06/05/2026
হাতীবান্ধার সেই ছেলেটি ড্রোন প্রযুক্তির প্রতি ছোটবেলা থেকেই প্রবল আগ্রহ ছিল হাতীবান্ধার সরকারি আলিমুদ্দীন ডিগ্রি কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী তরঙ্গের। নানা সামাজিক বাধা, নিরুৎসাহ এবং প্রচলিত স্টেরিওটাইপ অতিক্রম করে সে আজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান তৈরি করেছে। বর্তমানে তুরস্কে ম্যাকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অধ্যয়নরত এই শিক্ষার্থী সম্প্রতি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রতিরক্ষা প্রদর্শনী SAHA Expo 2026-এ তার টিমের তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক (AI-based) এবং অ্যান্টি-জ্যামিং ড্রোন নিয়ে অংশগ্রহণ করেছে।
শুরুতে ড্রোন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা সহজ ছিল না। আশপাশের অনেকেই এটিকে ভবিষ্যতহীন হিসেবে দেখতো এবং তাকে নিরুৎসাহিত করতো। এমনকি তার পরিবারকেও নানা নেতিবাচক মন্তব্য শুনতে হয়েছে। তবে সব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তরঙ্গ নিজের আগ্রহ ধরে রাখে এবং পরবর্তীতে ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ নিয়ে তুরস্কে পাড়ি জমায়।
তুরস্কে পড়াশোনার পাশাপাশি সে ড্রোন প্রযুক্তি নিয়ে বিভিন্ন প্রজেক্টে কাজ করতে থাকে। গত বছর তুরস্কের প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান Şimşek Savunma তার কাজ সম্পর্কে জানতে পেরে তাকে টিমে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানায়। পরবর্তীতে সে তাদের সঙ্গে কাজ শুরু করে।
মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তরঙ্গ এবং তার টিম একটি যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য উন্নতমানের ড্রোন তৈরি করতে সক্ষম হয়। এই ড্রোনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর এবং জ্যামিং প্রতিরোধে সক্ষম, যা আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এই প্রকল্পের স্বীকৃতি হিসেবে তারা অংশ নিয়েছেন SAHA Expo 2026-এ, যেখানে তুরস্কের শীর্ষ প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান Baykar, Aselsan এবং Roketsan-এর মতো কোম্পানিও অংশগ্রহণ করছে। এত বড় আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে জায়গা করে নেওয়া সহজ ছিল না বলে জানায় সে। এর পেছনে ছিল নিরলস পরিশ্রম, নির্ঘুম রাত, এবং পড়াশোনার পাশাপাশি কাজের চাপ সামলানোর সংগ্রাম।
তরঙ্গ জানায়, এই দীর্ঘ পথচলায় তার পরিবারের অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি। দূরে থেকেও বাবা-মা সবসময় তাকে সমর্থন দিয়েছেন এবং কখনও নিরুৎসাহিত করেননি। কঠিন সময়ে তাদের সাহস ও বিশ্বাস তাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।
নিজের যাত্রাপথের কথা বলতে গিয়ে তরঙ্গ বলে, “হাতিবান্ধা আলিমুদ্দিন কলেজ মাঠ থেকে শুরু করে আজকের এই আন্তর্জাতিক মঞ্চ—এই অর্জন শুধু আমার নয়, এটি আমাদের সবার।”