22/01/2026
২০ বছরের মাস্টারপ্ল্যান: ক্ষমতার লোভ নয়, প্লান বি'তে রাষ্ট্র ক্ষমতায় ইসলাম প্রতিষ্ঠার রণ কৌশল
সাংবাদিক সাইদুর রহমান নাঈম
নিজস্ব প্রতিবেদন|
রাজনীতি কোনো শিশুসুলভ আবেগের খেলা নয়। এটা যুদ্ধ—ঠাণ্ডা মাথার, দীর্ঘমেয়াদি ও নিষ্ঠুর বাস্তবতার যুদ্ধ। যারা এখনো ভাবে রাজনীতি মানে শুধু তাৎক্ষণিক জয়, এমপি-মন্ত্রী হওয়া আর ক্ষমতার স্বাদ নেওয়া—তারা রাজনীতির ‘এ-বি-সি’ও বোঝে না।
ইতিহাস বলে, সংখ্যার জোরে নয়—শৃঙ্খলা, ধৈর্য ও কৌশলে যুদ্ধ জেতা হয়। হাজারো বিশৃঙ্খল সৈন্যের চেয়ে কয়েকশ’ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যোদ্ধাই ক্ষমতার পাল্লা উল্টে দিতে পারে। তাই সাময়িকভাবে পিছিয়ে আসা মানে পরাজয় নয়; বরং বড় আঘাত হানার আগে রসদ ও শক্তি সঞ্চয়।
সমালোচনা যারা সহ্য করতে পারে না, তারা নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্য নয়
রাজনীতিতে সমালোচনা সহ্য করতে না পারলে ঘরে বসে থাকা উচিত। আজ যাকে গালি দেওয়া হচ্ছে, কাল তাকেই ফুল দেওয়া হবে—এই বাস্তবতা মেনে নিতে না পারলে রাজনীতি আপনার জন্য নয়। হঠাৎ কেউ কেউ বলছে, “এতদিন পীর সাহেব ভালো ছিলেন, এখন খারাপ”—এই কথাগুলোই প্রমাণ করে, তারা রাজনীতি বোঝে না, পরিস্থিতিও বোঝে না।
নিষ্পাপ মানুষও এই নষ্ট সিস্টেমে ঢুকলে কলঙ্কমুক্ত থাকতে পারে না। এখানে ধৈর্য লাগে, সময় লাগে, ঠাণ্ডা মাথায় দাবা খেলতে হয়। যারা তর্ক, বট টিম আর ভাড়া করা প্রচারণায় বিশ্বাস করে—তারা সাময়িক শব্দ তুলতে পারে, ইতিহাস তৈরি করতে পারে না।
আদর্শের লড়াই শক্তি দিয়ে নয়, কাজ দিয়ে
আদর্শের লড়াই পেশিশক্তি দিয়ে হয় না। কাজ দিয়ে হয়। আপনি যদি সত্যিই পরিবর্তন চান—তাহলে নিজের উৎপাদন দ্বিগুণ করুন। আগে লিখতেন না, এখন লিখুন। আগে দান করতেন কম, এখন বাড়ান। আগে এক ঘণ্টা কাজ করতেন, এখন দুই ঘণ্টা করুন। শক্তি এভাবেই তৈরি হয়, ফেসবুক স্ট্যাটাসে নয়।
দায়িত্ব যখন কাঁধে পড়ে, তখন আর বাহানা চলে না। কোমরে গামছা বেঁধে নামতেই হয়। ভালো ছাত্রকে যেমন প্রথমে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়, এখানেও তাই। প্রতিপক্ষ কখনোই চায় না শক্তিশালী বিকল্প ইসলামী শক্তি গড়ে উঠুক। দুর্বল দলকে তারা ছাড় দেয়—কারণ তারা জানে, সেই দল কখনো হুমকি হবে না। কিন্তু ই-আন্দোলনের তৃণমূল শক্তিশালী—এই সত্যটাই তাদের ভয়ের কারণ।
ক্ষমতা এখন নিলে সেটাই হবে সবচেয়ে বড় ভুল
এখন সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ভুল হবে ক্ষমতায় যাওয়া। হ্যাঁ—ভুল। বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতায় ক্ষমতায় যাওয়া মানে আগুনে ঝাঁপ দেওয়া। মানুষের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী, অথচ কোষাগার ফাঁকা, রাষ্ট্রযন্ত্র ভাঙাচোরা।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে সৎ মানুষও ব্যর্থ হবে। তখন ব্যর্থতার দায় যাবে কার ঘাড়ে? আন্দোলনের। এরপর শুরু হবে ক্ষোভ, বিদ্রোহ, নতুন আন্দোলন। সরকার ইসলামী হলেও রেহাই পাবে না। ক্ষমতার অংশীদার হয়ে শেষ পর্যন্ত ‘গৃহপালিত বিরোধী দল’ বানানো হবে—আর সেখান থেকেই ইমেজ ধ্বংসের প্রক্রিয়া শুরু।
যারা এখন ক্ষমতার স্বপ্ন দেখছে, তারা আসলে নিজেদের রাজনৈতিক কবর খনন করছে।
দূরত্বই এখন সবচেয়ে বড় শক্তি
আগামী ১০ বছর ক্ষমতা থেকে দূরে থাকা কোনো দুর্বলতা নয়—এটাই সবচেয়ে বড় কৌশল। এই সময়টা কাজে লাগাতে হবে তৃণমূলে শক্তি গড়তে, দক্ষ নেতৃত্ব তৈরি করতে, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ভিত্তি মজবুত করতে।
কলকারখানা, ব্যাংক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, মিডিয়া—এগুলোই আসল ক্ষমতা। রাষ্ট্রক্ষমতা পরে আসবে, কিন্তু এই ভিত্তি ছাড়া ক্ষমতায় গেলে টিকে থাকা যাবে না।
এমপি না হলেও ক্ষতি নেই—হারানোর কিছু নেই
অনেকে ঠাট্টা করে বলছে—৩০০ আসনে লড়লে জামানত বাজেয়াপ্ত হবে, একজন এমপিও হবে না। এই কথাই প্রমাণ করে তারা রাজনীতি বোঝে না। ভোটের শতাংশই আসল শক্তি। এমপি না পেলেও তৃণমূল শক্তিশালী হলে ভবিষ্যৎ নিশ্চিত।
যাদের হারানোর কিছু নেই, তারাই সবচেয়ে ভয়ংকর। বিন্দু বিন্দু জমে পাহাড় হয়। আজ যারা হাসছে, কাল তারাই আতঙ্কিত হবে।
ইতিহাস বারবার ভুল প্রমাণ করেছে সমালোচকদের
চরমোনাই পীর সাহেব, অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, গাজী আতাউর রহমান—এই নেতৃত্বকে হালকাভাবে নেওয়া মানে ইতিহাস না জানা। অতীতে তাদের বহু সিদ্ধান্ত নিয়ে হাসাহাসি হয়েছে, কিন্তু সময়ই প্রমাণ করেছে—সেই সিদ্ধান্তগুলোই ছিল সঠিক।
রাজনীতি ওয়ানডে ম্যাচ নয়। এটা টেস্ট ক্রিকেট। এখানে একদিনের জয় কিছু না, পাঁচ দিনের ধৈর্যই ফল দেয়।
গ্রামের সাধারণ মানুষ আজও ইসলামের মার্কা বলতে হাতপাখাকেই বোঝে—এটাই বাস্তবতা। এই বাস্তবতাকে যারা অবহেলা করছে, তারা ভবিষ্যৎ রাজনীতির হিসাব ভুল করছে।
সময় আসবে। ইতিহাস কথা বলবে।
আজ যারা উপহাস করছে, কাল তারাই ব্যাখ্যা খুঁজবে।
মতভেদ মেধার পরিচয়—কিন্তু কৌশল বোঝা প্রজ্ঞার প্রমাণ।
নিজস্ব বিশ্লেষণ
ছাইদুর রহমান নাঈম
#ইসলামি_আন্দোলন #চরমোনাই ゚ #হাতপাখা #ইসলামিক #