানের দিকে তাকিয়ে আছে।

মিনহাজ চৌধুরী বলে কি বলছিস বাবা যা সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটাই হবে। আর তুই বলছিস রুহানকে বিয়ে করতে পারবিনা।

আরিয়ান বলে আমি তো সেটা বলি নি। আমি বলেছি এখন পারবো না। সবে বিদেশ থেকে এলাম এখনো আমি ঠিক মতো সবকিছু গোছাতে পারি নি।

আহি এই কথা শুনে যেন ৭ আসমান থেকে পরলো মনে মনে বলে আরিয়ান রাজি আছে রুহানকে বিয়ে করতে। থাকবেই না বা কেনো সেতো বলেছিলো সে রুহানকে ভালেবাসে আমি বিশ্বাস করি নি সেটা তো আমার দোষ।

আরকম চৌধুরী তোমার যা সময় নেওয়ার নেও।
তবে বিয়ে তোমায় রুহানকেই করতে হবে।

আরিয়ান বলে যদি রুহানকে বিয়ে করি তাহলে আমার একটা শর্ত আছে। যদি মানো আমি রুহনকে বিয়ে করতে রাজি হবো।

আহনাফ চৌধুরী বলে কি শর্ত।

আরিয়ান বলে ছোট ফুপিকে এই বাড়িতে ফেরত আনতে হবে। বড় ফুপির যেরকম অধিকার আছে। ছোট ফুপির ও সেই অধিকার আছে সেই অধিকার থেকে তুমি ছোট ফুপিকে বঞ্চিত করেছো।। ১টা ভুলের জন্য তুমি ফুপিকে এত বড় শাস্তি দিতে পারো না। ছোট ফুপি আমার বিয়েতে থাকলে আমি বিয়ে করতে রাজি আছি নয়তো কখনোই করবো না।

রাফিউল চৌধুরী বলে আরিয়ান তুই সালমাকে অনেক ভালোবাসিস তাই বলে বাবার সিদ্ধান্ত কে অমান্য করবি। আমারাও তো আমাদের ছোট্ট বোনটা অনেক ভালোবাসি।

আরিয়ান বলে আমি কিছু জানি না চাচ্চু আমার ছোট্ট ফুপিকে এই বাড়িতে চাই।ঠিক আগের মতো করে। কেউ খারাপ ব্যবহার করতে পারবে না। যদি হয় তাহলে বলো।

আকরম চৌধুরী বলে তুমি যা চাও তাই হবে কিন্তু আমি ওর সাথে স্বাভাবিক ভাবে কথা বলতে পারবো না। আর তাছাড়া ও কোথায় আছে কিভাবে আছে আমরা তো কেউ জানি না।

আরিয়ান বলে তুমি কথা না বলো নাই তবুও ফুপিকে এই বাড়িতে আনা চাই। আমি জানি ফুপি কোথায় আছে আমি নিয়ে আসবো।

আকরম চৌধুরী বলে ঠিক আছে তোর যা ইচ্ছে তাই কর কিন্তু বিয়ে তোকে রুহানকেই করতে হবে।

আরিয়ান বলে ঠিক আছে আগামী ৬ এ নভেম্বর আমি রুহাকে বিয়ে করবো রাজি থাকলে বলো।(এ কথা বলতে আরিয়ানের যেন বুকটা ফেটে যাচ্ছিলো তবুও ভাঙ্গা কন্ঠে বললো)
আহির পৃথিবী যেন থমকে গেলো সে চোখে যেন অন্ধকার দেখছে। আরিয়ানের কথা গুলো শুনে।তার দিকে অসহায় ভাবে আশা নিয়ে তাকিয়েই ছিলো যেন আরিয়ান এই বিয়েতে রাজি না হয় সেই আশায় জল ঢেলে দিলো আরিয়ান সে তাহলে সত্যিই অন্য কারো হয়ে যাবে।ভাবতেই যেন বুক ফেটে কান্না আসছে সে সাথে আহি উঠে রুমে চলে যেতে নিলে মাহি তাকে ডাকে আহি শুনে না ও চলে যায় সাথে মাহিও।

আরিয়ানের চোখ গুলো যেন লাল হয়েছে গেছে সেও রুমে চলে গেলো।সাথে মাহির রিহান আরিফ ও গেলো। আজকে তারা এখানে থাকবে।
সবাই খুশি হলো আর কিছুক্ষণ গল্প করে রুমে ঘুমাতে চলে গেলো।রুহান তো বিয়ের কথা শুনেই চলে গেছে।

আহি রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিয়ে বলে....!
#চলবে

03/11/2025

#গল্পঃএকটু_ভালোবাসা_দেও_না
#লেখনীতেঃজাহিদা_আক্তার_রুবি
#পর্বঃ৮
#পেইজঃJahida Aktar Rubi-জাহিদা আক্তার রুবি

পরেরদিন সকালে সবাই ব্যস্ত বাড়িতে দোয়া মাহফিল হবে বাড়ির তিন কর্তা বাজারে গেছে।
আকরম চৌধুরীতো এখন অবসরে গেছে। তিন কর্তায় সব কিছু দেখাশোনা করে।

সবাই অনেকটাই ব্যস্ত। আহি একটা গাউন আর মাথায় ওড়না দিয়ে নেচে নামলো দাদুভাই বড়আব্বু বাবাদের সালাম দিলো। মাহিও এলো।

আহি বলে বড়আব্বু বাড়িতে কি আজকে কোনো অনুষ্ঠান আছে নাকি।

মিনহাজ চৌধুরী বলে হ্যাঁ মা আজকে শুক্রবার ছুটির দিন একটা দোয়া মাহফিল রেখেছি আরিয়ানরা অনেক বছর পর এসেছে আর তাছাড়া আজকে আরিয়ানের জন্মদিনও।

আহনাফ চৌধুরী বলে আজকে অনেক অতিথি আসবে তোমরা কিন্তু একদম দুষ্টামী করবে না।

ছোটরা সবাই মাথা নাড়ালো জ্বী।

ব্রেকফাস্ট করার জন্য সবাইকে ডাকা হলো আহিরা খাবার টেবিলের দিকে যাইতে সিড়ি দিকে চোখ যায় দেখে আরিয়ান ও মাহির নিচে নামছে।
আরিয়ান একটা কালো পাঞ্জাবি ও সাদা পায়জামা
হাতে টুপি নিয়েছে। মাহির ও সেম কিন্তু পাঞ্জাবি সাদা পরছে।

আহি সেদিকে তাকিয়ে বলে ইশ এভাবে আর কতবার আমার মনটাকে নিয়ে নিবে। মাহিরে আমি কি করবো বলতো যেটা আমার জন্য নিষিদ্ধ সেটার দিকে বার বার নজর যায়। এরকম করে বেড়ালে আমি যে আর নিজকে কন্ট্রোল করতে পারবো নারে। যতই সে অন্য কারো হোক।

মাহি বলে__কি আবোল তাবোল বকছিস আহি।

আহি বলে__তোর ভাইকে এত সুন্দর হতে কে বলেছে।

আরিয়ানের কাছে গিয়ে রুহান বলে হ্যাপি বার্থডে ভাইয়া। মাহিও বলে শুভ জন্মদিন ভাইয়া একে একে সবাই আরিয়ানকে উইশ করলো।
আরশি চৌধুরী বলে আমরা তিন মা মিলে আজকে তোর জন্য পায়েস রান্না করেছি।তোরা টেবিলে বস আমি দিচ্ছি।
পুরুষরা ও ছোটরা টেবিলে বসলো টেবিলটা অনেক বড় তাই ছোটরা সবাই বসলো।
আরশি চৌধুরী আরিয়ানকে পায়েস দিয়ে বলে নে বাবা খাওয়া শুরু কর,,, পাঁচ বছর হলো তোর জন্মদিনে তোকে পায়েস খাওয়াই না।

আহি বলে__মামনি শুধু কি তোমার ছেলের জন্যই রান্না করেছো আমাদের কি ভাগ নাই।

খাওয়ার সময় রুহান আরিয়াকে বলে আরিয়ান ভাই তোমরা কোথাও যাবে।

আরিয়ান আস্তে করে উওর দেয় ল্হম। আহি রুহানের দিকে কেমন বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে আছে।

আকরম চৌধুরী আরিয়ানদের বললো তোমরা কোথায় যাচ্ছো।

আরিয়ান বলে __একটু কাজ আছে দাদু ভাই ।

মিনহাজ চৌধুরী বলে শুক্রবারও কিসের কাজ।
নিজের বিজনেস করছো করো তাতে আমাদের কোনো সমস্যা নেই তাই বলে পরিবারের কথা ভাববে না। ছুটির দিনও তোমার কাজ থাকে।

আরিয়ান বলে বাবা নামাজ আদায় করে বাড়িতে আসবো একটুও দেরি করবো না।

মিনহাজ চৌধুরী বলে__ঠিক আছে,,তাড়াতাড়ি আসবে।

মেহেরজান চৌধুরী বলে__ছেলে দুটো অনেকদিন পর বাড়িতে এসেছে একটু তো বেড়াতে দিবি তোরা নাকি। কেউ কোনো কথা বললো না।

খাওয়া শেষ করে আরিয়ানরা চলে গেলো।
সবাই যার যার কাজে লেগে পরলো। আহি মাহি তাদের বাগানের দিকে গেলো তাদের বাড়ির পাশে একটা অনেক বড় বাগান রয়েছে।
দুজনে দুটো দোলনায় বসে দোল খাচ্ছে আর আহি বকবক করছে এত গুলো মানুষ কেউ কিছু আগে জিজ্ঞেস করলো না আর ওই শাঁকচুন্নিকে আগে জিজ্ঞেস করতে হলো। বলেই ভেংচি কাটলো।

মাহি মজা করেই বলে ফেললো আরে করবে না যতোই হোক পছন্দের মানুষ ফিউচার হাসবেন্ড।

আহির হঠাৎ এ মন খারাপ হলো মাহিও তাকে একথা বলছে এতকিছুর পরও সে তো একটু আশা নিয়ে আছে যে তার ভালোবাসা যদি পবিত্র হয় আরিয়ান তারেই হবে। আহি কিছু বলছে না দেখে মাহি তার দিকে তাকালো। দেখলো আহির চোখে পানি চিকচিক করছে।

মাহি তাড়াতাড়ি কানে ধরে বলে সরি সরি আমি ওইভাবে বলি নি জান। প্লিজ ক্ষমা করে দে।
আহি আরেহ বাদ দে আমি কিছু মনে করি নি। ভাগ্যে যা আছে তাই হবে।

দীর্ঘশ্বাস নিয়ে আহি বলে জানিস মাহি জীবনের সবচেয়ে পছন্দ জিনিসগুলো হয়তো অবৈধ নয়তো নিষিদ্ধ। হয়তো দামী আবার নয়তো অন্যকারো।আমার বেলায়ও ভালোবাসাটা সেইরকম হয়েছে তবুও আমি দূর থেকেই ভালোবাসি,, বড্ড বেশি ভালোবাসি,, তাকে ছাড়া কিচ্ছু ভাবতে পারি না।

তাদের কাছে রাহি ইফতি রুমন রোহান আসে।ওদের দেখে আহিও স্বাভাবিক হয়েছে যায়।

রুমন বলে আপু চলো ক্রিকেট খেলি।

আহি বলে মন্দ বলিস নি খেলা যেতেই পারে।

রুহান এসে বলে কিরে তোরা কি খেলবি মাহি বলে আপু ক্রিকেট খেলবো।

রুহান বলে আমার খেলা নিবি।

আহি বলে ঠিক আছে চলো এখন খেলা শুরু করি।

রাহি বলে আমরা তো ৭ জন হলাম তাহলে টিম হবে কি করে।

আহি বলে রুমন তোর বন্ধু আছে ৩ জনকে ডেকে নিয়ে আয় তাহলে হবে।

ইফতি বলে তাহলে ৫ জন করে টিমে খেলতে পারবো।

রুমন ৩ জন তার বয়সের ছেলেদের নিয়ে এলো টিম ভাগ করলো। রুহান ইফতি রাহি ও আহি মাহি রোহান রুমন।রুমনের তিন জন বন্ধুর মধ্যে ২ জন রুহান আর ১ জন আহির খেলা শুরু হলো।
টসে আহিরা ব্যাট পেলো আহি ব্যাট হাতে নিয়ে গেলো রুহান বল করবে।

রুহান বল করলো আহিও ব্যাট বলের দিকে মারলো বল গিয়ে সোজা রাস্তায় করিম চাচার মাথায় পড়ে করিম চাচা তাকালেই আহি ব্যাট রুহানের হাতে দিয়ে লাগালো এক দৌড় একদম বাড়ির ভিতরে চলে যায়।সবাই ওর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকলো কেউ কিছু বুঝলো না ওর দৌড়ের কারণ পিছন থেকে বল হাতে নিয়ে করিম চাচা বলে এই বলটা কে মারলো।
সবাই পিছনে ঘুরলো রুহানের হাতে ব্যাট দেখে রুহানকে বকতে লাগলো এত বড় মেয়ে হয়েছো এখনো ক্রিকেট খেলো লজ্জা করে না। বল ও মারতে পারো না মানুষের মাথার উপরে ফেলো বেয়াদব মেয়ে। আগে জানতাম আহি ফাজিল এখন দেখি সবাই। বাহিরে চেচামেচির আওয়াজ শুনে আকরম চৌধুরী বেড়িয়ে আসে বলে কি হয়েছে করিম আমার বাড়ির মেয়েদের উপর আঙুল তুলছো। এত বড় সাহস তোমার। (এই কথাটা জোরেই বলেছে বাড়ির ভিতর থেকে শোনা গেছে)বাকি সদস্যরাও বাহিরে গেলো।

করিম সাহেব বলে চাচা বকবো না তো কি করবো দেখেন তো আমার মাথাটা কি করে দিলো বল মেরে।

আকরম চৌধুরী রুহানের দিকে তাকালো রুহান বললো নানুভাই আমি মারি নি।

আকরম চৌধুরী বলে__তাহলে কে!!

মাহি বলে দাদুভাই আহি মেরেছে আর আমরা কি জানতাম নাকি না জেনেই তো হয়েছে।

আকরম চৌধুরী ভুল করে হয়েছে গেছে আগের মতো তো আর ইচ্ছে করে করেনি।

করিম সাহেব বলে ও তাহলে ওই বাদর মেয়ের কাজ। করিম সাহেব চলে যায়।

মেহেরিন চৌধুরী বলে আজকে আহির একদিন কি আমার। সেজন্য ওইভাবে ছুটে গেলো জিজ্ঞেস করলেও উওর দিলো না এত বেয়াদব হয়ে গেছে।
মেহেরিন চৌধুরী রেগে ভিতরে এসে আহিকে ডাকতে থাকে।মেহেরিনের পিছে পিছে সবাই আসে। আহি নিচে নামতেই মেহেরিন আহি কে ঠাসসসস করে একটা থাপ্পড় মারে।
সবাই হতভম্ব হয়ে যায় আহি নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারে না যে তার মা ওর গায়ে হাত তুলতে পারে। আহির চোখ দিয়ে শুধু পানি পরতে থাকে কিছু বলতে পারে না।
মেহেরিন বলে তোর জন্য আর কত বিচার শুনতে হবে আমাকে।

আহি বলে__মা আমি তো ইচ্ছে করে করি নি ভুল করে হয়ে গেছে।

মেহেরিন চৌধুরী বলে ভুল করে হয়ে গেছে তো সরি বলে আসলি না কেনো ওভাবে অপরাধীর মতো পালিয়ে এলি কেনো।

আহনাফ চৌধুরী বলে__মেহেরিন কি হয়েছে তোমার মেয়েটাকে এই ভাবে সবার সামনে মারলে কেনো। ওতো ইচ্ছে করে করেনি এসব।

মেহেরিন চৌধুরী রেগে বলে__আমার মেয়ে কি আমি শাসন করতে পারবো না। এই তোমাদের আদর পেতে পেতে ও বাদর হয়ে গেছে। ওদের সময় দেওয়ার জন্য আমরা চাকরি ছেড়ে দিয়েছি যাতে ওদের ভালো ভাবে মানুষ করতে পারি। আমার কত সপ্ন ছিলো ডাক্তার হওয়া হয়েও গেলাম কিন্তু করতে পারলাম এই বাচ্চাদের জন্য।ওকে ডাক্তার বানাতে চাইলাম ও ওসব শুনতে রাজি না। আমার কথার কোনো মূল্য নেই।আমি ডাক্তারি করলে নাকি ওদের সময় দিতে পারবো না ওরা ভুল পথে যাবে। সেজন্য বাড়িতে মেয়েদের চাকরি নিষিদ্ধ করেছে তোমার বাবা। তারপরও কেনো এত কথা শুনতে হয় আমায়।

মেহেরজান চৌধুরী বলে__কি শুনেছো তোমরা আমার নাতনিদের নামে।

আকরম চৌধুরী বলে তুমি চুপ করো আহি মা আহিকে শাসন করতে পারে এতে আমাদের কিছু বলার থাকতে পারে না। তবে বউমা ঘরে শাসন করিও। আমি তোমার সপ্ন ভেঙ্গেছি তোমার মেয়েও তোমার সাথে সেটা করেছে। আমি জানি আমার সিদ্ধান্ত তোমাদের কারো পছন্দ হয় নি না হলেও কিছু করার নাই এই বাড়িতে মেয়েদের চাকরি আর প্রেম ভালোবাসা এসব নিষিদ্ধ থাকবেই চিরকাল।এটা কেউ ভাঙ্গতে পারবে না আর সেসব অমান্য করলে কি হবে তার পরিণতি সেটা সবাই হয়তো ভালো করেই জানো। আর যে শাস্তি পেয়েছে সে তো ভালোই জানে। আহির গায়ে হাত তুলাটা তোমার অন্যায় হয়েছে।

আহি তার রুমে চলে গেলো মাহিও পিছন পিছন গেলো। তিন জা মিলে রান্নার কাজে গেলো সাথে ফাতেমাও। বাড়ির তিন কর্তা বাহিরে লোকজন দিয়ে ডেকোরেশন করছে অনেক লোককে দাওয়াত দিয়েছে তাদের খাওয়ার ব্যবস্তা করতে।

আহির রুমের বেলকনিতে সোফায় বসে কথা বলছে।

মাহি বলে__মেজো মা তোকে এই প্রথম মারলো তুই মন খারাপ করেছিস।

আহি বলে আমি সেটা ভাবছি না দোষ করেছি মেরেছে কিন্তু!

মাহি বলে__কিন্তু কি।

আহি বলে__মাহিরে দাদুভাই কি বললো চাকরি নিষিদ্ধ সেটা তো জানি কিন্তু প্রেম ভালোবাসা নিষিদ্ধ মানে।

মাহি বলে__আমিও তো এই ব্যাপারে জানি না।

আহি বলে আর কে অমান্য করে শাস্তি পেয়েছে। সেজন্য কি আরিয়ান আমাকে এড়িয়ে চলে। আর যদি তাই হয় তাহলে সেদিন বললো যে রুহান আপুকে ভালোবাসে সেটাও তো অন্যায়।যাকগে আরিয়ানকে পাওয়ার জন্য যেকেনো শাস্তি মাথা পেতে নিবো।
মাহি বলে__ কি বলিস তুই এসব।শাস্তি নিবি মানে।

আহি বলে__ওর জন্য মরতেও পারি সামান্য শাস্তি নিতে পারবো না।

আরিয়ান ও মাহির নামাজ শেষ করে বাড়িতে ফিরেছে সাথে রিহান ও আরিফ ও এসেছে। এসে আহিকে মারার কথা শুনে রুমন আর রোহানের কাছ থেকে। আরিয়ানের মনটা খারাপ হয়ে যায়।মাহির বলে মা কেনো বনুকে মারলো কখনো তো মা
বনুকে ফুলের টোকাও দেয় নি।

অনেক মানুষেই এসেছে দোয়া মাহফিলে। সবাই খাওয়া দাওয়া শেষ করে চলে গেছে। বাড়ির লোক গুলো খাওয়ার বাকি ছিলো। আকরম চৌধুরী কড়া আদেশ যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষ থাকবে ততক্ষণ পযন্ত কোনো মেয়ে বাহিরে বের হবে না।

এখন বাড়ির সবাইকে ডাকছে লাঞ্চ করার জন্য। সবাই এলো কিন্তু আহি এলো না।

আহনাফ চৌধুরী,,, মেহেরিন চৌধুরীর দিলে তাকিয়ে বলে দেখেছো মেয়েটা এখন খেতেও আসছে তোমার জন্য।
মেহেরিন চৌধুরী কিছু বলে না। (মনে মনে বলে আমাকে ক্ষমা করে দিস মা তখন রাগ কট্রোল করতে পারিনি তাই মেরেছি আমি তোকে হারাতে পারবো না তোর জন্য আমার সব সপ্ন বিসর্জন দিয়েছি। এত অভিমান করলি মায়ের উপর যে খেতেও এলি না তুই তো ক্ষিদে সহ্য করতে পারিস না)

সন্ধ্যাবেলায়.....
#চলবে

02/11/2025

#গল্পঃএকটু_ভালোবাসা_দেও_না
#লেখনীতেঃজাহিদা_আক্তার_রুবি
#পর্বঃ৭
#পেইজঃJahida Aktar Rubi-জাহিদা আক্তার রুবি

শো-রুমে ঢুকার পর আরিয়ান (আহি মাহি রাহির দিকে তাকিয়ে) বললো তোরা তিনজনে যেকেনো একটা করে বাইক সিলেক্ট কর।

তিনজনেই অবাক হয়ে আরিয়ানের দিকে তাকালো
মাহির বলে কি বলছিস বাইক কিনবি নাকি
আরিয়ান বলে যেটা ওদের করতে বলেছি সেটাই করবে ওরা তুই সাইডে দাঁড়া।

আহি মাহি রাহি তিন জনে গেলো। মাহি আর রাহি ব্লাক কালার সাথে রেড আছে সেই বাইক টা পছন্দ করলো।আহি একটা ব্লু কালার সাথে ব্লাক আছে। দুটোই আর ওয়ান ফাইভ

আরিয়ান বললো ভালোই তো হলো দুটো একবারে পছন্দ হয়েছে তিনটে হলে অনেক বেক পোয়াতে হতো।

বাইকের সব ফর্মালিটিস সেড়ে ওরা বেরিয়ে পরলো।
আরিয়ানের পুরাতন বাইক টি বিক্রি করে দিয়েছে।
আরিয়ান বলে মাহির তুই রাহি আর মাহিকে নিয়ে যা।
মাহির কিছু বললো না।
আহি বলে__উঠে আমি ভাইয়ার সাথে যাবো।
আরিয়ান বলে__তোকে আমার সাথে যেতে হবে।
আহি বলে__যাবো না।

আরিয়ান মাহিরের দিকে রাগী চোখে তাকায়।
মাহির বলে__ বোন যা না

মাহি কানে কানে বলে__এই সুযোগ হাত ছাড়া করিস না জান।
ভাইয়ার সাথে একটু বাইকে ঘুরাঘুরি কর মনটা ফ্রেস হবে।
আহি বলে__অযাথা মায়া বাড়িয়ে কি লাভ।

মাহি বলে__এইটাও না হয় স্মৃতি হিসাবে রেখে দিস নতুন বাইকে তুই প্রথম উঠে ছিলি।

মাহির বলে__বোন রাজি হয়ে যা।

আহি বলে__আচ্ছা ঠিক আছে!

মাহির বলে__লক্ষী বোন আমার।

আরিয়ান বলে__তোরা সামনের রেস্টুরেন্টে ওয়েট কর আমরা আসছি।

মাহিররা চলে গেলো। আরিয়ান আহিকে নিয়ে একটা শপিংমলের একটা বোরকার দোকানে নিয়ে গেলো। যে যে বোরকা পছন্দ হয় নিয়ে নে।

আহি বলে__আমি বোরকা পরি না।

আরিয়ান বলে__এখন থেকে পরবি। ছেলেদের বিশ্বাস নেই যেভাবে আজকাল বের হস না জানি কে উঠিয়ে নিয়ে বিয়ে করে নেয়।

আহি একটু জোরে বলে___আরিয়ান।

আরিয়ান বলে__তো কি যেভাবে চুল ছেড়ে বের হয়েছিস এমনিতেই ছেলেরা হার্ট অ্যাটাক করবে।
আমি চাইনা তোর জন্য কারো অকালে মৃত্যু হোক

আহি অসহায় হয়ে বলে__আমি তো সবসময় গাউন আর চুড়িদার পরি এগুলো তো বোরকার মতোই বড়।

আরিয়ান বলে__বোরকার মতো বোরকা তো নয় আর তাহলে চুল বের করসিছ কেনো হিজাব দিতে পারিস নি। ওথো কথা না বলে বোরকা আর সাথে ম্যাচিং হিজাব পছন্দ কর।

আহি জানে কথা বাড়িয়ে লাভ নেই। সে পছন্দ করতে পারলো না । কোনটা নিবে বুঝতেই পারলো না।সে কখনো তার জামা কাপড় একা একা পছন্দ করতে পারে না। হয়তো তার মায়েরা সাথে যায় নয়তো মাহি পছন্দ করে দেয়। আরিয়ানের দিকে অসহায় চোখে তাকালো।আরিয়ান বুঝতে পারলো সে পছন্দ করতে পারবে না এতো গুলো জিনিসের মধ্যে। আরিয়ান ২০ মডেলের ২০ টা বোরকা প্যাক করতে বললো আহি আরিয়ানের দিকে অবাক চোখে তাকালো। আরিয়ান সেগুলো প্যাকেট করতে বললো ম্যাচিং করে ১ বক্স হিজাব দিতে বললো। মাহিদের জন্যও কয়েকটা নিলো। আহি আরিয়ানকে বললো আরিয়ান আমি বোরকা পরবো না।

আরিয়ান বললো আমি কিছু শুনতে চাই না বড় ভাই হিসাবে আমার যেটা দায়িত্ব আমি সেটাই করছি। বাড়িতে তুই কি পরিস পরবি সেটা একান্ত তোর ব্যাপার কিন্তু বাহিরে বা কলেজে তোকে বোরকা পরতে হবে আমার সিদ্ধান্তে।

আহি একটু রেগেই বলে এতো অধিকার দেখাচ্ছো কাকে আমি তোমার বিয়ে করা বউ নই। যেখানে আমার নিজের ভাই কিছু বলছে না আর তাছাড়া মাহি রাহিও তো একই ভাবে যায়।

আরিয়ান বলে__ওদের জন্যও নিয়েছি তো নাকি।

আহি আর কিছু বলে না তারপর তার রেস্টুরেন্টে চলে যায়।মাহিরেরা অপেক্ষা করছে আরিয়ান এসে বলে কিছু অর্ডার দিয়েছিস।
মাহির বলে__ না ওরা তো কিছুই বলছে না আহির জন্য অপেক্ষা করছে।

সবাই আহিকে অর্ডার করতে বললো। আহি বিরিয়ানি সাথে কোল্ডড্রিংক অর্ডার দিলো। সবাই খাওয়া দাওয়া করে বাড়ির জন্য নিয়ে বেরিয়ে পরলো দুটো বাইক পাশাপাশি যাচ্ছে রাস্তায় ফুসকার দোকান দেখা মাএই আহি বলে ফুসকা খাবো মাহির বলে এই তো বিরিয়ানি খাইলি এখন কোন পেটে ফুসকা খাবি পেটুক।

আহি আমি কোথায় রাখি,, রাখি তোকে বলতে হবে।
বাইক থামালো তিনজনে ১ প্লেট করে ফুসকা নিলো রাহি মাহি ১ প্লেট খেয়ে আর খেতে পারলো না আহি ২ প্লেট খেলো।
মাহির বলে__তুই আমার বোন তো নাকি রাক্ষসি
আহি বলে__ ভাইয়া।
কয়েক প্লেট ফুসকা নিলো আহির জন্য আরো ১ প্লেট নিতে বললো নিয়ে তারা বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলো।
এদিকে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়ে এলো বাড়ির তিন কন্যা বাড়িতে ফেরেনি সবাই টেনশনে ড্রয়িং রুমে বসে আছে অালোচনা করছে আরিয়ান ওদের নিয়ে কোথায় গেছে।

মেহেরিন চৌধুরী বলে__তোমরা বেকার টেনশন করছো আরিয়ান আর মাহির তো আছে।

তখনই রুমন বলে ওই যে ওরা আসছে।

আরিয়ান মেহেরজান চৌধুরীর হাতে খাবার গুলো দিয়ে বলে সুইটহার্ট নেও এগুলো তোমাদের জন্য।
আর সবাইকে বলে তোমরা একটু আমার সাথে এসো বাহিরে নিয়ে গিয়ে বাইক দুটো দেখায় সবার পছন্দ হয়। সবাই ভিতরে চলে যায়।

মিনহাজ চৌধুরী বলে আরিয়ান এতগুলো টাকা নষ্ট করার কি দরকার ছিলো বাড়িতে গাড়ি আছে।

আকরম চৌধুরী বলে আহা থামো তো দাদু ভাইয়ের শখ হয়েছে কিনেছে।
কেউ আর কথা বাড়ালো না সেখানে স্বয়ং চৌধুরী সাহেব রাজী সেখানে আর কে কি বলবে।
আহির বাবারা বাহিরে গেলো একটু বেড়াতে এটা তাদের অভ্যাস। মায়েরা গেলো রান্না করতে।দাদু ভাই আর দাদীমা রুমে গেলো। ছোটরা যার যার রুমে গেলো।রুমনকে পড়াতে এসেছে ও পরতে চলে গেছে।

আহি মাহি রাহি তিনজনে ফ্রেস হয়ে আহির রুমে গেলো আহিকে জিজ্ঞেস করছে ভাইয়া তখন কোথায় নিয়ে গেলো আর হাতে ওথো গুলো শপিং ব্যাগ কেনো।
আহি বলে খুলে দেখ কি আছে।

মাহি রাহি ব্যাগ গুলো হাতে নিতে দেখে ৬ টা মাহির নাম আর ৬ টাতে রাহির নাম লেখা আছে।
বাকিগুলোতে নাম লেখা নাই।
মাহি বলে এগুলো তোর নিশ্চয়ই।
রাহি বলে ভাইয়া আপুনিকে কতো ভালোবাসে আমাদের বাসে না মাএ ৬ টা করে আমাদের আর ২০ টা আপুর।

মাহি বলে আরেহ বাসে শুধু একটু ডিফারেন্ট আছে।

আহির বোরকা গুলো দেখে রাহি তার বোরকা গুলো নিয়ে চলে যায়।

মাহি আহিকে বলে ভাইয়া মনে হয় তোকে অনেক ভালোবাসে।

আহি বলে কেনো মিথ্যা আশ্বাস দিচ্ছিস মাহি ও তো নিজের মুখেই বলেছে সব আর আমাকে কথো বাজে বাজে কথা বলেছে।তারপর ও আমি তাকে অনেক ভালোবাসি ওই দিনের কথা গুলো প্রায় ভুলে গেছি। কিন্তু এটা ভুলিনি সে অন্য কারো।

মাহি বলে__কোনো কোনো সময় মুখের কথাও মিথ্যা হয়।

৮ টার দিকে সবাই ড্রয়িং রুমে আসর বসিয়েছে বাইক কেনা বোরকা কেনা এগুলো নিয়ে।

আহি একটা নীল শার্ট ও সাদা সাথে নীল কালারের
বড় বড় ফুলের স্কার্ট আর সাথে গলায় সুন্দর ভাবে ওড়না পেচিয়েছে। সবাই নিচেই রয়েছে বাড়িতে অনেক প্রকার রান্না হচ্ছে।তিন জা মিলে রান্না করছে কাজের মেয়েও সাহায্য করছে ওরা রান্না ঘর থেকে গল্প করছে।

আহি বলে__ কি নিয়ে আলোচনা করছো তোমরা

আহির বড় ফুপি বলে আরিয়ান নাকি আজকে ৫ বোনদের জন্যই বোরকা কিনেছে।

আহি অবাক হয়ে বলে ৫ জনের জন্য মানে।
আরশি চৌধুরী বলে হ্যাঁ তুই মাহি রাহি রুহান ইফতি
তাহলে কতজন হলো।

আহি মাহিকে চোখের ইশারায় বলে কখন কিনলো।

রুমন বলে আমাদের জন্য শুধু ফুসকা আর বিরিয়ানি বলেই রুমন আর রোহান ফুসকা খেতে শুরু করলো।

মাহি বলে সবগুলো খাস না তোরা আহির জন্যও রাখিস।

রুমন বলে আপুনি তোমরা তো অনেককিছুই পেয়েছে এই ফুসকা গুলো আমাদের থেকে কেড়ে নিও না।

রোহান বলে হ্যাঁ আপুনি এইটুকু দয়া দেখাও তোমাদের ছোট্ট মিষ্টি ভাইদের উপর।
আহি বলে__ভাই তোরা সবগুলোই খা

মাহি বলে__ কি বলছিস তোর জন্য তো।

আহি কিছু না বলে রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে বসে পরলো মেঝেতে আর বললো আমার আড়ালে কিনার কি দরকার ছিলো সবার জন্য নিলে তো আমার সমানে নিলে কি হতো। আগের কথা মনে পরতেই বলে ও সরি সে তো তোমার স্পেশাল মানুষ আমার মন খারাপ হওয়ার কি আছে। বলেই উঠে পরলো।

কিছুক্ষণ পর খেতে ডাকছে আহিকে। আহি গেলো না অনেক খেয়েছে আজকে। তিনজনের একজনও খেতে গেলো না। বলে দিয়েছে তাদের খিদে নেই।
আরিয়ান আর মাহির এসে ওদের দিয়ে সেই যে গেছে এখন রাত ১০ টা বাজে আসার নাম নাই।

বড়রা সবাই খাওয়া শেষে বসে আড্ডা দিচ্ছে ফাতেমা চৌধুরী আকরম চৌধুরীকে বলে বাবা তুমি যেটা কথা দিয়েছো সেটা কি মনে আছে।
সবাই অবাক হয়ে ফাতেমার দিকে তাকিয়ে মনে করার চেষ্টা করে।
আকরম চৌধুরী বলে আমি যেটা কথা দেই সেটা কখনো ভুলি না।

ফাতেমা বলে আরিয়ান তো এখন দেশে এসেছে ওদের চার হাত কি এখন এক করে দেওয়া যায় না।

আহনাফ বলে ঠিক বলেছে আপু,, বাবা। কি বলো ভাইয়া।
মিনহাজ চৌধুরী বলে বাবা যেটা বলবে সেটাই হবে।

আরশি চৌধুরী বলে আরিয়ান কি মেনে নিবে।

মেহেরজান বলে কেনো মেনে নিবে না আরিয়ান তো ওকে পছন্দ করে সেটা তো আমরা সবাই দেখেছি।ঘরের মেয়ে ঘরেই থাকলো অন্যের ঘরে যেতে হবে না।

মেহেরিন বলে তারপর যদি আরিয়ান।

আকরম চৌধুরী বলে আমি যা সিদ্ধান্ত নিয়েছি সেটা সবাইকে মানতে হবে। আর কালকে শুক্রবার আর সেপ্টেম্বরের ১৯ তারিখ আরিয়ানের জন্মদিন।
কালকে একটা দোয়া মাহফিল করে এই সিদ্ধান্ত সবাইকে জানবো।
সবাই মাথা নাড়ালো হ্যাঁ সূচক বলে।

সবাই ঘুমাতে গেলো,,, রুহান ঘুমিয়েছে মাহির সাথে
আর ইফতি রাহির সাথে আহি একাই ও কাউকে সাথে নিতে চায় শুধু মাহি ছাড়া।

১২ টা বাজে আহির ঘুম ভেঙ্গে যায় তার অনেক ক্ষিদে পেয়েছে। আহি বিরক্ত নিয়ে বলে তখন ক্ষিদে পেলো না এখন সুন্দর ঘুমটা নষ্ট করে দিলো।

বিরক্ত নিয়ে উঠে নিচে আসলো ফ্রিজ খুলে কিছু খাবার খেয়ে নিলো।খাবার গুলো রেখে ফ্রিজ বন্ধ করতেই আইসক্রিম দেখতে পায় আইসক্রিমের বাটি হাতে নিয়ে খেতে শুরু করে তখনে দরজা খোলার শব্দ পায় ড্রয়িংরুমের দিকে তাকাতেই দেখলো আরিয়ান আর মাহির দাঁড়িয়ে।

আরিয়ান রেগে বলে আহি তুই আইসক্রিম খাচ্ছিস।

আহি বলে কই না,,,তো!

মাহির বলে রান্না ঘরে কি করছিস।

আহি বলে ক্ষিদে পেয়েছিলো তো তাই খাবার খেতে এসেছিলা তাই আইসক্রিমের বাটিটা পরে যাচ্ছিলো সেজন্য ধরলাম আর তোমরাও এনট্রি নিলে।

আরিয়ান ঠিক আছে রুমে যা।

আহি বলে তোমরা খাবে না।

মাহির বলে না আমরা একটা বন্ধুর বাড়িতে খেয়েছে এসেছি তুই রুমে যা।
আহি রুমের দিকে পা বাড়াতেই ঘড়ির দিকে তাকায় পিছন ফিরে আরিয়ানকে মধুর সুরে ডাকে আরিয়ান।
আরিয়ান আহির দিকে তাকিয়ে থাকে। যেন আহি তাকে টানছে।

আহি বলে__শুভ জন্মদিন আরিয়ান।

আরিয়ান__বলে ধন্যবাদ তুই এখন রুমে যা।

আহি মন খারাপ করে রুমে চলে গেলো। মনে মনে বলে সবার প্রথমে উইশ করলাম শুধু ধন্যবাদ।
ভেংচি কেটে রুমে গেলো।

আরিয়ান মাহিরকে বলে আমার জন্মদিন সুন্দর করে দেয় আহির প্রথম এবং শেষ উইশ বলেই মুচকি হাসি দিয়ে রুমে চলে গেলো।
পরের দিন....

#চলবে

Address

Lal Monir Hat
Rangpur

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Fake Love Story posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share