27/08/2026
এই পোস্টটি পড়ার আগে দুটি কথা।
১. যারা ছেলেরা পড়বেন তারা অবশ্যই এরকম মেয়ে খোঁজার চেষ্টা করবেন ইনশাআল্লাহ।
২. আর যারা মেয়েরা পড়বেন তারা যত সম্ভব নিজেকে এই রকম বানানোর চেষ্টা করবেন ইনশাল্লাহ।
এ পোস্টটিতে কাউকে খারাপ বা প্রশংসা বা ভালো কোন কিছু প্রমাণের জন্য লেখা হয়নি।
ইনশাআল্লাহ ছেলে এবং মেয়ে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য পোস্টটি লেখা হয়েছে।
তাই লেখকের সম্পর্কে খারাপ কিছু কল্পনা করে ইনশাল্লাহ দোয়া করব। আল্লাহ আমাদের সবাইকে ইসলামের আলোতে আলোকিত হওয়ার তৌফিক দান করুন আমিন।
কেমন হওয়া চাই আপনার জীবনসঙ্গী?
একটি মাত্র ভুল সিদ্ধান্তে জীবন জাহান্নাম হয়ে যেতে পারে! বিয়ের আগে একজন আদর্শ নারী চেনার জন্য তার ভেতর কোন গুণ গুলো আছে কি না কঠোরভাবে যাচাই করা উচিত? না জেনে হুট করে সিদ্ধান্ত নিলেই জীবনভর পস্তাতে হবে! বিয়ের আগে একজন মেয়েটি যে গুণগুলো অবশ্যই যাচাই করতে হবে...
لَا تَـــــحـــــْزَنْ 🍃
দুনিয়াতে সুন্দর ঘর তো সবাই চায়, কিন্তু সেই ঘরই সার্থক যা আখেরাতেও জান্নাতের পথ দেখায়।
একজন আদর্শ স্ত্রী কেবল জীবনসঙ্গিনী নন, বরং তিনি পরবর্তী প্রজন্মের কারিগর এবং স্বামীর দ্বীন রক্ষার প্রধান অবলম্বন।
জীবনসঙ্গিনী নির্বাচনের ক্ষেত্রে একজন মুমিন যুবকের কোন বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা উচিত, বিস্তারিত নিচে দেওয়া হলো:
———————————————————
১. দ্বীনদারি:- সাধারনত দ্বীন ইসলামের বুঝ, ফযীলতপূর্ন বিষয়াবলি এবং এর সমুন্নত শিষ্টাচারিতার কার্যত রুপ দান করা। দ্বীনদারি হলে স্বামি এবং সন্তানের হক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আদায় করতে সক্ষম হবে।
২. সচ্চরিত্রা:- একাগ্রচিত্তে ও লাগাতার দ্বীনের কাজ করার জন্য সচ্চরিত্রা হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। দুশ্চরিত্রা ও অকৃতজ্ঞ নারী পুরুষের মনকে সারাদিন অশান্ত করে রাখার জন্য যথেষ্ট।
৩. সৌন্দর্য:- দ্বীনদারিতার পাশাপাশি সুশ্রী পাত্রী উত্তম। স্ত্রীর সৌন্দর্য পরকীয়ার মতো কবিরা গুনাহ থেকে আত্মরক্ষার উছিলা হয়।
৪. অভিজাত বংশের এবং সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ে বাছাই করা:- যে বংশের শিষ্টাচার, আথিয়েতা ও ন্যায়পরায়ণতা লোকমুখে শোনা যায়। সমাজে যাদের মান সম্মান রয়েছে।
৫. স্বল্প দেনমোহরে বিয়ে সম্পন্ন করা:- বিয়ের মাঝে কল্যাণের উৎস হচ্ছে স্বল্প দেনমোহর, এটা থেকেই বিয়ের বাকি সব কল্যান -বারাকাহ জারি হয়।
৬. ভিন্ন গোত্রের মেয়েকে বিয়ে করা:- নিজ আত্মীয়-স্বজন এবং স্ববংশীয় মেয়েদের বিয়ে না করে ভিন্ন গোত্রীয় মেয়েকে বিয়ে করা। এতে মুসলিমদের মাঝে সামাজিক বন্ধন জোরালো হয়।
৭. কুমারী মেয়েকে বিয়ে করা:- একজন কুমারী মেয়ের হৃদয়জুড়ে আবেগ -পতিভক্তি সৃষ্টিগতভাবেই থাকে। ভালোবাসার উষ্ণতা থাকে আকাশচুম্বী। ফলে মনে হয় দুনিয়ার বুকে যেন একটুকরো বেহেশতের সংসার।
৮. অধিক সন্তান জন্মদানে সক্ষম নারীকে বিয়ে করা:- রাসূল ﷺ বলেন, তোমরা স্বামী-সোহাগিনী এবং অধিক সন্তান জন্মদানে সক্ষম নারীকে বিয়ে করো। কারন আমি তোমাদের সংখ্যা নিয়ে হাশরের মাঠে অন্যান্য জাতির কাছে গর্ব করবো। [আবু-দাউদ: ২০৫০]
৯. স্ত্রী মমতাময়ী ও সহানুভূতিশীল হওয়া:- স্ত্রী মমতাময়ী ও সহানুভূতিশীল হলে সংসারজীবনে কলহের মাত্রা অনেকাংশে কমে যায়।
১০. স্ত্রী বিশ্বস্ত ও অনুগত হওয়া:- বিশ্বস্ত স্ত্রী কখনোই স্বামীর অপছন্দের কাজগুলোর ক্ষেত্রে অবাধ্য হয় না। প্রথম দেখাতেই জেনে নেয়ে উচিত স্বামীর হক সম্পর্কে জানে কিনা, তাহলে বোঝা যাবে, অন্তরে নারীবাদের বিষ আছে কিনা।
১১. স্ত্রী হতে হবে সৎ স্বভাবের, ক্ষীনস্বরী:- সাম্প্রতিক সময়ে স্ত্রীর ঝাঁঝালো কন্ঠস্বর স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদের সবচেয়ে বড় কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। স্বাল্পভাষী, ক্ষীনস্বর স্ত্রী আল্লাহর নিয়ামত।
১২. পাত্র-পাত্রী শারীরিক সমস্যামুক্ত হতে হবে:- বিবাহের আগেই পাত্র-পাত্রীর জন্মগত ত্রুটি থাকলে বা কোনো বড় অসুখ থাকলে তা উভয়পক্ষেরই জানার অধিকার রয়েছে, যাতে পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি না হয়।
১৩. স্ত্রী ঘর-গৃহস্থালীতে পারদর্শী হতে হবে:- রোজগার হলো পুরুষের দায়িত্ব। নারী ঘরে থাকবে এবং ঘরের সকল দায়িত্ব পালন করবে। নারীকে অবশ্যই পরিবার গঠন, গৃহস্থালী কাজে পারদর্শী হতে হবে। পাত্রীর ভেতরে নারীবাদের বিষ আছে কিনা তা দেখা জরুরী। বাহ্যিকভাবে দ্বীনদার অনেক পাত্রীর ভেতরেও নারীবাদী চেতনা লক্ষ্যনীয়।
১৪. পতিব্রতা নারী:- রাসূল ﷺ বলেন, আমি কি তোমাদের জান্নাতি নারীদের কথা বলব না? তারা স্বামী-সোহাগী, অধিক সন্তান জন্মদানকারী এবং বারবার স্বামীর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। যদি কখনো তার প্রতি অবিচার ও করা হয় তবুও সে বলে- আমার স্বামী, এই যে আমার হাত আপনার হাতের উপর রাখলাম। আপনি আমার প্রতি সন্তুষ্ট না হলে আমি এক মুহুর্তের জন্যও ঘুমাবো না। [নাসায়ী, আস-সুনানুল কুবরা, ৮/২৫১ (৯০৯৪)। বাইহাকি, শুআবুল ঈমান: ১১/১৭১ (৮৩৫৮)]
১৫. স্ত্রী স্বামীর গোপন বিষয়ে হেফাযতকারী ও বিচক্ষন হওয়া:- বিচক্ষন নারী সংসার জীবন ধৈর্য্যের সাথে পালন করতে পারে এবং স্বামীর দোষ কাউকে না বলে বেড়ানো এতে দাম্পত্য কলহ কম হয়।
১৬. সরলমনা ও সহজ-সরল প্রকৃতির হওয়া:- স্ত্রী হতে হবে সহজ-সরল প্রকৃতির। তার কথাবার্তা ও চালচলনে সরলতা প্রকাশ পাবে। কোন লৌকিকতা থাকবে না। কিংবা তার মাঝে কোন প্যাঁচ বা গীবতের প্রবণতা থাকবে না।
১৭. স্ত্রী হতে হবে ইবাদতগুজার ও অনুগত স্বভাবের:- নিয়মিত সালাত এবং নফল নামায-রোজা রাখবে। কুরআন তিলাওয়াত করবে এবং সকাল-সন্ধ্যার আমল সম্পর্কে জানা থাকবে এতে দ্বীনদারি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।
১৮. স্ত্রী পূত-পবিত্রা ও সতী হওয়া:- আয়েশা(রাঃ) বলেন, যে নারী কথাবার্তার প্যাঁচ বুঝে না, পুরুষদের ভোজবাজি সম্পর্কেও ধারনা রাখে না। একদম নিষ্কলুষ হৃদয়ের অধিকারী। শুধু স্বামীর জন্য সাজগোজ করতে জানে এবং যার পরিবার সর্ববিষয়ে রক্ষনশীল হয়, এমন নারী সর্বোত্তম। [রাগিব আল আসহাফানী, মুহাযিরাতুল উদাবা, ২/২২২]
❤
লেখক...... নাম জানা যায়নি...🥰🥰🥰