07/11/2025
#গল্পঃএকটু_ভালোবাসা_দেও_না
#পর্বঃ১০
#লেখনীতেঃজাহিদা_আক্তার_রুবি
#পেইজঃJahida Aktar Rubi-জাহিদা আক্তার রুবি
"""দরজার সামনে বসে কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগলো""কেনো আমার হলে না আরিয়ান।কেনো?কেনো?কেনো?"" আমি কি এতটাই খারাপ দেখতে যে আমাকে একটু ভালোবাসা যায় না। তোমাকে ভালো বাসার অপরাধে আর কত কষ্ট পেতে হবে আমাকে। আমি যে আর সহ্য করতে পারছি না। আমি সহ্য করার ক্ষমতা হারিয়ে গেছে একতরফা ভলোবাসা বুঝি এমনি হয়। আল্লাহ তুমি কেনো তাকে আমার করে নিতে দিচ্ছো না। তাকে যদি তুমি আমার ভাগ্যে না রাখো তাহলে কেনো এমন বাজে ভাবে তার মায়ায় ফেললে।
""আহির আর্তনাদ কেউ দেখছে না। আহি
একনাগাড়ে কান্না করেই যাচ্ছে""
""মাহি দরজায় এসে বলে আহি বোন আমার প্লিজ দরজাটা খুলে দে। প্লিজ জান খুলনা দরজাটা।
আহি বসা থেকে উঠে দরজাটা খুলে দিলো। মাহি সাথে সাথে ভিতরে ঢুকে গেলো।""
মাহি:জান প্লিজ কান্না করিস না।
আহি: ""মাহিরে"" আমি যে শেষ হ'য়ে যাচ্ছি তোর ভাইকে হারাতে পারবো না রে। আমি মরে যাবো রে।
আহিকে কাছে টেনে জড়িয়ে ধরে চোখের পানি মুছে দিতে দিতে বলে..!
মাহি : আহি বোন আমার একতরফা কোনো জিনিস কি পাওয়া যায় বল।সে যদি সেচ্ছায় তোর কাছে না আসে।
আহি;-""আমি কি করবো মাহি আমি তো তোর ভাইকে ইচ্ছে করেই ভালোবাসি নি। সেটা তো হয়ে গেছে তার মায়ায় এমন বাজে ভাবে আটকে গেছি যে সেখান থেকে বেড়িয়ে আসতে পারবো না।''''
মাহি;-আহি ভাইয়া তো তোকে ভালোবাসে না। ভাইয়া রুহান আপুকে ভালোবেসেছে। তুই যেমন ভাইয়াকে ভালোবাসিস ভাইয়াকে পেতে চাস। সেইরকম তো ভাইয়াও চাইবে তাই না বল?
আহি মনোযোগ দিয়ে কথা গুলো শুনছে কিছু ক্ষণ চুপ থেকে বলে...!
আহি;-সেটা তো চাইবে কিন্তু আমি তো ওকে ভুলতে পাবরো না,,, না অন্যকারো হতে দেখতে পারবো.!
আহিকে চুপ করিয়ে দিয়ে মাহি রেগে বলে..!
মাহি;-তুই ভাইয়াকে ভালোবাসিস কিন্তু একতরফা। আর ভাইয়ারা তো দুজন দুজনকে ভালোবাসে।
""এটা শুনে আহির বুকের বা-পাশটা যেন গভীর ভাবে চিনচিন করে ব্যাথা করছে""
আহি:-মাহি তুই কি বলছিস..!
মাহি:- ""তুই কেনো কোনো গোলোক ধাঁধায় পড়ে থাকবি। জোর করে কি কখনো কোনো কিছু পাওয়া যায়। তোর ভালোবাসা একতরফা কেনো বুঝতে চাইছিস না।ভাইয়া তো তোকে ভালোবাসে না। এতদিন তো একটা আশা ছিলাম আমরা যে কোনো না কোনোদিন ভাইয়া তোকে ভালোবাসবে কিন্তু আজকে ভাইয়া তো নিজের মুখেই রুহান আপুকে বিয়ে করতে রাজি হলো। তাহলে কি আর আশা করা যায়। তোর ভালোবাসা একা তোর মাঝেই থেকে গেলো।""
আহি;প্লিজ জান আমাকে একটু একা থাকতে দে।
মাহি:-তুই কেনো পাগলামি করছিস ভুলে যা না ভাইয়াকে আর কিছুদিন পর তো ভাইয়া তার ভালোবাসার মানুষকে বিয়ে করবে।
আহি;-দাদু ভাই সেদিন বললো না এ বাড়িতে ভালোবাসা নিষেধ তাহলে...!
মাহি;-""তুই শুনলি না কি বললোএকটু আগে ছোট ফুপিকে যখন বড় ফুপির দেবরের সাথে ঠিক হয়েছিলো ছোট ফুপি বিয়ে না করে পালিয়েছিলো। দাদুভাইয়ের সন্মান তখন মাটিতে মিশে গিয়েছিলো তখনে ঠিক হয় রুহান আপু আর ভাইয়া বিয়ে।
তাহলে তাদের ভালোবাসাটা স্বাভাবিক নিষেধের কোনো কারণ নেই। আর তুই তো পাঁচ বছর আগে বুঝতে পেরেছিস ভাইয়াকে তুই ভালোবাসিস।""
""আহি অসহায় কন্ঠে বললো মাহি আমার তো বুঝতে দেরি হয়েছে।""
মাহি;-""দেখ বোন একতরফা ভালোবাসা কখনো পূর্ণতা পায় না। আর এ বাড়িতে ভালোবাসা মানেই তো শাস্তি।ফুপির মতো আমরা তোকে হারাতে পারবো না রে জান প্লিজ তুই একটু বুঝার চেষ্টা কর
ভাগ্যের উপর ছেড়ে দে তোর ভালোবাসা যদি সত্যি হয় তাহলে ভাইয়া তোরেই হবে। আর ওই রুহান আপুকে আমি কখনোই ভাবি মানতে পারবো না।""
আহি;-""কেনো মিথ্যা আশ্বাস দিচ্ছিস একটু আগেই তো বললি একতরফা কোনকিছুই পূর্ণতা পায় না। সে তো আমাকে ৫ বছর আগেই বলে দিয়েছিলো সে অন্য কারো আমিই বোকার মতো তার কথা গুলো মানতে পারি। তাকে ভালোবেসেই গেছি কারণ ভালোবাসতে তো আর অনুমতি লাগে না।
দীর্ঘ শ্বাস নিয়ে আবার বলে জানি না আমার ভাগ্যে কি আছে। তবে তোর ভাইকে পাওয়ার আশা আমি ছাড়বো না সেটা ইহকালে হোক বা পরকালে আমার তাকেই চাই। তুই তোর রুমে যা আমাকে একা থাকতে দে।"""
মাহি;- দেখ তুই কিছু করবি না।ভাগ্যে যা আছে তাই হবে
আহি;- ভাগ্যের উপর ছেড়ে দিয়ে তো এখন সে অন্য কারো হচ্ছে সেটা আমাকে দেখতে হবে.!
দরকার পরলে আরিয়ানকে কিডন্যাপ করে বিয়ে করবো।
""মাহি দরজার দিকে তাকাতেই দেখে আহির মা দাঁড়িয়ে মাহি আহিকে চোখ দিয়ে ইশারা করলো দরজার দিকে দেখতে। আহি তাড়াতাড়ি চোখের পানি মুছে বলে।""
আহি;-মা তুমি কখন এলে।
মেহরিন চৌধুরী;-এসেছি অনেকক্ষণ হলো।
""মেহেরিন চৌধুরী ভিতরে ঢুকলো বলে আহি এসব কি শুনলাম আমি। তুমি এরকম খারাপ হয়ে গেছো
যে বাড়ির মান সম্মানের কথা এক বারও ভাবলে না। বড় ভাইয়া কি ভাববে বলতে পারো।""
আহি ;-মা তুমি আমাকে তুমি করে বলছো কেনো।
মেহেরিন চৌধুরী:- সেটা তোমার ভালোই জানা আছে।
আহি:- প্লিজ মা আমার উপর রেগে থেকো না।
""মেহেরিন চৌধুরী ছোট একটা সোফায় বসে আহিকে কাছে ডাকে আহি তার মায়ের সামনে মেজেতে বসে মায়ে হাটুতে মাথা রাখে।""
মেহেরিন চৌধুরী তুই আমাকে ভালোবাসিস আহি।
আহি ;-কি বলো মা এসব।
মেহেরিন চৌধুরী ;-বল আগে
আহি;-বাসি তো মা অনেক ভালোবাসি।
মেহেরিন চৌধুরী ;-সত্যি বলছিস।
আহি ;-ল্হম মা তিন সত্যি।
মেহেরিন চৌধুরী:-""তাহলে এই মায়ের জন্য কি করবে পারবি।""
আহি তুমি বললে:-"" মরতেও পারি।""
মেহেরিন চৌধুরী;- তোকে মরতে হবে না শুধু একটা ছোট্ট কাজ করতে পারবি না।
আহি:- বলো না মা কি কাজ চেষ্টা করবো।
মেহেরিন চৌধুরী:-""আমার মাথায় হাত রেখে কথা দে।""আমি যেই কাজ দিবো তুই রাখবি। ""
""আহি মায়ের দিকে তাকিয়ে মাহির দিকে তাকালো মাহি কিছু বলছে না ওদের কথায় শুনছে।""
আহি মা এমন কিছু বলো না যেটা করতে পারবো না।
মেহেরিন চৌধুরী:- তুই আরিয়ানকে ভালোবাসিস।
আহি চমকে উঠে বলে:- মাথা নিচু করে বলে ল্হম
মেহেরিন চৌধুরী ও তোর কি হয় ভাই না তাহলে এই ভুলটা করলি কিভাবে
আহি মা সরি কিভাবে হয়েছে আমি জানি না তবে এটা জানি আমি ওকে ছাড়া বাঁচতে পারবো না ""মা""
""মেহেরিন চৌধুরী একটু আগেই তো বললি আমার জন্য মরতে পারিস।""
""আহি মাথা নিচু করলো চোখের পানি চিকচিক করছে। কি করবে কিছুই বুঝতে পারছে না।
অসহায় কন্ঠে বললো"""মা'""
মেহেরিন চৌধুরী:-আরিয়ানকে তুই ভুলে যা মা।
আহি:- ""মা ভালোবাসা কি অপরাধ""
মেহেরিন চৌধুরী:- না এই বাড়িতে ভালোবাসা অপরাধ,,,,তারপরও তুই ভালোবেসেছিস একজন ভুল মানুষকে যে অন্য কারো জন্য বরাদ্দ।
তুই আরিয়ানকে ভুলে যা।
""আহি কিছু বললো না নিশ্চিুপ হয়ে রইলো।""
""মাহি বলে মামনি তুমিও বলছো আমিও বলছি ও বুঝতে চাইতেছে না।""
""মেহেরিন চৌধুরী:- ও আমার মাথায় হাত রেখে কথা দিয়েছে। সে যদি চায় আমি মরে যাই তাহলে তার যা ইচ্ছে তাই করুক।বলেই রেগে অন্য দিকে তাকালো""
""আহি মায়ের দিকে তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষণ
আহি বলে ওমা,,,মা,,,মাগো আমি যে ওকে ভুলতে পারবো না। আমাকে ক্ষমা করে দিও তবে চিন্তা করো না আমি ভালোবাসার দাবি করবো না কারো কাছে। আমি নিয়তির কাছে হেরে গেলাম। আমি নিজে হেরে যেতে পারি কিন্তু তোমাকে হারাতে পারবো না মা"""
""মেহেরিন চৌধুরী আমিও যে তোকে হারাতে পারবো না মা। তোর ফুপির মতো তুই আমাদের কাছ থেকে চলে যাস সেটা চাইতে পারবো না মা। তোর ছোট ফুপিকে আমরা খুবই ভালোবাসতাম""
আহি:- মা দাদুভাই তো ফুপিকে আসার অনুমতি দিছে তাহলে।
"""মেহেরিন চৌধুরী দিছে তবে আরিয়ানের বিয়ে পর্যন্ত।আরিয়ানের জেদের কারণে আনতে বলেছে তারপর তার সাথে আর যোগাযোগ রাখবে না। তুই দেখে নিস। শুধু বিয়ে টা হওয়ার অপেক্ষা ""
আহি;-মা,,মাহি তোমরা একটু আমাকে একা থাকতে দেও।
""দুজনেই চলে গেলো আহি দরজা বন্ধ করে কান্না করতে শুরু করলো।বলতে লাগলো আমি যে হেরে গেলাম। আমি কিভাবে তাদের একসাথে দেখবো তবুও একই বাড়িতে আাাামি চলে যাবো,,,,চলে যাবো আমি।""
""অন্যদিকে আরিয়ান রুমে বসে কান্না করছে মাহির রিহান আরিফ তাকে বুঝাচ্ছে সে বুঝতে নারাজ""
মাহির;-আরিয়ান তুই যা করছিস বনুর তো ভালোর জন্য করছিস।
আরিয়ান;- ""নারে আমি আমার ছোট্ট পরীটাতে আবার অাঘাত করলাম ও মনে হয় অনেক কান্না করছে,,,আমি এটা নিষ্ঠুর কিভাবে হলাম বল না তোরা। যাকে পাওয়ার জন্য লড়াই করতে চেয়েছিলাম তাকেই হারাতে বসেছি আমি একটা হেরে যাওয়া মানুষ আমার দ্বারায় কিচ্ছু সম্ভব নয়।আমি একটা হেরো আমি একটা হেরো।পাখিরে তোর আরিয়ান খুব খারাপ মানুষ খুব খারাপ""
""বলেই ছোট্ট কাঁচের টেবিলটাতে ঘুষি মারলো সাথে সাথে হাত কেটে গেলো।কাউকে ধরতে দিলো না গলগল করে বের হতে লাগলো।""
মাহির;-আরিয়ান প্লিজ থাম।
আরিয়ান;-মাহিররে তোর বোন পারবে না আমাকে তার করতে বল না ওতো আমাকে নিজের থেকেও বেশি ভালোবাসে ওকে বল না আমি একটা খাঁচায় বন্দি আমাকে বের করতে। আমি তো পারবো না ওকে আমাকে করতে কিন্তু ওতো পারবে বল না ভাই।
রিহান;-কি পাগলামি করছিস এখন আগেই তো বিয়েতে রাজি হলি। না জানি আহিটা কি করছে।
তোর জন্য একদিন ওর কিছু না কিছু হয়ে যায়।
আরিয়ান চিৎকার দিয়ে বলে ""রিহাাান""
মাহির ;-চুপ কর তো তোরা এখন ভাব কি করা যায়
আরিফ;-কি আর করবি নিয়তি যা করবে তাই হবে।
আরিয়ান:-আমি আমার ছোট্ট পরীটাকে এত ভালোবাসি কিন্তু বলতে পারলাম না একটা আফসোস আমাকে তিলে তিলে মারবে।
রিহান;-তুই কি বিয়েটা করবি।
আরিয়ান;-জানি না,,, অন্য কাউকে বিয়ে করার আগেই যেন আমার মৃত্যু হয়। তোরা আমাকে একা থাকতে দে।
মাহির;--আমরা তোর সাথে থাকি।
আরিয়ান :- আমি ছোট না যে নিজেকে সামলাতে পারবো না,,,তোরা যা।
""মাহির রিহান আরিফ,, মাহিরের রুমে গেলো""
"আরিয়ান ও আহি দুজনেই নির্ঘুম রাত কাটালো।""
"""পরের দিন সকালে আরিয়ান সবার আগেই বেরিয়ে গেছে। মাহির রিহান আরিফ খুঁজেও পেলো না।
সবাই ব্রেকফাস্ট করে নিচে আড্ডা দিচ্ছে গল্প করছে বিয়ে নিয়ে।
তিন জা মিলে রান্না ঘরে রান্না করছে আর সবার গল্পের মাঝে রান্না ঘর থেকে গল্প করছে।আরশি চৌধুরী মেহেরিন চৌধুরীর মন খারাপ দেখে বলে""""
আরশি চৌধুরী;- ""কি হয়েছে মেহেরিন তোর মন খারাপ কেনো।""
""মেহেরিন চৌধুরী একটু হাসার চেষ্টা করে বলে কই মন খারাপ কেনো করবো। (মনে মনে বলে জানি না আমার মেয়েটা কেমন আছে সকালে তো দেখলাম ঘুমাচ্ছে রাতে মনে হয় অনেক কান্না করছে)""
"""রাইসা চৌধুরী বলে ছোট আপা আরিয়ান আর রুহানের বিয়েতে কিন্তু আমরা অনেক মজা করবো।
তিন জনে মিলে প্লান করেছিলাম না আমরা বাসর ঘর ধরবো এই ইচ্ছেটা যেন আমাদের পূরণ হয় আর আমার কিন্তু তিনে মিলে নাচবো।""
আরশি চৌধুরী;-""আরেহ আরেহ সব হবে এই বাড়ির বড় ছেলের বিয়ে মজা না করলে চলে।""
""মেহেরজান রান্না ঘরে গিয়ে বলে কি গো তোমরা বউমা লজ্জা শরম কি ধুয়ে খেয়েছো নাকি নিজের ছেলের বিয়েতে নাকি ছিহ ছিহ,,, আল্লাহ এই কথা গুলো শুনার আমাকে জন্য বাঁচিয়ে রেখেছো। মাহির রিহান আরিফ বেড়িয়ে যেতে নিলে আকরম চৌধুরী বলে তোমরা কোথায় যাচ্ছো আর আরিয়ান কোথায়।""
মাহির;-""জানি না দাদু ভাই সকালে কই যেন বেড়িয়ে গেছে।""
মিনহাজ চৌধুরী ;-""কি বলো তোমরা বাড়িতে আর ও একা কোথায় গেছে।অফিস তো এত সকালে নেই।""
মাহির;-""জানি না বড় আব্বু..!""
আকরম চৌধুরী;-""ঠিক আছে তোমাদের কোথাও যেতে হবে না...!ও নিজেই চলে আসবে হয়তো ফজরের নামাজ পড়ে কোথাও হাঁটতে গেছে।""
#চলবে